📘 আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালবাসেন > 📄 আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন

📄 আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন


যুবক ও বৃদ্ধদের সমূহ সমস্যার সমাধান এবং চিন্তা ও দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রশান্তি কেবল আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করার মাঝে। জীবনের প্রকৃত শান্তির জন্য প্রয়োজন আল্লাহওয়ালাদের কাফেলায় শরিক হওয়া। গোনাহ ও অবাধ্যতাকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেওয়া। অন্ধকার থেকে বের হয়ে আলোর পথে আসা। পাপাচারিতার লাঞ্ছনাকে আনুগত্যের সম্মানে পরিবর্তন করা। নফস, প্রবৃত্তি ও শয়তানের ওপর বিজয়ী হওয়া। জীবনে প্রশান্তি পেতে হলে, দুনিয়া-আখেরাতে সফলতা অর্জন করতে হলে শামিল হতে হবে তাদের সারিতে যারা প্রাধান্য দিয়েছেন জাহান্নামের ওপর জান্নাতকে। অবাধ্যতার ওপর আনুগত্যকে। গোনাহের ওপর নেক আমলকে। এবং অতীতের গোনাহ ও নাফরমানির জন্য লজ্জিত হবে। অন্তরে জাগ্রত করবে গোনাহের প্রতি তীব্র অনুশোচনা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, الندم توبة 'অনুশোচনার নামই তাওবা।'
সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন, 'বান্দা তো গোনাহ করবেই। তবে অন্তরের অনুশোচনা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। অতঃপর শয়তান বলবে, হায়! কেন আমি তাকে গোনাহে পতিত করলাম।'
বান্দা গোনাহ করবেই। এর মাঝে দোষের কিছু নেই। বরং দোষ হলো তাওবা না করে গোনাহের ওপর অটল থাকা। ক্রমাগত গোনাহে লিপ্ত থাকা। বান্দা গোনাহ করার চেয়ে বড়ো অন্যায় হলো তাওবা না করা। আল্লাহ গোনাহগার ও পাপী ব্যক্তিকে যতোটুকু ঘৃণা করেন, তার চেয়ে অধিক ভালোবাসেন তাওবাকারীকে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাওবাকারীর উত্তম প্রশংসা করে বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ 'আল্লাহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।' ৭৬

টিকাঃ
৭৬ সুরা বাকারাহ: ২২২।

📘 আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালবাসেন > 📄 ইবরাহিম ইবনে আদহামের সঙ্গে কথোপকথন

