📘 আল্লাহ ক্ষমাশীল > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


আল্লাহ্র নিকট সর্বান্তকরণে ক্ষমা প্রার্থনার এই সুবর্ণ সুযোগ শ্রেষ্ঠ মানব জাতির জন্য এক অদ্বিতীয় অবলম্বন। 'আল্লাহ ক্ষমাশীল' এই মহা ঘোষণার অভ্যন্তরে যে মহান তাৎপর্য, মাহাত্ম্য ও রহস্য লুক্কায়িত আছে, তা স্বয়ং তিনি ছাড়া কেউ জানে না। তবে তাঁর ক্ষমা প্রদানের ব্যাপক ঘোষণায় প্রতীয়মান হয় যে, মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহ তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানব সম্প্রদায়কে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্থানেই (জান্নাতে) রাখতে চান। পবিত্র কুরআনে বড় বড় সৃষ্ট দৃশ্য ও অদৃশ্য বস্তুগুলি প্রথম সারির বড় বড় সংবাদ শিরোনাম আকারে প্রত্যাদেশ হয়েছে। যেমন দৃশ্য বস্তুর মধ্যে আসমান-যমীন, সূর্য-চন্দ্র, পাহাড়-পর্বত, সাগর-মহাসাগর, উদ্ভিদ রাজি, মানুষ, জীবজন্তু প্রভৃতির বর্ণনা। পাশাপাশি অদৃশ্য বস্তু সমূহের মধ্যে আলো-তাপ, বাতাস, দয়া-মায়া, ক্ষমা, রহমত, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, ক্বিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম প্রভৃতির বর্ণনা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
পবিত্র কুরআনে আসমান-যমীনের বর্ণনাগুলি আসমান যমীনের মতই বৃহৎ ও শক্তিশালীভাবে বর্ণিত হয়েছে। আকাশসমূহ মাথার উপর বহু ঊর্ধ্বে স্তম্ভ ব্যতীত নির্মিত হয়েছে। অনুরূপভাবে সূর্য, চন্দ্রও ঊর্ধ্বজগত হ'তেই আলো ও তাপ বিকিরণ করছে। এই বিশাল সৃষ্টি বিষয়ক আয়াতগুলি পবিত্র কুরআনে ঘুরে ফিরে প্রায় শতাধিক জায়গায় সন্নিবেশিত হয়েছে। এগুলি আল্লাহ্র অসীম জ্ঞানের বর্ণনা ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ আসমান-যমীনের সৃষ্টি মানুষ সৃষ্টি অপেক্ষাও কঠিনতর বলে জানিয়েছেন মহান স্রষ্টা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা'আলা।
মূলতঃ মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্যেই সর্বোচ্চ জ্ঞান প্রযুক্তির কঠিনতর সৃষ্টি আসমান সৃষ্টি করা হয়েছে। আসমান-যমীন সৃষ্টির জ্ঞানের ভাণ্ডারের প্রতি লক্ষ্য করেই মানুষকে আল্লাহ্র প্রতি আত্মসমর্পণ করা উচিত। এত বড় সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করলে, অন্য কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ থাকে না। আর একটি কথা, মানুষের সামনে যত (অগণিত) সৃষ্টিই থাক না কেন, তার নিকটতম সৃষ্টিগুলি অপেক্ষা দূরবর্তী আসমানই তার বার বার নযরে পড়ে, সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে হোক। সেখান থেকে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয় বা সম্ভব হয় না।
আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু 'আল্লাহ ক্ষমাশীল' আধ্যাত্মিক জগতের সর্বঊর্ধ্বে অবস্থানরত একটি পরাক্রমশালী পবিত্র অদৃশ্য বা অলৌকিক শক্তি। একমাত্র আল্লাহ তা'আলায়ই এ শক্তির মালিক। তিনি তাঁর এ অলৌকিক শক্তি দ্বারা পসন্দের বান্দাদের পরিশুদ্ধ করবেন। অর্থাৎ তাঁর মন মত বা তাঁর উপর নির্ভরশীল বান্দার জন্য তিনি ক্ষমাশীল হবেন বলে ধারণা করা যায়। পবিত্র কুরআনে এ আয়াতগুলি শ্রেষ্ঠ দৃশ্যবস্তু আসমান-যমীনের মতই শত শত জায়গায় বর্ণিত হয়েছে। এসব আয়াতগুলি গুরুত্বপূর্ণ। এসব আয়াত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে আল্লাহ্ ক্ষমার দিকে অগ্রসর হওয়া সকলের একান্ত কর্তব্য।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর ক্ষমা লাভ করার তওফীক দান করুন। - আমীন!
লেখকের প্রকাশিত বই সমূহ
১। সৃষ্টির সন্ধানে।
২। আমলনামা।
৩। আল্লাহ্র সঙ্গে সাক্ষাৎ।
৪। ইসলামধর্ম ও মাতৃভাষা।
৫। আল্লাহ ক্ষমাশীল।
৬। শ্রেষ্ঠ ইবাদাত ছালাত বা দো'আ ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00