📄 তাওবা-ইস্তেগফারের সুমিষ্ট ফল
এই ছোটো পুস্তিকাটির পরিসমাপ্তি টানতে চাই, তাওবা-ইস্তেগফারের ফলাফল- সংক্রান্ত কিছু ঘটনার বিবরণ দিয়ে। তাদের ঘটনা, যারা তাওবা-ইস্তেগফারকে আঁকড়ে ধরেছে এবং তার চাক্ষুষ ফলাফল লাভ করেছে। কীভাবে এর দ্বারা তাদের সামনে বদ্ধ দরজাগুলো উন্মুক্ত হয়েছে, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এসেছে, অন্ধকার জীবনে লেগেছে আলোর ছোঁয়া! এই ফলাফলগুলো তাওবা ও ইস্তেগফারের মহিমা ঘোষণা করে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো, নিজেদের জবানকে আল্লাহর জিকিরের প্রতি অভ্যস্ত করে তোলা। দিবারাত্রি অধিকহারে ইস্তেগফার করা।
ইমাম আবু হানিফা রহ. তাঁর মুসনাদে হযরত জাবির রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন,
جاء رجل من الأنصار إلى النبي ﷺ فقال له ما رزقت ولدا قط ولا ولد لى ولد قال فأين أنت عن الاستغفار وكثرة الصدقة يرزق الله بهما الولد فكان الرجل يكثر الصدقة ويكثر الاستغفار قال جابر فولد له سبعة من الذكور
'একবার জনৈক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার কোনো সন্তান নেই। সন্তান হয় না। রাসুল বললেন, তাহলে তুমি বেশি বেশি ইস্তেগফার ও দান-সদকা করছ না কেন? এই দুটি জিনিস দ্বারা আল্লাহ তায়ালা সন্তান দান করেন। পরবর্তীতে সে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার ও দান-সদকা করতে লাগল। জাবির রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, এরপর ওই ব্যক্তির নয়টি পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছিল। ৬৬
এক ব্যক্তি কিছু পণ্য বিক্রি করতে বাজারে গেল। বাজার ক্রেতা-বিক্রেতায় পরিপূর্ণ ছিল। পা ফেলারও জায়গা ছিল না। সে অনেক কষ্ট করে বিক্রির জন্য নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে সেখানে পণ্য ছড়িয়ে দিয়ে তার পাশে বসে থাকল। সময় বয়ে যায়, কিন্তু মানুষ তার পণ্যের দিকে ফিরেও তাকায় না। কদাচিৎ কেউ এসে দেখে-শুনে চলে যায়। অন্যদিকে এই লোকের টাকার প্রয়োজন ছিল অত্যধিক। আর সে এজন্যই মূলত পণ্য বিক্রি করতে বাজারে আসা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরও কেউ যেহেতু তার পণ্য কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, তখন তার অন্তর বিষাদে ছেঁয়ে গেল। আর ভাবতে লাগল, কী করা যায়! অকস্মাৎ তার স্মৃতিপটে মসজিদের ইমাম সাহেবের মুখে শ্রুত একটি হাদিস জ্বলজ্বল করে উঠল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ أَكْثَرَ مِنَ الاسْتِغْفَارِ، جَعَلَ اللهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٌّ فَرَجًا، وَمِنْ كُلِّ ضِيْقٍ مَخْرَجًا، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ 'যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে উত্তরণের উপায় বের করে দেবেন, তার সমস্ত দুশ্চিন্তা নিরসন সহজ করে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তাকে রিজিক দান করবেন। '৬৭
সে তাৎক্ষণিক তার জবান ও কলবকে ইস্তেগফারে নিমগ্ন করে দিলো। সে বলে, আমি ইস্তেগফার পড়া শুরু করার অব্যবহিত পরেই মানুষ আমার পণ্যের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল। কেউ এটা নিচ্ছে, কেউ ওটা নিচ্ছে। অনেকে আবার এক পণ্যের ওপর নিলাম পর্যন্ত শুরু করে দিয়েছে। আমি আমার পণ্য সব বিক্রি করে ফেললাম, আমার অন্তর প্রসন্ন হলো। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এই মূল্যবান ভান্ডারের প্রতি আমার অবহেলার কথা স্মরণ করতে করতে চোখ বেয়ে অশ্রু ধারা নেমে এল। আলহামদুলিল্লাহ।
