📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 যে তিন নারীর মাধ্যমে আল্লাহ শিশু মূসাকে ফিরাউনের হাত থেকে রক্ষা করলেন

📄 যে তিন নারীর মাধ্যমে আল্লাহ শিশু মূসাকে ফিরাউনের হাত থেকে রক্ষা করলেন


وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيْهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيْهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ . فَالْتَقَطَهُ أَلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنَا إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَنَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خُطِئِينَ. وَقَالَتِ امْرَأَتُ فِرْعَوْنَ قُرَّتُ عَيْنٍ لِي وَلَكَ لَا تَقْتُلُوهُ عَلَى أَنْ يَنْفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ. وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا إِن كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَنْ رَبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ. وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ قُضِيْهِ فَبَصُرَتْ بِهِ عَن جُنُبٍ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ. وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِن قَبْلُ فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نُصِحُونَ. فَرَدَدْنُهُ إِلَى أُمِّهِ لَى تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ ولَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ.
অর্থ: আমি মূসার মাকে ইশারা করলাম, "একে স্তন্যদান করো, তারপর যখন এর প্রাণের ভয় করবে তখন একে দরিয়ায় ভাসিয়ে দেবে এবং কোনো ভয় ও দুঃখ করবে না, তাকে তোমারই কাছে ফিরিয়ে আনবো এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করবো।"
শেষ পর্যন্ত ফেরাউনের পরিবারবর্গ তাকে (দরিয়া থেকে) উঠিয়ে নিল, যাতে সে তাদের শত্রু এবং তাদের দুঃখের কারণ হয়। যথার্থই ফেরাউন, হামান ও তার সৈন্যরা (তাদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে) ছিল বড়ই অপরাধী। ফেরাউনের স্ত্রী (তাকে) বললো, "এ শিশুটি আমার ও তোমার চোখ জুড়িয়েছে। কাজেই একে হত্যা করো না, বিচিত্র কি সে আমাদের জন্য উপকারী। ওদিকে মূসার মায়ের মন অস্থির হয়ে পড়েছিল। সে তার রহস্য প্রকাশ করে দিতো যদি আমি তার মন সুদৃঢ় না করে দিতাম, যাতে সে (আমার অংগীকারের প্রতি) বিশ্বাস স্থাপনকারীদের একজন হয়। সে শিশুর বোনকে বললো, এর পিছনে পিছনে যাও। কাজেই সে তাদের (শত্রুদের) অজ্ঞাতসারে তাকে দেখতে থাকলো। আর আমি পূর্বেই শিশুর জন্য স্তন্য দানকারিণীদের স্তন পান হারাম করে রেখেছিলাম। (এ অবস্থা দেখে) সে মেয়েটি তাদেরকে বললো, "আমি তোমাদের এমন পরিবারের সন্ধান দেবো যারা এর প্রতিপালনের দায়িত্ব নেবে এবং এর কল্যাণকামী হবে?" এভাবে আমি মূসাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনলাম, যাতে তার চোখ শীতল হয়, সে দুঃখ ভারাক্রান্ত না হয় এবং আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য বলে জেনে নেয়; কিন্তু অধিকাংশ লোক একথা জানে না। (সূরা কাসাস: আয়াত-৭-১৩)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: যে সময়ে মূসা -এর জন্ম হয়েছিল, সে সময়ে বনি ইসরাঈলের ছেলে সন্তানদের ধ্বংস করার স্কীম চলছিল