📄 হেদায়াতের খোঁজে সালমান ফারসী
সত্য সন্ধানের জন্য যে কজন মনীষী পৃথিবীতে অমর এবং উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নিয়ে আজো মানুষের অন্তরকে আন্দোলিত করেন, চিন্তাশক্তিকে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যান, তাদের মধ্যে অন্যতম সালমান ফারসী। মাত্র পনের বছর বয়স থেকে শুরু হয় তার সত্য ধর্ম অনুসন্ধান প্রক্রিয়া।
পারস্যের অন্তর্গত ইস্পাহানের অধিবাসী ছিলেন তিনি। বাবা ছিলেন সেখানকার বড় জমিদার। তিনি ছিলেন অগ্নিপূজারী এবং খুবই ধর্মভীরু। একজন পদস্থ ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনদিন ধর্মের একটি সাধারণ কাজেও অবহেলা করতেন না।
তার ধর্মানুরাগের জন্য লোকেরাও তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করত। বাবার একমাত্র পুত্র সন্তান হওয়ায় তিনি তাকে তার স্থলাভিষিক্ত করার সব শিক্ষা দিয়েছিলেন। ছেলেকে তিনি কখনও কাছ ছাড়া করতেন না। একদিন একটি বিশেষ কারণে তার বাবা তাকে খামার দেখার জন্য পাঠালেন। পথিমধ্যে তিনি খ্রিস্টানদের একটি উপাসনালয় থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পেলেন। সেখানে গিয়ে দেখলেন তারা সালাত আদায় করছে।
এর আগে তিনি কখনো বাইরে আসার এবং লোকদেরকে দেখার সুযোগ পাননি। তাদের সালাত আদায়, বিনম্র ব্যবহার এবং রীতি-নীতি খুবই ভাল লাগল তার। তিনি বাবার আদেশ ভুলে গেলেন। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করলেন। ভাবলেন, তাদের ধর্মমতে তো ইবাদতখানায় অন্য ধর্মের লোক প্রবেশ করলে তা অপবিত্র হয়ে যায়। অগ্নি দেবতার অভিশাপ নেমে আসে। কিন্তু এখানে তো দেখছি সব মানুষের প্রবেশাধিকার রয়েছে। এই নীতিই তো মহান ও শ্রেষ্ঠ। যদি কেউ ধর্ম চর্চা করে পরকালের শান্তি আশা করে, তবে এই ধর্মই তো শান্তির ধর্ম।
তিনি খ্রীস্টানদের ধর্মমত গ্রহণ করতে চাইলে পাদ্রী বললেন, তোমাকে জেরুজালেম যেতে হবে। কেননা এখানকার রাজ আদেশ মতে কোন অগ্নি উপাসককে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করা বেআইনী ও দন্ডনীয়। এই আদেশ অমান্যকারীকে এখানে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়ে থাকে।
সালমান সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে এলেন। তার বাবা তার বিলম্বের কারণ জিজ্ঞেস করলেন। মিথ্যা বলার অভ্যাস তার ছিল না। তাই তিনি বাবাকে সব খুলে বললেন। বাবা প্রথমে তাকে বোঝালেন। পরে পায়ে শিকল দিয়ে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখলেন।
বাবার এই কঠোর ব্যবস্থায় তার মন বিদ্রোহী হয়ে উঠল। তিনি প্রতীজ্ঞা করলেন, সত্য সন্ধানে যদি এমন বাঁধাই আসে তবে তিনি বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সব ত্যাগ করবেন। বন্ধুদের মাধ্যমে তিনি পাদ্রীর কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, সিরিয়ার কোন যাত্রী কাফেলার খোঁজ পেলে তাকে যেন জানানো হয়।
পাদ্রী বন্ধুদের মাধ্যমে তার কাছে শিকলকাটা যন্ত্র পাঠালেন এবং তাকে সিরিয়া যাবার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন। যেদিন কাফেলা সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হল সেদিন তিনি পায়ের শিকল কেটে ঘর থেকে পালিয়ে কাফেলার সাথে মিলিত হলেন এবং তাদের সাথে সিরিয়ায় পৌঁছে গেলেন। সিরিয়ার প্রধান পাদ্রীর কাছে গিয়ে তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করা এবং তার খেদমতে থেকে ধর্ম শিক্ষার আগ্রহের কথা জানালেন। পাদ্রী সালমান -কে তার কাছে রেখে দিল।
পাদ্রীটি ছিল জঘন্য প্রকৃতির। লোকদের দান-খয়রাতের ওয়াজ শোনাতো। লোকেরা তার কাছে দান-খয়রাত এনে দিলে সে তা গরীব মিসকীনকে না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করত। সে সাত মটকী সোনা-রূপা লুকিয়ে রেখেছিল। এ অবস্থায় তার মৃত্যু হলে সালমান উপস্থিত ভক্তদেরকে তার অপকর্ম সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং লুকিয়ে রাখা সোনা-রূপা দেখিয়ে দিলেন। এ দুষ্কার্যের জন্য লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার লাশ শূলিকাঠে ঝুলিয়ে পাথরের আঘাতে ছিন্ন-ভিন্ন করল।
📄 কে বলে দেবে কোথায় তার মঞ্জিল
নতুন পাদ্রী নিয়োগ দেওয়া হল। তিনি ছিলেন খুব ভালো। দুনিয়ার লিপ্সাহীন। আখেরাতের প্রতি আকৃষ্ট। তার সাথে সালমান -র সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। তার মৃত্যুর সময় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমাকে কি আদেশ দেন? আমি এখন কার আশ্রয়ে থাকব?