হযরত হাসান বসরি রহ.-এর কাছে এসে এক লোক অনাবৃষ্টির অভিযোগ করল। আরেকজন এসে দরিদ্রতার অভিযোগ করল। তিনি তাদেরকে বললেন, 'ইস্তেগফার পড়ো।'
কিছুক্ষণ পর আরেকজন এসে বলল, 'আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন তিনি যেন আমাকে সন্তান দান করেন।' হযরত হাসান বসরি রহ. তাকে বললেন, 'ইস্তেগফার করো।'
অতঃপর আরেকজন এসে অভিযোগ করল, তার বাগানে ফল হয় না। হযরত হাসান বসরি তাকেও বললেন, 'ইস্তেগফার পড়ো।'
লোকেরা তাকে বারবার অনুরূপ উত্তর প্রদানের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, 'আমি নিজ থেকে বানিয়ে কিছু বলিনি। আল্লাহ তায়ালা সুরা নুহে বলেছেন,
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
'তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তেগফার করো, তিনি পরম ক্ষমাশীল। তোমাদেরকে মুষলধারে বৃষ্টি দান করবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।'৬৮
আরও একটি শিক্ষনীয় গল্প হলো, এক নিঃসন্তান দম্পতি, বিভিন্ন উন্নত হাসপাতালে চিকিৎসার পর সন্তান হওয়ার ব্যাপারে তারা হতাশ। সমস্ত ডাক্তার ও সব ধরনের ঔষধ প্রয়োগ যখন শেষ, এমন সময় তারা একজন আলেমের কাছে এ বিষয়ে সমাধান চাইল। আলেম তাদের সকাল-সন্ধ্যা বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করতে বললেন। এবং বললেন, আল্লাহ তায়ালা ইস্তেগফারকারীদের ব্যাপারে বলেছেন,
শেষ করে একটি ভালো মানের চাকরি খুঁজছিলেন। এমন চাকরি যা তার নারীত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে এবং ফ্রি ম্যাক্সিং তথা নারী-পুরুষের সহাবস্থানমুক্ত। মেয়েটি বলল, 'আমি প্রতিদিন ফজর নামাজের পর নিয়ম করে প্রায় ঘণ্টাখানিক সময় ইস্তেগফার করতে লাগলাম। দুই মাসের মধ্যেই আমি আমার মনমতো একটা চাকরি পেয়ে গেলাম।'
আরেক ব্যক্তি রাজনৈতিক মামলার জেরে আরব বিশ্বের এক জেলখানায় বন্দি হলো। দীর্ঘ সময়ের জন্য তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হলো। লোকটি বলল, 'আমি সকাল-বিকেল আল্লাহর ইস্তেগফার করতে লাগলাম। মাত্র তিন মাসের মাথায় আমার মুক্তিনামা চলে এল। আল্লাহ তায়ালা আমাকে উদ্ধার করলেন। শুধু তাই নয়, উপরন্তু আমাকে নেতৃস্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ডেকে পাঠালেন এবং আমাকে অনেক বড়ো অংক দান করলেন। আমার অবস্থাও দূর্গতিপূর্ণ ছিল, আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। আল্লাহ এখান থেকেও আমাকে উদ্ধার করলেন।'
এই ছোট্ট পুস্তিকার শেষদিকে প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষকে বিনীতভাবে বলতে চাই, তাওবা-ইস্তেগফারের ফজিলত, ব্যক্তি এবং সামাজিক জীবনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যদি বৃহৎ কলেবরের কিতাব লেখা হয় তাহলেও তার পূর্ণ হক আদায় হবে না। এজন্য আমি হৃদয় থেকে উৎসারিত কিছু কথামালা মুসলমান ভাই-বোনদের সমীপে উপস্থাপন করেছি। কিতাবটি একটি শস্যদানার ন্যায়। যে ব্যক্তি এটাকে হৃদয়ের জমিনে বপন করে যত্ন সহকারে পরিচর্যা করবে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর অন্তরকে ঈমান ও নুরের আলো দ্বারা সবুজাভ ও সুশোভিত করে দেবেন।
উপসংহারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখি, ইস্তেগফার পাঠ করে এর ফলাফল লাভের জন্য অস্থির হবেন না। ইস্তেগফারের ফুল কখনো দ্রুত প্রস্ফুটিত হয়। আবার কখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বিলম্ব হয়। আবার কোনো সময় ইস্তেগফারের ওসিলায় বড়ো মুসিবত দূরীভূত বা লাঘব করে দেওয়া হয়। আপনার থেকে কখনো এমনটি যেন না হয়, আপনার কোনো প্রয়োজন পূরণ বা কোনো কাজ সহজ হওয়ার জন্য কিছুদিন ইস্তেগফার পড়লেন, কাজটি সিদ্ধি হওয়ার পর ইস্তেগফার ছেড়ে পূর্বের অবাধ্যতায় ফিরে গেলেন। এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
