📄 অনুবাদকের কথা
একটি ছোট্ট আর সংক্ষিপ্ত জীবন দিয়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে প্রেরণ করেছেন পৃথিবীতে। মানুষ সৃষ্টির পেছনে স্রষ্টার রয়েছে এক বিশেষ উদ্দেশ্য। পার্থিব জীবন সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্র। জীবনের সংক্ষিপ্ত পাঠ চুকিয়ে একদিন চলে যেতে হবে আল্লাহ তায়ালার নিকট। তারপর তিনি মানুষের প্রতিটি কৃতকর্মের হিসাব চাইবেন। হাশরের ময়দানে প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে পুঙ্খানুপুঙ্খ। আল্লাহর কসম! এর বিপরীত হবে না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষ্যানুযায়ী কিয়ামতের দিন এক কদমও কেউ অগ্রসর হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার যাপিত জীবনের পরিপূর্ণ হিসাব দেবে। হিসাব গ্রহণের পর আল্লাহ তায়ালা জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালা করবেন। যে জান্নাতে যাবে সেই প্রকৃত সফলকাম। আর যে জাহান্নামে যাবে, সে হবে চূড়ান্ত ব্যর্থ ও নাকাম। ইরশাদ হয়েছে, 'যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সেই সফলকাম। পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়।'¹
কিন্তু দুনিয়ায় আগমনের পর মানুষ ভুলে যায় সে উদ্দেশ্যের কথা। ভুলে যায় মহান রবের প্রতিশ্রুতি। দুনিয়ার মোহে মানুষ হয়ে যায় অন্ধ। সম্পদের লালসায় সে হয়ে যায় মাতাল। প্রবৃত্তির দাসত্ব তাকে বানিয়ে দেয় বোকা। বস্তু ও পুঁজিবাদের নেশা তাকে আজন্ম ভুলিয়ে রাখে অবশ্যম্ভাবী চিরস্থায়ী জীবনের কথা। মানুষ আল্লাহ তায়ালাকে ভুলে যায়। ভুলে যায় ইবাদত এবং বিধি-নিষেধের কথা। জীবনযাপনে তখন পরিলক্ষিত হয় চূড়ান্ত অবাধ্যতা। দুঃখজনক হলেও এ কথা দিবালোকের ন্যায় সত্য যে, আজ অধিকাংশ মুসলমান তার রবকে ভুলে আছে। তাদের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে নেই ইসলামের ন্যূনতম অনুশাসন। আনুগত্য ও ইবাদতের প্রতি নেই তাদের সামান্য কর্তব্যবোধ। মুসলিম সমাজে প্রতিনিয়ত এমন লোকদের সংখ্যা জ্যামিতিকহারে বেড়েই চলছে। ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে মুসলমানদের বিচ্যুতি ও অবাধ্যতার পরিমাণ।
কিন্তু আশার কথা হলো, বিশ্বব্যাপী উম্মতের কতিপয় মহান ব্যক্তি দ্বীন ও আত্মভোলা সেসব মানুষকে জাগ্রত করার প্রতি সদা জাগ্রত। দাওয়াতের মাধ্যমে উদাসীনতার বেড়াজাল থেকে তাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা তারা করে চলেছেন। এর সুফলও আসছে অকল্পনীয়ভাবে। তাদের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে অসংখ্য মানুষ ফিরে আসছে আলোকিত জীবনের পথে। ফিরে আসছে অবাধ্যতা ও নাফরমানির অন্ধকার থেকে শাশ্বত আলোর মরূদ্যানে। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত ইসলামের দীপিত জীবনব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে তাদের মন-মনন।
শাইখ খালিদ আর রশিদ এমনই একজন দাঈ। অবস্থানগত দিক থেকে তিনি আরবের হলেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বব্যাপী চলমান তার দাওয়াতের কার্যক্রম। তার লেখা, তার লেকচার পথহারা মানুষের জীবনকে করছে দীপান্বিত। আলোকিত করছে গাফেল ও ঈমানি পরিচয় ভুলে যাওয়া মুসলমানদের। আরব তরুণদের বড় প্রিয়ভাজন তিনি। আরবের প্রজ্ঞাবান এই শাইখ বর্তমান সৌদি সরকারের রোষানলে কারাজীবন ভোগ করছেন। মহান রবের নিকট কায়মনোবাক্যে দোয়া করি এবং সকলের দোয়া কামনা করি, আল্লাহ যেন সমকালীন বিশ্বের এই প্রজ্ঞাবান আলেম ও দূরদর্শী দাঈকে জালিমের জিন্দানখানা থেকে মুক্ত করে পুনরায় উম্মাহর খেদমতে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করেন। তার ভরাট কণ্ঠের চিত্তজাগানিয়া আহ্বান যেন ফের মুসলিম উম্মাহর কর্ণকুহরে ধ্বনিত হয়। মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে যেন আবারো ঢেউ তুলে তার উদাত্ত ডাক। আরবের হে শার্দুল পুরুষ, খালিদ বিন ওয়ালিদ ও মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর চেতনা ও রক্তকে ধারণকারী বীর সৈনিক আপনি দীর্ঘজীবী হোন। জয় হোক আপনার। বোধোদয় হোক আপনার শত্রুদের।
