📄 দুনিয়ার জন্য দীন পরিত্যাগ নয়
কিছু মানুষ হেদায়াত লাভের প্রতি আগ্রহী হয়। কেউবা দীর্ঘকাল অটলও থাকে তার ওপর। অতঃপর জাগতিক মোহ, পার্থিব ভোগ-বিলাসের প্রতি সে আসক্ত হয়ে পড়ে। কখনও সম্মান লাভের আশায়, কখনও ভালো চাকুরী পাবার জন্য, কখনও সম্পদ অর্জনের লোভে সে তার দীনদারীকে পরিত্যাগ করে। কখনও তার কাছে তার বন্ধু-বান্ধবেরা এসে ভীড় জমায়। তারা তাকে অশ্লীলতা ও পাপাচারের দিকে আহবান জানায়। সেও গুনাহের কাজ থেকে বাঁধা দেওয়ার পরিবর্তে প্রবৃত্তির বাসনা পূরণে তাদের ডাকে সাড়া দেয়। ফলে সে আনুগত্যের সম্মান থেকে অবাধ্যতার লাঞ্ছনার দিকে স্থানান্তরিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাকে হেদায়াত দেওয়ার পর সে পৃষ্ট প্রদর্শন করে চলে যায়।
📄 মাটি গ্রহণ করেনি যার লাশ
হিহাইনে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে- রাসুল ﷺ-র যুগে এক ব্যক্তি ছিল। সে ছিল একাধারে ক্বারী ও কাতেবে ওহী। রাসুল ﷺ-র কাছে আসা ওহীগুলো সে লিখে রাখত। সে সূরা বাকারা ও আলে ইমারান মুখস্ত করে ফেলেছিল। সেজন্যে সাহাবাদের মধ্যে তার সম্মান ছিল ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। কিন্তু কিছু মোশরেক তাকে দুনিয়া, ধন সম্পদ ও নারীর লোভ দেখিয়ে পথভ্রষ্ট করে ফেলল। সে মুরতাদ হয়ে গেল। জাগতিক সুখ-শোভা পাওয়ার লোভে শামিল হয়ে গেল মূর্তি পূজারীদের দলে।
পরবর্তীতে সে রাসুল -কে নিয়ে ঠাট্টা করে বলত- মুহাম্মাদ তো তাই জানে যা আমি লিখতাম। এ ছাড়া আর কিছুই সে জানে না।
এরপর...
রাসুল তার এ অবস্থার কথা জানতে পারলেন। তিনি আল্লাহ -র কাছে দোআ করলেন- হে আল্লাহ! তুমি তাকে জগতের জন্য দৃষ্টান্ত বানিয়ে দাও।
কিছুদিন পরই সেই ব্যক্তিটি মারা গেল।
তার সাথীরা কবর খনন করে তাকে দাফন করল। অতঃপর যখন তারা চলে আসছিল তখন দেখতে পেল মাটি তাকে জমিনের ওপর নিক্ষেপ করেছে। এ দৃশ্য দেখে তারা অবাক হয়ে গেল। পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, নিশ্চয় এটা মুহাম্মাদ ও তার সাথীদের কাজ। অতঃপর তারা দ্বিতীয়বার গভীরভাবে মাটি খনন করে তাকে দাফন করল। মাটি পুনরায় তার সাথে একই আচরণ করল। তাকে ওপরে নিক্ষেপ করল। এবারও তার বন্ধুরা বলতে লাগল, এটা মুহাম্মাদ ও তার সাথী-সঙ্গীদের কাজ। অতঃপর তারা পুনরায় তাদের সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করে যতোটা সম্ভব গভীর করে মাটি খনন করল। এবারও মাটি তাকে ওপরে নিক্ষেপ করল।
এবার তারা বলতে লাগল, এটা কোন মানুষের কাজ হতে পারে না। তাই তারা তাকে এভাবেই মাটির ওপর রেখে চলে গেল। অতঃপর কুকুর তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার মুখে পেশাব করত। কাক, শিয়াল ও অন্যান্য প্রাণী তার গোস্ত ছিঁড়ে ফেড়ে খেত। এভাবেই একসময় তার লাশ জমিনের উপরেই পচে গলে শেষ হয়ে গেল। (নাউযুবিল্লাহ)।
📄 আলো ছেড়ে আঁধার পানে
