📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 নাযিল হওয়ার সময়

📄 নাযিল হওয়ার সময়


এ সূরার কয়েকটি আয়াত থেকে এর নাযিলের সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ৪১ নং আয়াত থেকে জানা যায়, এর আগেই যুলুম-অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কিছুসংখ্যক সাহাবী হিজরত করে আফ্রিকার হাবশায় (বর্তমান ইরিত্রিয়ায়) চলে গিয়েছিলেন। ১০৬ নং আয়াতের থেকে জানা যায়, এ সময় জুলুম-নিপীড়নের কঠোরতা অত্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল এবং এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল যে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের আধিক্যে বাধ্য হয়ে কুফরী বাক্য উচ্চারণ করে ফেলে তাহলে তার ব্যাপারে শরীয়াতের বিধান কী হবে। ১১২-১১৪ আয়াত থেকে পরিষ্কার এদিকে ইঙ্গিত করছে যে, নবী -এর নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় যে বড় আকারের দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল এ সূরা নাযিলের সময় তা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ সূরার ১১৫ আয়াতটি এমন একটি আয়াত যার বরাত দেয়া হয়েছে সূরা আন'আমের ১১৯ আয়াতে। আবার সূরা আন'আমের ১৪৬ আয়াতে এ সূরার ১১৮ আয়াতের বরাত দেয়া হয়েছে। এ থেকে প্রমাণ হয় যে, এ সূরা দুটির নাযিলের মাঝখতানে খুব কম সময়ের ব্যবধান ছিল।
এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে একথা পরিষ্কার জানা যায় যে, এ সূরটিও মক্কী জীবনের শেষের দিকে নাযিল হয়। সূরার সাধারণ বর্ণনাভঙ্গীও একথা সমর্থন করে।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 বিষয়বস্তু ও কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়

📄 বিষয়বস্তু ও কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়


শিরককে বাতিল করে দেয়া, তাওহীদকে সপ্রমাণ করা, নবীর আহবানে সাড়া না দেবার অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা ও উপদেশ দেয়া এবং হকের বিরোধিতা ও তার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন করা এ সূরার মূল বিষয়বস্তু ও কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 আলোচনার ধরন

📄 আলোচনার ধরন


কোনো ভূমিকা ছাড়াই আকস্মিকভাবে একটি সতর্কতামূলক বাক্যের সাহায্যে সূরার সূচনা করা হয়েছে। মক্কার কাফেররা বারবার বলতো, "আমরা যখন তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছি এবং প্রকাশ্যে তোমার বিরোধিতা করছি তখন তুমি আমাদের আল্লাহর যে আযাবের ভয় দেখাচ্ছো তা আসছে না কেন? তাদের এ কথাটি বারবার বলার
কারণ ছিল এই যে, তাদের মতে এটিই মুহাম্মাদ -এর নবী না হওয়ার সবচেয়ে বেশি সুস্পষ্ট প্রমাণ। এর জবাবে বলা হয়েছে, নির্বোধের দল, আল্লাহর আযাব তো তোমাদের মাথার ওপর তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এখন তা কেন দ্রুত তোমাদের ওপর নেমে পড়ছে না এ জন্য হৈ চৈ করো না; বরং তোমরা যে সামান্য অবকাশ পাচ্ছো তার সুযোগ গ্রহণ করে আসল সত্য কথাটি অনুধাবন করার চেষ্টা করো। এরপর সাথে সাথেই বুঝবার জন্য ভাষণ দেবার কাজ শুরু হয়ে গেছে এবং নিম্নলিখিত বিষয়বস্তু একের পর এক একাধিকবার সামনে আসতে শুরু করেছে।
১. হৃদয়গ্রাহী যুক্তি এবং জগত ও জীবনের নিদর্শনসমূহের সুস্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের সাহায্যে বুঝানো হয়েছে যে, শিরক মিথ্যা এবং তাওহীদই সত্য।
২. অস্বীকারকারীদের সন্দেহ, সংশয়, আপত্তি, যুক্তি ও টালবাহানার প্রত্যেকটির জবাব দেয়া হয়েছে।
৩. মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরার গোয়ার্তুমি এবং সত্যে মোকাবিলায় অহংকার ও আস্ফালনের অশুভ পরিণামের ভয় দেখানো হয়েছে।
৪. মুহাম্মাদ যে জীবন ব্যবস্থা এনেছেন, মানুষের জীবনে যে সব নৈতিক ও বাস্তব পরিবর্তন সাধন করতে চায় সেগুলো সংক্ষেপে কিন্তু হৃদয়গ্রাহী করে বর্ণনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুশরিকদেরকে বলা হয়েছে, তারা যে আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেবার দাবী করে থাকে এটা নিছক বাহ্যিক ও অন্তঃসারশূন্য দাবী নয়; বরং এর বেশ কিছু চাহিদাও রয়েছে। তাদের আকীদা-বিশ্বাস, নৈতিক-চারিত্রিক ও বাস্তব জীবনে এগুলোর প্রকাশ হওয়া উচিত।
৫. নবী ও তাঁর সংগী-সাথীদের মনে সাহস সঞ্চার করা হয়েছে এবং সাথে সাথে কাফেরদের বিরোধিতা, প্রতিরোধ সৃষ্টি ও জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গী ও কর্মনীতি কী হতে হবে তাও বলে দেয়া হয়েছে।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 কন্যা সন্তানের জন্মের কারণে মন খারাপ করা বৈধ নয়