প্রিয় ভাই ও বোন! নিজের দুর্বল ঈমান ও আল্লাহর অবাধ্যতার দোহাই দিয়ে কখনো পাপের পথে অটল থাকবেন না। শয়তানের সাজানো ফাঁদে পদস্খলন থেকে সচেতনতা ও সর্তকতা অবলম্বন করুন। জীবনের জন্য বাতাস, খাবার ও পানীয় যেমন অত্যাবশ্যক, অন্তর জীবিত, সতেজ ও সজীব থাকার জন্য ইস্তেগফার তেমনই জরুরি। তাওবা-ইস্তেগফার আপনার কলবকে সতেজ, সুস্থ, প্রাণচাঞ্চল্য করে তুলবে। জীবনকে করবে নিরাপদ ও কণ্টকমুক্ত। চিরশান্তি ও সৌভাগ্যের মোহনায় নিয়ে যাবে। আসুন হেঁটে চলি আমরা সেই সুখদ সৌভাগ্যের খোঁজে।
টিকাঃ
৬৬ মুসনাদে আবু হানিফা: শরহে মুল্লা আলি কারি
৬৭ সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৮
৬৮ নুহ: ১১-১৩
📄 আল্লাহ সবচেয়ে বড়ো ক্ষমাশীল
ইমাম বুখারি রহ. হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إن الله ملائكة يطوفون في الطريق يلتمسون أهل الذكر، فإذا وجدوا قوماً يذكرون الله تنادوا: هلموا إلى حاجتكم، قال: فيحفونهم بأجنحتهم إلى السماء الدنيا، فيسألهم ربهم جل في علاه وهو أعلم بهم: ما يقول عبادي؟ فيقولون: يسبحونك ويكبرونك ويمجدونك ويحمدونك، فيقول جل في علاه: هل رأوني؟ فيقولون: لا والله ما رأوك، فيقول: كيف لو رأوني؟ فيقولون: لو رأوك كانوا أشد لك عبادة، وأشد لك تمجيداً وتحميداً وأكثر تسبيحا قال: فيقول جل في علاه: فما يسألونني؟ قال: فيقولون: يسألونك الجنة، فيقول: هل رأوها? فيقولون: لا والله يا رب ما رأوها، فيقول: فكيف لو رأوها? فيقولون: لو أنهم رأوها لكانوا أشد عليها حرصاً، وأشد لها طلباً، وأعظم فيها رغبة)، فأين المشمرون? قال فيقول: فمم يتعوذون? فيقولون من النار، فيقول: هل رأوها? فيقولون: لا والله يا رب ما رأوها، فيقول: كيف لو رأوها? فيقولون: لو رأوها لكانوا أشد منها فراراً، وأشد لها مخافة)، اللهم أجرنا من النار فيقول: أشهدكم أني قد غفرت لهم، فيقول ملك من الملائكة: فيهم فلان ليس
مِنْهُمْ، إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ، فَيَقُولُ جَلَّ فِي عُلَاهُ: وَلَهُ قَدْ غَفَرْتُ، هُمُ الْقَوْمُ لَا يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ
'আল্লাহর একদল ফেরেশতা রয়েছেন যারা দুনিয়াতে আল্লাহর জিকিররত লোকদের অন্বেষণে পথে-পথে ঘোরাফেরা করেন। তারা যখন কোথাও আল্লাহর জিকিররত লোকদের দেখতে পান, তখন তাদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তারা সকলে এসে তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত। তখন তাদের রব তাদের জিজ্ঞেস করেন-অথচ ফেরেশতাদের চেয়ে তিনি বেশি জানেন-আমার বান্দারা কী বলেছে? তখন তারা জবাব দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে এবং আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে। আল্লাহ তখন জিজ্ঞেস করেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? ফেরেশতাগণ বলেন, হে আমাদের রব, আপনার কসম! তারা আপনাকে দেখেনি। আল্লাহ বলেন, আচ্ছা যদি তারা আমাকে দেখত? ফেরেশতারা বলেন, যদি তারা আপনাকে দেখত তাহলে তারা আরও বেশি আপনার ইবাদত করত, আরও অধিক আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করত আর বেশি বেশি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।
