📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 ভালোবাসা অর্জনে ঈমান বিসর্জন

📄 ভালোবাসা অর্জনে ঈমান বিসর্জন


ল্লামা জাওহারী তার কিতাব আল মুনতাজিমে এ সম্পর্কে একটি ঘটনা লিখেছেন-
একবার মুসলামানগণ যুদ্ধ করতে গিয়ে রোমের কোনো এক দূর্গ অবরোধ করল। দূর্গটি ছিল অত্যন্ত মজবুত। তাই তাদের অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে থাকল। এই দীর্ঘ অবরোধের মাঝে একদিন রোমানদের একটি মেয়ে দূর্গ থেকে উঁকি দিল। ইবনে আব্দুর রহীম নামক এক ব্যক্তি মেয়েটিকে দেখে ফেলল। মেয়েটিকে ভীষণ ভালো লেগে গেল তার। মেয়েটির জন্য তার অন্তরে জন্ম নিল গভীর ভালোবাসা। সে মেয়েটির কাছে চিঠি পাঠাল-
হে রূপসী! কি করে তোমায় পাওয়া যাবে বলো? জবাবী চিঠিতে মেয়েটি লিখল, তুমি খ্রিস্টান হয়ে যাও, তাহলেই আমাকে কাছে পাবে।
লোকটি মেয়েটির ভালোবাসার মোহে পড়ে খ্রিস্টান হয়ে গেল এবং চলে গেল তার কাছে।
আহা! সে কত বড় মিসকিন! একজন নারীকে বিবাহ করতে পারাকেই সে নিজের সফলতা মনে করল।
সে হাতছাড়া হওয়ার কারণে মুসলমানগণ অনেক চিন্তিত হল। অতঃপর যখন অবরোধের সময়কাল প্রলম্বিত হচ্ছিল, কিছুতেই জয় করা যাচ্ছিল না দূর্গটি, তখন মুসলমানেরা সেখান থেকে ফিরে গেল।
কিছুদিন পরে কথা। অবরোধকারী مسلمانوں একটি দল ওই দূর্গের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন তাদের আব্দুর রহিমের কথা মনে পড়ল। তারা তার নাম ধরে ডাক দিল। হে ইবনে আব্দুর রাহিম। তুমি কোথায়?
সে উকি দিয়ে বাইরে তাকাল।
তারা তাকে বলল, তুমি তো যা কামনা করেছিলে তা পেয়ে গেছ। এখন তোমার কোরআন, তোমার ইলম ও সালাতের খবর কি?
সে উত্তর দিল, আমি পুরো কোরআন ভুলে গেছি। শুধু একটি আয়াত মনে আছে আমার-
﴿ رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ ﴾ কোনো সময় কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে, কি চমৎকার হত, যদি তারা মুসলমান হত! [সূরা হিজর : ২]
এর পরের আয়াতেই আল্লাহ বলেন- ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الْأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ আপনি ছেড়ে দিন তাদেরকে, খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক এবং আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্বর তারা জেনে নেবে। [সূরা হিজর : ৩]
এই ছিল আব্দুর রহিমের ঘটনা। একটি মেয়ের ফেতনা তাকে বিভ্রান্ত করেছে। করেছে পথভ্রষ্ট। ফলে সে আসমান ও জমিনের প্রভুর সাথে শিরক করেছে।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 সম্পদের লোভে সংকল্প পরিত্যাগ, অতঃপর...

📄 সম্পদের লোভে সংকল্প পরিত্যাগ, অতঃপর...


