📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 যেদিন মানুষ একান্ত আপনজন এমনকি স্ত্রী থেকে পালাতে চাইবে

📄 যেদিন মানুষ একান্ত আপনজন এমনকি স্ত্রী থেকে পালাতে চাইবে


فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَّةُ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ لِكُلِّ امْرِي مِنْ هُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنْ يُغْنِيهِ.
অবশেষে যখন সেই কান ফাটানো আওয়াজ আসবে সেদিন মানুষ পালাতে থাকবে নিজের ভাই, বোন, মা, বাপ, স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের থেকে। তাদের প্রত্যেকে সেদিন এমন কঠিন সময়ের মুখোমুখি হবে যে, নিজের ছাড়া আর কারোর কথা তার মনে থাকবে না। (সূরা আবাসা আয়াত: ৩৩-৩৭)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতসমূহে হাশরের ময়দানের ভয়াবহতার তীব্রতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এখানে প্রথম আয়াতে (৩৩) ইসরাফিলের শিংগা ফুঁকের ফলে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথাটা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে- فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَةُ “যখন আসবে মহানাদ।” এখানে الصَّاخَةُ মানে 'কান বধিরকারী আওয়ায' অর্থাৎ ইসরাফিলের শিঙ্গার এমন কঠোর আওয়ায যাতে মানুষের কান বধির হয়ে যাবে। তরজমায় শব্দটির অর্থ করা হয়েছে 'কিয়ামত' শব্দ দিয়ে। দ্বিতীয় আয়াত
(৩৪) থেকে হাশরের দিন সকল মানুষের মহাসমাবেশের দিন মানুষের ব্যস্ততা, অস্থিরতা ও প্রত্যেকের নিজ নিজ মুক্তির অস্থিরতা সম্পর্কে বলা হয়েছে。
সেদিন প্রত্যেক মানুষ আপন চিন্তায় বিভোর হবে। দুনিয়ার জীবনে যেসব আত্মীয়তা ও সম্পর্কের কারণে মানুষ একে অপরের জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে কুণ্ঠিত হয় না, হাশরের ময়দানে তারাই নিজ নিজ চিন্তায় এমন নিমগ্ন হবে যে, কেউ কারো খবরই নিতে পারবে না; বরং সামনে দেখলেও মুখ লুকাবে। প্রত্যেকেই তার ভাই থেকে পালাবে, আপন মা-বাপ থেকেও লুকাবে। এক কথায়, প্রত্যেক মানুষ নিজের নিস্তার ও নিষ্কৃতির চিন্তায় এমন অস্থির ও হয়রান থাকবে যে, নিজের প্রাণপ্রিয় সকল প্রকার আত্মীয়দের থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখবে。
দুনিয়ার জীবনে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ভাইদের মধ্যে হয়ে থাকে। এর চেয়ে বেশি পিতা-মাতাকে সাহায্য করায় চিন্তা হয় এবং স্বভাবগত কারণে এর চেয়েও বেশি স্ত্রী ও সন্তানের সাথে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। আয়াতগুলোতে নীচ থেকে উপরের সম্পর্ক যথাক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে। (তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন)
পালাবার মানে এও হতে পারে যে, সেদিন মানুষ নিজের ঐসব প্রিয়তম আত্মীয় স্বজনকে বিপদ সাগরে হাবুডুবু খেতে দেখে তাদের সাহায্যার্থে দৌড়ে যাবার পরিবর্তে উল্টে তাদের থেকে দূরে পালিয়ে যেতে থাকবে, যাতে তারা সাহায্যের জন্য তাকে ডাকতে না থাকে। আবার এর এ মানেও হতে পারে যে, দুনিয়ার আল্লাহর ভয় না পরস্পরকে গোমরাহ করতে থেকেছে, তার কুফল সামনে স্বমূর্তিতে প্রকাশিত দেখে তাদের প্রত্যেক যাতে অন্যের গোমরাহী ও গোনাহের দায়িত্ব কেউ তার ঘাড়ে না চাপিয়ে দেয় এই ভয়ে অন্যের থেকে পালাতে থাকবে। ভাই ভাইকে, সন্তান মা বাপকে, স্বামী স্ত্রীকে এবং মা বাপ সন্তানকে এই মর্মে ভয় করতে থাকবে যে, নিশ্চয়ই এবার আমার বিরুদ্ধে মামলায় এরা সাক্ষী দেবে。
হাদীস গ্রন্থগুলোতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ও সনদ পরস্পরায় বর্ণিত বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ একেবারেই উলংঙ্গ হয়ে উঠবে। "একথা শুনে তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের মধ্য থেকে কোনো একজন (কোনো বর্ণনা মতে আয়েশা, কোনো বর্ণনা মতে সওদা আবার কোনো বর্ণনা অনুযায়ী অন্য একজন মহিলা) ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের লজ্জাস্থান কি সেদিন সবার সামনে খোলা থাকবে। জবাবে রাসূলুল্লাহ এই আয়াতটি তেলাওয়াত করে বলেন, সেদিন অন্যের দিকে তাকাবার মতো হুঁশ ও চেতনা করো থাকবে না। (নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে আবী হাতেম, ইবনে জারীর, তাবারানী, ইবনে মারদুইয়া)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00