📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 হেদায়াত লাভের জন্যেই সয়েছিলেন এ যাতনা

📄 হেদায়াত লাভের জন্যেই সয়েছিলেন এ যাতনা


সালমান ফারসী-র এই কাহিনীকেই স্মরণ করো। যিনি হেদায়াত পাওয়ার জন্য ত্যাগ করেছিলেন অনাবিল সুখের জীবন। ছেড়ে এসেছিলেন প্রিয় মাতৃভূমি। কোরবান করেছিলেন প্রবৃত্তিকে। ঘুরেছিলেন দেশে দেশে। গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়ে যাপন করেছিলেন লাঞ্ছনাকর জীবন। স্থানান্তরিত হয়েছেন এখান থেকে ওখানে। কেবল চিরস্থায়ী হেদায়াত পাওয়ার জন্যেই তিনি সয়েছিলেন এত যাতনা।
মনের আয়নাতে তিনি সৃষ্টিকর্তার মহত্বকে জ্ঞান করেছেন। তাঁর স্মরণ ও নৈকট্যের মাধ্যমে লাভ করেছেন প্রশান্তি। নিভৃতে তাঁর সাথে আলাপে মত্ত হয়েছেন। তাঁকে ভালোবেসে অর্জন করেছেন অনাবিল সুখের উপলব্ধি।
ফলে তাঁকে ব্যতিত তার কাছে সব কিছুই মনে হয়েছে তুচ্ছ ও নগণ্য। এই কষ্ট-যতনা তিনি সয়েছেন মাত্র স্বল্ল কিছুদিন। তারপরই তিনি লাভ করেছেন দীর্ঘ সুখের জীবন। তার সামনে যখন জান্নাতের আলোচনা করা হত, তখন আগ্রহের আতিশয্যে তার অন্তর সেখানে উড়ে চলে যেত। যেন কল্পনায় তিনি দেখতে পেতেন যে, কত সুখ-স্বাচ্ছন্দে সেখানে তিনি দিন কাটাচ্ছেন। জান্নাতের ছায়াঘেরা মায়াঘেরা পরিবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জান্নাতের বৃক্ষরাজি থেকে ফল-ফলাদি খাচ্ছেন। জান্নাতের সৃষ্টিকর্তার দিদার লাভে ধন্য হচ্ছেন।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 হেদায়াত তো পেতে চাই কিন্তু...

📄 হেদায়াত তো পেতে চাই কিন্তু...


কিছু মানুষ মনে প্রাণে হেদায়াত পেতে আগ্রহী। কিন্তু সালফে সালেহীনদের কতকের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ তাদেরকে হেদায়াত থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। অথবা কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করে।
তুমি দেখবে কিছু মানুষ নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গের সাথে আত্মশুদ্ধির সম্পর্ক রাখে। যারা তাদেরকে দীনের বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করে। অতঃপর যখন সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দীনি হালত নষ্ট হয়ে যায়। অথবা কোনো কারণে যুগ তাদের সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরায়, তখন তারা দীন থেকে ছিটকে পড়ে। এবং বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের অবাধ্যতা করে।
এমন কিছু ধর্মত্যাগী মানুষ ইসলামের উষালগ্নেও ছিল। যারা তাদের ধর্মকে রাসুল ﷺ এর জীবদ্দশার সাথেই সম্পৃক্ত করেছিল। তাদের অবস্থা এমন ছিল যে, রাসুল ﷺ এর জীবদ্দশায় তারা সর্বদা এই ধর্মের সাথে থেকেছে। ইসলামের প্রতি তাদের বিশ্বাস অটল অবিচল রেখেছে। শুধু তাই নয় এরা ছিল শেষ রাতের তাহাজ্জুদ গোজার। দিবসের রোজাদার। কিন্তু যখনই রাসুল পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে পরম প্রিয় প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গেলেন; তখনই তারা পৃষ্টপ্রদর্শন করল। ইসলাম গ্রহণের পর দ্বিতীয়বার কুফুরী করল।
তখন আবু বকর তাদের উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করলেন। বললেন-
হে মানুষ সকল! তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ -র ইবাদত করত, তাদের জেনে রাখা উচিত যে, আজ তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আর যারা আল্লাহ -র ইবাদত করে তাদের জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব। তিনি কখনও মৃত্যু বরণ করবেন না।
হ্যাঁ, অবশ্যই আল্লাহ চিরঞ্জীব। চির জীবিত। তিনি কখনও মৃত্যু বরণ করবেন না। তিনি প্রার্থনাকারীদের প্রার্থনা কবুল করেন। তওবাকারীদের তওবা কবুল করেন। যে তাঁর কাছে আশ্রয় নেয় তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে প্রতিমার উপসনা ছেড়ে তাঁর দরবারে উপস্থিত হয়, তিনি তাকে কাছে টেনে নেন। বান্দা যদি তাঁকে মনে মনে স্মরণ করে, তাহলে তিনিও তাকে মনে মনে স্মরণ করেন। বান্দা যদি তাঁকে মজলিশে স্মরণ করে, তাহলে তিনিও তাকে এমন মজলিশে স্মরণ করেন যা তাদের মজলিশ অপেক্ষা অধিক উত্তম। যে তাঁর দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে তিনি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসেন। আর যে তাঁর দিকে এক হাত এগিয়ে আসে তিনি তার দিকে প্রসারিত দুই বাহু পরিমাণ এগিয়ে আসেন।
যার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছে সে দয়াময় প্রভুর ইবাদতে অবিচল থাকে। বিপদাপদের তীব্রতা তাকে বিচলিত করতে পারে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00