📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 রাসুলের জবাবী চিঠি

📄 রাসুলের জবাবী চিঠি


রাসুল ﷺ যখন এই চিঠি পড়লেন তখন মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় প্রভুর সাথে মুসাইলামার ধৃষ্টতা দেখে আশ্চার্যান্বিত হলেন। তিনি জবাবে লিখলেন-
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُوْلِ اللَّهِ إِلَى مُسَيْلَمَةَ الْكَذَّابِ السَّلَامُ عَلى مَن اتَّبَعَ الْهُدَى أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ الْأَرْضَ لِلهِ يُوْرِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ ﷺ-র পক্ষ থেকে মিথ্যাবাদি মুসাইলামার প্রতি। যে হেদায়াতের অনুসরণ করে তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর কথা হল এই যে, সমগ্র ভূখন্ড তো আল্লাহ তাআলার। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা তাকে এর ওয়ারিস বানান। আর মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে উত্তম পরিণাম।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 নির্ভীক সাহাবীর ঈমানী দৃঢ়তা

📄 নির্ভীক সাহাবীর ঈমানী দৃঢ়তা


চিঠি লেখা শেষ করে আল্লাহর রাসুল ﷺ তার আশপাশে উপবিষ্ট সাহাবাদের মুখের দিকে তাকালেন। তিনি এমন একজনকে খুঁজছিলেন যে হবে একই সাথে বুদ্ধিমান ও নির্ভিক। যাকে তিনি চিঠিটি দিয়ে মুসাইলামার কাছে পাঠাবেন। অতঃপর হাবীব ইবনে যায়েদ রা. দ্রুত রাসুল ﷺ-র দিকে আগিয়ে এলেন। তিনি ছিলেন এমন যুবক; প্রবৃত্তির তাড়না যাকে কখনও দীনের খেদমত থেকে দূরে সরাতে পারেনি।
তিনি ছিলেন এমন যুবক যিনি তার রবকে ছেড়ে অন্য কোন সুখ-সৌন্দর্য নিয়ে ব্যস্ত হননি। যার অন্তর ছিল ঈমান ও বিশ্বাসে টইটম্বুর। যার রাত কাটাতো তাসবীহ-তাহলীল ও কোরআন পাঠে। তিনি রাসুল ﷺ-র হাত থেকে চিঠিটি নিলেন। মদিনা থেকে রওয়ানা হয়ে চললেন ইয়ামামায় দিকে। অতিক্রম করলেন হাজার হাজার কিলোমিটার পথ। পরিশেষে তিনি পৌঁছলেন মুসাইলামার কাছে। চিঠিটি তার হাতে দিলেন।
মুসাইলামা চিঠিটি পড়ে রাগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠল। সে তার সহযোগীদের ডাক দিল। হাবীব ইবনে যায়েদ-কে তার সামনে দাঁড় করাল। তাকে চিঠি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল।
হাবীব ইবনে যায়েদ বললেন, এটা আল্লাহর রাসুলের চিঠি।
মুসাইলামা বলল, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল?
হাবীব বললেন, হাঁ, আমি সাক্ষ্য দেই যে তিনি আল্লাহর রাসুল।
তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসুল?
হাবীব বললেন, তোমার এ কথা শোনা থেকে আমার কান বধির।
মুসাইলামা আবার বলল, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল?
হাবীব বললেন, হাঁ, আমি সাক্ষ্য দেই যে তিনি আল্লাহর রাসুল।
মুসাইলামা বলল, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসুল?
হাবীব বললেন, আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।
মুসাইলামা পুনরায় পূর্বের কথাগুলো পুনরাবৃত্তি করল।
হাবীব -ও আগের মতই উত্তর দিতে লাগলেন। একপর্যায়ে মুসাইলামা ক্রোধান্বিত হয়ে জল্লাদকে ডাক দিল। তাকে আদেশ দিল, এই যুবকের শরীরে আঘাত করতে থাক।
জল্লাদ আঘাত করতে থাকল। আর সে উপরিউক্ত প্রশ্নগুলো বারবার জিজ্ঞাসা করতে লাগল। হাবীব আগের মতই জবাব দিতে থাকলেন। যা শুনে শুনে মুসাইলামার ক্রোধের আগুন বাড়তে লাগল।
এবার সে জল্লাদকে বলল, এর জিহ্বা কেটে দাও।
জল্লাদ তার আল্লাহর যিকিরে সতেজ জিহ্বাটি কেটে ফেলল। কাটা জিহ্বা থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছিল।
অতঃপর তাকে আবার নরপিশাচ মুসাইলামার সামনে দাঁড় করানো হল। মুসাইলামা চিৎকার দিয়ে সেই একই প্রশ্ন করল, তুমি কি সাক্ষ্য দাও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল?
হাবীব হাঁ সূচক মাথা নেড়ে জবাব দিলেন- হাঁ।
মুসায়লামা বলল, তুমি সাক্ষ্য দাও আমি আল্লাহর নবী?
তিনি না সূচক মাথা নেড়ে জবাব দিলেন- না।
পাষাণপ্রাণ মুলসাইলামা জল্লাদকে হাবীব -র হাত, পা, কান, সব কেটে ফেলতে বলল। নিষ্ঠুর জল্লাদ তার আদেশ পালন করল। একটি একটি করে তার সবগুলো অঙ্গ কেটে ফেলল। রক্তের বন্যা বয়ে গেল। হাবীব তার মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গেলেন। রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 আপনার সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য