মানুষ দীর্ঘকাল আল্লাহ-র আনুগত্য করে। সৎকর্মে ব্যস্ত থাকে। আসমান-জমিনের প্রভুর সাথে ভাব তৈরী করে ফেলে। নিভৃতে তাঁর সাথে কথা বলে। তাঁর মহব্বতের মাঝে অনুভব করে অনাবিল জান্নাতী সুখ। তাঁর ভালোবাসায় অন্তরাত্মাকে রাখে সজীব। তাঁর সন্তুষ্টির অন্বেষণেই হৃদয়কে রাখে প্রশান্ত।
অতঃপর একসময় সে পাপাচারী ও মন-পূজারীদের দেখে তাদের বিলাসী জীবনের মোহে পড়ে যায়। তাদের মতো জীবন যাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তার মনে হয়, তারা কতই না সুখে আছে। পরিণামে সে একের পর এক বালা-মসিবতে আক্রান্ত হতে থাকে।
📄 ভালোবাসা অর্জনে ঈমান বিসর্জন
ল্লামা জাওহারী তার কিতাব আল মুনতাজিমে এ সম্পর্কে একটি ঘটনা লিখেছেন-
একবার মুসলামানগণ যুদ্ধ করতে গিয়ে রোমের কোনো এক দূর্গ অবরোধ করল। দূর্গটি ছিল অত্যন্ত মজবুত। তাই তাদের অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে থাকল। এই দীর্ঘ অবরোধের মাঝে একদিন রোমানদের একটি মেয়ে দূর্গ থেকে উঁকি দিল। ইবনে আব্দুর রহীম নামক এক ব্যক্তি মেয়েটিকে দেখে ফেলল। মেয়েটিকে ভীষণ ভালো লেগে গেল তার। মেয়েটির জন্য তার অন্তরে জন্ম নিল গভীর ভালোবাসা। সে মেয়েটির কাছে চিঠি পাঠাল-
হে রূপসী! কি করে তোমায় পাওয়া যাবে বলো? জবাবী চিঠিতে মেয়েটি লিখল, তুমি খ্রিস্টান হয়ে যাও, তাহলেই আমাকে কাছে পাবে।
লোকটি মেয়েটির ভালোবাসার মোহে পড়ে খ্রিস্টান হয়ে গেল এবং চলে গেল তার কাছে।
আহা! সে কত বড় মিসকিন! একজন নারীকে বিবাহ করতে পারাকেই সে নিজের সফলতা মনে করল।
সে হাতছাড়া হওয়ার কারণে মুসলমানগণ অনেক চিন্তিত হল। অতঃপর যখন অবরোধের সময়কাল প্রলম্বিত হচ্ছিল, কিছুতেই জয় করা যাচ্ছিল না দূর্গটি, তখন মুসলমানেরা সেখান থেকে ফিরে গেল।
কিছুদিন পরে কথা। অবরোধকারী مسلمانوں একটি দল ওই দূর্গের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন তাদের আব্দুর রহিমের কথা মনে পড়ল। তারা তার নাম ধরে ডাক দিল। হে ইবনে আব্দুর রাহিম। তুমি কোথায়?
সে উকি দিয়ে বাইরে তাকাল।
তারা তাকে বলল, তুমি তো যা কামনা করেছিলে তা পেয়ে গেছ। এখন তোমার কোরআন, তোমার ইলম ও সালাতের খবর কি?
সে উত্তর দিল, আমি পুরো কোরআন ভুলে গেছি। শুধু একটি আয়াত মনে আছে আমার-
﴿ رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ ﴾ কোনো সময় কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে, কি চমৎকার হত, যদি তারা মুসলমান হত! [সূরা হিজর : ২]
এর পরের আয়াতেই আল্লাহ বলেন- ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الْأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ আপনি ছেড়ে দিন তাদেরকে, খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক এবং আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্বর তারা জেনে নেবে। [সূরা হিজর : ৩]
এই ছিল আব্দুর রহিমের ঘটনা। একটি মেয়ের ফেতনা তাকে বিভ্রান্ত করেছে। করেছে পথভ্রষ্ট। ফলে সে আসমান ও জমিনের প্রভুর সাথে শিরক করেছে।