📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 নামকরণ

📄 নামকরণ


দ্বিতীয় রুকূ'র চতুর্থ আয়াতে وَادِ النَّمْلِ এর কথা বলা হয়েছে। সূরার নাম এখান থেকেই গৃহীত হয়েছে। অর্থ্যাৎ এমন সূরা যাতে নামল এর কথা বলা হয়েছে। অথবা যার মধ্যে নামল শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 নাযিলের সময়

📄 নাযিলের সময়


বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভংগীর দিক দিয়ে এ সূরা মক্কার মধ্যযুগের সূরাগুলোর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রাখে। হাদীস থেকেও এর সমর্থন মেলে। ইবনে আব্বাস ও জাবের ইবনে যায়েদের বর্ণনা হচ্ছে, "প্রথমে নাযিল হয় সূরা আশ শু'আরা তারপর আন নামল এবং তারপর আল কাসাস।"

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 আল্লাহর অবাধ্য হওয়ায় নবীর স্ত্রী হয়েও যে নারী রক্ষা পায় নি

📄 আল্লাহর অবাধ্য হওয়ায় নবীর স্ত্রী হয়েও যে নারী রক্ষা পায় নি


وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِه أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنْتُمْ تُبْصِرُونَ. أَيْنَكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ. فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوا الَ لُوطٍ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ. فَأَنْجَيْنَهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَاهَا مِنَ الْغَبِرِينَ.
অর্থ: আর স্মরণ কর তখনকার কথা, যখন লূত তার জাতিকে বলল, “তোমরা জেনে বুঝে বদ কাম করছো? তোমাদের কি এটাই রীতি কাম তৃপ্তির জন্য তোমরা মেয়েদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে যাও? আসলে তোমরা ভয়ানক মূর্খতায় লিপ্ত হয়েছো।” কিন্তু সে জাতির এ ছাড়া আর কোনো জবাব ছিলনা যে, তারা বলল “লূতের পরিবারবর্গকে তাদের নিজেদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা বড় পাক পবিত্র সাজতে চাচ্ছে।” শেষ পর্যন্ত আমরা তাকে এবং তার পরিবারবর্গকে বাঁচিয়ে নিলাম তবে তার স্ত্রীকে নয়। কারণ তার পেছনে থেকে যাওয়াটাই আমি স্থির করে দিয়েছিলাম। (সূরা আন নামল: আয়াত: ৫৪-৫৭)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: লূত ছিলেন ইবরাহীম -এর ভাই 'বারান-এর ছেলে। লূত একবার যুদ্ধে রোমানদের হাতে বন্দী হয়ে পড়লে ইবরাহীম তাকে বন্দীমুক্ত করে দেন। এক সময় সারা দেশে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু লূত-এর আশপাশের গ্রামগুলো ছিল কিছুটা সচ্ছল। ফলে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন সেখানে এসে খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য ভিড়া জমাতো। অসভ্য গ্রামবাসীরা এতে হিংসার বশবর্তী হয়ে একটা অতি খারাপ ফন্দি আঁটলো। তারা খাদ্য সংগ্রহকারীদের সাথে কুকাজে (সমকামিতায়) লিপ্ত হতো। ফলে বাইরের লোকদের আগমন হ্রাস পেয়ে গেল। কিন্তু তারা এর সেই কু-অভ্যাস ছাড়তে পারলো না। অতঃপর যখনি তারা কোনো সুন্দর বালক পেতো নিজেদের চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী কুকাজে লিপ্ত হতো আর তাদের স্ত্রীদের সাথে সম্পর্ক একেবারেই ছেড়ে দিল। তাদের এহেন চরিত্র বিধ্বংসী অমানুসিক কাজ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়াতের জন্য দূত-কে পাঠালেন। আলোচ্য আয়াতে ৬; শব্দ থেকে একথাই বুঝানো হয়েছে। (কুরআনের দৃষ্টিতে বন্ধু ও শত্রু)
সূরা আল আরাফের ৮০-৮২ আয়াতে বিষয়টি সংক্ষেপে বিবৃত হয়েছে এভাবে, আমি লূত-কে পাঠালে সে তার জাতিকে বললো তোমরা কি এমন লজ্জাহীনতার কাজে লিপ্ত হয়ে পড়লে, যে কাজে তোমাদের পূর্বে কোনো লোককে লিপ্ত হতে দেখা যায়নি? তোমরা তো নারীর পরিবর্তে পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্কে স্থাপন করে সীমালংঘনকারী জাতিতে পরিণত হয়েছ। এর কোনো সদুত্তর না দিয়ে তারা পরস্পরকে বলতো, এদেরকে- দূত ও তার সাথীদেরকে দেশ থেকে বের করে দাও, এরা তো বড্ড পবিত্র সেজে বসতে চায়।
সূরা আন নমলের আলোচ্য আয়াতে লূত-এর কাহিনীর সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে দেখানো হয়েছে তাঁর জাতি কীভাবে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে ব্যগ্র হয়ে উঠেছিল। অথচ তাঁর অপরাধটা কী ছিল? তিনি তাদের জঘন্য কুৎসিৎ ও অশ্লীল কাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মাত্র। তারা তাদের এ অপকর্মের ব্যাপারে এতোই অন্ধ হয়ে পড়েছিল যে, এ ব্যাপারে সমগ্র জাতিই ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। মানব জাতি কেন, কোনো প্রাণি জগতের এ কাজের উদাহরণ পাওয়া যাবে না কোথাও; বরং এ ছিল আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিগত রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
