📄 খাতিমা বিল খায়র-সুন্দর পরিসমাপ্তি
আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসার আরো প্রমাণ ও নিদর্শন হলো, তিনি বান্দাকে সুন্দর সমাপ্তি দান করেন। তার মৃত্যু হয় প্রশংসিত ও আনন্দদায়ক। আমলে সালেহ তথা নেক আমল করা অবস্থায় মৃত্যু দান করেন। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। সকল সৃষ্টিকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। কিন্তু মানুষ কেউ জানে না কখন তার মৃত্যু হবে। জানে না কোনদিন কোন প্রহরে ফুরিয়ে আসবে তার জীবনের নিঃশ্বাস। জানে না কখন তার জীবনের দুয়ারে এসে হাজির হবে মৃত্যুর ফেরেশতা। তাই বান্দার উচিত আল্লাহ তায়ালার নিকট সুন্দর মৃত্যুর জন্য অবিরাম দোয়া ও অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা করা। যখনই আল্লাহ তায়ালার নিকট দু-হাত উত্তোলন করবে তখনই বিশেষ আরজি পেশ করবে, যেন তার জীবনের সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘটে। যেন পুণ্যবান ব্যক্তিদের ন্যায় আমলে সালেহ তথা নেক আমল করা অবস্থায় মৃত্যু হয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إذا أحب الله عبداً عسله فقيل : وما عسله يا رسول الله ؟! .قا يوفق له عملاً صالحاً بين يدي أجله حتى يرضي عنه جيرانه أو قال من حوله.
'আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তাকে মধু পান করান। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! মধু পান করানোর অর্থ কী? প্রতিউত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর অর্থ হলো, আল্লাহ তাকে এমন সৎকাজ করার তাওফিক দেন যে, তার প্রতিবেশিরা তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়।'¹⁷
হে আল্লাহর বান্দাগণ! জেনে রেখো! মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে সেভাবেই সে মৃত্যুবরণ করে। আর যেভাবে মৃত্যুবরণ করবে কিয়ামতের দিন সেভাবেই পুনরুত্থিত হবে। বান্দা যদি দুনিয়াতে আল্লাহর আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে, তার সমস্ত আদেশ মেনে চলে, নিষেধ থেকে বেঁচে থাকে তাহলে তার মৃত্যু হবে সুন্দর। তার মৃত্যু হবে নামাজরত অবস্থায়। তার মৃত্যু হবে রুকুতে। তার মৃত্যু হবে সিজদায়। তার মৃত্যু হবে তাওয়াফ করা অবস্থায়। তার মৃত্যু হবে আরাফাহর ময়দানে, মিনা, মুজদালিফায়। পক্ষান্তরে, কেউ যদি পার্থিব জীবনে আল্লাহর অবাধ্যতা করে, তাকে ভয় না করে, নামাজের প্রতি যত্নবান না হয়, হারাম ও নাজায়েজ থেকে বিরত না থাকে তাহলে তার মৃত্যু হবে কুৎসিত ও ভয়ংকর অবস্থায়। তার মৃত্যু হবে মদের আসরে। তার মৃত্যু হবে খেলার মাঠে। তার মৃত্যু হবে নাচ-গান ও অশ্লীলতায় লিপ্ত অবস্থায়। আল্লাহ তায়ালা তার কোনো বান্দার প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না। প্রত্যেককে তিনি তাই দেন যা তার প্রাপ্য। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَداً
'তোমার প্রতিপালক কারো প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না।'¹⁸
টিকাঃ
১৭. আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ৪/২০৪।
১৮. সুরা কাহফ: ৪৯।