আল্লাহ বলেন, তারা আমার নিকট কী চায়? ফেরেশতা বলেন, তারা আপনার নিকট জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন, আপনার সত্তার কসম হে রব! তারা জান্নাত দেখিনি। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা যদি দেখত তবে তারা কী করত? ফেরেশতারা বলেন, যদি তারা জান্নাত দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরও বেশি আশা করত, আরও অধিক চাইত এবং এর জন্য আরও অতিশয় উৎসাহী হতো। আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞেস করেন, তারা কীসের থেকে আশ্রয় চায়? ফেরেশতারা বলেন, জাহান্নام থেকে। আল্লাহ বলেন, তারা কি জাহান্নাম কি দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন, আল্লাহর কসম, হে রব! তারা জাহান্নام দেখেনি। আল্লাহ বলেন, তারা যদি জাহান্নام দেখত তাহলে তাদের কী হতো? ফেরেশতারা বলেন, তারা যদি দেখত তাহলে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং সাংঘাতিক ভয় করত। তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের মাফ করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলবেন, তাদের মধ্যে অমুক আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোনো প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ বলেন, তারা এমন যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী কেউ বিমুখ হয় না।'৭২
সুতরাং হে জিকিরের মজলিসে উপবিষ্ট ব্যক্তিগণ! সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমাদের প্রভু সুবিশাল রহমতের অধিকারী। তার দয়া ও অনুগ্রহ সীমাহীন, বিপুল। আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে ডেকে বলছেন, 'পুণ্যবান বান্দাদের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হচ্ছে আমার সাথে সাক্ষাতের জন্য। আমিও তাদের সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষা করছি। জেনে রাখো! যে আমাকে অন্বেষণ করে সে আমাকে পায়। যে আমাকে ব্যতীত অন্যকে অন্বেষণ করে সে আমাকে পায় না। এমন কি কেউ আছে, যে আমার দিকে এগিয়ে এসেছে কিন্তু আমি তাকে কবুল করিনি? এমন কি কেউ আছে, যে আমার পথ অন্বেষণ করেছে কিন্তু আমি তার জন্য আমার রহমতের দুয়ার উন্মোচন করে দিইনি?
জেনে রাখো! যে আমার ওপর ভরসা করে আমি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাই। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দিই। যে আমার নিকট চায় আমি তাকে দিই।
জেনে রাখো! যারা আমাকে স্মরণ করে তারা সর্বদা আমার সাহচর্যে থাকে। যারা আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করে আমি তাদেরকে আমার নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দিই। যারা আমার আনুগত্য করে তারা আমার রহমতে ডুবে থাকে। যারা আমার অবাধ্যতা করে আমি তাদেরকে আমার রহমত থেকে কখনো নিরাশ করি না। যদি তারা তাওবা করে ফিরে আসে তাহলে আমি তাদেরকে ভালোবাসি। তারা যদি তাওবা না করে তথাপিও আমি তাদেরকে আমার নেয়ামত ভোগ করতে দিই। আমি তাদেরকে বিভিন্ন বিপদ দ্বারা পরীক্ষা করি যেন তারা অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসে।
যে আমার দিকে এগিয়ে আসে আমি তাকে দূর থেকে স্বাগত জানাই। পক্ষান্তরে যে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় আমি তাকে কাছ থেকে আহ্বান করি। যে আমাকে বর্জন করে আমি তাকে দ্বিগুণ দিই। আর যে আমার সন্তুষ্টি কামনা করে সে যেমন চায় আমি তাকে তেমনই দিই। যে আমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে আমি তাকে আশ্রয় দিই। যে আমার নিকট তার যাবতীয় কিছু অর্পণ করে আমি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাই। যে নিজেকে আমার নিকট বিক্রি করে আমি তাকে ক্রয় করে নিই। বিনিময়ে আমি তাকে দান করি জান্নাত।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! এগুলো আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার প্রতিশ্রুতি। আর তিনি কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
