📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 কিয়ামত দিবসে ঈমানদার নারী-পুরুষের কাছে মুনাফিক নারী পুরুষরা নূর ভিক্ষা চাইবে

📄 কিয়ামত দিবসে ঈমানদার নারী-পুরুষের কাছে মুনাফিক নারী পুরুষরা নূর ভিক্ষা চাইবে


يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُوْرُهُمْ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ بُشْراكُمُ الْيَوْمَ جَنَّتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ . يَوْمَ يَقُولُ الْمُنْفِقُونَ وَالْمُنَافِقُتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انْظُرُونَا نَقْتَبِسُ مِن نُوْرِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُمُ بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ.
অর্থ: যেদিন তোমরা ঈমানদার নারী ও পুরুষদের দেখবে, তাদের 'নূর' তাদের সামনে ও ডান দিকে দৌড়াচ্ছে। (তাদেরকে বলা হবে) "আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ।" জান্নাতসমূহ থাকবে যার পাদদেশ দিয়ে ঝরনাধারাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই বড় সফলতা। সেদিন মুনাফিক নারী পুরুষের অবস্থা হবে এই যে, তারা মু'মিনদের বলবে, আমাদের প্রতি একটু লক্ষ্য কর যাতে তোমাদের 'নূর' থেকে আমরা কিছু উপকৃত হতে পারি। কিন্তু তাদের বলা হবে, পেছনে চলে যাও। অন্য কোথাও নিজেদের 'নূর' তালাশ কর। অতঃপর একটি প্রাচীর দিয়ে তাদের মাঝে আড়াল করে দেয়া হবে। তাতে একটি দরজা থাকবে। সে দরজার ভেতরে থাকবে রহমত আর বাইরে থাকবে আযাব। (সূরা হাদীদ: আয়াত: ১২-১৩)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াত এবং পরবর্তী আয়াতসমূহ থেকে জানা যায়, হাশরের ময়দানে শুধুমাত্র নেককার ঈমানদারদেরই 'নূর' থাকবে। কাফের, মুনাফিক, ফাসেক ও ফাজেররা দুনিয়াতে যেমন অন্ধকারে পথ হারিয়ে হাতড়িয়ে মরেছে, সেখানেও তেমনি অন্ধকারে হাতড়িয়ে মরতে থাকবে। যেখানে আলো যেটুকু হবে তা সৎ আকীদা-বিশ্বাস ও সৎ আমলের। ঈমানের সততা এবং সৎচরিত্র ও কর্মের পবিত্রতাই 'নূরে' রূপান্তরিত হবে যার কারণে সৎ লোকদের ব্যক্তিত্ব ঝলমলিয়ে উঠবে। যার কর্ম যতটা উজ্জল হবে তার ব্যক্তিসত্তার আলোক রশ্মিও তত বেশি তীব্র হবে। সে যখন হাশরের ময়দান থেকে জান্নাতের দিকে যাত্রা করবে তখন তার 'নূর' বা আলো তা আগে আগে ছুটতে থাকবে। এর সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হচ্ছে কাতাদা বর্ণিত একটি মুরসাল হাদীস। উক্ত হাদীসে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "কারো কারো 'নূর' এত তীব্র হবে যে, মদীনা থেকে "আদন"-এর সম পরিমাণ দূরত্ব পৌঁছতে থাকবে। তাছাড়া কারো 'নূর' পৌঁছবে মদীনা থেকে সান'আ পর্যন্ত কারো তার চেয়েও কম এমনকি এমন মুমিন থাকবে যার নূর তার পায়ের তলা থেকে সামনে যাবে না" (ইবনে জারীর) অন্য কথায় যার মাধ্যমে পৃথিবীর যত বেশি কল্যাণ হবে তার 'নূর' তত বেশি উজ্জ্বল হবে এবং পৃথিবীর যেসব স্থানে তার কল্যাণ পৌঁছবে হাশরের ময়দানেও তার নূরের আলো ততটা দূরত্ব পর্যন্ত দৌড়াতে থাকবে।
এখানে একটি প্রশ্ন মানুষের মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে। প্রশ্নটি হচ্ছে, নূর বা আলোক রশ্মির আগে আগে দৌড়ানোর ব্যাপারটি বোধগম্য হয়। কিন্তু শুধু ডান পাশে নূর দৌড়ানো অর্থ কী। তবে কি তাদের বাঁ দিকে অন্ধকার থাকবে। এ প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, কেউ যদি তার ডান হাতে আলো নিয়ে পথ চলতে থাকে তাহলে তার বাঁ দিকটাও কিন্তু আলোকিত হবে। অথচ বাস্তব ঘটনা এই যে, আলো আছে তার ডান হাতে। আবু যার ও আবুদ দারদা কর্তৃক বর্ণিত নবী -এর একটি হাদীস থেকে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। নবী বলছেন, "আমি সেখানে আমার উম্মতের নেককার লোকদের তাদের নূরের সাহায্যে চিনতে পারবো- যে নূর তাদের সামনে ডানেও বাঁয়ে দৌড়াতে থাকবে" (হাকেম, ইবনে আবী হাতেম, ইবনে মারদুইয়া)।
মু'মিনগণ যখন জান্নাতের দিকে যেতে থাকবেন তখন আলো থাকবে তাদের সামনে আর মুনাফিকরা পেছনে অন্ধকারে ঠোকর খেতে থাকবে। সে সময় তারা ঈমানাদারদেরকে ডেকে ডেকে বলতে থাকবে। আমাদের দিকে একটু ফিরে তাকাও যাতে আমরাও কিছু আলো পেতে পারি। কারণ এ মুনাফিরকরা দুনিয়াতে ঈমানদারদের সাথে একই মুসলিম সমাজে বসবাস করতো।
জান্নাতবাসীগণ ঐ দরজা ঐ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। দরজার এক দিকে থাকবে জান্নাতের নিয়ামতসমূহ আর অপরদিকে থাকবে জাহান্নামের আযাব। যে সীমারেখার জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে আড়াল হয়ে থাকবে মুনাফিকদের পক্ষে তা অতিক্রম করা সম্ভব হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00