খুব জোরে সোরে। প্রথমদিকে ফিরাউন ও তার সহায়তাকারীরা ধাত্রীদের মাধ্যমে এ কাজ আনজাম দিতো। কিন্তু তাওরাত থেকে জানা যায় যে, ধাত্রীগণ এ কাজে তেমন একটা সহায়তা করতো না। অবশেষে ফিরাউন কিবতীদের এ সাধারণ নির্দেশ দিয়ে দিল যে, বনি ইসরাঈলীদের ঘরে যে ছেলে শিশু জন্ম নেবে, তাকে নদীতে নিক্ষেপ করবে। ঠিক সেই ভয়াবহ সময়েই জন্মগ্রহণ করেন মূসা। তাঁর ব্যাপারে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাই কার্যকর হয়। তিনজন মহিলা
১. মূসা -এর মা। ২. তাঁর বোন। ৩. ফিরাউনের স্ত্রী আছিয়া।
এদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা পূরণ হয় আর ফিরাউনের সকল নীলনকশা ব্যর্থ হয়ে যায়। মূসা এতসব বাধা সত্ত্বেও বেঁচে যান।
মূসা-এর জন্ম হলে তাঁর মা সর্বক্ষণ আতংকে জড়ো হয়ে থাকতেন। আল্লাহ তায়ালা মূসা-এর মায়ের অন্তরে সস্থিরতা ঢেলে দিলেন। বললেন, তুমি ওকে বুকের দুধ পান করাতে থাকো। যখন তার ব্যাপারে আশঙ্কা ঘনীভূত হয়ে দেখা দেয়, তখন শিশুটিকে বিনা দ্বিধায় সিন্দুকে ভরে নদীতে ছেড়ে দেবে। আর ওর জন্যে কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা করবে না। আমি ওকে তোমারই কাছে ফিরিয়ে দেব। তাছাড়া ভবিষ্যতে ওকে আমি রিসালাতের মর্যাদায় ভূষিত করবো। উল্লেখ্য, আল্লাহ তায়ালা মূসা-এর মাতাকে নিজ সন্তানকে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার নির্দেশ দানের মধ্যে যে রহস্য লুকায়িত আছে তাহলো ফিরাউন বনি ইসলাঈলদের ছেলে শিশুর জন্য যে পন্থা অবলম্বন করেছিল, ঠিক সে পন্থায়ই তিনি মুসা-কে নাজাত দেয়ার জন্য স্থির করেছিলেন। (তাদাব্বুরে কুরআন)
জন্মের সাথে সাথেই সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার হুকুম দেয়া হয়নি; বরং বলা হয়, যতক্ষণ ভয়ের কারণ না থাকে শিশুকে স্তন্য দান করতে থাক। যখন গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে গেছে বলে মনে হবে এবং আশঙ্কা দেখা দেবে শিশুর আওযাজ শুনে বা অন্য কোনোভাবে শত্রুরা তার জন্মের কথা জানতে পারবে অথবা স্বয়ং বনী ইসরাঈলীদের নীচ ব্যক্তি গোয়েন্দগিরী করবে, তখন নির্ভয়ে একটি বাক্সের মধ্যে রেখে তাকে সাগরে ভাসিয়ে দেবে। বাইবেলের বর্ণনা মতে জন্মের পর তিনমাস পর্যন্ত মূসার-এর মা তাকে লুকিয়ে রাখেন। তালমুদ এর উপর আরো বাড়তি খবর দিয়েছে যে, ফেরাউন সে সময় নারী গোয়েন্দা নিযুক্ত করেছিল। তারা নিজেদের সাথে ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে ইসরাঈলী পরিবারে যেতো এবং কোনো না কোনোভাবে তাদেরকে সেখানে কাদাঁতো। এর ফলে কোনো ইসরাঈলী শিশু যদি সেখানে থাকত তবে শিশুর কান্না শুনে সেও কাঁদতো। এই নতুন ধরনের গোয়েন্দাগিরী মূসার মাকে পেরেশান করে দেয়। তিনি নিজ পুত্রের প্রাণ বাচাঁনোর জন্য জন্মের তিনমাস পরে তাকে দরিয়ায় ভাসিয়ে দেন। এ পর্যন্ত এ দুটি গ্রন্থের বর্ণনা কুরআনের সাথে মিলে যায়। আর দরিয়ায় ভাসিয়ে দেবার অবস্থাও তারা ঠিক একই ধরনের বর্ণনা করেছে যা কুরআনে বলা হয়েছে। সূরা তা-হা এ বলা হয়েছে "শিশুকে একটি সুন্দর সিন্দুকে রেখে দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও"। বাইবেল ও তালমূদ এরই সমর্থন করে। তাদের বর্ণনা হচ্ছে, মূসার মাতা নলখাগড়ার একটি ঝুড়ি বানিয়ে তার গায়ে তৈলাক্ত মাটি আর আলকাতরা লেপন করে তাদের পানি থেকে সংরক্ষিত করে। তারপর মূসাকে তারমধ্যে