যেহেতু সৃষ্টিজগতের নিয়মনীতিতে জোড়ায় জোড়ায় জন্মানোই জীবনের ভিত্তি। অন্য কথায় জোড়া জোড়া হওয়া ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব ও বিকাশ সম্ভব নয়। সেহেতু আল্লাহ তায়ালা নর ও নারীর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণকে জন্মগত বৈশিষ্ট্যে পরিণত করেছেন। এ আকর্ষণ শিখিয়ে দেয়ার বা উদ্বুদ্ধ করার অপেক্ষা রাখে না। এরূপ ব্যবস্থা ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। প্রত্যেক প্রাণির তার এ জন্মগত তাড়না চরিতার্থ করে আনন্দ পায়। প্রাণির দেহের ভিতরে সংরক্ষিত এ স্বাদ ও আনন্দের ভিতর দিয়ে মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা আপন ইচ্ছা এমনভাবে বাস্তবায়িত করেন যে, তারা নিজেরাও তা টের পায় না। আর অন্য কেউ তাকে সে সম্পর্কে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা নারী-পুরুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে এমন সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গঠন করেছেন যেন উভয়ের মিলন স্বাভাবিক আনন্দকে বাস্তবায়িত করে। এ সামঞ্জস্য বা সমন্বয় তিনি একই লিঙ্গের দুই ব্যক্তি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সৃষ্টি করেননি। এ জন্মগত বৈশিষ্ট্যের যেরূপ সর্বব্যাপী বিকৃতি দূত-এর জাতির ভিতরে সংঘটিত হয়েছিল তা যথার্থই বিস্ময়কর ও স্বাভাবিক নিয়মনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এজন্যেই দূত জাতির এ অপকর্মের প্রতিবাদে বিস্ময় জড়িত ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
তাদের বিকৃতির এ প্রতিবাদের জবাবে ভূতের জাতি সঠিক জবাবদানের পরিবর্তে কেবল একথাই বলেছিল যে, ভূত ও তার অনুসারীরা খুব সৎ ও পবিত্র মানুষ সাজতে চায়। ওদের স্থান এখানে নেই। ওদেরকে এদেশ থেকে বের করে দিতে হবে। ধৃত-এর অনুসারীরা তাঁর পরিবার-পরিজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, কেবল তাঁর স্ত্রী ছাড়া। নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এ মহিলাটি ছিল চরিত্রহীনা, সে তৎকালীন সমাজে প্রচলিত সমকামিতাকে সমর্থন করতো। তাই আল্লাহর ইনসাফের বিধান অনুযায়ী অন্যান্য দুশ্চরিত্রের লোকদের সাথে দূত-এর স্ত্রীকেও ধ্বংস করে দেয়া হলো। (ফী যিলালিল কুরআন)
আল্লাহর বাণী
قَدَّرْنَهَا مِنَ الْغَبِرِينَ
'তাকে পেছনে পড়ে থাকা লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছি' কথা দ্বারা কেবল এটা বুঝানো হয়নি যে, লুত-এর স্ত্রী আল্লাহর নাজাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না; বরং কথাটার অর্থ এও হতে পারে যে, এ পাথর বৃষ্টির শাস্তি তার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করা ছিল। এটা এ জন্যে যে, একজন নবীর স্ত্রীর হওয়া সত্ত্বেও যখন তার সহানুভূতি ছিল সেই অযোগ্য জাতির প্রতি তখন অন্যদের তুলনায় আল্লাহর আযাব তার প্রতি অধিক হওয়াই উচিত। কারণ আল্লাহর অবাধ্যদের প্রতি তার অনুকম্পা তাকে আল্লাহর গযবের অধিকতর যোগ্য করে তুলেছে। আল্লাহ যাকে শিক্ষা ও হেদায়াতের সুযোগ যত বেশি পরিমাণ সংস্থান করে দেবেন, সে তার যথাযথ গুরুত্ব ও মর্যাদা না দিলে তার প্রতি আল্লাহর শাস্তিও সেই হারেই হতে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তো দায়িত্ব অনুপাতেই পারিতোষিক দিয়ে থাকেন। (তাদাব্বুরে কুরআন)
কোনো কোনো বর্ণনানুযায়ী কওমে দূতের প্রতি আল্লাহর আযাব নাযিল হওয়ার পূর্বেই নবীর সাথীগণকে লোকালয় থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। আর নির্দেশ ছিল কেউ যেন পেছনের দিকে না তাকায়। এ নির্দেশ সবাই যথাযথ মেনে চলেছিল। কিন্তু ভূত-এর স্ত্রী সকলের পেছনে থেকে পেছনের দিকে তাকাচ্ছিল। পরিণামে সেও আল্লাহর আযাবগ্রস্তদের সাথে ধ্বংস হয়ে গেল। সে তো একদিকে নবীর আদর্শ বিরোধীদের সহযোগী ছিল। আবার আল্লাহর আযাব থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছনের দিকে তাকিয়ে না দেখার আল্লাহর নির্দেশও অমান্য করেছিল। সুতরাং নবী স্বামীর আদর্শ বিচ্যুতির অপরাধের শাস্তি থেকে তাকে নবী স্বামীর স্ত্রী হওয়ার সম্পর্কে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00