📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 এ সফর মুহাব্বতের

📄 এ সফর মুহাব্বতের


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্-র জন্য। যিনি বান্দাদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের পথকে করেছেন সহজ।
যিনি রাসুল পাঠিয়ে তাদের জন্য হেদায়াতের পথকে করেছেন সুস্পষ্ট। যিনি সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন তাদের প্রতি যারা তাঁকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ-কে রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। প্রশংসা করছি তাঁর, যিনি ছাড়া নেই কোনো প্রতিপালক। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁর সুমহান দয়া ও সুবিশাল অনুগ্রহ সমূহের।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হালাল তা-ই, যা তিনি হালাল করেছেন। হারাম তা-ই, যা তিনি হারাম বলেছেন। দীন তা-ই, যা তিনি প্রণয়ন করেছেন।
আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি সৃষ্টিকূলের শ্রেষ্ট বাদশাহ। তিনি আদেশ দেন এবং আরোপ করেন নিষেধাজ্ঞা। করেন তা-ই যা তাঁর ইচ্ছা।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর মনোনীত বান্দা। তাঁর পছন্দনীয় রাসুল। যিনি কিছুই বলেন না তাঁর মনগড়া। যাকে তিনি পাঠিয়েছেন সর্বশেষ নবীরূপে। অতঃপর যিনি সৃষ্টিকুলকে দেখিয়েছেন সুস্পষ্ট সঠিক পথ। যার রেসালাত আঁধার ভূবনকে করেছে আলোকিত। লক্ষ কোটি দরূদ ও সালাম হোক তাঁর প্রতি বর্ষিত।
এটি একটি মুহাব্বতের সফর। এ সফর জান্নাতে প্রবেশ করার। এ সফর প্রতিপালকের দিদার লাভে ধন্য হওয়ার।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 প্রভুর আনুগত্যে অবিচল তারা

📄 প্রভুর আনুগত্যে অবিচল তারা


তে মানুষকে তারা সঠিক পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখে, কিন্তু তারা অবিচল থাকে তাঁর আনুগত্যে। আল্লাহ -র নৈকট্য অর্জনে তাদের অগ্রগামীতার অন্যতম কারণ হল- দীনের ওপর তাদের অবিচলতা এবং পাপ থেকে দ্রুত তওবা।
তাদের কিছু গুণ হল- যখনই তাদের থেকে কোনো গুনাহ প্রকাশ পায়, তখনই তারা তওবা করে নেয়। তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হলে, তারা তা গ্রহণ করে। আল্লাহ -র আযাবের ভয় দেখানো হলে, তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং দয়াময় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় তারা ছেড়েছে তাদের রাজত্ব। ত্যাগ করেছে ক্ষমতার মিথ্যা দাপট। বিসর্জন দিয়েছে বিলাসী জীবন-যাপন।
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاء بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿17﴾ أَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا لَا يَسْتَوْنَ ﴿۱۵﴾ أَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحْتِ فَلَهُمْ جَنَّتُ الْمَأْوَى نُزُلًا بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে। ঈমানদার ব্যক্তি কি অবাধ্যের অনুরূপ? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে তাদের কৃতকর্মের আপ্যায়নস্বরূপ বসবাসের জান্নাত। [সূরা সেজদাহ : ১৭-১৯]
অন্যান্য মানুষের মতো তারাও মানুষ। ভোগের সামগ্রীগুলো তারা এজন্য পরিত্যাগ করেনি যে, সেগুলোর স্বাদ নিতে তারা অক্ষম। এজন্যেও নয় যে, তারা সেগুলো থেকে বিরক্ত। বরং তাদেরও আছে আগ্রহ, আছে আকাঙ্ক্ষা, আছে কামনা-বাসনা ও আসক্তি। কিন্তু তারা সেগুলোকে মহাশক্তিশালী, পরম প্রিয় প্রভুর ভয়ে পরিত্যাগ করেছে। তারা ভয় করে তাদের প্রতিপালককে। ভয় পায় মহা দিবসের শাস্তিকে।
কেনই বা করবে না? তারা যে তাদের প্রভুর সাথে ওয়াদাবদ্ধ। তারা যখন শুনেছে যে, তাদের প্রভু বলেছেন- ﴿اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقْتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ তোমরা আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনি ভয় করো। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। [সূরা আলে ইমরান : ১০২]
এ আয়াত শোনার পর থেকেই তারা দীনের ওপর অটল-অবিচল থেকেছে। আমৃত্যু মুসলিম পরিচয় ধারণ করেছে।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 বিদায় বেলায় এলো ঘরে ফেরার ডাক