ক খনও কখনও মানুষ ধন-সম্পদের মোহে পড়ে দয়ালু আল্লাহ -র সাথে কুফুরী করে। এই ধরো আ'শা ইবনে কায়সের কথা। সে ছিল এক বৃদ্ধ কবি। আরবের নজদ অঞ্চলের অন্তর্গত ইয়ামামা থেকে রাসুল -র সাথে সাক্ষাত করার জন্য সফর শুরু করল। উদ্দেশ্য নবীজীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করা। সে অবিরাম সফর করে মদিনার পানে এগুচ্ছিল। তার মনের পর্দায় ভাসছিল রাসুল নূরানী মুখচ্ছবি। তার হৃদয় নবীজীর সাক্ষাত লাভে হচ্ছিল ব্যকুল। তার জবান রাসুলের প্রশংসায় একের পর এক কাব্যগাঁথা আওড়াচ্ছিল।
সে অবিরাম পাহাড়-পর্বত ও মরু-প্রান্তর অতিক্রম করে আসছিল। মনে তার দৃঢ় সংকল্প- দেখা করবে নবীর সাথে। আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলবে কুফর-শিরকের পঙ্কিলতাকে।
কিন্তু সে যখন মদিনার কাছাকাছি পৌঁছল, তখন কিছু কাফের এসে তার পথ আগলে দাঁড়াল। তারা জানতে চাইল তার সফরের উদ্দেশ্য।
সে বলল, আমি রাসুল -র সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছি।
তারা ভড়কে গেল। মনে মনে ভাবল, এই কবি যদি মুহাম্মাদের সাথে দেখা করে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলে। তাহলে তো মুহাম্মাদের শান আরো বেড়ে যাবে। তিনি হয়ে উঠবেন আরো শক্তিশালী। হাচ্ছান বিন ছাবেত একাই তো তাদের অবস্থা নাজেহাল করে ছাড়ছে। এখন যদি এই কবিও ইসলাম গ্রহণ করে নেয়, তাহলে তো উপায় নেই।
তাই তারা তাকে বোঝাল, হে আ'শা! তোমার বাপ দাদাদের ধর্মের মাঝেই রয়েছে কল্যাণ।
সে বলল, না, রাসুল -র ধর্মই অধিক ভালো।
তারা বলল, তিনি তো জিনাকে হারাম বলেন।
আ'শা বলল, আমি বৃদ্ধ। মহিলাদের প্রতি আমার কোনো আকর্ষণ নেই।
তারা বলল, তিনি তো মদ পান করাকে হারাম বলেন।
আ'শা বলল, মদতো আকলকে বিকল করে দেয়। মানুষকে অপদস্থ করে। মদের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই।
তারা যখন দেখল যে, সে ইসলাম গ্রহণে দৃঢ় প্রত্যয়ী। তখন তারা বলল, আমরা তোমাকে ১০০ উট দেব। তুমি তোমার বাড়িতে ফিরে যাও। ইসলাম গ্রহণের সংকল্প ত্যাগ কর।
আ'শা বলল, আচ্ছা! সম্পদের কথা যখন বলছ, তাহলে ঠিক আছে। আমি ইসলাম গ্রহণ করব না।
অতঃপর তারা তাকে ১০০ উট দিল। উট বুঝে পেয়ে সে আর ইসলাম গ্রহণ করল না। কাফের অবস্থাতেই ফিরে চলল তার স্বজাতির কাছে। সে প্রফুল্ল চিত্তে উটগুলোকে পেছন থেকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। নিজ এলাকার কাছাকাছি পৌঁছার পর আচানক সে উট থেকে পড়ে গেল। ভেঙ্গে গেল তার পা ও কোমর। পরিশেষে সে মৃত্যু বরণ করল। ۞ ذلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيُوةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَ أَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴿١٠﴾ أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ وَ أُولَئِكَ هُمُ الْغُفِلُونَ ﴿١٠٨﴾ لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْخُسِرُونَ এটা এ জন্যে, তারা পার্থিব জীবনকে পরকালের চাইতে প্রিয় মনে করেছে এবং আল্লাহ্ অবিশ্বাসীদের পথ প্রদর্শন করেন না।
এরাই তারা, আল্লাহ তা'আলা এদেরই অন্তর, কর্ণ ও চক্ষুর ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরাই কান্ডজ্ঞানহীন। বলাবাহুল্য, পরকালে এরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [সূরা নাহল ১০৭-১০৯]

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 বিধর্মীদের সাথে মেলামেশার পরিণতি

📄 বিধর্মীদের সাথে মেলামেশার পরিণতি


সেক-ফুজ্জার ও বিধর্মীদের সাথে মেলামেশার পরিণাম সম্পর্কে যদি তুমি নিশ্চিত হতে চাও, তাহলে আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশের দিকে তাকাও। রাসুল ﷺ -র সাথে ছিল তার উঠাবসা। তদুপরি সে ছিল সেসব মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত; ইসলাম গ্রহণের কারণে মক্কার কাফেররা যাদেরকে একঘরে করে রেখেছিল। ইসলামের সম্মান রক্ষায় তাকে সইতে হয়েছিল বহু কষ্ট-যাতনা। নিজের দেশ, পরিবার ও ধন-সম্পদ ছেড়ে مسلمانوں সাথে হাবশায় হিজরত করার বিরল সৌভাগ্যও অর্জন করেছিল সে। সেসময় তার সাথে ছিল তার স্ত্রী- উম্মে হাবিবা। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর খ্রিস্টানদের সাথে তার মেলামেশা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেল। ধীরেধীরে সে مسلمانوں থেকে দূরে সরে যেতে লাগল। তার মানসিক অবস্থার এতটাই অবনতি ঘটল যে, একদিন সকালে সে তার স্ত্রী উম্মে হাবীবাকে বলল, আমি সব ধর্মই দেখলাম। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্মের চেয়ে বেশি উত্তম আর কোনটাকে পাইনি।
স্বামীর মুখে এ কথা শুনে স্ত্রী ঘাবড়ে গেল। সে বলল, আল্লাহর শপথ! তোমার জন্য এটা কখনোই মঙ্গলজনক হবে না।
কিন্তু সে স্ত্রীর কথা শুনল না। সে তার প্রতিপালককে অস্বীকার করে বসল। গলায় ক্রুশ পরল। মদ পান করতে লাগল। খ্রিস্টানদের সাথে মেলামেশা করতে থাকল। আমৃত্যু সে আল্লাহর নাফরমানীতে অটল ছিল। (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহ -র আমাদেরকে সর্বদা তাঁর দীনের ওপর অবিচল রাখুন।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 দীনের ওপর অবিচলতায় সঙ্গীর সাহচর্যের প্রভাব

📄 দীনের ওপর অবিচলতায় সঙ্গীর সাহচর্যের প্রভাব


দীনের ওপর অটল থাকার ক্ষেত্রে সঙ্গীর সাহচর্যের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তাই তো আল্লাহ মুমিনদেরকে নেককারদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। বারণ করেছেন বিজাতীদের কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে।
وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ ، وَلَنْ تَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا ﴿٢٤﴾ وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدُوةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوْنَهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا
আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নেই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোনো আশ্রয়স্থল পাবেন না।
আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। [সূরা কাহফ : ২৭-২৮]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00