ইরশাদ হয়েছে,
وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ
'আল্লাহর চেয়ে বড়ো ওয়াদা পূরণকারী আর কে আছে?'৭৩
যারা আল্লাহর নিকট তাওবা করে আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করেন। শুধু তাই নয়, আল্লাহ তাদের প্রতি খুশি হন। সুতরাং হে তাওবাকারী! আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ গ্রহণ করো।
ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
'আল্লাহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। '৭৪
আল্লাহর প্রশংসা করো। তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো। এবং বলো হে আল্লাহ! আপনি আমার রব। আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার আনুগত্য করি। আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি সকল প্রকার অনিষ্টতা থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ব্যতীত আর কেউ নেই যে আমাকে ক্ষমা করবে।
আরও বলো 'হে আল্লাহ! আমি ছিলাম মৃত, আপনি আমাকে জীবিত করেছেন। আমি ছিলাম দুর্বল, আপনি আমাকে করেছেন শক্তিশালী। হে আল্লাহ! আমি ছিলাম ফকির, আপনি আমাকে বানিয়েছেন ধনী। আমি ছিলাম পথভ্রষ্ট, আপনি আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। হে আল্লাহ! আমি ছিলাম মূর্খ, আপনি আমাকে জ্ঞান দান করেছেন। আমি ছিলাম ক্ষুধার্ত, আপনি আমাকে আহার করিয়েছেন। আমার সমস্ত প্রশংসা তাই একমাত্র আপনার জন্য। সকল কৃতজ্ঞতা কেবল আপনার সমীপে। সকল কল্যাণ কেবল আপনার কুদরতি হাতেই। যাবতীয় বিষয় আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই।
হজরত মানসুর ইবনে আম্মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'ভোর হয়ে গেছে ভেবে একরাতে মসজিদের যাওয়ার জন্য আমি ঘর থেকে বের হলাম। বাহিরে বের হয়ে দেখি, এখনো রাত ঢের বাকি। আমি তখন একটি গৃহের সামনে এসে বসি। আর তখন হঠাৎ এক যুবকের ক্রন্দনের ক্ষীণ আওয়াজ আমার কানে ভেসে আসে। আমি দ্বিগুণ কৌতূহল নিয়ে যুবকের দিকে মনোনিবেশ করি। সে কেঁদে কেঁদে বলছে, 'হে আল্লাহ! আপনার বড়োত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের কসম! আমি আমার গোনাহের দ্বারা আপনার অবাধ্যতা করতে চাইনি। আমি গোনাহ করেছি, কারণ আমি তখন ছিলাম মূর্খ। হে আল্লাহ! তোমার নামের কসম! আমি তোমার শাস্তির ব্যাপারে বেপরোয়া ছিলাম না। আমি তোমাকে উপেক্ষা করিনি। হে আল্লাহ! আমি আমার নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখেছি, সত্যিই আমি অপরাধী। আমি ধোঁকায় পড়ে গোনাহ করে ফেলেছি। হে আল্লাহ! এখন তোমার শাস্তি থেকে কে আমাকে রক্ষা করবে? হে আল্লাহ! তুমি আমার অতীতের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দাও। আমি কায়মনো হয়ে তোমার নিকট তাওবা করছি।'
মানসুর বলেন, 'আমি সে যুবকের কান্নাভেজা প্রার্থনা শুনে পবিত্র কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করি,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে নির্দয় ও কঠোর ফেরেশতারা। তারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে না এবং যা করার নির্দেশ পায় তারা তাই করে।’ ৭৫
মানসুর বলেন, ‘অতঃপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। সকালে যখন বের হই দেখি, কাফনে মোড়ানো একটি মৃতদেহ জানাজার অপেক্ষা করছে। একজন বৃদ্ধ লোক লাশের সামনে পায়চারি করছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কে এই মৃত ব্যক্তি?
আমার কথা শুনে বৃদ্ধ লোকটি বেদনার স্বরে বলল, অনুগ্রহ করে আমার হৃদয়ের ব্যথা নতুন করে জাগিয়ে দেবেন না।
বললাম, আমি একজন আগন্তুক। তাই জানতে চাচ্ছি কে এই মৃত ব্যক্তি?