পাদ্রী বললেন, বর্তমানে খাঁটি ধর্ম কোথাও নেই, সব ধর্মই বিকৃত হয়ে গেছে। ইরাকের মোসেল এলাকায় খ্রিস্ট ধর্মের একজন খাঁটি পাদ্রী আছেন। তার নাম জিরোম। তুমি তার কাছে চলে যাও।
সালমান বর্ণিত সেই পাদ্রীর কাছে গিয়ে সব খুলে বললেন এবং তার কাছে রয়ে গেলেন। জিরোম ছিল একজন সত্যিকার আবেদ ও জাহেদ। কিন্তু সে ইলমের ব্যাপারে উদাসীন ছিল। দামেশকে থাকাকালে সালমান তাওরাত, ইঞ্জিল প্রভৃতি আসমানী কিতাব পাঠ করেছিলেন। তাছাড়া ঈসায়ী সাহিত্যেও বেশ বুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। কোন সাধারণ রাহেব তার বাছাইয়ের কষ্টিপাথরে টিকে থাকতে পারত না। একমাত্র এই একটি কারণেই জিরোমের কাছে তিনি শান্তি পাচ্ছিলেন না। তিনি শুধু ভাবতে লাগলেন যে, কে তাকে বলে দেবে কোথায় তার মঞ্জিল।
একদিন সায়মানা নামে এক ব্যক্তির সাথে তার দেখা হল। সে মানভী শাখার এক পাদ্রী। সে সালমান-র কাছে তার মযহাব সম্বন্ধে বললেন। সালমান আন্তরিকতার সাথে তার মযহাবের আদর্শসমূহ শিক্ষা করতে শুরু করলেন। কেননা তার কাজই ছিল সত্যের অনুসন্ধান করা। এ সময় জিরোম মারা গেল। তার মৃত্যুর আগে সালমান তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার পরে আমি কার কাছে দীক্ষা গ্রহণ করব?
তিনি তাকে ইরাকের নসীবীন এলাকার এক পাদ্রীর খোঁজ দিলেন। সালমান সেখানে উপস্থিত হয়ে সেই পাদ্রীর কাছে থাকলেন। তার মৃত্যুকালে সালমান-কে সে আমুরিয়া নামক স্থানের এক পাদ্রীর খোঁজ দিলেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে সালমান সেই পাদ্রীর কাছে থাকলেন। এখানে তিনি সঞ্চয়ের দ্বারা কিছু পশুপাল সংগ্রহ করলেন।
পাদ্রীর মৃত্যুর সময় কারো খোঁজ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, বর্তমানে আমার কাছে খাঁটি একজন মানুষের খোঁজও জানা নেই; যার কাছে আমি তোমাকে আশ্রয় নেবার পরামর্শ দিতে পারি। অবশ্য এক নতুন নবীর আবির্ভাবকাল ঘনিয়ে আসছে। যিনি ইব্রাহীম-এর খাঁটি একেশ্বরবাদী আদর্শ নিয়ে আসবেন। যিনি জন্মগ্রহণ করবেন আরবে। দু পাশে কাঁকরময় জমি আর মধ্যস্থলে খেজুর বাগানের আধিক্য-এমন এক এলাকায় হিজরত করে সেখানে বসবাস করবেন। সে নবীর নিদর্শন এমন হবে যে, তিনি হাদিয়া বা উপঢৌকনস্বরূপ খাদ্য দিলে তা খাবেন, কিন্তু সদকার খাবার খাবেন না। তার পিঠে মোহরে নবুওয়াত থাকবে। যদি তোমার সাধ্যে কুলায় তবে তুমি সে দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা কর।
📄 অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ
পাদ্রীর মৃত্যুর পর সালমান কিছুদিন সেখানে অবস্থান করলেন। তিনি এখানে আরবের একদল বণিকের সাথে তার সাক্ষাৎ হল। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা যদি আমাকে তোমাদের দেশে নিয়ে যাও তবে আমি আমার পশুপাল তোমাদেরকে দিয়ে দেব। তারা রাজি হল এবং সালমান-কে তাদের সঙ্গে নিয়ে আসল। কিন্তু তারা ওয়াদিল কোবা নামক স্থানে পৌঁছে অন্যায়ভাবে তাকে ক্রীতদাসরূপে এক ইহুদীর কাছে বিক্রি করে দিল। এরপর তিনি একজন থেকে অপরজনের কাছে বিক্রি হতে থাকলেন। এমনিভাবে তিনি তের বা ততোধিক মনিবের হাত বদল হলেন। শেষে মদিনাবাসী এক ইহুদী তাকে কিনে নিল। সেই সুবাদে তিনি মদিনায় পৌঁছলেন। মদিনার চারপাশ দেখে তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, এটাই সেই স্থান যার কথা পাদ্রী তাকে বলেছিলেন। তখনও রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করেননি। সালমান তাঁর প্রতীক্ষায় দিন গুনতে লাগলেন।
কদিনের কথা। তিনি তার মনিবের উপস্থিতিতে খেজুর গাছের ওপরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ এক লোক এসে তার মনিবকে সংবাদ দিল যে, কোবা মহল্লায় মক্কা থেকে একজন লোক এসেছে। সে নিজেকে নবী বলে দাবি করছে। সালমান গাছের ওপর থেকে কথাগুলো শুনলেন। তার শরীর শিউরে উঠল। উত্তেজনায় তিনি গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন। কোন প্রকারে গাছ থেকে নেমে মনিবের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে মনিব তাকে একটি ঘুষি মেরে বলল, তুই তোর কাজ কর। এ খবর নিয়ে তোর কি দরকার?
সালমান বিকালে কোবা মহল্লায় উপস্থিত হয়ে কিছু খাদ্যসামগ্রী রাসুল-র সামনে পেশ করলেন। রাসুল ﷺ সে খাদ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এগুলো সদকা।
এ কথা শুনে রাসুল তা সঙ্গীদের দিয়ে দিলেন, নিজে খেলেন না। আরেকদিন সালমান কিছু খাবার নিয়ে গেলেন। বললেন, আপনি সদকা গ্রহণ করেন না দেখে আজ আমি এগুলো আপনার জন্য হাদিয়াস্বরূপ নিয়ে এসেছি।
রাসুল সঙ্গীদেরসহ তা খেলেন। সালমান ভাবলেন, দুটো নিদর্শনই তো ঠিক পাওয়া গেল।
এরপর একদিন রাসুল বসেছিলেন। সালমান তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে পিঠ মোবারক দেখার চেষ্টা করতে লাগলেন। নবীজী তার মনোভাব বুঝতে পেরে কাঁধের কাপড় খানিকটা সরিয়ে দিলেন। সালমান রাসুল-র মোহরে নবুওয়াত দেখলেন এবং শ্রদ্ধার সাথে চুম্বন করে কেঁদে ফেললেন।
রাসুল তার সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তিনি তার জীবনের সুদীর্ঘ কাহিনী নবীজীকে শোনালেন এবং তৎক্ষণাৎ ইসলাম গ্রহণ করলেন।
যে মহাসত্য সন্ধানে অশেষ দুঃখ, কষ্ট, ঘাত-প্রতিঘাত, দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা, কষ্ট-যাতনা তিনি সহ্য করেছিরেন, যার সত্য সন্ধানী অতৃপ্ত আত্মা শত বছরেও তৃপ্ত হয়নি, সেই অতৃপ্ত আত্মা আজ তৃপ্তিতে পরিপূর্ণ।
তিনি পারস্যের অধিবাসী বলে সাহাবীরা তাকে সালমান ফারসী বলে ডাকতেন। ক্রীতদাসরূপে ইহুদীর কাছে আবদ্ধ থাকায় স্বাধীনভাবে রাসুল-র সাহচর্য লাভ করা তার জন্য সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি বদর এবং ওহুদ যুদ্ধে তিনি শরিক হতে পারেননি। তাই রাসুল ﷺ বললেন, আপনি বিনিময় আদায়ের শর্তে মুক্তি লাভের চুক্তি করে নিন। সেমতে তিনি তার মনিবের সাথে আলাপ করলেন। মনিব লোকটি তার মুক্তির জন্য দুইটি শর্ত আরোপ করল-
