📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 পরিশেষে

📄 পরিশেষে


আল্লাহ যখন বান্দাকে ভালোবাসেন
সকল প্রশংসা আল্লাহ ﷻ-এর জন্য। দুরূদ ও সালাম নবি-রাসূলদের শ্রেষ্ঠতম মোহাম্মদের জন্য। তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবি-সহচরদের জন্য।
আল্লাহর পরম বন্ধুদের জন্য সুসংবাদসম্বলিত একটি হাদিসে কুদসি রয়েছে। আল্লাহর বন্ধুদের জন্য আল্লাহর পয়গাম। ইমাম শাওকানি কুতুবুল ওয়ালিয়্যি ফী শারহি হাদিসিল ওয়ালিয়্যি নামক গ্রন্থে উক্ত হাদিসের সবিস্তার ব্যাখ্যা করেছেন। এ হাদিসের কিছু দিক আছে, সাধারণ মানুষ বা শিক্ষানবিস দূরের কথা, শীর্ষ ওলামায়ে কেরامও সেগুলোর রহস্য উদঘাটনে গলদঘর্ম হয়েছেন।
আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেন-
মহান আল্লাহ বলেন, 'যে আমার কোন অলির সাথে শত্রুতা করল, সে আমার সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হল। আমি বান্দার উপর যা ফরজ করেছি, তার চেয়ে অধিক প্রিয় কোন এবাদতদ্বারা বান্দা আমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে না। আমার বান্দা সবসময় নফল এবাদতদ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকবে, একসময় আমি তাকে ভালবাসবো। যখন আমি তাকে ভালবাসবো, তখন আমি তার কান হয়ে যাবো, যা দিয়ে সে শোনে। আমি তার চোখ হয়ে যাবো, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাবো, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাবো, যা দিয়ে সে চলে। বান্দা যদি আমার কাছে কিছু চায়, অবশ্যই আমি তাকে দান করবো। বান্দা যদি আমার কাছে আশ্রয় চায়, অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দিবো। আমি যে কোন কাজ করতে চাইলে কোন সংকোচ করি না, মুমিন বান্দার প্রাণ হরণে যতটা দ্বিধা সংকোচ করি। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে, আমি তার কষ্ট অপছন্দ করি। [বুখারি: ৬৫০২]
রাসূল ﷺ সমবেত নবিদের সবচে মর্যাদাবান। শীর্ষ। সকল নবির নেতা ও খতীব। সকলের প্রতিনিধি নির্বাচনে তিনি মুখপাত্র। নবিদের সমাবেশে তিনি ইমাম। কেয়ামতের দিন সুপারিশকারী। তিনিই সর্বপ্রথম কড়া নাড়বেন বেহেশতের দরজায়! আলাইহিমুস সালাতু ওয়াসসালাম।
আল্লাহ -র সকল বন্ধুর সেরা বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। নবিদের পর তার চেয়ে সুমহান, তার চেয়ে মর্যাদাবান আর কোন আল্লাহওয়ালা নেই। তার চেয়ে আল্লাহর নিকটভাজন কোন বন্ধু নেই। খিজির আলাইহিস সালাম যদি আল্লাহ -র নবি না হয়ে আল্লারহ নৈকট্যপ্রাপ্ত বন্ধু হয়ে থাকেন, তাহলে তার চেয়েও মর্যাদাবান আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
রাসূল ﷺ বলেছেন- مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ وَلَا غَرَبَتْ بَعْدَ النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ عَلَى أَفْضَلِ مِنْ أَبِي بَكْرٍ
নবি-রাসূলদের পর আবু বকরের চেয়ে মর্যাদাবান কোন ব্যক্তির উপর সূর্যের উদয়-অস্ত হয়নি! [আবু নুয়াইমের আল-হিলয়াহ : ৩/৩২৫]
সুতরাং আবু বকর হলেন আল্লাহর সকল বন্ধুর প্রিয় বন্ধু। এই উম্মতের মধ্যে তার চেয়ে মর্যাদাবান কোন আল্লাহওয়ালার আগমন নেই। তার চেয়ে প্রেমময় সালাত, ত্যাগসম্পন্ন সওম, ভক্তিমনা হজ্জ, কষ্ট-মোজাহাদা আর কারও নেই। প্রতিটি এবাদতে তিনি অর্জন করেছেন প্রথম স্তর।
রাসূল ﷺ বলেন- যে কেউ আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে- 'হে আল্লাহর বান্দা! এটাই উত্তম।' অতএব যে সালাত আদায়কারী, তাকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে মুজাহিদ, তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে সিয়াম পালনকারী, তাকে রাইয়ান দরজা থেকে ডাকা হবে। যে সদকাকারী, তাকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান; সকল দরজা থেকে কাউকে কি ডাকা হবে?'
রাসূল ﷺ মুচকি হেসে বললেন- হাঁ, আমি আশা করি তুমি তাদের মধ্যে হবে! [সহিহ বুখারি: ১৮৯৭]