📄 ইবরাহিম ইবনে আদহামের সঙ্গে কথোপকথন


একদা জনৈক ব্যক্তি বিখ্যাত সুফি ও জ্ঞানতাপস ইবরাহিম ইবনে আদহামের নিকট এসে বলল, 'আমি অনেক গোনাহ করেছি। আল্লাহর অবাধ্যতায় কেটে যাচ্ছে আমার জীবন। গোনাহ ও পাপাচারিতায় আমি নিজের ওপর অবিচার করেছি। আপনি আমাকে এমন কতিপয় উপদেশ দিন যা আমাকে গোনাহ থেকে বিরত রাখবে।'
ইবরাহিম ইবনে আদহাম তাকে বললেন, 'আমি তোমাকে পাঁচটি উপদেশ দিচ্ছি।
এক. তোমার যদি গোনাহ করতে ইচ্ছে হয় তাহলে তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করবে না।'
লোকটি বলল, 'হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! তা কীভাবে সম্ভব? এই জমিন তার। আসমান তার। সমগ্র জগৎ একমাত্র তারই সৃষ্টি। তাহলে আমি কোত্থেকে আহার করব?'
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, 'এ তো ভারি আশ্চর্য, তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করছ এবং তার সাথেই নাফরমানি করছ!
দুই. তোমার যদি গোনাহ করতে ইচ্ছে হয়, তাহলে তুমি আল্লাহর সৃষ্টি এ জমিন ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবে।
লোকটি বলল, হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! তা কীভাবে সম্ভব? এ সমগ্র জমিন তো আল্লাহরই সৃষ্টি। তাহলে আমি কোথায় পলায়ন করব?'
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, 'এ তো ভারি আশ্চর্য, তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভক্ষণ করছ, তার তৈরি জমিনে বসবাস করছ আবার তারই অবাধ্যতা করছ!
তিন. তোমার যখন গোনাহ করতে ইচ্ছে করবে, তখন তুমি এমন স্থানে চলে যাবে যেখানে আল্লাহ তোমাকে দেখতে পাবে না। অতঃপর সেখানে তুমি আল্লাহর অগোচরে তার অবাধ্যতা করবে।
লোকটি বলল, 'হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! কোথায় সে জায়গা যেখানে চলে গেলে আল্লাহ আমাকে দেখতে পাবেন না? হে ইবরাহিম! তিনি তো এমন সত্তা, যাকে তন্দ্রা ও ঘুম কখনো আচ্ছন্ন করে না। দৃশ্য, অদৃশ্য কোনো কিছুই তার দৃষ্টির আড়ালে নয়।
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, আশ্চর্য! তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভক্ষণ করছ, তারই জমিনে বসবাস করছ এবং সর্বদা তুমি তার পর্যবেক্ষণে আছ, তথাপিও তোমার গোনাহ করতে ইচ্ছে হয়?
চার. মৃত্যুর ফেরেশতা যখন তোমার জান কবজ করতে আসবে তখন তুমি তাকে বলবে, আমি মৃত্যুবরণ করবো না।
লোকটি বলল, হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! তা কীভাবে সম্ভব? অথচ আল্লাহ বলেছেন,
إِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ
'যখন তাদের সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তারা তা একমুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা এগিয়ে আনতে পারবে না।' ৭৭
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, আশ্চর্য! তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভক্ষণ করছ, তার তৈরি জমিনে বসবাস করছ, সর্বদা তুমি তার পর্যবেক্ষণে আছ এবং তোমার মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী, তথাপিও তুমি গোনাহ করছ? আল্লাহর নাফরমানিতে মত্ত হয়ে আছ?
পাঁচ. যখন আজাবের ফেরেশতারা এসে তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চাইবে তখন তুমি তাদেরকে প্রতিহত করে জান্নাতে চলে যাবে।
লোকটি বলল, 'হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! এ তো কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।'
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, আশ্চর্য! তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভক্ষণ করছ, তার তৈরি জমিনে বসবাস করছ, সর্বদা তুমি তার পর্যবেক্ষণে আছ, তোমার মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী এবং মৃত্যুর পর তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারবে না, তথাপিও আল্লাহর অবাধ্যতা করছ?
এ কথা শুনে লোকটি বলল, ‘হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! আপনি শুনুন, আমি আমার সমস্ত গোনাহ থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার নিকট তাওবা করছি।
হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করছ না? তুমি কি আল্লাহর জমিনে বসবাস করছ না? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কি তোমাকে সর্বদা পর্যবেক্ষণ করছেন না? হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে? তুমি কি জাহান্নাম থেকে নিজেকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে? তথাপিও কেন আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে মত্ত হয়ে আছ? কেন ডুবে আছ পাপের সাগরে?
হে আল্লাহর বান্দা! ফিরে এসো তোমার রবের দিকে। জীবনের সকল গোনাহ থেকে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো। আন্তরিকভাবে তাওবা করো। জেনে রাখো, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা গোনাহকে যেমন ঘৃণা করেন, তেমনি ভালোবাসেন বান্দার তাওবাকে। হে আল্লাহর বান্দা! দেখো! আল্লাহ তায়ালা তোমার জন্য তাওবার দরজাকে উন্মুক্ত করে রেখেছেন। আর কতকাল দূরে থাকবে তার আনুগত্য ও নৈকট্য থেকে?
সুতরাং এসো, শামিল হও প্রত্যাবর্তনকারীদের কাফেলায়।

টিকাঃ
৭৭ সুরা ইউনুস: ৪৯।

📘 আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালবাসেন > 📄 সুসংবাদ গ্রহণ করো হে তাওবাকারী

