📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 হৃদয়-মনে আঁকা তার নাম

📄 হৃদয়-মনে আঁকা তার নাম


আল্লাহ তায়ালার জিকির তখনই অধিক ফলপ্রসূ হবে যখন জবানের সাথে সাথে বান্দার অন্তরও জিকির করবে। জবান ও অন্তর উভয়টি যখন একসঙ্গে জিকির করবে তখন বান্দা হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা অধিক উপলব্ধি করবে। আর প্রকৃত জিকির তো অন্তরেই হয়ে থাকে। জবান হলো তার প্রকাশস্থল মাত্র। জিকির যদি কেবল জবানের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে, হৃদয়ের গভীরে রেখাপাত না করে, তাহলে সে জিকির বান্দার কোনো উপকারে আসে না। তাই বাহ্যিক জবানের পাশাপাশি অন্তরেও জিকির করতে হবে। হযরত হাসান বসরি রহ. বলেছেন,

تفقدوا الحلاوة في ثلاثة أشياء : في الصلاة وفي الذكر و قراءة القرآن فإن وجدتموها وإلا فاعلموا أن الباب مغلق
'তোমরা তিনটি জিনিসের মাঝে স্বাদ ও মিষ্টতা অনুসন্ধান করো। নামাজের মাঝে, জিকিরের মাঝে এবং কুরআন তিলাওয়াতের মাঝে। যদি এ তিনটির মাঝে স্বাদ না পাও তাহলে মনে রেখো! দুয়ার বন্ধ হয়ে গেছে।'

হযরত যুননুন মিসরি রহ. বলেছেন,
ما طابت الدنيا إلا بذكره ولا طابت الآخرة إلا بعفوه ولا طابت الجنة إلا برؤيته
'দুনিয়ার মিষ্টতা হলো আল্লাহর জিকিরের মাঝে। আখেরাতের মিষ্টতা হলো আল্লাহর ক্ষমার মাঝে। জান্নাতের মিষ্টতা হলো, আল্লাহকে দেখার মাঝে।'

হযরত আয়েশা রা. বলেছেন,
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر الله تعالى على كل أحيانه
'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আল্লাহর জিকির করতেন।'³¹

টিকাঃ
৩১. সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 জিকিরকারীর সম্মান ও মর্যাদা

📄 জিকিরকারীর সম্মান ও মর্যাদা


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
إن الله ملائكة يطوفون في الطريق يلتمسون أهل الذكر، فإذا وجدوا قوماً يذكرون الله تنادوا: هلموا إلى حاجتكم، قال: فيحفونهم بأجنحتهم إلى السماء الدنيا، فيسألهم ربهم جل في علاه وهو أعلم بهم: ما يقول عبادي؟ فيقولون: يسبحونك ويكبرونك ويمجدونك ويحمدونك، فيقول جل في علاه: هل رأوني؟ فيقولون: لا والله ما رأوك، فيقول: كيف لو رأوني؟ فيقولون: لو رأوك كانوا أشد لك عبادة، وأشد لك تمجيداً وتحميداً وأكثر تسبيحا قال: فيقول جل في علاه: فما يسألونني؟ قال: فيقولون: يسألونك الجنة، فيقول: هل رأوها ؟ فيقولون: لا والله يا رب ما رأوها، فيقول: فكيف لو رأوها؟ فيقولون: لو أنهم رأوها لكانوا أشد عليها حرصاً، وأشد لها طلباً، وأعظم فيها رغبة)، فأين المشمرون؟ قال فيقول: فمم يتعوذون؟ فيقولون: من النار، فيقول: هل رأوها؟ فيقولون: لا والله يا رب ما رأوها، فيقول: كيف لو رأوها؟ فيقولون: لو رأوها لكانوا أشد منها فراراً، وأشد لها مخافة)، اللهم أجرنا من النار فيقول: أشهدكم أني قد غفرت لهم، فيقول ملك من الملائكة: فيهم فلان ليس منهم، إنما جاء لحاجة، فيقول جل في علاه: وله قد غفرت، هم القوم لا يشقى بهم جليسهم
'আল্লাহর একদল ফেরেশতা রয়েছেন, যারা আল্লাহর জিকিররত লোকদের অন্বেষণে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন। যখন তারা কোথাও আল্লাহর জিকিররত লোকদের দেখতে পান, তখন তাদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তারা সকলে এসে তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত। তখন তাদের রব তাদের জিজ্ঞেস করেন, (অথচ ফেরেশতাদের চেয়ে তিনি বেশি জানেন।) আমার বান্দারা কী বলছে তখন তারা জবাব দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে এবং আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে। আল্লাহ তখন জিজ্ঞেস করেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? ফেরেশতাগণ বলেন, হে আমাদের রব! আপনার কসম! তারা আপনাকে দেখেনি। আল্লাহ বলেন, আচ্ছা যদি তারা আমাকে দেখত? ফেরেশতারা বলেন, যদি তারা আপনাকে দেখত তাহলে তারা আরো বেশি আপনার ইবাদত করত, আরো অধিক পরিমাণে আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আর বেশি বেশি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।