বৃদ্ধ লোকটি বলল, ‘সে আমার সন্তান। গতকাল রাতে ইন্তেকাল করেছে। কে যেন কুরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত করেছে যেখানে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের ভয়াবহতা আলোচনা করেছেন। আমার ছেলে উক্ত আয়াত শুনে কাঁদতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে অবশেষ সে মারা যায়।’
টিকাঃ
৭২ বুখারি: ৫৯৬৬।
৭৩ সুরা তাওবা: ১১১।
৭৪ সুরা বাকারা: ২২২।
৭৫ সুরা তাহরিম: ৬।
📄 আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন
যুবক ও বৃদ্ধদের সমূহ সমস্যার সমাধান এবং চিন্তা ও দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রশান্তি কেবল আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করার মাঝে। জীবনের প্রকৃত শান্তির জন্য প্রয়োজন আল্লাহওয়ালাদের কাফেলায় শরিক হওয়া। গোনাহ ও অবাধ্যতাকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেওয়া। অন্ধকার থেকে বের হয়ে আলোর পথে আসা। পাপাচারিতার লাঞ্ছনাকে আনুগত্যের সম্মানে পরিবর্তন করা। নফস, প্রবৃত্তি ও শয়তানের ওপর বিজয়ী হওয়া। জীবনে প্রশান্তি পেতে হলে, দুনিয়া-আখেরাতে সফলতা অর্জন করতে হলে শামিল হতে হবে তাদের সারিতে যারা প্রাধান্য দিয়েছেন জাহান্নামের ওপর জান্নাতকে। অবাধ্যতার ওপর আনুগত্যকে। গোনাহের ওপর নেক আমলকে। এবং অতীতের গোনাহ ও নাফরমানির জন্য লজ্জিত হবে। অন্তরে জাগ্রত করবে গোনাহের প্রতি তীব্র অনুশোচনা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, الندم توبة 'অনুশোচনার নামই তাওবা।'
সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন, 'বান্দা তো গোনাহ করবেই। তবে অন্তরের অনুশোচনা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। অতঃপর শয়তান বলবে, হায়! কেন আমি তাকে গোনাহে পতিত করলাম।'
বান্দা গোনাহ করবেই। এর মাঝে দোষের কিছু নেই। বরং দোষ হলো তাওবা না করে গোনাহের ওপর অটল থাকা। ক্রমাগত গোনাহে লিপ্ত থাকা। বান্দা গোনাহ করার চেয়ে বড়ো অন্যায় হলো তাওবা না করা। আল্লাহ গোনাহগার ও পাপী ব্যক্তিকে যতোটুকু ঘৃণা করেন, তার চেয়ে অধিক ভালোবাসেন তাওবাকারীকে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাওবাকারীর উত্তম প্রশংসা করে বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ 'আল্লাহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।' ৭৬
টিকাঃ
৭৬ সুরা বাকারাহ: ২২২।
📄 ইবরাহিম ইবনে আদহামের সঙ্গে কথোপকথন
একদা জনৈক ব্যক্তি বিখ্যাত সুফি ও জ্ঞানতাপস ইবরাহিম ইবনে আদহামের নিকট এসে বলল, 'আমি অনেক গোনাহ করেছি। আল্লাহর অবাধ্যতায় কেটে যাচ্ছে আমার জীবন। গোনাহ ও পাপাচারিতায় আমি নিজের ওপর অবিচার করেছি। আপনি আমাকে এমন কতিপয় উপদেশ দিন যা আমাকে গোনাহ থেকে বিরত রাখবে।'
ইবরাহিম ইবনে আদহাম তাকে বললেন, 'আমি তোমাকে পাঁচটি উপদেশ দিচ্ছি।
এক. তোমার যদি গোনাহ করতে ইচ্ছে হয় তাহলে তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করবে না।'
লোকটি বলল, 'হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! তা কীভাবে সম্ভব? এই জমিন তার। আসমান তার। সমগ্র জগৎ একমাত্র তারই সৃষ্টি। তাহলে আমি কোত্থেকে আহার করব?'
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, 'এ তো ভারি আশ্চর্য, তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করছ এবং তার সাথেই নাফরমানি করছ!