📄 সুসংবাদ গ্রহণ করো হে তাওবাকারী


হে তাওবাকারী! তোমার রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো। হে অন্ধকার থেকে আলোর কাফেলায় প্রত্যাবর্তনকারী! জেনে রাখো! আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য রয়েছে আনন্দায়ক বার্তা। ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ 'নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। '৮৪
তাওবাকারীদের জন্য আল্লাহ তায়ালা তার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিয়েছেন। তাদেরকে তিনি শুনিয়েছেন অভয় বাণী,
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ '(হে নবী! আমার এই কথা আপনি লোকদেরকে) বলে দিন, হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করছ! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ তো সব গোনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু। '৮৫
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا 'তারা ব্যতীত যারা তাওবা করে, ঈমান রাখে এবং সৎকাজ করে; আল্লাহ তাদের পাপসমূহ পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। '৮৬
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ 'নিশ্চয় পুণ্যসমূহ পাপসমূহকে মিটিয়ে দেয়।'৮৭
وَإِنِّي لَغَفَّارُ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى 'যে তাওবা করে, ঈমান রাখে, সৎকাজ করে আর সঠিক পথ অনুসরণ করে, তার প্রতি আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল।'৮৮
হে তাওবাকারী! হে প্রত্যাবর্তনকারী! সুসংবাদ গ্রহণ করো তোমার নবীর পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন,
التائب من الذنب كمن لا ذنب له 'গোনাহ থেকে তাওবাকারী ওই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গোনাহ নেই।'
হে তাওবাকারী! সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। বান্দা তাওবা করলে তিনি আনন্দিত হন। গোনাহগারদের কান্নার আওয়াজ আল্লাহর নিকট তাসবিহের আওয়াজের চেয়ে অধিক প্রিয়।
একদা জনৈক ব্যক্তি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর নিকট একটি গোনাহের ব্যাপারে জানতে চাইল যে, এর থেকে তাওবা করলে আল্লাহ কবুল করবেন কি না? এ শুনে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি তাকিয়ে দেখেন, লোকটি অঝোরে কান্না করছে। এ দেখে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, 'বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। যেগুলো বন্ধ করা হয় আবার খোলা হয়। কিন্তু তাওবা এমন এক দরজা যা কখনো বন্ধ হয় না। সুতরাং তুমি আমল করতে থাকো। কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।
এক ইসরাইলি যুবক বিশ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছে। অতঃপর বিশ বছর নাফরমানي করেছে। একদিন সে আয়নায় তাকিয়ে দেখে, বার্ধক্য তাকে গ্রাস করেছে। তার চুল-দাড়ি পেকে গেছে। তখন সে আল্লাহকে ডেকে বলল, হে আল্লাহ! আমি বিশ বছর আপনার ইবাদত করেছি। তারপর বিশ বছর নাফরমানي করেছি। এখন পুনরায় আমি ফিরে এসেছি আপনার নিকট। আপনি কি আমাকে কবুল করবেন? তখন অদৃশ্য থেকে আওয়াজ এল, 'হে আমার বান্দা! যখন তুমি আমাকে ভালোবাসো, আমিও তোমাকে ভালোবাসি। যখন তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমিও তোমাকে ছেড়ে দিই। কিন্তু তুমি যখন নাফরমানি করো, আমি তোমাকে অবকাশ দিই। আর যখন ফিরে আসো আমি সঙ্গে সঙ্গে কবুল করে নিই।'
وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُوا عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
'তিনি ওই সত্তা যিনি তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর তোমরা যা কিছু করো তিনি তা জানেন। '৮৯

টিকাঃ
৮৪ সুরা বাকারাহ: ২২২।
৮৫ সুরা যুমার: ৫৩।
৮৬ সুরা ফুরকান: ৭০।
৮৭ সুরা হুদ: ১১৪
৮৮ সুরা তহা: ৮২।
৮৯ সুরা শুরা: ২৫।

📘 আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালবাসেন > 📄 তাওবার পথে অন্তরায়