আল্লাহ আপনাকে দেখছেন বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি মুহতারাম শাইখ খালিদ আর রশিদ হাফিজাহুল্লাহর দুটি অনবদ্য লেকচারের অনুবাদ। তার প্রতিটি লেকচার ইংরেজি-সহ পৃথিবীর বহুল প্রচলিত ভাষায় অনূদিত হচ্ছে। বাংলাভাষী পাঠককে শাইখের হৃদয়-প্রভাবক ও আত্মবিগলিত কথামালার সাথে পরিচিত করার লক্ষ্যে দাওয়াতি মেজাজ থেকে আমাদের এই শ্রম। গ্রন্থটি পাঠকের জীবনকে নতুন রঙে, নতুন চিন্তায় এবং নতুন স্বপ্নে তাড়িত করবে। ভেতরে জাগ্রত করবে ঈমানের আত্মমর্যাদা। আল্লাহর নির্দেশ এবং নবীজির সুন্নাহর প্রতি আকৃষ্ট করে তুলবে গভীরভাবে। বিশেষভাবে অন্তরে জাগিয়ে তুলবে তাকওয়া। তাকওয়া এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আল্লাহ তায়ালা যার অসিয়ত তার পূর্বাপর সকল বান্দাকে করেছেন এবং তাকওয়া গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের এবং তোমাদের আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।'²
গ্রন্থটি প্রকাশ করছে হাসানাহ পাবলিকেশন। একটি কল্যাণমূলক দাওয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তারা তাদের প্রকাশনীর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের গ্রন্থ নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ বইসমূহ সেদিকেই ইঙ্গিত করে। আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদাশীল করুন। তাদের সকল খিদমাহ কবুল করুন।
গ্রন্থটি যখন অনুবাদ করছি, তখন বিশ্বব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস নামক এক অদৃশ্য ও ভয়ংকর মহামারি। মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। লকডাউনে একপ্রকার গৃহবন্দি জীবনযাপন করছি। মৃত্যুর ভয় শরীরকে শীতল করে রাখে সকাল-সন্ধ্যা। তথাপিও উদ্যমতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি। পৃথিবীতে আরো একটি ভালো কাজ রেখে যেতে পারি এই বাসনায়। আল্লাহ কাজটি পূর্ণাঙ্গ করার তাওফিক দিয়েছেন। অগণিত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমার মহান রবের।
লেখক, অনুবাদক, পাঠক, প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কবুল করুন। দুনিয়াতে সম্মান, মর্যাদা ও পরকালে মুক্তির মাধ্যম বানান।
মুফতী জুবায়ের রশীদ মুশরিফ (ইফতা) মারকাযুল উলুম আল-ইসলামিয়া উত্তরা, ঢাকা।
টিকাঃ
১. সুরা আলে ইমরান: ১৮৫
২. সুরা নিসা: ১৩১
📄 আল্লাহ ও বান্দার পারস্পরিক ভালোবাসা
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله. يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُمْ مُسْلِمُونَ
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে তার প্রিয় মুমিন বান্দাদের লক্ষ্য করে বলেন,
يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ
'আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন এবং তারাও আল্লাহকে ভালোবাসে।"³
নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি আয়াত, যা মুমিনদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার সীমাহীন রহমতের বহিঃপ্রকাশ এবং একই সঙ্গে এতে ফুটে উঠেছে বান্দার প্রতি আল্লাহর অগাধ ভালোবাসা ও অপরিসীম কৃপা।
যুগশ্রেষ্ঠ আলেম আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, এর মাঝে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, একজন ফকির সে ধনীকে ভালোবাসে, যে লাঞ্ছিত, অপমানিত সে সম্মানিত ও মর্যাদাবান ব্যক্তিকে ভালোবাসে। তেমনিভাবে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, আল্লাহ তায়ালাকে বান্দা ভালোবাসে। কেননা, মুমিন মাত্রই সে আল্লাহকে ভালোবাসবে। আল্লাহর প্রতি যার অন্তরে ভালোবাসা নেই সে কখনো মুমিন নয়। ঈমানের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো,⁴ হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা লালন করা। কিন্তু সীমাহীন বিস্ময় ও অতিশয় আশ্চর্যের বিষয় হলো, আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসেন! কেননা, তিনি প্রভু আর আমরা তার অনুগত