📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 আল্লাহ ভক্ত দু'নারী আসিয়া ও মারইয়াম

📄 আল্লাহ ভক্ত দু'নারী আসিয়া ও মারইয়াম


وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّلِمِينَ. وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيْهِ مِنْ رُوحِنَا وَصَدَّقَتُ بِكَلِمَاتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِ وَكَانَتْ مِنَ الْقَانِتِينَ.
অর্থ: আর ঈমানদারদের ব্যাপারে ফেরাউনের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করছেন। যখন সে দোয়া করলো, হে আমার রব! আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও। আমাকে ফেরাউন ও তার কাজকর্ম থেকে রক্ষা করো এবং জালেম কওমের হাত থেকে বাঁচাও। ইমরানের কন্যা মারয়ামের উদাহরণও পেশ করেছেন, যে তার লজ্জাস্থানকে হিফাজত করেছিল। অতঃপর আমি আমার পক্ষ থেকে তার মধ্যে রূহ ফুঁৎকার করেছিলাম। সে তার বাণীসমূহ এবং কিতাবসমূহের সত্যতা প্রতিপন্ন করেছে। সে ছিল আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা তাহরীম: আয়াত: ১১-১২)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে ফিরাউন পত্নী আছিয়া বিনতে মুযাহিমের দৃষ্টান্ত বর্ণিত হয়েছে। মূসা যখন যাদুকরদের মুকাবিলায় সফল হন, ফলে যাদুকররা মুসলমান হয়ে যায়, তখন বিবি আছিয়া তাঁর ঈমান প্রকাশ করেন। এতে ফিরাউন ক্রুব্ধ হয়ে তাঁকে ভীষণ শাস্তি দিতে চাইলো। কতক রেওয়াতে আছে ফিরাউন আছিয়ার দু'হাত ও দু'পায়ে পেরেক মেরে বুকের উপর ভারী পাথর রেখে দিল, যাতে তিনি নড়াচড়া পর্যন্ত করতে না পারেন। এমতাবস্থায় তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছে এ আয়াতে বর্ণিত দোয়া করেন। কোনো কোনো রেওয়াতে আছে, ফিরাউন উপর থেকে একটি ভারী পাথর তাঁর মাথার উপর ফেলে দিতে মনস্থ করলে তিনি এ দোয়া করেন। ফলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রূহ কবজ করে নেন এবং পাথরটি নিষ্প্রাণ দেহের উপর পতিত হয়। তাঁর দোয়ার বাংলা অর্থ- “হে আমার পালনকর্তা! আপনি নিজের সান্নিধ্যে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন।" আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতেই তাঁকে জান্নাতের ঘর দেখিয়ে দেন। (তাফসীরে মাযহারী)
আয়াতে বর্ণিত আছিয়ার দোয়ার মধ্যে ছিল "আমাকে ফিরাউন ও তার কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করো।” অর্থাৎ আমাকে তোমার শত্রু ও মুসলমানদের শত্রু ফিরাউন থেকে হিফাযাত করো, আর তার আমল অর্থাৎ তার অন্যায়-অনাচার, যুলুম ও স্বেরাচারী কার্যকলাপ থেকেও আমাকে রক্ষা করো। তার এসব যুলুমের অশুভ পরিণতিতে আমাকে পরীক্ষা করো না।"
আলোচ্য আয়াতে ফিরাউন পত্নী আছিয়ার এ দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে ঈমানদারদের জন্যে। অর্থাৎ তাদের জন্য এ দৃষ্টান্ত দেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের ঈমানের প্রতি উৎসাহিত করা, দীনের কাজে তাদের প্রেরণা দেয়া, ইসলামের পথে তাদের দৃঢ়পদ রাখা, দীনের
ব্যাপারে কঠিন বিপদে সবর করার জন্যে। তাছাড়া এজন্যও যে, কুফরির প্রতিবন্ধকতা ও কঠোরতা ঈমানের এতটুকুনও ক্ষতি করতে পারে না, যেমন পারেনি ফিরাউন পত্নী আছিয়ার ব্যাপারে। যেই আছিয়া ছিল তৎকালীন সর্ববৃহৎ কাফিরের স্ত্রী। সেই কাফিরও তার স্ত্রীকে ঈমান থেকে ফিরাতে পারেনি। মূলত আল্লাহ তায়ালা এখানে এ মযবুত ঈমানের অধিকারী নারী বিবি আছিয়ার ঈমানের দৃঢ়তার কথাটা তুলে ধরেছেন। এ থেকে বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত নারীর জন্য শিক্ষা গ্রহণের উদাহরণ-উপকরণ পাওয়া যায়, ঈমানের পথে দৃঢ় থাকার প্রেরণা মিলে। (আল কুরআনুল করীম: সালাহুদ্দীন ইউসুফ।) আছিয়া যুগশ্রেষ্ঠ ইসলামের শত্রু ফিরাউনের স্ত্রী হয়েও হতে পেরেছেন একজন খাঁটি ঈমানদার, আল্লাহর ওলী। আলোচ্য আয়াতে তিনি আল্লাহর কাছে চারটি বিষয়ে দোয়া করেছেন বলে দেখা যায়。
• আল্লাহর নৈকট্যলাভ এবং জান্নাতে তার জন্য স্থান নির্ধারণ。
• ফিরাউনের অধীনতা থেকে নাজাত দেয়া。
• ফিরাউনের বেঈমানী ও যুলুম অত্যাচারী ইত্যাদির পরিণতি থেকে বিবি আছিয়াকে মুক্ত রাখা。
• সকল বিধর্মী যালিম কওম থেকে তাকে নাজাত দেয়া। আয়াতের বাহ্যিক অর্থ থেকেই এটা বুঝা যায়。
এখানে ফিরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়াকে ইমরানের কন্যা মারইয়ামের সাথে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, ফিরাউনের স্ত্রী আল্লাহ কাছে কত উচ্চমর্যাদার অধিকারী ছিলেন, যার বদৌলতে তিনি মারইয়ামের সাথে উল্লেখের যোগ্য হয়েছিলেন। তাঁর এ মহত্ব ও উচ্চমর্যাদার একমাত্র কারণ তাঁর জীবনের স্বতন্ত্র ঈমানী বৈশিষ্ট্য। এারা দুজন সতী, ঈমানদার, চরিত্রবান ও অনুগত মহিলার দৃষ্টান্ত স্বরূপ কুরআনে উল্লিখিত হয়েছে। এ দুজন নারীর দৃষ্টান্তকে আল্লাহ আল কুরআনে রাসূল্লাহ -এর স্ত্রীগণের সামনে এবং পরবর্তী সকল প্রজম্মের মুমিন নারীদের সামনে তুলে ধরেছেন। (ফী যিলালিল কুরআন)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00