📄 ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজনের হেফাজত
নেক আমলের একটি বিশেষ পুরস্কার হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বান্দার ধন-সম্পদ এবং তার পরিবার-পরিজনকে হেফাজত করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সুরা কাহাফে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। অনেকে প্রতি শুক্রবারে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করে। কিন্তু তারা জানে না এ সুরার প্রকৃত মর্ম। জানে না অন্তর্নিহিত রহস্য। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন এ সুরায় তারা সে সম্পর্কে বেখবর। সুরা কাহাফ পবিত্র কুরআনের একটি বিশেষ ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত সুরা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এ সুরা তিলাওয়াত করার আদেশ দিয়েছেন। কেননা, এ সুরা মানুষের বোধ ও বিশ্বাসকে শানিত করে। তাদের আকিদাকে সঠিক ও সুন্দর করে। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া থেকে তাদের দৃষ্টিকে ফিরিয়ে চিরস্থায়ী আখেরাতের প্রতি ধাবিত করে।
ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا
'পৃথিবীতে সবকিছু আমি তার শোভায় পরিণত করেছি, যাতে লোকদেরকে পরীক্ষা করতে পারি কে তাদের মধ্যে উত্তম আমলকারী। আবার সবকিছু আমি শূন্য শুষ্ক মাটি করে দেব। ১১৭
অতঃপর অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন,
الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا
'ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি হলো পার্থিব জীবনের জৌলুস। পক্ষান্তরে স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার প্রভুর কাছে পুরস্কার হিসেবেও সেরা এবং আশার বস্তু হিসেবেও সেরা।'১১৮
সুরা কাহাফ স্মরণ করিয়ে দেয়, একদিন আমাদেরকে দণ্ডায়মান হতে হবে মহান রবের সম্মুখে। স্মরণ করিয়ে দেয়, একদিন অবসান হবে পার্থিব এ রঙিন জীবনের। সেদিন যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। সুরা কাহাফ স্মরণ করিয়ে দেয়, পার্থিব জীবন যত দীর্ঘই হোক না কেন একদিন রয়েছে এর সমাপ্তি। নির্ধারিত সময় শেষে অবশ্যই চলে যেতে হবে সকল মায়া ও বন্ধন ছিন্ন করে।
ইরশাদ হয়েছে,
وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا
'প্রাচীরটি ছিল নগরীর দুজন অনাথ বালকের। দেয়ালের নিচে ছিল তাদের এক ধনভান্ডার। আর তাদের পিতা ছিল একজন সৎলোক। তাই অনুগ্রহবশত আপনার প্রভুর ইচ্ছে হলো, ওরা দুজন বয়োপ্রাপ্ত হোক এবং ওদের ধণভান্ডার বের করুক। কাজটি আমি আমার ইচ্ছায় করিনি। আপনি যে সব বিষয়ে ধৈর্য রাখতে পারেননি এই হলো তার তাৎপর্য। '১১৯
পিতার নেক আমল ঔরসজাত সন্তানের জন্য হেফাজতের মাধ্যম। পিতার আমলের প্রতিদান লাভ করবে তার সন্তানও। এর স্বপক্ষে সত্যায়ন পাওয়া যায় হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি কথায়। একদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট্ট ইবনে আব্বাসকে সম্বোধন করে বলেন, 'তুমি আল্লাহর হক যথাযথ হেফাজত করো, তাহলে আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন।' এ কথার মর্ম হলো, হে ইবনে আব্বাস! তুমি আল্লাহর আদেশ পালন করা, নিষেধ থেকে বেঁচে থাকা এবং পরিপূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর হকসমূহ সংরক্ষণ করো, তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তোমার দ্বীন, তোমার দুনিয়া এবং তোমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ হেফাজত করবেন। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক উত্তম হেফাজতকারী আর কে আছে?
এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, আপনি আপনার সন্তানদেরকে প্রাণাধিক ভালোবাসেন। একবার আমি একটি হাসপাতালে উপস্থিত ছিলাম। তখন একটি কমবয়সি ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলো। তার পা ছিল জখম। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে। ডাক্তার যখনই ছেলেটির জখমে স্পর্শ করতে চাচ্ছে তখনই সে উঁচু গলায় কান্না জুড়ে দিচ্ছে। তার ভারি কান্নায় হাসপাতাল থমথমে হয়ে আসে। সন্তানের এমন করুণ বেদনা ও চিৎকার শুনে পিতা ডাক্তারকে বলল, হে ডাক্তার! আপনি আমার সন্তানের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। আমি কখনোই আমার সন্তানকে এমন করতে দেখিনি।' ডাক্তার পুনরায় স্পর্শ করতে চাইলে ছেলেটি চিৎকার জুড়ে দিলো। আমি দেখছি, ছেলেটির পিতা সামনে দাঁড়িয়ে নিদারুণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। লোকটির অমন অবস্থা দেখে আমি তাকে সান্ত্বনার স্বরে বললাম, 'হে আমার ভাই! জখমের স্থানে স্পর্শ করা ব্যতীত চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। এবং এখানে সামান্য চাপও দিতে হবে।' আমার কথা শুনে লোকটি বলল, 'আল্লাহর শপথ! যতবার সে আহ করছে ততবার আমার হৃদয় যেন এফোঁড়- ওফোঁড় হয়ে যাচ্ছে। সন্তানের বেদনা যেন আমার অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলছে। আল্লাহর শপথ! আমি তা সহ্য করতে পারছি না।'
আমি বললাম, 'সুবহানাল্লাহ! তুমি যখন তোমার সন্তানকে ভালোবাসো, তাদের শান্তি ও নিরাপত্তার ব্যাপারে এত অধিক চিন্তিত, তাহলে আল্লাহর হকসমূহ যথাযথ হেফাজত করো। তাকে ভয় করো। তার আনুগত্য করো। তার আদেশসমূহ পালন করো। নিষেধ থেকে সর্বতোভাবে বেঁচে থাকো। তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তোমার নেক আমলের কারণে তোমার সন্তানদেরকে হেফাজত করবেন সকল বিপদ-আপদ থেকে। জেনে রাখো, আল্লাহর চেয়ে অধিক দয়ালু ও হেফাজতকারী দ্বিতীয় কেউ নেই।
টিকাঃ
১১৭ সুরা কাহাফ: ৭-৮।
১১৮ সুরা কাহাফ: ৪৬।
১১৯ সুরা কাহাফ: ৮২।
📄 কবরের সঙ্গী
নেক আমলের অন্যতম বিশেষ পুরস্কার হলো, অন্ধকার কবরে আমলকারীর সঙ্গী হবে। হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
يتبع الميت ثلاثة: أهله، وماله، وعمله، فيرجع اثنان ويبقى واحد، يرجع أهله وماله، ويبقى عمله
'মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তিনটি বিষয় যায়। তার পরিবার-পরিজন, তার ধন-সম্পদ এবং তার আমল। এর মধ্যে দুটি বিষয় ফিরে আসে, অবশেষে সঙ্গে থাকে একটি। মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ফিরে আসে। সঙ্গে থাকে কেবল আমল।'
জনৈক কবি বলেছেন,
'হে দুনিয়ার প্রতি আসক্ত ব্যক্তি! দীর্ঘ আশা তোমাকে ধোঁকায় ফেলেছে। জেনে রাখো, মৃত্যু চলে আসবে একদিন আকস্মিক। কবর হবে তোমার আমলের সিন্দুক।'
📄 জাহান্নাম থেকে মুক্তি
নেক আমলের সর্বাধিক বড়ো পুরস্কার হলো, আখেরাতের সমূহ কল্যাণ ও নিরঙ্কুশ সফলতা। মুমিনের জন্য নেক আমল হলো, আখেরাতের সফলতা ও কল্যাণের হাতিয়ার। জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ এবং জান্নাতে প্রবেশের সবচেয়ে বড়ো উপকরণ হলো নেক আমল। ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا
'যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে বেহেশতের বাগ-বাগিচা। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কখনো সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করবে না।'১২০
وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
'এ তো সেই জান্নাত তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের জন্য।'১২১
সুতরাং দুনিয়া হলো আখেরাতের শষ্যক্ষেত্র। পরকালের সফলতা অর্জনের অসীম সুযোগ। জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাত লাভের সমস্ত উপায় উপকরণ সঞ্চয়ের জায়গা।
ইরশাদ হয়েছে,
وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا
'তোমরা নিজেদের জন্য ভালো যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে তা আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় পাবে যে, তা আরও ভালো এবং পুরস্কার হিসেবে বড়ো। '১২২
পার্থিব জীবন হলো আখেরাতকে সুন্দর ও সুসজ্জিত করার অফুরন্ত সুযোগ। আমি বারবার এ কথা বলে থাকি, মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক হলো দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের জন্য গণিমত মনে করা। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ করেন,
يا عبادي إنما هي أعمالكم أحصيها لكم ثم أوفيها لكم يوم القيامة، فمن وجد فيها خيراً فليحمد الله، ومن وجد دون ذلك فلا يلومن إلا نفسه
'হে আমার বান্দাগণ! অবশ্যই তোমাদের আমল তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয় এবং কেয়ামতের দিন তা তোমাদেরকে প্রদান করা হবে। সেদিন যার আমল ভালো হবে সে আল্লাহর প্রশংসা করবে। আর যার আমল এর বিপরীত হবে সে কেবল নিজেকেই তিরস্কার করবে।'
