📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 উত্তম ঠিকানা খোদাভীরুদের জন্যেই

📄 উত্তম ঠিকানা খোদাভীরুদের জন্যেই


হাঁ, আবু বাসীর মৃত্যু বরণ করেছেন। জাগতিক ভোগ বিলাসের পরোয়া তিনি করেননি। দুনিয়ার সুখ-শোভা উপভোগে মত্ত তিনি হননি। তিনি এমন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন যে, তিনি রত আছেন দীনের খেদমতে। ব্যস্ত আছেন আল্লাহ-র পথে জিহাদে। তিনি মৃত্যু বরণ করছেন এবং এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার কষ্ট-যাতনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এই নশ্বর জগতের চিন্তায় বিভোর ছিলেন না। অন্তরে সর্বদা চিরস্থায়ী বাসস্থানের আশা লালন করেছেন। যেখানে তিনি আসমান ও জমিনের প্রভুকে দু নয়ন ভরে দেখে ধন্য হবেন। যার জন্য পৃথিবীর বুকে তিনি ঝরিয়েছেন রক্ত। যার জন্য তিনি লোকালয় ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন নির্জন মরুভূমিতে। পরিশেষে সেখান থেকেই তিনি চলে গেছেন তাঁর সান্নিধ্যে।
যদিও তার সামনে পৃথিবীর দরজা সমূহ বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে, তথাপি হয়তো তার জন্য আসমানের দরজা খুলে গেছে।
هُذَا ذِكْرُ ۚ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَابِ ﴿۴۹﴾ جَنَّتُ عَدْنٍ مُفَتَّحَةً لَّهُمُ الْأَبْوَابُ ﴿۵۰﴾ مُتَّكِينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ ﴿۵۱﴾ وَعِنْدَهُمْ قَصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابُ ﴿۵۲﴾ هُذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِ ﴿۵۳﴾ إِنَّ هَذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِنْ نَفَادِ
এ এক মহৎ আলোচনা; খোদাভীরুদের জন্যে রয়েছে উত্তম ঠিকানা। তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত; তাদের জন্যে তার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল-মূল ও পানীয়। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ। তোমাদেরকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে বিচারদিবসের জন্য। এটা আমার দেয়া রিযিক যা শেষ হবে না। [সূরা ছোয়াদ : ৪৯-৫৪]

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 আজ কে আছে তার মত

📄 আজ কে আছে তার মত


সংবাদ আবু বাসীরের জন্য। আজ কে আছে যে তার মতো দীনের ওপর অটল অবিচল থাকতে পারবে? তিনি ছিলেন এমন এক যুবক; যাকে আল্লাহ তাঁর আনুগত্যশীল বান্দা হিসেবে কবুল করেছেন। তাকে আপন তত্ত্বাবধানে রেখেছেন। পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। নিজ সাহায্যে আপন করেছেন। তাঁর পছন্দনীয় কর্মে উদ্যমী করেছেন। তাকে বহু পরীক্ষায় ফেলেছেন এবং সেগুলোতে উত্তীর্ণ হবার তাওফীক দান করেছেন।
আহা! তুমি যদি দেখতে নিভৃতে তার অশ্রু ঝরানোর দৃশ্য। অথবা দেখতে কোরআন তেলাওয়াতের সময়কার তার আবেগ। উপলব্ধি করতে পারতে তার অন্তরের আনুগত্য। দেখতে পেতে তার চেহারায় অনুশোচনার ছাপ।
আল্লাহ তাকে তাঁর ভালোবাসার স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন। তাকে নিভৃতে তাঁর সাথে কথপোকথনের সুযোগ দিয়েছেন। তাঁর প্রতি করেছেন সীমাহীন অনুগ্রহ। ফলে এগুলো তাকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রেখেছে। তাকে দূরে রেখেছে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস থেকে। তার ওপর আপতিত দুর্যোগ-মসিবতের তীব্রতা প্রকট হলেও তিনি ছিলেন আল্লাহ-র ফয়সালায় সন্তুষ্টপ্রাণ।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 হাঁ, তোমাকেই বলছি