📄 তাওবার পথে অন্তরায়


জেনে রাখো! তাওবার পথে সবচেয়ে বড়ো অন্তরায় ও প্রতিবন্ধক হলো অন্তরে দীর্ঘ আশা পোষণ করা। দুনিয়ার প্রতি অধিক আসক্ত হওয়া। যে ব্যক্তি যত বেশি আশা করে তার আমল হয় তত মন্দ।
ইরশাদ হয়েছে,
ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الْأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
'ওদেরকে খেতে, ভোগ করতে আর আশায় ভুলে থাকতে দাও। (সময় হলে) ওরা জানতে পারবে।'৯০
أَفَرَأَيْتَ إِنْ مَتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ * ثُمَّ جَاءَهُمْ مَا كَانُوا يُوعَدُونَ
'আমি যদি তাদেরকে অনেক বছর (দুনিয়ার সুখ) উপভোগ করতে দিই, তারপর তাদের কাছে তাদের প্রতিশ্রুত শাস্তি আসে (তাতে কি তাদের কোনো লাভ আছে)?' সুরা শুয়ারা: ২০৫-২০৬।
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ * نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَل لا يَشْعُرُونَ
'তারা কি মনে করে, আমি যে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তনি দ্বারা তাদেরকে সাহায্য করেছি, তাতে দ্রুত তাদের কল্যাণ সাধন করছি? (আসলে তা নয়) বরং তারা বুঝতে পারছে না। '৯১
জেনে রাখো! মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে তাওবার প্রতি অধিক বেশি উদ্বুদ্ধ করে। যার অন্তরে যত বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়, সে তত দ্রুত তাওবা করে।
হে আল্লাহর বান্দা! মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। মৃত্যু মানুষের অতি নিকটে। জীবন যত দীর্ঘই হোক না কেন প্রকৃতপক্ষে তা সংক্ষিপ্ত। আর দুনিয়া যত প্রিয়ই হোক না কেন বাস্তবার্থে তা খুবই তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট। সুতরাং তুমি ভেবে দেখো! তোমার জন্য কোনটি বেছে নেবে। সেদিন তোমার ও আমার অবস্থা কেমন হবে যেদিন ঘোষণা হবে অমুকের সময় ফুরিয়ে গেছে? সেদিন কেমন পরিণতি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য যেদিন খাটিয়া করে বহন করে নিয়ে যাবে কবরদেশে? সেদিন কেমন অবস্থা হবে যেদিন আপনজনরা মাটিচাপা দিয়ে রেখে আসবে অন্ধকার কবরে? আজই এখন সিদ্ধান্ত নাও, নিজের জন্য তুমি কোনটি বেছে নেবে। সেদিনের পরিণতির কথা ভেবে সজোরে চিৎকার করো। চিৎকার করো। আল্লাহর শপথ! এক কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। সেদিন আগমনের পূর্বেই তাওবা করে ফিরে এসো। প্রত্যাবর্তন করো রবের দিকে। তাওবার দুয়ার তিনি উন্মোচন করে রেখেছেন। এ দুয়ার কখনো বন্ধ হয় না। হে আল্লাহর বান্দা! মৃত্যুর দুয়ারে প্রবেশ করার পূর্বে তাওবার দুয়ারে প্রবেশ করো।
হজরত হাসান ইবনে আবু সিনান। তার যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো তার অনুভূতির কথা। জবাবে তিনি বললেন, 'যদি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাই তবে তো ভালো। আর নাহয় আমার চেয়ে দুর্ভাগা আর কেউ নেই।'
পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এ মুহূর্তে কোন জিনিসের প্রতি আপনার অধিক চাহিদা?
হাসান ইবনে আবু সিনান বললেন, 'একটি দীর্ঘ রাত; যার পুরোটাই নামাজে কাটিয়ে দেব।'
ইমাম শাফি রহ. যখন মৃত্যুশয্যায় তখন হজরত মুযানি তাকে দেখতে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি কী অবস্থায় সকাল করেছেন?
ইমাম শাফি রহ. বলেন, 'আমি এমতাবস্থায় সকাল করেছি যেন প্রিয়জনদের ছেড়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমার মন্দ আমল আমার সম্মুখে। আর আমার মুখ চুমুক দিচ্ছে বহু আশার পেয়ালায়। আর আমি দাঁড়িয়ে আছি আল্লাহর সম্মুখে অথচ জানি না, আমার ঠিকানা জান্নাত—যেখানে আমি নেয়ামত ভোগ করব—নাকি জাহান্নাম—যেখানে রয়েছে মর্মন্তুদ শান্তি?'
হে আল্লাহর বান্দা! জেনে রাখো! সকল আশা একদিন গুটিয়ে যাবে। সমস্ত ধন-সম্পদ বিলীন হয়ে যাবে। মাটির নিচে পঁচে যাবে তোমার সুন্দর দেহ। দিন-রাত্রি আবর্তিত হবে নতুন নিয়মে। প্রত্যেক দূরবর্তী নিকটবর্তী হবে। ঘনিয়ে আসবে সকল প্রতিশ্রুতি পূরণের দিন। সুতরাং সতর্ক হও হে আল্লাহর বান্দা। বিনয়াবনত হয়ে ফিরে এসো তোমার রবের দিকে। প্রত্যাবর্তন করো অবাধ্যতা ও নাফরমানি ছিন্ন করে।
জেনে রাখো! আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বান্দাকে চারটি জিনিসের বিনিময়ে অপর চারটি জিনিস দান করেন।
এক—যে দোয়া করে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। ইরশাদ হয়েছে,
ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ 'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।'৯২
দুই—যে ক্ষমাপ্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا 'নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল।'
তিন—যে শুকরিয়া আদায় করে আল্লাহ তাকে নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন। ইরশাদ হয়েছে,
لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ 'যদি তোমরা শুকরিয়া জ্ঞাপন করো তাহলে আমি তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব।'৯৩
চার—যে তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। ইরশাদ হয়েছে,
وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ 'তিনি ওই সত্তা যিনি তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন।'৯৪

টিকাঃ
৯০ সুরা হিজর: ৩।
৯১ সুরা মুমিনুন: ৫৫-৫৬।
৯২ সুরা গাফির: ৬০।
৯৩ সুরা ইবরাহিম: ৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00