টিকাঃ
১২০ সুরা কাহাফ: ১০৭-১০৮।
১২১ সুরা যুখরুফ: ৭২।
১২২ সুরা মুজাম্মিল: ২০।
📄 আমলের ক্ষেত্র
নেক আমল মুমিনের সম্বল। নেক আমল মুমিনের দুনিয়া আখেরাতের মুক্তির সোপান। কল্যাণের চাবিকাঠি। মুমিনের আমলের ক্ষেত্র অসংখ্য, অগণিত। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুমিনের জন্য নেক আমলের অসংখ্য ক্ষেত্র তৈরি করেছেন。
ইরশাদ হয়েছে, إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرًا عَظِيمًا
'আত্মসমর্পণকারী পুরুষ ও নারী, ঈমানদার পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনীত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, রোজাদার পুরুষ ও নারী, যৌন পবিত্রতা রক্ষাকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী; আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও এক মহান পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন।'১২৩
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةٌ يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ
'যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামাজ কায়েম করে আর আমি তাদেরকে যা দান করেছিতা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা নষ্ট হবে না।'১২৪
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সঙ্গে ব্যাবসা হলো লাভবান ব্যাবসা। সীমাহীন লাভের ব্যাবসা। যেখানে ক্ষতির বিন্দুমাত্র আশঙ্কা নেই। বরং আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বান্দাকে প্রতিটি বিনিময় দশগুণ বৃদ্ধি করে দেন। এছাড়াও তিনি যাকে চান তাকে আরও অগণিত বাড়িয়ে দেন।
উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে নেক আমলের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কিয়ামতের দিন প্রত্যেক পাপিষ্ট ও কাফের নেক আমলের মূল্য উপলব্ধি করতে পারবে। কিন্তু সেদিন তাদের উপলব্ধি কোনো কাজে আসবে না। সেদিন তারা দরবারে এলাহিতে আকুল ফরিয়াদ জানাবে তাদেরকে পুনরায় দুনিয়াতে প্রেরণ করার জন্য-যাতে তারা দুনিয়াতে এসে নেক আমল করতে পারে। সেদিন তারা নেক আমলের জন্য চিৎকার করবে। কিন্তু তাদের চিৎকার আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। কাফেরদের জন্য সেদিন হবে সীমাহীন আফসোস ও অনুশোচনার।
ইরশাদ হয়েছে, حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ * لَعَلَّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ
'অবশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে, প্রভু! আমাকে (দুনিয়াতে) ফেরত পাঠাও, যেন আমি যা রেখে এসেছি সেখানে ভালো কাজ করতে পারি।'১২৫
একদা হজতর হাসান বসরি রহ. এক মৃত ব্যক্তির জানাজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন হাসানা বসরি তার সফরসঙ্গীকে বললেন, 'তুমি কি জানো, মৃত লোকটি যদি এখন পুনরায় জীবিত হতে পারে তাহলে সে বেশি বেশি নেক আমল করতে চাইবে?' সে বলল, হ্যাঁ'। তখন হজরত হাসান বসরি রহ. তাকে বললেন, 'সুতরাং তুমি ওই মৃত ব্যক্তির মতো হয়ে যাও। অধিক পরিমাণে নেك আমল করো। জীবনকে বরকতময় মনে করো। জেনে রাখো, জীবন একটি সুযোগ। এ সুযোগ বারবার আসবে না। আল্লাহর মারেফত অর্জন করো। সময়কে সঠিক কাজে ব্যয় করো।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিসের মাধ্যমে আলোচনার ইতি টানছি,
أيها الناس! إن لكم معالم فانتهوا إلى معالمكم ، وإن لكم نهاية فانتهوا إلى نهايتكم، إن المؤمن بين مخافتين: بين أجل قد مضى لا يدري كيف صنع الله فيه، وبين أجل قد بقي لا يدري ما الله قاض فيه، فليتزود العبد لنفسه، ومن دنياه لآخرته، ومن الشباب قبل الكبر، ومن الحياة قبل الموت فوالذي نفس محمد بيده ما بعد الموت من مستعتب، وما بعد الدنيا من دار إلا الجنة أو النار
'হে লোকসকল! তোমাদের জীবনের সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য- উদ্দেশ্য রয়েছে, অতএব তোমরা তোমাদের লক্ষ্যে উপনীত হও। এবং তোমাদের জীবনের একটি গন্তব্য রয়েছে, তোমরা সেই গন্তব্যপানে ছুটে চলো। মুমিন দুটি আশঙ্কার মাঝে আবর্তিত হয়। (এক) অতিবাহিত হয়ে যাওয়া জীবনের ওই অংশ যার ব্যাপারে সে জানে না, আল্লাহ কী ফয়সালা করবেন। (দুই) জীবনের ওই অবশিষ্ট অংশ যার ব্যাপারে সে জানে না, আল্লাহ তার জন্য কী রেখেছেন। তাই বান্দার উচিত নিজের পাথেয় সংগ্রহ করা-আখেরাতের জন্য দুনিয়া থেকে, বার্ধক্যের পূর্বে যৌবন থেকে এবং মৃত্যুর পূর্বে হায়াত থেকে। ওই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! মৃত্যুর পর বাহাদুরি চলবে না এবং দুনিয়ার পর জান্নাত বা জাহান্নাম ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বাসস্থান নেই।'
টিকাঃ
১২৩ সুরা আহযাব: ৩৫।
১২৪ সুরা ফাতির: ২৯।
১২৫ সুরা মুমিনুন: ৯৯-১০০।