শায়িত করে নীলনদে ভাসিয়ে দেয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, যা কোরআনে বর্ণনা করা হয়েছে তার কোনো উল্লেখ ইসরাঈলী বর্ণনাগুলোতে নেই। অর্থাৎ মূসার মাতা আল্লাহর ইশারায় এ কাজ করেছিলেন এবং আল্লাহ এ ব্যাপারে পূর্বেই তাকে নিশ্চয়তা দান করেছিলেন যে, এভাবে কাজ করলে শুধু তোমার পুত্রের প্রাণ রক্ষাই পাবে তাই নয়; বরং আমি শিশুকে আবার তোমার কাছেই ফিরিয়ে আনবো এবং তোমার এ শিশুকে ভবিষ্যতে রাসূলের মর্যদাও দেয়া হবে। প্রমাণিত হতে পারে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবেই গ্রহণ করতে পারি। আর তারা (এর পরিণাম) জানতো না।
এ বর্ণনা থেকে বিষয়টির যে চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠে তা হচ্ছে এই যে, সিন্দুক বা ঝুড়ি নদীতে ভাসতে ভাসতে যখন ফেরাউনের প্রাসাদের কাছে চলে আসে তখন ফেরাউনের চাকর-বাকররা তা ধরে ফেলে এবং উঠিয়ে নিয়ে বাদশাহ এবং বেগমের সামনে পেশ করে। সম্ভবত বাদশাহ এবং বেগম সে সময় নদীর কিনারে ভ্রমণরত অবস্থায় ছিলেন এমন সময় ঝুড়িটি তাদের চোখে পড়ে এবং তাদের হুকুমে সেটিকে নদী থেকে উঠানো হয়। তার মধ্যে একটি শিশু রাখা আছে দেখে অতি সহজেই এ অনুমান করা যেত পারত যে, নিঃসন্দেহে এটি কোনো ইসরাঈলীর সন্তান হবে। কারণ ইসরাঈলী জনবসতির দিক থেকে ঝুড়িটি আসছিল এবং সে সময় তাদের পুত্র সন্তানদেরকেই হত্যা করা হচ্ছিল। তাদের সম্পর্কেই ধারণা করা যেতে পারত যে, কেউ তাদের সন্তানকে লুকিয়ে কিছুদিন লালন পালন করার পর এখন যখন দেখছে যে আর লুকানো যাবে না তখন এ আশায় নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে যে, হয়তো সে প্রাণে বেঁচে যাবে এবং তাকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে লালন পালন করা হবে। এ কারণে কিছু অতি বিশ্বস্ত গোলাম এ পরামর্শ দেয় যে, হুজুর একে এখনই হত্যা করুন। এতো কোনো সাপেরই বাচ্চা। কিন্তু ফেরাইনের স্ত্রীতো ছিলেন একজন নারীই এবং নিঃসন্তান। তাছাড়া শিশুও ছিল বড়ই মিষ্টি চেহারার। যেমন সূরা ত-হা-য় আল্লাহ নিজেই বলেছেন, "আমি নিজের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি ভালবাসা সঞ্চার করে দিয়েছিলাম"। অর্থাৎ আমি তোমাকে এমন প্রিয় দর্শন ও মনোমুগ্ধকর চেহারা দান করেছিলাম যে, দর্শনকারীরা স্বত:স্ফূর্তভাবে তোমাকে আদর করতো। তাই মহিলা আত্ম সম্বরণ করতে পারেননি। তিনি বলে উঠলেন, একে হত্যা করো না; বরং উঠিয়ে নিয়ে প্রতিপালন করো। সে যখন আমাদের এখানে প্রতিপালিত হবে এবং আমরা তাকে নিজের পুত্র করে নেবো তখন সে যে ইসরাঈলী সে কথা সে কেমন করে জানবে। সে নিজেকে ফেরাউন বংশেরই একজন মনে করবে এবং তার যোগ্যতাগুলো বনী ইসরাঈলের পরিবর্তে আমাদের কাজে লাগবে।
বাইবেল ও তালমূদের বর্ণনা মতে যে ভদ্র মহিলা মূসাকে লালন পালন করা ও পুত্রে পরিণত করার বাসনা ব্যক্ত করেছিলেন তিনি ফেরাউনের স্ত্রী নন; বরং তার কন্যা ছিলেন। কিন্তু কোরআন পরিষ্কার ভাষায় তাকে বলছে, "ফেরাউনের স্ত্রী"। আর একথা সুস্পষ্ট যে, শত শত বছর পরে মুখ ফুটে রটে যাওয়ায় লোককাহিনীর তুলনায় সরাসরি আল্লাহর বর্ণিত ঘটনাই অধিকতর নির্ভরযোগ্য হতে পারে।
