📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 আমাদের কথা

📄 আমাদের কথা


মাথার উপর আসমান, পায়ের নীচে জমীন। এই দুয়ের মাঝে আছে অসংখ্য সৃষ্টি। এসব আল্লাহ ﷺ বানিয়েছেন আমাদের জন্য। মানুষের জন্য। এজন্য সূর্য আমাদেরকে আলো ও তাপ সর্বরাহ করে। রাতের অন্ধকারে চাঁদ দেয় কিরণ। খেতের ফসল, নদী-নালার মাছ ও বিভিন্ন স্থলজ প্রাণী আমাদের ক্ষুধা নিবারণ করে। পানি আমাদের তৃষ্ণা মেটায়। বাতাস আমাদের জীবন সচল রাখে।
প্রশ্ন হচ্ছে দুনিয়ার সবকিছু মানুষের জন্য, তা হলে মানুষ কীসের জন্য? এই প্রশ্নের জওয়াব আল্লাহ কুরআন মাজীদে এভাবে দিয়েছেন- وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ আমি জিন আর মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধু আমার ইবাদাত করার জন্য। [সূরা যারিয়াত: ৫৬]
কিন্তু মানুষ তার সৃষ্টিরহস্য ভুলে গেছে। তারা এখন দুনিয়া উপার্জন নিয়ে ব্যস্ত। উলামায়ে কেরাম তাদেরকে বিভিন্ন পন্থায় মূল কাজে ফিরে আসার জন্য আহ্বান করছেন।
যেসব আলেমে দীন এই সময়ে ইসলামের দাওয়াতী কাজে খুব জোরদার মেহনত করছেন, তাঁদের মধ্যে সৌদী আরবের ড. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী অন্যতম। তাঁর অনেকগুলো বইয়ের বাংলা অনুবাদ ইতোমধ্যে আমরা পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছি। আল-হামদু লিল্লাহ। এখন তাঁর লেখা পুস্তক- رِحْلَةُ الْمُسْتَاقِ এর অনুবাদ পাঠকের হাতে তুলে দিচ্ছি। বইটির প্রকাশনা কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক মুবারকবাদ জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ সবাইকে উপযুক্ত বদলা দান করুন। বইটি পড়ে কেউ যদি আল্লাহর এবাদতের দিকে ফিরে আসেন, তা হলে আমাদের শ্রম সার্থক হবে।
বিনীত মুহাম্মাদ আবদুল আলীম আনসারী মহাপরিচালক, হুদহুদ প্রকাশন ১৯/০২/১৪৪০ হি. (২৮/১০/১৮ ইং)

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 এ সফর মুহাব্বতের

📄 এ সফর মুহাব্বতের


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্-র জন্য। যিনি বান্দাদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের পথকে করেছেন সহজ।
যিনি রাসুল পাঠিয়ে তাদের জন্য হেদায়াতের পথকে করেছেন সুস্পষ্ট। যিনি সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন তাদের প্রতি যারা তাঁকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ-কে রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। প্রশংসা করছি তাঁর, যিনি ছাড়া নেই কোনো প্রতিপালক। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁর সুমহান দয়া ও সুবিশাল অনুগ্রহ সমূহের।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হালাল তা-ই, যা তিনি হালাল করেছেন। হারাম তা-ই, যা তিনি হারাম বলেছেন। দীন তা-ই, যা তিনি প্রণয়ন করেছেন।
আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি সৃষ্টিকূলের শ্রেষ্ট বাদশাহ। তিনি আদেশ দেন এবং আরোপ করেন নিষেধাজ্ঞা। করেন তা-ই যা তাঁর ইচ্ছা।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর মনোনীত বান্দা। তাঁর পছন্দনীয় রাসুল। যিনি কিছুই বলেন না তাঁর মনগড়া। যাকে তিনি পাঠিয়েছেন সর্বশেষ নবীরূপে। অতঃপর যিনি সৃষ্টিকুলকে দেখিয়েছেন সুস্পষ্ট সঠিক পথ। যার রেসালাত আঁধার ভূবনকে করেছে আলোকিত। লক্ষ কোটি দরূদ ও সালাম হোক তাঁর প্রতি বর্ষিত।
এটি একটি মুহাব্বতের সফর। এ সফর জান্নাতে প্রবেশ করার। এ সফর প্রতিপালকের দিদার লাভে ধন্য হওয়ার।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 প্রভুর আনুগত্যে অবিচল তারা

