📄 সিলা বিন উশাইম ﷺ
সিলা বিন উসাইম । খোরাসানের এক জানবায সৈনিক। একবার তিনি কুতাইবা বিন মুসলিমের নেতৃত্বে যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন। ধনবান বিলাসী বিনোদীরা যুদ্ধক্ষেত্রে সচরাচর রাতভর শোরগোলে হৈ-হুল্লোড়ে মত্ত থাকে, কিন্তু সিলা বিন উসাইম তাদের মত নন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রেও প্রতিদিন এশার সালাত আদায় করে ফজর পর্যন্ত নফল সালাতে রাত কাটাতেন। আল্লাহ -কে ডাকতেন। কান্না করতেন। গভীর এবাদতে মগ্ন থাকতেন।
'নিশুতি!
| এই যে প্রেমবাসরের গোপন কথা, অভেদ আলাপ; দীর্ঘ তোমার প্রহরগুলোয় এসব কী এমন বিশেষণ?' -বলো!
'যখন ভোর হয়ে এলো, অবিরল ঝরবে কেবল রহমধারা, তখন অঞ্জলি ভরে নিবেদন করো পবিত্র প্রেমের অশ্রুমালা!'
নিশুতি বলে- 'এই তো জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি!'
সিলা বিন উসাইমও সারারাত জেগে থাকতেন। আল্লাহ -র অবিরল রহমধারায় অবগাহন করতেন। আল্লাহর কাছে দোয়ার দু'হাত ভরে পবিত্র প্রেমের অশ্রুমালা নিবেদন করতেন।
কুতাইবা বিন মুসলিম সিলা বিন উসাইমের এই গোপন ভেদ অবগত হলেন। অভিভূত হয়ে তাঁকে বললেন, 'এই বিশাল সৈন্যবহরে তোমার মত একজন পেয়ে আমি আল্লাহ -র কাছে কৃতজ্ঞ।'
সিলা বিন উসাইম সালাত পড়ার সময় হাজার দিনার মূল্যমানের একটি ডোরাকাটা চাদর গায়ে জড়িয়ে নিতেন। আতর মাখতেন। আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে বলতেন, 'আল্লাহ, তুমি সুন্দর। তুমি সৌন্দর্য পছন্দ কর। এজন্যই আমি এই চাদর গায়ে পরেছি।' তিনি রাতেই শুধু এই চাদর পরিধান করতেন। দিনের বেলা চাদর খুলে রাখতেন।
রাত একটু বাড়তেই বাহিনীর সকলে ঘুমিয়ে পরতো। সিলা বিন উসাইম তখন বের হয়ে এক গভীর বনে চলে যেতেন।
কত উর্বর সেই বিচরণভূমি, নাতিশীতোয় গ্রীমনিবাস, কত উত্তম সেই বাগানবাড়ি, সকলেরই তা প্রত্যাশিত।
সিলা বিন উসাইম যে বনে সালাত পড়তেন, সেটি ছিলো বনের রাজা সিংহের অভয়ারণ্য। সিংহ ছিলো সেখানকার ত্রাসসঞ্চারী প্রাণী। কোথাও সিংহের কথা শুনলে সেখানে কেউ সামান্য সময় অবস্থানের সাহস করতোনা। সিলা বিন উসাইম একদিন সালাত শুরু করলেন। একটি সিংহ এসে তাঁর চারপাশে ঘুরতে লাগলো। সিলা বিন উসাইম একটুও বিচলিত হলেননা। স্থির চিত্তে সালাত শেষ করলেন। সালাত শেষ করে সিংহকে নির্দেশসুরে বললেন, 'তুমি আমার মৃত্যুদূত হয়ে আসলে আমাকে খেয়ে যেতে পার। আল্লাহর প্রতিরক্ষা ছাড়া আমার আর কোন অস্ত্র নেই। আর মৃত্যুদূত হয়ে না আসলে চলে যাও। আমাকে সালাত পড়তে দাও।' সিলা বিন উসাইমের কথা শুনে সিংহটি কুকুরের মত লেজ নাড়িয়ে সন্তর্পণে আপন গুহায় চলে গেলো।
সিলা বিন উসাইম আল্লাহর সামনে সমর্পিত হয়েছিলেন। আল্লাহই তাকে ভয়ানক সিংহের থাবা থেকে সুরক্ষা করেছেন। সত্যই মানুষ যখন আল্লাহর অনুগত হয়, হিংস্রপ্রাণীও মানুষের বশীভূত হয়। মানুষ যখন আল্লাহর অবাধ্য হয়, ইঁদুর মূষিকের কাছেও মানুষ পরাস্ত হয়। সিলা বিন উসাইমের এ ঘটনা থেকে কবির ভাষায় ওমরের কথা মনে পড়ে।
ওমর! তুমি কি আসবে না ফিরে আমাদের মাঝে আর? জানো কি তোমার জন্য এ জাতি কতটা না বেকারার?
রোম অভিযানে তোমার আদেশে ছুটবে না সেনাদল? থাকবে না কোন সৈন্যবাহিনী ‘হিত্তিনে’ অবিচল?
ওমর; তোমার বন্ধুরা দেখো দাঁড়িয়ে রনাঙ্গনে, তোমার আদেশ, তোমার নিষেধ খুঁজে ফেরে মনে মনে।
তোমাকে না পেয়ে বিলাপ করছে ফিলিস্তিনের নারী, আকাশে-বাতাসে রোজ প্রতিরোজ শিশুদের আহাজারি!
শুকিয়ে কি যাবে ন্যায়ের বৃক্ষ? হবেনা তা ফলবান? নেমে এসো তুমি নেমে এসো আজি যমানার পালোয়ান।
ওমর তোমার পথপানে চেয়ে মজলুমানের চোখ, তোমার আদেশে মিথ্যে প্রাসাদ ধুলো হোক ধূলো হোক!
📄 মালেক ইবনে দিনার ﷺ
মালেক ইবনে দিনার। নামেই তাঁর পরিচয়। একবার তিনি এক বাগানে ঘুমিয়েছিলেন। ঘুম থেকে জেগে দেখেন তাঁর পাশে একটি সাপ। সাপের মুখে একটি ফুল। ফুলটির কার্যকারিতা ছিলো মশা-মাছি দূর করা। ফলে সেখানে কোন মশা-মাছি আসতে পারছেনা। মালেক ইবনে দিনারের ঘুমেও কোন বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছেনা।
আল্লাহ কত মহান! সাপকে এই বিদ্যা কে শিখিয়েছেন! সাপটিকে এখানে কে পাঠিয়েছেন! মালেক ইবনে দিনারের খেদমতে সাপটিকে কে নিয়োজিত করেছেন! তিনি আল্লাহ। তিনিই দয়ালুদের সেরা দয়ালু। নিরাপত্তা দানে তিনিই শ্রেষ্ঠ কুশলী।