মেয়েটি এমনভাবে ঝুড়ির উপর নজর রাখে যারফলে ভাসমান ঝুড়ির সাথে সাথে সে চলতে থাকে এবং তার প্রতি নজরও রাখতে থাকে। আবার শত্রু যাতে না বুঝতে পারে তার কোনো সম্পর্ক ঝুড়ির শিশুটির সাথে আছে সেদিকেও খেয়াল রাখে। ইসলাঈলি বর্ণনা অনুযায়ী সে সময় মূসার বোনের বয়স ছিল দশ বারো বছর। সে বড়ই সতর্কতার সাথে ভাইয়ের অনুসরণ করে এবং সে যে ফেরাউনের মহলে পৌঁছে গেছে তা বুঝতে পারে এবং তার তীব্র বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
এ থেকে জানা যায়, ভাই ফেরাউনের মহলে পৌছে যাবার পর বোন ঘরে বসে থাকে নি; বরং সে একই প্রকার সতর্কতা ও বুদ্ধিমত্তা সহকারে মহলের আশে পাশে চক্কর দিতে থাকে। তারপর যখন জানতে পারে শিশু কারো স্তন মুখে নিচ্ছে না এবং বাদশাহ-বেগম শিশুর পছন্দনীয় ধাত্রীর সন্ধান লাভের জন্য পেরেশান হয়ে পড়েছে তখন সেই বুদ্ধিমতি মেয়ে সোজা রাজমহলে পৌছে যায়। সে ঘটনাস্থালে গিয়ে বলে আমি একজন ভাল ধাত্রীর সন্ধান দিতে পারি, যে বড়ই স্নেহ ও মমতা সহকারে এই শিশুর লালন-পালন করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে এ কথাও বুঝে নিতে হবে, প্রাচীন কালে বড় ও অভিজাত বংশীয় লোকেরা নিজেদের শিশু সন্তান নিজেদের কাছে রেখেই তাদের লালন পালন করার পরিবর্তে সাধারণত ধাত্রীদের হাতে সোপর্দ করে দিতো এবং তারাই নিজেদের কাছে রেখেই তাদের লালন পালন করত। নবী -এর জীবন কাহিনী এ কথার উল্লেখ আছে যে, মক্কার আসে পাশে মহিলারা মাঝে মাঝে মক্কায় আসতো ধনীর সেবা দান করার জন্য এবং সরদারদের সন্তানদেরকে মোটা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দুধ পান করাবার জন্য নিয়ে যেতো। নবী নিজেও হালীমা সাদীয়ার গৃহে মরুভূমির বুকে প্রতিপালিত হয়েছেন। মিসরেও ছিল এই একই রেওয়াজ। এ কারণে মূসার বোন একথা বলেননি, "আমি একজন ভালো ধাত্রী এনে দিচ্ছি; বরং বলেন, এমন গৃহের সন্ধান দিচ্ছি যার অধিবাসীরা এর প্রতিপালনের দায়িত্ব নেবে এবং তারা কল্যাণকামিতার সাথে একে লালন পালন করবে।"
আর আল্লাহর এ কুশলী ব্যাবস্থার ফলে এ লাভটিও হয় যে, মূসা প্রকৃতপক্ষে ফেরাউনের শাহজাদা হতে পারেননি; বরং নিজের মা-বাপ-ভাই-বোনদের মধ্যে প্রতিপালিত হবার কারণে নিজের আসল পরিচয় তিনি ভালোভাবেই অবহিত থাকতে পেরেছেন। নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য ও পিতৃ পুরুষের ধর্ম এবং নিজের জাতি থেকে তার সম্পর্কচ্যুতি ঘটতে পারেনি। তিনি ফেরাউন পরিবারের একজন সদস্য হবার পরিবর্তে নিজের মানসিক আবেগ, অনুভূতি ও চিন্তাধারার দিক দিয়ে পুরোপুরিভাবে বনী ইসরাঈলেরই একজন সদস্যে পরিণত হন। নবী একটি হাদীসে বলেছন, "যে ব্যাক্তি নিজের রুজি রোজগারের জন্য কাজ করে এবং সে কাজে লক্ষ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তার দৃষ্টান্ত মূসার মায়ের মতো: তিনি নিজেরই সন্তানকে দুধ পান করান আবার তার বিনিময় লাভ করেন।" অর্থাৎ এ ধরনের লোক যদিও নিজের এবং নিজের সন্তানদের মুখে দু'মুঠো অন্ন তুলে দেয়ার জন্য কাজ করে কিন্তু যেহেতু সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ঈমানদারীর সাথে কাজ করে, যার সাথেই কাজ কারবার করে তার হক যথাযথভাবে আদায় করে এবং হালাল রিজিকের মাধ্যমে নিজের এবং নিজের পরিবার পরিজনের ভরণ পোষণকে আল্লহর ইবাদাত মনে করে, তাই নিজের জীবিকা উপার্জনের জন্যেও সে আল্লাহর কাছে পুরস্কার লাভের অধিকারী হয়। অর্থাৎ একদিকে জীবিকাও উপার্জন করা হয় এবং অন্যদিকে আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াব ও প্রতিদানও লাভ করা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00