(১) তিনশ বা পাঁচশ খেজুর গাছের চারা সঞ্চয় করে তা রোপণ করতে হবে এবং ওইসব গাছে ফল না আসা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
(২) চল্লিশ উকিয়া অর্থাৎ ৬ সেরের অধিক পরিমাণ স্বর্ণ তাকে দিতে হবে।
এই দুই শর্ত পূর্ণ করলেই সে তাকে মুক্তি দেবে- এই মর্মে চুক্তি সম্পাদিত হল।
রাসুল ﷺ সাহাবীদেরকে বললেন, খেজুরের চারা দিয়ে তোমরা সবাই সালমানকে সাহায্য কর।
সেমতে কেউ পাঁচটা, কেউ দশটা করে খেজুরের চারা দিয়ে তাকে সাহায্য করলেন। তিনশ মতান্তরে পাঁচশ খেজুরের চারা জমা হলে রাসুল ﷺ সালমান -কে গাছ রোপণ করার জন্য গর্ত তৈরি করতে বললেন। গর্ত তৈরি হলে রাসুল ﷺ সেখানে এসে নিজ হাতে গাছগুলো রোপণ করলেন। শুধু একটি গাছ উমর রোপণ করলেন। আল্লাহর কুদরতে এক বছরেই ওই গাছগুলোতে ফল ধরল। উমর -র লাগানো গাছটিতে এক বছরে ফল না ধরায় রাসুল ﷺ তা উঠিয়ে পুনঃরোপণ করলেন। ফলে সেই গাছটিতেও ওই বছর ফল এসে গেল। এভাবে পূরণ হল প্রথম শর্ত।
এদিকে ডিমের আকারে একটি স্বর্ণের চাকা একদা রাসুল -র হস্তগত হল। তিনি তা সালমানকে -কে দিয়ে বললেন, যান, এটি দিয়ে আপনার মুক্তির শর্ত পূরণ করুন। সালমান বললেন এতটুকু স্বর্ণে তো শর্ত পূরণ হবে না।
নবীজী বললেন, আল্লাহ এর দ্বারাই সম্পূর্ণ আদায় করে দেবেন। বাস্তবিকই যখন শর্ত আদায়ের জন্য ওজন দেয়া হল তখন তা চল্লিশ উকিয়া পরিমাণ দেখা গেল।
এভাবেই দুটি শর্ত পূরণ হল এবং সালমান গোলামীল শিকল থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন। হেদায়াত অন্বেষণ এবং সত্য সাধনার জয়লাভের নিশ্চয়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন সালমান ফারসী।
📄 হেদায়াত লাভের জন্যেই সয়েছিলেন এ যাতনা
সালমান ফারসী-র এই কাহিনীকেই স্মরণ করো। যিনি হেদায়াত পাওয়ার জন্য ত্যাগ করেছিলেন অনাবিল সুখের জীবন। ছেড়ে এসেছিলেন প্রিয় মাতৃভূমি। কোরবান করেছিলেন প্রবৃত্তিকে। ঘুরেছিলেন দেশে দেশে। গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়ে যাপন করেছিলেন লাঞ্ছনাকর জীবন। স্থানান্তরিত হয়েছেন এখান থেকে ওখানে। কেবল চিরস্থায়ী হেদায়াত পাওয়ার জন্যেই তিনি সয়েছিলেন এত যাতনা।
মনের আয়নাতে তিনি সৃষ্টিকর্তার মহত্বকে জ্ঞান করেছেন। তাঁর স্মরণ ও নৈকট্যের মাধ্যমে লাভ করেছেন প্রশান্তি। নিভৃতে তাঁর সাথে আলাপে মত্ত হয়েছেন। তাঁকে ভালোবেসে অর্জন করেছেন অনাবিল সুখের উপলব্ধি।
ফলে তাঁকে ব্যতিত তার কাছে সব কিছুই মনে হয়েছে তুচ্ছ ও নগণ্য। এই কষ্ট-যতনা তিনি সয়েছেন মাত্র স্বল্ল কিছুদিন। তারপরই তিনি লাভ করেছেন দীর্ঘ সুখের জীবন। তার সামনে যখন জান্নাতের আলোচনা করা হত, তখন আগ্রহের আতিশয্যে তার অন্তর সেখানে উড়ে চলে যেত। যেন কল্পনায় তিনি দেখতে পেতেন যে, কত সুখ-স্বাচ্ছন্দে সেখানে তিনি দিন কাটাচ্ছেন। জান্নাতের ছায়াঘেরা মায়াঘেরা পরিবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জান্নাতের বৃক্ষরাজি থেকে ফল-ফলাদি খাচ্ছেন। জান্নাতের সৃষ্টিকর্তার দিদার লাভে ধন্য হচ্ছেন।