📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 সমূহ বিপদ-মুসিবত দ্বারা পরীক্ষা করেন

📄 সমূহ বিপদ-মুসিবত দ্বারা পরীক্ষা করেন


আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসার প্রমাণ ও নিদর্শন হলো, তিনি বান্দাকে অসংখ্য বিপদ-আপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন যা তার গোনাহসমূহ মিটিয়ে দেন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ما يزال البلاء بالمؤمن والمؤمنة في نفسه، وولده، وماله حتى يلقى الله وما عليه خطيئة

'মুমিন নারী-পুরুষের তার জীবন, তার সন্তান-সন্ততি, তার মাল-সম্পদের ওপর মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন বিপদ-মুসিবত আসতে থাকে। এবং সেগুলো তার গোনাহকে মিটিয়ে দেয়। ¹⁴

হ্যাঁ, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন তখন তিনি তাদের নানান পরীক্ষায় ফেলেন। কখনো দুনিয়াকে তাদের ওপর সংকীর্ণ করে দেন। কখনো তাদের জীবিকা ও রিজিক সংকুচিত করে দেন। আবার কখনো তাদের জান-মাল, পরিবার-পরিজনের ওপর চাপিয়ে দেন বিপদ মুসিবত। বস্তুত এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তরকে পার্থিব সকল অনুরাগ ও ব্যস্ততা থেকে মুক্ত করে কেবল তার একনিষ্ঠ ভালোবাসা দ্বারা পরিপূর্ণ করেন। বান্দা যখন বিপদ-আপদের নানামুখী পরীক্ষার সম্মুখীন হয় তখন পূর্বের চেয়ে অধিক বেশি আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়। তার অন্তর তখন সর্বদা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকে। রাতের গভীরে, দিনের আলোতে, সালাতের পর আল্লাহ তায়ালাকে সে একান্তে হৃদয়ের আবেগ ও মাধুরী মিশিয়ে ডাকতে থাকে।

আনুগত্য ও ইবাদত অধিকতর বাড়িয়ে দেয়। রাতের শেষ প্রহরে অশ্রুভেজা প্রার্থনা করে মহান প্রভুর দরবারে। এভাবে বান্দা আল্লাহর অধিকতর নৈকট্য লাভ করে। তার সন্তুষ্টি অর্জন করে। পার্থিব জীবনে মুমিনদের ওপর যত বিপদ-মুসিবত আপতিত হয় এর সবকিছু তাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা পরীক্ষা করে দেখেন বান্দাদের মধ্যে কারা তার অনুগত এবং কারা তার অবাধ্য। কারা ধৈর্যশীল আর কারা অসহিষ্ণুপ্রবণ। যারা সকল বিপদ-মুসিবতে ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার আনুগত্য ও ইবাদত বাড়িয়ে দেয় তারা হলো আল্লাহর প্রিয় ও অনুগত বান্দা। তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া-আখেরাতে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা। পক্ষান্তরে যারা পার্থিব বিপদ-মুসিবতে অধৈর্য হয়ে পড়ে, আল্লাহর ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলে, ইবাদত-আনুগত্য ছেড়ে দেয় তারা আল্লাহর অপ্রিয় বান্দা। দুনিয়া-আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে সীমাহীন লাঞ্ছনা ও মর্মন্তুদ শাস্তি। কথায় আছে, বিপদে বন্ধুর পরিচয়। সংকটের মুহূর্তে পার্থক্য হয় কে উত্তম বন্ধু আর কে ধোঁকাবাজ।

ভালোবাসার দাবি তো এটিই যে, বিপদ-মুসিবতের মাধ্যমে তাকে পরীক্ষা করা হবে। তাই মুমিনদের উচিত, পার্থিব জীবনের সকল বিপদ-মুসিবতে ধৈর্যধারণ করা। সুদিনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার পাশাপাশি দুর্দিনে ধৈর্য ধারণ করা। সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা স্থাপন করা। সকল দুঃখ- কষ্ট, অভাব-অনটনকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাতে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়া।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন,
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ

'আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদের বেছে নেই এবং তোমাদের তথ্যসমূহ যাচাই করি।'¹⁵

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
وإنَّ الله إذا أحب قوماً ابتلاهم

'আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন তখন তাদের তিনি পরীক্ষা করেন।'¹⁶

অপর হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
وعلى قدر الإيمان يكون البلاء.

'আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে তার ঈমান অনুযায়ী পরীক্ষা করেন।'

টিকাঃ
১৪. সুনানুত তিরমিযি: ২৩৯৯।
১৫. সুরা মুহাম্মদ: ৩১।
১৬. ইবনে মাজাহঃ ৪০৩১।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 খাতিমা বিল খায়র-সুন্দর পরিসমাপ্তি

📄 খাতিমা বিল খায়র-সুন্দর পরিসমাপ্তি


আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসার আরো প্রমাণ ও নিদর্শন হলো, তিনি বান্দাকে সুন্দর সমাপ্তি দান করেন। তার মৃত্যু হয় প্রশংসিত ও আনন্দদায়ক। আমলে সালেহ তথা নেক আমল করা অবস্থায় মৃত্যু দান করেন। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। সকল সৃষ্টিকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। কিন্তু মানুষ কেউ জানে না কখন তার মৃত্যু হবে। জানে না কোনদিন কোন প্রহরে ফুরিয়ে আসবে তার জীবনের নিঃশ্বাস। জানে না কখন তার জীবনের দুয়ারে এসে হাজির হবে মৃত্যুর ফেরেশতা। তাই বান্দার উচিত আল্লাহ তায়ালার নিকট সুন্দর মৃত্যুর জন্য অবিরাম দোয়া ও অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা করা। যখনই আল্লাহ তায়ালার নিকট দু-হাত উত্তোলন করবে তখনই বিশেষ আরজি পেশ করবে, যেন তার জীবনের সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘটে। যেন পুণ্যবান ব্যক্তিদের ন্যায় আমলে সালেহ তথা নেক আমল করা অবস্থায় মৃত্যু হয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إذا أحب الله عبداً عسله فقيل : وما عسله يا رسول الله ؟! .قا يوفق له عملاً صالحاً بين يدي أجله حتى يرضي عنه جيرانه أو قال من حوله.
'আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তাকে মধু পান করান। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! মধু পান করানোর অর্থ কী? প্রতিউত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর অর্থ হলো, আল্লাহ তাকে এমন সৎকাজ করার তাওফিক দেন যে, তার প্রতিবেশিরা তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়।'¹⁷

হে আল্লাহর বান্দাগণ! জেনে রেখো! মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে সেভাবেই সে মৃত্যুবরণ করে। আর যেভাবে মৃত্যুবরণ করবে কিয়ামতের দিন সেভাবেই পুনরুত্থিত হবে। বান্দা যদি দুনিয়াতে আল্লাহর আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে, তার সমস্ত আদেশ মেনে চলে, নিষেধ থেকে বেঁচে থাকে তাহলে তার মৃত্যু হবে সুন্দর। তার মৃত্যু হবে নামাজরত অবস্থায়। তার মৃত্যু হবে রুকুতে। তার মৃত্যু হবে সিজদায়। তার মৃত্যু হবে তাওয়াফ করা অবস্থায়। তার মৃত্যু হবে আরাফাহর ময়দানে, মিনা, মুজদালিফায়। পক্ষান্তরে, কেউ যদি পার্থিব জীবনে আল্লাহর অবাধ্যতা করে, তাকে ভয় না করে, নামাজের প্রতি যত্নবান না হয়, হারাম ও নাজায়েজ থেকে বিরত না থাকে তাহলে তার মৃত্যু হবে কুৎসিত ও ভয়ংকর অবস্থায়। তার মৃত্যু হবে মদের আসরে। তার মৃত্যু হবে খেলার মাঠে। তার মৃত্যু হবে নাচ-গান ও অশ্লীলতায় লিপ্ত অবস্থায়। আল্লাহ তায়ালা তার কোনো বান্দার প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না। প্রত্যেককে তিনি তাই দেন যা তার প্রাপ্য। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَداً

'তোমার প্রতিপালক কারো প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না।'¹⁸

টিকাঃ
১৭. আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ৪/২০৪।
১৮. সুরা কাহফ: ৪৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00