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 আল্লাহই সবকিছুর হেফাযতকারী

📄 আল্লাহই সবকিছুর হেফাযতকারী


আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকারী। আল্লাহই সবকিছুর হেফাযতকারী। আল্লাহই সব। সকল সৃষ্টির অভিভাবক তিনিই। সকল জীবের রিযিকদাতাও তিনিই। রক্ষণাবেক্ষণে তিনিই শ্রেষ্ঠ। তিনিই দয়ালুদিগের সেরা দয়ালু。
ছোট্ট একটি চড়ুই পাখি, কর্তালী ফলিয়ে উড়ছে এ গাছ থেকে ও গাছে। চড়ুইয়ের মুখে এক লোকমা গোশত। পাখিটি উড়ে উড়ে উঁচু একটি খেজুর গাছের মাথায় গিয়ে বসলো। চড়ুইয়ের কাণ্ড দেখে নিচ থেকে উৎসুক হলেন এক লোক। কী করছে চড়ুইটি, দেখা দরকার!
যেই ভাবা, সেই কাজ। লোকটি গাছে উঠলেন। দেখলেন, গাছের মাথায় বিড়া বানিয়ে বসে আছে ভারি বয়সের একটি অন্ধসাপ। চড়ুই পাখি সাপের সাথে কানেমুখে কিচিরমিচির রবে কী যেনো বললো! সাপটি মুখ হাঁ করলো। চড়ুইটি সাপের মুখে গোশতের লোকমা তুলে দিলো!
সুবহানাল্লাহ! চড়ুই পাখিকে অন্ধ এই সাপের সংবাদ কে জান লো! কাঁটাপাতার খেজুর শাখে অন্ধ সাপের আহারের ব্যবস্থা কার নির্দেশনায়! চড়ুই পাখির কিচিরমিচির ভাষা বুঝে সাপটি চোয়াল খুললো কোন কারিশমায়! তিনি আল্লাহ। এক আল্লাহ। তিনি চড়ুই পাখির রব, আল্লাহ। তিনি অন্ধ সাপের প্রভু, বিশ্ববিধাতা আল্লাহ। তিনি বলেছেন, 'পৃথিবীর সকল জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই। তিনিই জানেন সকল জীবের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থান।' তিনি বলেছেন-
সবকিছু লিপিবদ্ধ আছে তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে। [সূরা হূদ: ৬]
জীবনের অসংখ্য অনুষঙ্গে মানুষ আল্লাহ-কে স্মরণ করে। যে আল্লাহকে স্মরণ করে জীবনের প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি অবস্থায়, আল্লাহ তাকে সমাধান দেন উত্তম রূপে, কল্পনার উর্ধ্বে। আল্লাহ তাকে আনুকূল্য দেন জীবনের পরম আরাধ্য ধর্ম বিষয়ে। আল্লাহ তাকে পরিত্রাণ দেন পার্থিব সব প্রতিকূল বিষয়ে। আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহানুভব। কোরআনের ভাষায়-
فَاللَّهُ خَيْرٌ حَفِظًا وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّحِمِينَ) রক্ষণাবেক্ষণে আল্লাহই শ্রেষ্ঠ। তিনিই দয়ালুদের সেরা দয়ালু। [ইউসুফ: ৬৪]
ধর্ম মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। জীবনের গভীরে মহত্ত্বময় পটভূমি।
যদিও মানুষের কাছে ধর্মই আজ আপেক্ষিক, আনুষ্ঠানিক, উপেক্ষিত। কিছু মানুষ আছে, যাদের জীবনে আল্লাহ ধর্মপালনের সকল আনুকূল্য দান করেন। তাদেরকে সঠিক দিশায় অটল রাখেন। ধর্মের সাড়ম্বর মঞ্চে জীবনানুষ্ঠান পরিচালনা করেন নির্বিঘ্ন গতিময় নিয়মে। আল্লাহ তাদের অন্তরকে ভ্রান্তি ও দ্বিধা থেকে মুক্ত ও সুস্থির রাখেন। তাদের অন্তর থেকে শিরক ও নিফাক দূর করেন। সন্দেহ সংশয়ের দোলাচল থেকে উত্তরণ ঘটান।
যেসব মানুষ লক্ষ্যহীন উদ্ভ্রান্ত জীবনে ভূপাতিত, আল্লাহ তাদের সকল বিনাশ থেকে আশুমুক্তি দান করেন। আল্লাহই তাকে হেফাজত করেন। আল্লাহ -র কৃপাতেই মানুষ সফলতার রাজতোরণ দর্শন করে।
মানুষ যখন মরণকালের সঙ্গিন সময়ে উপনীত হয়, শয়তান তখন মনুষ্যশিকারে লোভাতুর হয়ে ওঠে। শয়তান তখন মানুষকে কুফরির মহাধ্বংশে ধরাশায়ী করতে উন্মাতাল হয়ে ওঠে। কিন্তু আল্লাহ তখনও কিছু মানুষের সহায় হন। কুফরির মহাধ্বংশ থেকে মানুষের রক্ষাকবচ হন। মৃত্যুর বিভীষিকাময় অবস্থাতেও আল্লাহ কিছু মানুষকে সরল পথে জিইয়ে রাখেন। তার মুখে মহাসত্যের উচ্চারণ ঘটান- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ!
এরা সেই সে সৌভাগ্যবান, যারা আল্লাহ -কে স্মরণ করেছে তাদের অহর্নিশ জীবনে। স্মরণ করেছে জীবনের প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি অবস্থায়, প্রতিটি প্রসঙ্গে।
অনেক মানুষ আছে, যারা আল্লাহ -র বিধান অমান্য করে। জীবন চলার পথে আল্লাহ -র নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে। সেসব মানুষ পরাজিত হয়, লজ্জিত হয়। মৃত্যুর সময় সেসব মানুষের যবানও তাদের সাথে বেইমানি করে। মৃত্যুমুখে তারা কালিমাহ উচ্চারণে হোঁচট খায়। তারা স্তব্ধ হয়ে যায়। অনুতাপে ভোগে। পরকালে তারা পরিতাপের করুণ পাঁচালী বহন করে। তারা দুনিয়াতে আল্লাহর সীমা রক্ষা করেনি, আল্লাহও তাদের সফলতার রাজমুকুট সুরক্ষিত রাখেননি। তারা দুনিয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত। আখিরাতেও ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই মহাকালের ক্ষতিগ্রস্ত।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 আল্লাহর বিধান রক্ষা না করার পরিণাম