📄 আপনার সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য


হাঁ, এটাই বাস্তবতা। হাবীব -র জিহ্বা কেটে ফেলা হয়েছিল। তার শরীর টুকরো টুকরো করা হয়েছিল। তার হাড়গুলোকে ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হয়েছিল। তিনি আল্লাহ -র সন্তুষ্টির পথে অসহ্য যন্ত্রণা সয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।
কেয়ামতের দিন তিনি যখন আল্লাহ -র সামনে দাঁড়াবেন। আল্লাহ যখন তাকে জিজ্ঞেস করবেন, হে আমার বান্দা, দুনিয়াতে তোমার জবান, হাত, পা, নাক কেন কাটা হয়েছিল? কেন তোমাকে করা হয়েছিল রক্তে রঞ্জিত?
তখন তিনি উত্তর দেবেন, হে বিশ্বকর্তা, আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমি এগুলো বিসর্জন দিয়েছি। কিন্তু হে আমার প্রভু! যেহেতু আপনার সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য, তাই এ যন্ত্রণা আমার কাছে তুচ্ছ মনে হয়েছে। কষ্টগুলো পরিণত হয়েছে খুশির অশ্রুতে। রক্তগুলো পরিণত হয়েছে সুরভিত মেসকে।
হে প্রভু! দুনিয়াতে হয়তো আমাকে ভোগ করতে হয়েছে যন্ত্রণা। কিন্তু বিনিময়ে আজ বিচার দিবসে আমার চেহারা হয়েছে উজ্জ্বলময়।
তখন আল্লাহ তাঁর দিদার নসীব করিয়ে তাকে ধন্য করবেন। তার যন্ত্রনাগুলোকে আনন্দে বদলে দিয়ে করবেন সৌভাগ্যমন্ডিত। তাকে দান করবেন সুউচ্চ মর্যাদা। মার্জনা করবেন তার পদস্থলনগুলো।
কে জানে, হয়তো তার প্রভু তার কাছে চুপিচুপি বলবেন- বান্দা আমার! যাও আজ থেকে তুমি ডুবে যাও অসীম সুখ-সৌন্দর্যে। অনিঃশ্বেষ ভোগ-বিলাসে। বিচরণ করে বেড়াও স্বপ্নের জান্নাতে। আজ আমি তোমাকে দান করব এমন সব নেয়ামত, যার মাঝে নেই কোন কষ্টের ছিটেফোটা। আজ আমি তোমাকে মালিক বানাবো এমন ভূখন্ডের, তুমি ছাড়া যার মালিক হবে না অন্য কেউ।
আর ফেরেশতারা তোমার খেদমতে থাকবে সদা নিয়োজিত। নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত হবে তোমার আবাসস্থল। যেখানে কেবল বুদ্ধিমানরাই স্থান পাবে।
এ ছাড়া আমার কাছে তোমার জন্য রয়েছে আরো অনেক কিছু। আছে আনন্দের হাজারো আয়োজন।... আহা! কতই না সুন্দর সেই কথোপকথন। যা হবে দুনিয়া ও আখেরাতের বাদশাহের সাথে।
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-
إِنَّ أَصْحُبَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَكِهُونَ ﴿٥٥﴾ هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَلٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِثُونَ ﴿٥٦﴾ لَهُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ وَلَهُمْ مَّا يَدَّعُونَ ﴿٥﴾ سَلَمٌ ، قَوْلًا مِنْ رَبِّ رَّحِيمٍ)
এদিন জান্নাতীরা আনন্দে মশগুল থাকেব। তারা এবং তাদের স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান দিয়ে। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে ফল-মূল এবং যা চাইবে। করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে 'সালাম'। [সূরা ইয়াসিন : ৫৫-৫৮]
হাঁ তিনিই হলেন পরম দয়ালু প্রভু। তাঁর ভালোবাসাতেই হৃদয় থাকে সজিব। তার পরিচয়ে আত্মা খুঁজে পায় প্রশান্তি। তার আনুগত্যে দেহ- মন হয় তৃপ্ত। তার পথেই রূহ পায় শান্তি। তাঁর প্রশংসাতেই পরিপূর্ণতা পায় কথনশৈলী। তাঁর যিকিরেই বৃদ্ধি পায় সম্মান। তাঁর শুকরিয়া জ্ঞাপনেই নিহিত ইবাদত। যিকিরকারী ও আনুগত্যশলীরই তাঁর দলভূক্ত। এরাই বাধ্য সম্প্রদায়।
অবাধ্যদেরকেও তিনি তাঁর রহমত থেকে নিরাশ করনে না। যদি তারা তাওবা করে নেয় তাহলে তিনি হয়ে যান তাদের বন্ধু। না করলে হয়ে যান সংশোধনকারী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00