দুই. তোমার যদি গোনাহ করতে ইচ্ছে হয়, তাহলে তুমি আল্লাহর সৃষ্টি এ জমিন ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবে।
লোকটি বলল, হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! তা কীভাবে সম্ভব? এ সমগ্র জমিন তো আল্লাহরই সৃষ্টি। তাহলে আমি কোথায় পলায়ন করব?'
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, 'এ তো ভারি আশ্চর্য, তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভক্ষণ করছ, তার তৈরি জমিনে বসবাস করছ আবার তারই অবাধ্যতা করছ!
তিন. তোমার যখন গোনাহ করতে ইচ্ছে করবে, তখন তুমি এমন স্থানে চলে যাবে যেখানে আল্লাহ তোমাকে দেখতে পাবে না। অতঃপর সেখানে তুমি আল্লাহর অগোচরে তার অবাধ্যতা করবে।
লোকটি বলল, 'হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! কোথায় সে জায়গা যেখানে চলে গেলে আল্লাহ আমাকে দেখতে পাবেন না? হে ইবরাহিম! তিনি তো এমন সত্তা, যাকে তন্দ্রা ও ঘুম কখনো আচ্ছন্ন করে না। দৃশ্য, অদৃশ্য কোনো কিছুই তার দৃষ্টির আড়ালে নয়।
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, আশ্চর্য! তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভক্ষণ করছ, তারই জমিনে বসবাস করছ এবং সর্বদা তুমি তার পর্যবেক্ষণে আছ, তথাপিও তোমার গোনাহ করতে ইচ্ছে হয়?
চার. মৃত্যুর ফেরেশতা যখন তোমার জান কবজ করতে আসবে তখন তুমি তাকে বলবে, আমি মৃত্যুবরণ করবো না।
লোকটি বলল, হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! তা কীভাবে সম্ভব? অথচ আল্লাহ বলেছেন,
إِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ
'যখন তাদের সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তারা তা একমুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা এগিয়ে আনতে পারবে না।' ৭৭
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, আশ্চর্য! তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভক্ষণ করছ, তার তৈরি জমিনে বসবাস করছ, সর্বদা তুমি তার পর্যবেক্ষণে আছ এবং তোমার মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী, তথাপিও তুমি গোনাহ করছ? আল্লাহর নাফরমানিতে মত্ত হয়ে আছ?
পাঁচ. যখন আজাবের ফেরেশতারা এসে তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চাইবে তখন তুমি তাদেরকে প্রতিহত করে জান্নাতে চলে যাবে।
লোকটি বলল, 'হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! এ তো কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।'
ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন, আশ্চর্য! তুমি আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভক্ষণ করছ, তার তৈরি জমিনে বসবাস করছ, সর্বদা তুমি তার পর্যবেক্ষণে আছ, তোমার মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী এবং মৃত্যুর পর তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারবে না, তথাপিও আল্লাহর অবাধ্যতা করছ?
এ কথা শুনে লোকটি বলল, ‘হে ইবরাহিম ইবনে আদহাম! আপনি শুনুন, আমি আমার সমস্ত গোনাহ থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার নিকট তাওবা করছি।
হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করছ না? তুমি কি আল্লাহর জমিনে বসবাস করছ না? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কি তোমাকে সর্বদা পর্যবেক্ষণ করছেন না? হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে? তুমি কি জাহান্নাম থেকে নিজেকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে? তথাপিও কেন আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে মত্ত হয়ে আছ? কেন ডুবে আছ পাপের সাগরে?
হে আল্লাহর বান্দা! ফিরে এসো তোমার রবের দিকে। জীবনের সকল গোনাহ থেকে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো। আন্তরিকভাবে তাওবা করো। জেনে রাখো, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা গোনাহকে যেমন ঘৃণা করেন, তেমনি ভালোবাসেন বান্দার তাওবাকে। হে আল্লাহর বান্দা! দেখো! আল্লাহ তায়ালা তোমার জন্য তাওবার দরজাকে উন্মুক্ত করে রেখেছেন। আর কতকাল দূরে থাকবে তার আনুগত্য ও নৈকট্য থেকে?
সুতরাং এসো, শামিল হও প্রত্যাবর্তনকারীদের কাফেলায়।
টিকাঃ
৭৭ সুরা ইউনুস: ৪৯।