📄 আল্লাহর বিধান রক্ষা না করার পরিণাম


আল্লাহর বিধান রক্ষা না করলে আল্লাহর সাহায্য ও সুরক্ষা পাওয়া যায়না। পরিণতিতে পার্থিব জীবনে অবমাননাকর জীবনযাপন অনিবার্য হয়ে পড়ে। অভাগা হয়ে বেঁচে থাকতে হয়। পরকালের জীবনে অনিবার্য হয়ে পড়ে জাহান্নামের পোড়া আগুন। চিরস্থায়ী ছাইভস্ম অগ্নি। আল্লাহ বলেন-
وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيمَةِ أَعْلَى
যে আমার স্মরণে বিমুখ, তার জীবনের ভোগসম্ভার হবে সংকুচিত। আর আমি তাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করবো অন্ধ অবস্থায়। [সূরা ত্বহা: ১২৪]

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 আল্লাহ ﷺ তাঁর বান্দাকে হেফাযত করেন

📄 আল্লাহ ﷺ তাঁর বান্দাকে হেফাযত করেন


বান্দা যখন আল্লাহর বিধান রক্ষা করে, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সমূহ বিপদাপদ থেকে হেফাযত করেন। রাসুল ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর বিধান রক্ষা কর, আল্লাহও তোমাদের রক্ষা করবেন’।
মানুষ আল্লাহর সুরক্ষা পেতে চায় কি! আল্লাহর সুরক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর বিধান রক্ষা করে কি! মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন-
তোমাদের প্রত্যেক অনুরাগী (আওয়াব) ও স্মরণকারীকে (হাফীয) এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। [সূরা ক্বফ: ৩২]
উল্লিখিত আয়াতে অনুরাগীর (আওয়াব) অর্থ বেশি বেশি তওবা করা, আল্লাহর কাছে লজ্জিত হওয়া, এস্তেগফার পাঠ করা। আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা। তাঁর কাছে নিজের সকল ভার অর্পণ করা।
স্মরণকারীর (হাফীয) অর্থ হলো সবসময় আল্লাহ-র সকল বিধান স্মরণ রাখা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00