📄 বিদায় বেলায় এলো ঘরে ফেরার ডাক


রাসুল ﷺ আবু বাসীর ও তার সাথীদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে তিনি তাকে ও তার সাথীদেরকে মদিনায় আসতে বললেন। চিঠিটি পড়ে তার সাথীরা অনেক খুশি হল। কিন্তু আবু বাসীর তখন মৃত্যুপথযাত্রী।
লোকেরা তার কাছে গেল। তাকে জানাল রাসূল ﷺ তাদেরকে মদিনায় যেতে বলেছেন। তিনি সেখানে তাদের থাকার অনুমতি দিয়েছেন। তাদের আশা পূরণ হয়েছে। তাদের সত্তা ও আত্মা আজ নিরাপদ হয়েছে। প্রবাস জীবনের কষ্ট তাদের শেষ হয়েছে।
মৃত্যুপথযাত্রী আবু বাসীর এটা শুনে আনন্দিত হল। সে বলল, আমাকে রাসুল ﷺ-এর চিঠি দেখাও। চিঠিটি তার হাতে দেওয়া হল। তিনি তাতে চুমু খেলেন, বুকের ওপর রাখলেন এবং-
أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ
বলতে বলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 উত্তম ঠিকানা খোদাভীরুদের জন্যেই

📄 উত্তম ঠিকানা খোদাভীরুদের জন্যেই


হাঁ, আবু বাসীর মৃত্যু বরণ করেছেন। জাগতিক ভোগ বিলাসের পরোয়া তিনি করেননি। দুনিয়ার সুখ-শোভা উপভোগে মত্ত তিনি হননি। তিনি এমন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন যে, তিনি রত আছেন দীনের খেদমতে। ব্যস্ত আছেন আল্লাহ-র পথে জিহাদে। তিনি মৃত্যু বরণ করছেন এবং এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার কষ্ট-যাতনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এই নশ্বর জগতের চিন্তায় বিভোর ছিলেন না। অন্তরে সর্বদা চিরস্থায়ী বাসস্থানের আশা লালন করেছেন। যেখানে তিনি আসমান ও জমিনের প্রভুকে দু নয়ন ভরে দেখে ধন্য হবেন। যার জন্য পৃথিবীর বুকে তিনি ঝরিয়েছেন রক্ত। যার জন্য তিনি লোকালয় ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন নির্জন মরুভূমিতে। পরিশেষে সেখান থেকেই তিনি চলে গেছেন তাঁর সান্নিধ্যে।
যদিও তার সামনে পৃথিবীর দরজা সমূহ বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে, তথাপি হয়তো তার জন্য আসমানের দরজা খুলে গেছে।
هُذَا ذِكْرُ ۚ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَابِ ﴿۴۹﴾ جَنَّتُ عَدْنٍ مُفَتَّحَةً لَّهُمُ الْأَبْوَابُ ﴿۵۰﴾ مُتَّكِينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ ﴿۵۱﴾ وَعِنْدَهُمْ قَصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابُ ﴿۵۲﴾ هُذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِ ﴿۵۳﴾ إِنَّ هَذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِنْ نَفَادِ
এ এক মহৎ আলোচনা; খোদাভীরুদের জন্যে রয়েছে উত্তম ঠিকানা। তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত; তাদের জন্যে তার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল-মূল ও পানীয়। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ। তোমাদেরকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে বিচারদিবসের জন্য। এটা আমার দেয়া রিযিক যা শেষ হবে না। [সূরা ছোয়াদ : ৪৯-৫৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00