📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণার মূলোৎপাটন

📄 বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণার মূলোৎপাটন


আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসার প্রমাণ ও নিদর্শন হলো, তিনি তার বান্দাকে দুনিয়ার চিত্তাকর্ষক বস্তুসমূহ থেকে সর্বতোভাবে বাঁচিয়ে রাখেন। তার অন্তর থেকে বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করেন। মূলোৎপাটন করেন সকল কামনা-বাসনার চাহিদা। যেন সেসবের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়ে তাদের অন্তর অসুস্থ হয়ে না যায়। যেন ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে ভালোবেসে পরকালের অনন্ত অসীম চির শান্তির জান্নাত থেকে বঞ্চিত না হয়। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে ভালোবাসেন বলেই দুনিয়ার এসব সামান্য তুচ্ছ বিষয়ের লালসা ও কামনা থেকে তাদের হেফাজত করেন। তিনি চান তার বান্দারা যেন দুনিয়ার সাধারণ ও তুচ্ছ বস্তুসমূহ পরিহার করে পরকালের চির সুখের জান্নাত লাভ করতে পারে।

হযরত আবু সাইদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِنَّ الله تعالى ليحمي عبده المؤمن من الدنيا وهو يحبه، كما تحمون مريضكم الطعام والشراب تخافون عليه

'আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন বলেই মুমিনদের দুনিয়ার (মোহ ও লালসা) থেকে হেফাজত করেন। তোমরা যেমন তোমাদের অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় থেকে দূরে রাখো, তেমনি আল্লাহ তার বান্দাদের দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন।"⁵

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجاً مِّنْهُمْ زَهْرَةَ الحَيَاةِ الدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ وَرِزْقُ رَبَّكَ خَيْرٌ وَأَبْقَى

'পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পার্থিব জীবনের চাকচিক্য স্বরূপ যেসব ভোগের সামগ্রী দিয়েছি, তুমি তার দিকে চোখ বাড়িও না। তোমার প্রভুর দেওয়া জীবিকাই শ্রেষ্ঠ ও অধিকতর শ্রেয়।'⁶

আল্লাহ তায়ালার নিকট দুনিয়ার মূল্য যদি সামান্য একটি মশা ও মাছির ন্যায় হতো, তাহলে কোনো কাফেরকে তিনি দুনিয়ার সামান্যও ভোগ করতে দিতেন না। দুনিয়ার কোনো মূল্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট নেই। আর সেজন্যই তিনি কাফেরদের দুনিয়ার একচ্ছত্র রাজত্ব ও আধিপত্য দিয়েছেন।

টিকাঃ
৫. মুসনাদে আহমদ: ২৩০৯১।
৬. সুরা তহা: ১৩১।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 উত্তম পদ্ধতিতে লালন-পালন

📄 উত্তম পদ্ধতিতে লালন-পালন


আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসার প্রমাণ হলো, দুনিয়াতে তিনি তার বান্দাকে সুন্দর ও অতি উত্তম পদ্ধতিতে লালন-পালন করেন। তিনি বান্দাকে শৈশব, কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য ও মৃত্যু পর্যন্ত একটি সুন্দর ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ভেতর লালন-পালন করেন। আল্লাহ তায়ালা বান্দার অন্তরকে ঈমানের রশ্মি দ্বারা আলোকিত করেন। তাকে দান করেন শানিত জ্ঞান, প্রখর মেধা ও পরিণত বোধ-বুদ্ধি। আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে তার ইবাদতের জন্য নির্বাচন করেছেন। বান্দার অন্তর ও জিহ্বাকে দিবা-রাত্রি তার জিকির ও স্মরণে ব্যস্ত রাখেন। বান্দার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে তার সেবা ও সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যতিব্যস্ত রাখেন। বান্দার সকল কাজ-কর্ম তিনি অত্যন্ত সহজভাবে সম্পাদন করে দেন। তাদের বাহির ও ভেতরকে সুন্দর ও সুসজ্জিত করে দেন। তাদের তিনি সরল ও সঠিক পথে পরিচালিত করেন। বর্ণিত হয়েছে,