📄 প্রভুর আনুগত্যে অবিচল তারা


তে মানুষকে তারা সঠিক পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখে, কিন্তু তারা অবিচল থাকে তাঁর আনুগত্যে। আল্লাহ -র নৈকট্য অর্জনে তাদের অগ্রগামীতার অন্যতম কারণ হল- দীনের ওপর তাদের অবিচলতা এবং পাপ থেকে দ্রুত তওবা।
তাদের কিছু গুণ হল- যখনই তাদের থেকে কোনো গুনাহ প্রকাশ পায়, তখনই তারা তওবা করে নেয়। তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হলে, তারা তা গ্রহণ করে। আল্লাহ -র আযাবের ভয় দেখানো হলে, তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং দয়াময় প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় তারা ছেড়েছে তাদের রাজত্ব। ত্যাগ করেছে ক্ষমতার মিথ্যা দাপট। বিসর্জন দিয়েছে বিলাসী জীবন-যাপন।
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاء بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿17﴾ أَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا لَا يَسْتَوْنَ ﴿۱۵﴾ أَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحْتِ فَلَهُمْ جَنَّتُ الْمَأْوَى نُزُلًا بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে। ঈমানদার ব্যক্তি কি অবাধ্যের অনুরূপ? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে তাদের কৃতকর্মের আপ্যায়নস্বরূপ বসবাসের জান্নাত। [সূরা সেজদাহ : ১৭-১৯]
অন্যান্য মানুষের মতো তারাও মানুষ। ভোগের সামগ্রীগুলো তারা এজন্য পরিত্যাগ করেনি যে, সেগুলোর স্বাদ নিতে তারা অক্ষম। এজন্যেও নয় যে, তারা সেগুলো থেকে বিরক্ত। বরং তাদেরও আছে আগ্রহ, আছে আকাঙ্ক্ষা, আছে কামনা-বাসনা ও আসক্তি। কিন্তু তারা সেগুলোকে মহাশক্তিশালী, পরম প্রিয় প্রভুর ভয়ে পরিত্যাগ করেছে। তারা ভয় করে তাদের প্রতিপালককে। ভয় পায় মহা দিবসের শাস্তিকে।
কেনই বা করবে না? তারা যে তাদের প্রভুর সাথে ওয়াদাবদ্ধ। তারা যখন শুনেছে যে, তাদের প্রভু বলেছেন- ﴿اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقْتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ তোমরা আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনি ভয় করো। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। [সূরা আলে ইমরান : ১০২]
এ আয়াত শোনার পর থেকেই তারা দীনের ওপর অটল-অবিচল থেকেছে। আমৃত্যু মুসলিম পরিচয় ধারণ করেছে।

📘 আল্লাহ প্রেমের সন্ধানে > 📄 বিদায় বেলায় এলো ঘরে ফেরার ডাক

📄 বিদায় বেলায় এলো ঘরে ফেরার ডাক


রাসুল ﷺ আবু বাসীর ও তার সাথীদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে তিনি তাকে ও তার সাথীদেরকে মদিনায় আসতে বললেন। চিঠিটি পড়ে তার সাথীরা অনেক খুশি হল। কিন্তু আবু বাসীর তখন মৃত্যুপথযাত্রী।
লোকেরা তার কাছে গেল। তাকে জানাল রাসূল ﷺ তাদেরকে মদিনায় যেতে বলেছেন। তিনি সেখানে তাদের থাকার অনুমতি দিয়েছেন। তাদের আশা পূরণ হয়েছে। তাদের সত্তা ও আত্মা আজ নিরাপদ হয়েছে। প্রবাস জীবনের কষ্ট তাদের শেষ হয়েছে।
মৃত্যুপথযাত্রী আবু বাসীর এটা শুনে আনন্দিত হল। সে বলল, আমাকে রাসুল ﷺ-এর চিঠি দেখাও। চিঠিটি তার হাতে দেওয়া হল। তিনি তাতে চুমু খেলেন, বুকের ওপর রাখলেন এবং-
أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ
বলতে বলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00