বান্দা। তিনি ধনী আমরা তার বাধ্য ফকির। তিনি সম্মানিত ও মর্যাদাবান আর আমরা করি তার দাসত্ব। তিনি মালিক আমরা তার অনুগত গোলাম। প্রভু হয়ে তিনি বান্দাদের ভালোবাসেন; এটি বরং আশ্চর্যের বিষয়। যেমন আশ্চর্যের বিষয় হলো, ধনী যদি ফকিরকে ভালোবাসে, বাদশাহ যদি ভালোবাসে প্রজাকে, মনিব যদি ভালোবাসে তার গোলামকে। আরো ঢের বিস্ময়কর হলো, আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে শুধু ভালোই বাসেননি বরং তার অসংখ্য ও অগণিত নেয়ামতের মাঝে ডুবিয়ে রেখেছেন। শ্রেষ্ঠত্বমণ্ডিত করেছেন তার অফুরন্ত কৃপা ও দাক্ষিণ্য দ্বারা। আল্লাহ তায়ালার এই ভালোবাসার যথাযথ মূল্য কেবল সে ব্যক্তিই বুঝতে পারবে যে আল্লাহ তায়ালাকে প্রকৃতার্থে চিনতে পেরেছে। হৃদয়ে অর্জন করেছে তার মারেফত। তার সুমহান নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে যে ব্যক্তি বিশদ জ্ঞান অর্জন করেছে।
আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে, অনুরূপভাবে বান্দা আল্লাহকে ভালোবাসার কতিপয় প্রমাণ রয়েছে। রয়েছে উৎকৃষ্ট কিছু নিদর্শন। বক্ষ্যমাণ আলোচনায় ধারাবাহিকভাবে সেগুলো তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ!
আল্লাহ বান্দাকে ভালোবাসার নিদর্শন
আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভালোবাসেন এর স্বপক্ষে প্রমাণ ও নিদর্শন হলো, আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে দুনিয়ার সকল অবৈধ ভোগ-বিলাস থেকে নিবৃত রাখেন। তাদের এবং দুনিয়ার মোহ ও প্রবৃত্তির মাঝে তৈরি করে দেন বিরাট প্রতিবন্ধক। যেন বান্দা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে ধ্বংস না করে চিরস্থায়ী আখেরাত। কেননা, স্বাভাবিক নিয়ম তো এই যে, মানুষ তার ভালোবাসার প্রিয় মানুষটিকে সকল ক্ষতি ও ধ্বংস থেকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। তার সামান্যতম ক্ষতিও সে কখনো কামনা করে না। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যদি এমন হয়, তাহলে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে, মানুষের যিনি চির কল্যাণকামী সেই মহান আল্লাহর ভালোবাসা কেমন হবে তা তো সহজেই অনুমেয়। তিনি তার বান্দাকে কখনো ধ্বংস ও শাস্তির মুখে পতিত করতে চান না। আর সেজন্যই মুমিন বান্দাদের দুনিয়ার মোহ ও লালসার ক্ষতি থেকে হেফাজত করেন। তাদের গোনাহ ও পাপের সকল উপকরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন।
টিকাঃ
৩. সুরা আল-মায়িদা: ৫৪।
৪. عن ابن مسعود رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إنَّ الله قسم بينكم أخلاقكم كما قسم بينكم أرزاقكم... وإنَّ الله يعطي الدنيا من يحب، ومن لا يحب.. ولا يعطي الإيمان إلا من يحب ولن تؤمن والله حتى.. يكون الله ورسوله أحب إليك مما سواهما
'হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ তায়ালা রিজিক যেমন তোমাদের মাঝে বণ্টন করেছেন, তেমনি বণ্টন করেছেন তোমাদের স্বভাব-চরিত্রকেও। তিনি যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না সকলকেই দুনিয়ার নেয়ামত দান করেন। কিন্তু ঈমান কেবল তাদের দান করেন যাদের তিনি ভালোবাসেন। আল্লাহর শপথ! তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ও তার রাসুলকে সকল কিছু থেকে অধিক ভালোবাসবে। 'আস-সহিহাহ: ২৭১৪।
📄 সকাতর প্রার্থনা
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। আপনি যদি আপনার প্রিয় ও আনুগত্যশীল বান্দা ব্যতীত আর কাউকে ক্ষমা না করেন, তাহলে গোনাহগার ও পাপী বান্দারা কোথায় যাবে? কার নিকট তারা আশ্রয় প্রার্থনা করবে? হে আল্লাহ! আপনি যদি কেবল মুত্তাকি বান্দাদের প্রতি রহম করেন তাহলে আপনার অবাধ্য ও পাপাচারী বান্দারা কার নিকট সাহায্য কামনা করবে? আপনি তো তাদেরও রব। আপনি ছাড়া তো কেউ নেই তাদের। হে আল্লাহ! যারা অসহায় ও দরিদ্র তারা তো ধনীদের দুয়ারে যাবেই। হে আল্লাহ! আপনার চেয়ে বড় ধনী আর কে আছে? হে আল্লাহ! যারা লাঞ্ছিত, অপমানিত তারা তো সম্মানিতদের দুয়ারে করাঘাত করবেই। হে আল্লাহ! আপনার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কে আছে। হে রাহমানুর রাহিম! হে আরহামুর রাহিমিন! আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। আপনি আমার পাপী বান্দাদের ক্ষমা করে দিন। আপনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আপনি আমাদের ওপর সীমাহীন করুণা করুন। আপনি আমাদের আপনার পূর্ণ আনুগত্যের তাওফিক দিন। আমাদের আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন।
হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আপনার ভালোবাসা কামনা করি। আমরা আপনার অপরিসীম ভালোবাসা প্রার্থনা করি। এবং প্রার্থনা করি ওই ব্যক্তির ভালোবাসা যে আপনাকে ভালোবাসে। হে আল্লাহ! আপনি আপনার ভালোবাসাকে আমাদের অন্তরে পিপাসার্ত ব্যক্তির নিকট পানির চেয়ে অধিক প্রিয় বানিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি ঈমানকে আমাদের নিকট প্রিয় বানিয়ে দিন। আমাদের অন্তরে ঈমানকে সুসজ্জিত করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি কুফর, ফুসুক ও গোনাহকে আমাদের নিকট ঘৃণিত করে দিন। হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের সৎপথে পরিচালিত করুন।
হে আল্লাহ! আমরা আপনার প্রার্থনা করছি, আমরা যেন দেখে ও না দেখে আপনাকে ভয় করি। হে আল্লাহ! সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি, লাভ-ক্ষতি সর্বক্ষেত্রে আমরা সত্য বলার প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! দরিদ্র ও ধনাঢ্য উভয় অবস্থায় আমরা আপনার সন্তুষ্টির প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমরা আপনার চেহারা দর্শনের আনন্দলাভের প্রার্থনা করি। আপনার সাক্ষাৎলাভের প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! হে রাহমানুর রাহিম! আপনি আমাদের ঈমানের সাজে সজ্জিত করে দিন। হে আল্লাহ! হে দয়ালু মেহেরবান! আপনি আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় বানিয়ে দিন। হে আল্লাহ! হে বিশ্বজাহানের প্রতিপালক! আপনি আমাদের সৎপথে পরিচালিত করুন। আমাদের সরল-সঠিক পথে অটুট ও অবিচল রাখুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আমাদের নিজ দেশে নিরাপদ রাখুন। আমাদের দেশকে শান্ত ও নিরাপদ রাখুন। আমাদের দেশের শাসক ও নেতাদের সৎপথে পরিচালিত করুন। তাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে দিন।
হে আল্লাহ! আমাদের দেশকে এবং সমগ্র মুসলিম রাষ্ট্রসমূহকে শত্রুর শত্রুতা থেকে হেফাজত করুন। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন থেকে মুসলিম দেশগুলোকে নিরাপদ রাখুন। শত্রুর সকল অনিষ্টতা থেকে মুসলিম মানচিত্রগুলো মুক্তি ও শান্তির চাদরে ঢেকে রাখুন। হে আল্লাহ! আপনি আপনার দ্বীনকে, আপনার কিতাবকে, আপনার নবীর সুন্নতকে এবং আপনার মুমিন বান্দাদের সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! আপনি সাহায্য করুন। আপনি সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! হে বিশ্বজাহানের প্রতিপালক! আপনি আপনার রাস্তায় জিহাদরত মুজাহিদদের সাহায্য করুন। তাদের রণাঙ্গনে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! হে সাহায্যকারী! আপনি মুজাহিদদের সাহায্য করুন, যেভাবে সাহায্য করেছেন বদরের রণাঙ্গনে। তাদের বিজয় দান করুন, যেমন বিজয় দান করেছেন বদরে মুসলমানদের। হে আল্লাহ! যারা মুজাহিদদের সাহায্য করছে আপনি তাদের সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! যারা ইসলাম ও মুসলমানদের সাহায্য করছে, আপনি তাদের সাহায্য করুন। হে আল্লাহ! যারা ইসলাম ও মুসলমানদের লাঞ্ছিত করছে তাদের লাঞ্ছিত করুন। যারা মুসলমানদের মিটিয়ে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে আপনি তাদের মিটিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের হয়ে যান। আমাদের আপনার বানিয়ে নিন। আমাদের হৃদয় পূর্ণ করে দিন আপনার অফুরন্ত ভালোবাসায়।
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعْلَكُمْ تَذَكَّرُونَفاذكروا الله العظيم الجليل يذكركم، واشكروه على نعمه يزدكم، ولذكر الله أكبر والله يعلم ما تصنعون।