আল্লাহ বলেন, তারা আমার নিকট কী চায়? ফেরেশতা বলেন, তারা আপনার নিকট জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন, আপনার সত্তার কসম হে রব! তারা জান্নাত দেখেনি। আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তারা যদি দেখত তবে তারা কী করত? ফেরেশতারা বলেন, যদি তারা জান্নাত দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো বেশি আশা করত, আরো অধিক চাইত এবং এর জন্য আরো অতিশয় উৎসাহী হতো। আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞেস করেন, তারা কীসের থেকে আশ্রয় চায়? ফেরেশতারা বলেন, জাহান্নাম থেকে। আল্লাহ বলেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন, আল্লাহর কসম! হে রব! তারা জাহান্নাম দেখেনি। আল্লাহ বলেন, তারা যদি জাহান্নাম দেখত তাহলে তাদের কী হতো? ফেরেশতারা বলেন, তারা যদি দেখত তাহলে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং সাংঘাতিক ভয় করত। তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের মাফ করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলবেন, তাদের মধ্যে অমুক আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোনো প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ বলেন, তারা এমন যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী কেউ বিমুখ হয় না।³²

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْراً كَثِيراً، وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلاً، هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا تَحِيَّتُهُمْ يَوْمَ يَلْقَوْنَهُ سَلَامُ وَأَعَدَّ لَهُمْ أَجْراً كَرِيماً
'হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো। সকাল-সন্ধ্যা তার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করো। তিনিই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। তার ফেরেশতাগণ তোমাদের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। যেন তিনি তোমাদের অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে আনতে পারেন। তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। যেদিন তারা আল্লাহর সাথে মিলিত হবে সেদিন তাদের প্রতি অভিবাদন হবে সালাম। তিনি তাদের জন্য এক মহান প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।³³

সুতরাং, বান্দা আল্লাহকে ভালোবাসার প্রমাণ হলো, বান্দা যখন একাকী নিভৃতে থাকে তখন আল্লাহ তায়ালার জিকির করে। জিকির করতে করতে তার চক্ষুদ্বয় বিগলিত হয়। আল্লাহর জিকিরের প্রভাবে তার চোখ থেকে ঝরতে থাকে অশ্রু, যা এক গভীরতম ভালোবাসার নিদর্শন।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ الله وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ
'মুমিনগণ তারা যাদের সামনে আল্লাহর আলোচনা করলে তাদের অন্তর ভীত হয়, যখন তাদের নিকট আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তা তাদের ঈমানকে বৃদ্ধি করে। তারা তাদের প্রতিপালকের ওপর ভরসা করে।³⁴

টিকাঃ
৩২. সহিহ মুসলিম।
৩৩. সুরা আহযাব: ৪১-৪৪।
৩৪. সুরা আনফাল: ২।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 কুরআন তিলাওয়াত সর্বোত্তম জিকির

📄 কুরআন তিলাওয়াত সর্বোত্তম জিকির


অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা। কুরআন হলো উত্তম জিকির। কেননা, কুরআন সরাসরি আল্লাহর বাণী। যে ব্যক্তি কুরআন পড়ছে সে যেন আল্লাহর সাথে কথোপকথন করছে। কুরআন মানবজাতির মুক্তি ও হেদায়েতের পরশপাথর। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে হৃদয়-মন আলোকিত হয়। অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْأُتْرُجَّةِ؛ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبُ, وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ؛ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ لَا رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْو, وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ؛ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ لَيْسَ لَهَا رِيحُ وَطَعْمُهَا مر.
'মুমিন যে কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত হলো, জাম্বির (এক ধরনের টকজাতীয় ফল) ফলের ন্যায়। তার ঘ্রাণ ও স্বাদ উভয়টি উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত হলো খেজুরের ন্যায়। যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। ওই মুনাফিক যে কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত হলো রায়হানার (পুদিনাজাতীয় এক প্রকার গুল্ম) ন্যায়। যার ঘ্রাণ উত্তম কিন্তু স্বাদে তিক্ত। ঐ মুনাফিক যে কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত হলো, হানজালার (তরমুজের মতো মাটিতে ফলানো অবস্থায় উৎপন্ন হয় এমন একজাতীয় ফল) ন্যায়, যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং তার মিষ্টতাও নেই-তিক্ত। ³⁵