📄 হাঁ, তোমাকেই বলছি


আর ওহে তুমি! যে কখনো পড়নি আবু বাসীরের মত মসিবতে। সম্মুখিন হওনি তার মত বিপদের। বরং তুমিতো ছিলে ভোগ-বিলাসে মত্ত। সুখ-উল্লাসে বিভোর। আখেরাতের আজাবের পরওয়া তুমি কখনই করো নি।
ওহে তুমি। হাঁ, তোমাকেই বলছি। তুমি কি জানো, দিবারাত্রি মহা পরাক্রমশালী দয়াময়ের আনুগত্যের দিকে তোমাকে ডাকা হচ্ছে। অথচ তোমার অবস্থা তো এতটাই নিকৃষ্ট যে, কুপ্রবৃত্তিগুলোও তোমার কাছ থেকে বিরক্ত হয়ে দূরে সরে যাচ্ছে। তোমার থেকে কেবল অবিরত পদস্খলনই প্রকাশ পাচ্ছে। দিন দিন তোমার অপরাধের পাহাড় ফুলে ফেঁপে মোটা হচ্ছে।
তওবা করার সময় কি তোমার এখনও হয়নি? হয়নি কি গোনাহ ছাড়ার সময়? এখনও কি সময় আসেনি প্রভুর দরবারে হাজিরা দেওয়ার? তুমি কি জান না তোমার প্রভু তোমাকে দেখছেন। তোমাকে পর্যবিক্ষণ করছেন। তোমার প্রতি ক্রোধান্বিত হচ্ছেন?
ফেরেশতারা তোমার পাপসমূহ লিখছে। কড়ায় গন্ডায় তোমার কৃত কর্মের হিসাব কষছে। এরপরও কি তুমি গাফলতের চাদর মুড়ি দিয়ে থাকবে?
তুমি কেন ভাবছ না মহাশান্তি ও নেয়ামতে ভরপুর জান্নাতের কথা? কেন তা অর্জনের জন্য বর্জন করছ না ক্ষণিকের ভোগ বিলাস। পরিত্যাগ করছ না প্রবৃত্তির অনুসরণ?
যারা আল্লাহ-র আনুগত্য করে যথাযথরূপে। তাঁর জন্যেই উৎসর্গ করে নিজের জীবন ও সম্পদ। বিসর্জন দেয় নিজের অবৈধ কামনা বাসনা-তারাই হল প্রকৃত মুসলমান।
﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَ أَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّدِقُونَ ﴿۱۵﴾ قُلْ أَتُعَلِّمُونَ اللَّهَ بِدِينِكُمْ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿۱﴾ يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُلْ لَّا تَمُنُّوا عَلَى إِسْلَامَكُمْ بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَيَكُمْ لِلْإِيمَانِ إِنْ كُنْتُمْ صَدِقِينَ ﴿۱﴾ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ﴾
তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ। বলুন: তোমরা কি তোমাদের ধর্ম-পরায়ণতা সম্পর্কে আল্লাহকে অবহিত করছ? অথচ আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে ভূমন্ডলে এবং যা কিছু আছে নভোমন্ডলে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। তারা মুসলমান হয়ে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন, তোমরা মুসলমান হয়ে আমাকে ধন্য করেছ মনে করো না। বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাক। আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য বিষয় জানেন, তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন। [সূরা হুজরাত : ১৫-১৮]

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 প্রতিদান যখন জান্নাত বিপদ তখন নস্যি

📄 প্রতিদান যখন জান্নাত বিপদ তখন নস্যি


মনে রেখো, বিপদ আপদের তীব্রতা যত বেশী হোক না কেন, প্রতিদান যখন জান্নাত তখন সে বিপদ স্বল্পই। বিপদের সময় বান্দা অনুভব করে যে, আল্লাহ তার নিকটেই আছেন। তার ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। তার অনুযোগ শ্রবণ করছেন। তার ফরিয়াদ কবুল করছেন। তার জন্য প্রতিদান বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এবং তার ভুল-ত্রুটি মার্জনা করছেন। আল্লাহ কখনও তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদের প্রতিদান কমিয়ে দেন না।
সুতরাং, যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির অনুসরণ ছেড়ে দেয় তার চোখকে রক্ষা করে হারাম জিনিষ দেখা থেকে। কানকে গান-বাজনা শোনা থেকে। লজ্জাস্থান ও হাত-পা কে অশ্লীলতা ও পাপকর্ম থেকে। নফসকে তার কু-কামনা থেকে। পরকালে তার হিসাব-নিকাশ হবে সহজতর। যে গভীরভাবে বিশ্বাস করে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অদৃশ্য থেকে দেখছেন। জলে-স্থলে অন্তরাল থেকে তাদের পর্যবেক্ষণ করছেন। কেয়ামত দিবসে তারও হিসাব নিকাশ হবে আসান। ফলে সুন্দর হবে তার চিরস্থায়ী নিবাস। অনাদি হবে তার আনন্দ-সুখ। সে হবে রব্বে কারীমের প্রতিবেশী। সে থাকবে প্রভুর রহমতের ছায়াতলে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00