عن ابن مسعود رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إنَّ الله قسم بينكم أخلاقكم كما قسم بينكم أرزاقكم.. وإنَّ الله يعطي الدنيا من يحب، ومن لا يحب.. ولا يعطي الإيمان إلا من يحب .. ولن تؤمن والله حتى.. يكون الله ورسوله أحب إليك مما سواهما

'হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ তায়ালা রিজিক যেমন তোমাদের মাঝে বণ্টন করেছেন, তেমনি বণ্টন করেছেন তোমাদের স্বভাব-চরিত্রকেও। তিনি যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না সকলকেই দুনিয়ার নেয়ামত দান করেন। কিন্তু ঈমান কেবল তাদেরকেই দান করেন যাদের তিনি ভালোবাসেন। আল্লাহর শপথ! তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ও তার রাসুলকে সকল কিছু থেকে অধিক ভালোবাসবে।''

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 বান্দার হৃদয়কে করেন দয়ার্দ্র ও কোমল

📄 বান্দার হৃদয়কে করেন দয়ার্দ্র ও কোমল


আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসার আরো প্রমাণ হলো, তিনি বান্দার অন্তরকে কোমল ও দয়ার্দ্র বানিয়ে দেন। বান্দার হৃদয়কে করে দেন অতিশয় দয়াবান ও সহানুভূতিশীল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

إنَّ الله إذا أحب أهل بيت أدخل عليهم الرفق

'আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন তখন তার অন্তরে কোমলতা দান করেন।'⁸

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তিনি তাকে দয়ালু ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী বানিয়ে দেন। মুমিনদের প্রতি সে দয়ালু হয়। বিপদে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। তাদের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হয়। আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সাথে তাদের পাশে দাঁড়ায়। আর শত্রুদের প্রতি হয় কঠোর চিত্তের অধিকারী। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা একে মুমিনের অন্যতম গুণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
أَشِدَّاء عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاء بَيْنَهُمْ
'তারা কাফেরদের ব্যাপারে হয় কঠিন আর পরস্পরে (মুমিনদের) প্রতি হয় দয়ালু।'⁹

অপর আয়াতে আরো ইরশাদ করেন,
أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ

'মুমিনদের ক্ষেত্রে তারা হয় নরম এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে হয় রূঢ়।'¹⁰

যাদের অন্তরে দয়া ও অনুগ্রহ রয়েছে আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর দয়া ও অনুগ্রহ করেন। যাদের অন্তরে রয়েছে নম্রতা আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করেন। যারা দয়ালু আচরণ করে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের সাথে দয়ালু আচরণ করেন। অন্যদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেন।

টিকাঃ
৭. আস-সহিহাহ: ২৭১৪।
৮. সহিহ বুখারি: ৬৩৯৫।
৯. সুরা ফাতাহ: ২৯।
১০. সুরা মায়েদা: ৫৪।

📘 আল্লাহ আপনাকে দেখছেন > 📄 বান্দার ডাকে তিনি সাড়া দেন

📄 বান্দার ডাকে তিনি সাড়া দেন


আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসার প্রমাণ ও নিদর্শন হলো, বান্দা যখন দোয়া করে তখন তিনি বান্দার দোয়া কবুল করেন। বান্দা যখন আল্লাহকে একান্তচিত্তে ডাকতে থাকে তখন তিনি বান্দার ডাকে সাড়া দেন। বান্দা যখন আল্লাহর নিকট কোনো প্রয়োজন পূরণের আরজি পেশ করে তখন তিনি বান্দার আরজি গ্রহণ করেন। বান্দা যখন অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভের প্রার্থনা করে তখন তিনি বান্দাকে সুস্থতার নেয়ামত দান করেন। বান্দা যখন রিজিকের প্রশস্ততার কথা বলে তখন তিনি বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেন। মোটকথা, বান্দা যখন আল্লাহর নিকট প্রকাশ্যে ও গোপনে, একাকী ও নিবৃত্তে কিছু কামনা করে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বান্দাকে তা দিতে কোনো প্রকার কুণ্ঠিত হন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00