📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 মোহাম্মদ বিন ওয়াসি আযাদি ﷺ

📄 মোহাম্মদ বিন ওয়াসি আযাদি ﷺ


দুঃসাহসী সেনাপতি কুতাইবা বিন মুসলিম। তিনি একবার কাবুল আক্রমণ করেছিলেন। চারদিক থেকে ঘেরাও করে রেখেছিলেন দিনের পর দিন। উদ্ধত তরবারি হাতে যখন কাবুলকে জনশূন্য করবেন, তখনই আল্লাহর সাহায্য প্রকাশ পেলো। আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত বান্দাকে কে পরাস্ত করতে পারে! [আলে ইমরানের ১৬০ নং আয়াতের আলোকে।]
ঘটনা ছিলো এমন, কাবুলের বিখ্যাত এবং মান্য বুযুর্গ ছিলেন মোহাম্মদ বিন ওয়াসি আযদি। কুতাইবা জয়ের নেশায় বিভোর হয়ে মোহাম্মদ বিন ওয়াসিকে হত্যার জন্য খুঁজলেন। সৈন্য পাঠালেন মোহাম্মদ বিন ওয়াসির খোঁজে। সৈন্যরা তাঁকে খুঁজে পেলো। দেখলো, মোহাম্মদ বিন ওয়াসি সালাত আদায় করছেন। সালাত শেষে হাতের বর্শা মাটিতে পুঁতে টেক লাগিয়ে বসেছেন। মনের সকল মমতা, ভক্তি ও বিশ্বাস বিগলিত করে দুচোখ ভরে কান্না ঝরিয়ে আল্লাহ-র কাছে দোয়া করছেন-
يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ نَصْرُكَ الَّذِي وَعَدْتَنَا.
হে চিরঞ্জীব অনাদি স্বাধিষ্ঠ বিশ্বধাতা! হে মহিমাময় মহানুভব! তোমার প্রতিশ্রুত সাহায্যের দিকে তাকিয়ে আছি...'
কুতাইবার কানে সংবাদ গেলো, মোহাম্মদ বিন ওয়াসি কাঁদছেন। বুকের টাটকা নোনাজল ঝরিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়েছেন কুতাইবার অনিষ্ট থেকে
বাঁচার ফরিয়াদ নিয়ে। এ খবর শুনে কুতাইবা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। আল্লাহর কাছে তার জুলুমের বিচার দেয়া হয়েছে! কুতাইবার স্নায়ুগুলো দুর্বল হয়ে এলো। ভয় আর আতঙ্ক লেপ্টে ধরলো তাকে। চৈতন্য ফিরে এলো কুতাইবার। কেঁদে ফেললেন কুতাইবা। আল্লাহ তাকে রহম করুন। কুতাইবা বলে উঠলেন, 'আল্লাহর কাছে উত্তোলিত মোহাম্মদের দোয়ার অঙ্গুলি আমার কাছে শতসহস্র তরবারি আর অযুতনিযুত তাগড়া সেনার চেয়েও উত্তম!'
আল্লাহ মোহাম্মদ বিন ওয়াসি আযদিকে বাঁচিয়েছেন। আল্লাহই কাবুলবাসীদের সুরক্ষা দান করেছেন। আল্লাহই শ্রেষ্ঠ সুরক্ষাদানকারী। তিনিই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ দয়াবান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00