টিকাঃ
৩৫. সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 আমিও কি ভালোবাসি তাকে

📄 আমিও কি ভালোবাসি তাকে


আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উল্লিখিত আয়াতে যাদের কথা বলেছেন আমরা কি তাদের মধ্যে শামিল রয়েছি? আমরা কি নিজেদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কর্তৃক বর্ণিত বিশেষ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত আছি? আসুন আমরা নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখি, আমরা সেইসব প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কি না? আমাদের অন্তর কি ভীত ও প্রকম্পিত হয় যখন আল্লাহর আলোচনা আমাদের সামনে করা হয়? আমাদের সামনে যখন কুরআনুল কারিমের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন আমাদের ঈমান কি বৃদ্ধি পায়? আমাদের অন্তরে কি আল্লাহর ভালোবাসা পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান? আমরা দাবি করি-আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালাকে আমরা ভালোবাসি কিন্তু সে দাবির স্বপক্ষে আমাদের কোনো শক্তিশালী প্রমাণ আছে কি? হে আল্লাহ! আপনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন যাদের অন্তর হয় ভীত ও প্রকম্পিত। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন যাদের সামনে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হলে ঈমান বৃদ্ধি পায়। হে আল্লাহ! আমাদের দোয়াকে আপনি কবুল করে নিন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা কেবল আপনাকেই ভালোবাসি। আমাদের হৃদয় উজাড় ভালোবাসাকে শুধুমাত্র আপনার জন্য কবুল করে নিন। আমাদের হৃদয়কে আপনার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে দিন।

টিকাঃ
৩৬. ইমাম শাফেই ও অন্যান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মতে ঈমানে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। তাদের দলিল হলো, কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন টেক্সটের বাহ্যিক শব্দ। সে-সমস্ত আয়াত ও হাদিসে স্পষ্টতই ঈমানের ব্যাপারে হ্রাস-বৃদ্ধি ইত্যাদি শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মত হলো, ঈমানের মাঝে কমবেশি হয় না। তার মতে ঈমান হচ্ছে কতিপয় অত্যাবশ্যকীয় বিষয় সত্যায়ন ও স্বীকার করার নাম। ইমাম আবু হানিফা রহ. ঈমান কমবেশি হয় না বলেন, তার ব্যাখ্যা হলো, ঈমান যে মৌলিক ন্যূনতম কতিপয় বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপনের নাম, এর কম কিছুতেই হতে পারবে না। পক্ষান্তরে বেশিরও প্রয়োজন নেই। যে সকল আয়াত-হাদিসে ঈমান কমবেশি হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মূল ঈমানের মাঝে কমবেশি হওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং সৎকাজ করলে, কুরআন তিলাওয়াত করলে, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ইত্যাদি মেনে চললে ঈমান শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হবে। আল্লাহর নিকট প্রিয় হবে। ঈমান অটুট, অবিচল থাকবে। পক্ষান্তরে এর বিপরীত হলে, ঈমান দুর্বল হবে। মুমিন হিসেবে আল্লাহর নিকট তার সম্মান মর্যাদা কম হবে। মৌলিক ঈমানের মাঝে ত্রুটি হবে না। যারা বলেন ঈমানের মাঝে কম-বেশি হয় না, তাদের উদ্দেশ্য হলো, মুতলাকুল ঈমান (ন্যূনতম ঈমান, আমল অন্তর্ভুক্ত নয়)-মুমিন হওয়ার জন্য ন্যূনতম যে পরিমাণ ঈমান জরুরি সেখানে কোনো কম-বেশি হয় না। পক্ষান্তরে যারা বলেন, ঈমানের মাঝে কম-বেশি হয়, তাদের উদ্দেশ্য হলো, ঈমান মুতলাক (ঈমান ও সঙ্গে আমল অন্তর্ভুক্ত) এ কম-বেশি হয়। যত অধিক আমল করবে, আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করবে ঈমান তাদের তত পূর্ণতা পাবে। যেমন, এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যখন কোনো ব্যক্তি ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না। যখন কোনো মুমিন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না।' এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে তখন পূর্ণ মুমিন থাকে না। মন্দ আমলের কারণে তার ঈমান তখন হ্রাস পায়। সুতরাং এ মতানৈক্য নিছক শাব্দিক, পারিভাষিক নয়। অনুবাদক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00