📄 কন্যা সন্তানের জন্মের কারণে মন খারাপ করা বৈধ নয়


وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمْ بِالْاُنْثٰى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَّهُوَ كَظِيْمٌ يَّتَوَارٰى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوْءِ مَا بُشِّرَ بِهٖ اَيُمْسِكُهٗ عَلٰى هُوْنٍ اَمْ يَّدُسُّهٗ فِي التُّرَابِ اَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُوْنَ
অর্থ: যখন এদের কাউকে কন্যা সন্তান জন্মের সুখবর দেয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে ভিতরে ভিতরে গুমরে মরতে থাকে। লোকদের থেকে লুকিয়ে ফিরতে থাকে, কারণ এ দুঃসংবাদের পর সে লোকদের মুখ দেখাবে কেমন করে। ভাবতে থাকে, অবমাননার সাথে মেয়েকে রেখে দেবে, না তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে ? দেখো, কেমন খারাপ কথা যা এরা আল্লাহর ওপর আরোপ করে। (সূরা আন নাহল: আয়াত: ৫৮-৫৯)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে রাসূলের সময়ে আরবের মুশরিকদের কতিপয় ভ্রান্ত চিন্তা আচরণের মধ্যে একটির উল্লেখ্য করা হয়েছে। আর তাহল যখন তাদের কোনো ব্যক্তির কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ার খবর পিতার কানে পৌঁছতো, তখন পিতার চেহারা কালো হয়ে যেতো, রাগে ও ক্ষোভে তার মন অস্থির হয়ে উঠতো আর সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতো। এর গ্লানির কারণে সে তার কওম থেকে আত্মগোপন করতো- সমাজের লোকদের মুখ দেখাব কীভাবে- এ ছিল তার মানসিক প্রতিক্রিয়া। মেয়ে বড় হলে তাকে অন্য কোনো ছেলের কাছে বিয়ে দিতে হবে ভেবে সে লজ্জায় অস্থির হয়ে পড়তো। এ হীনতা সত্ত্বেও সে কন্যাটাকে রাখবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে- এ ছিল তার দুঃচিন্তা।
যে কন্যা সন্তানকে তারা নিজেদের জন্য এত বেশি লজ্জাজনক মনে করে থাকে, সেই কন্যা সন্তানকে আল্লাহর জন্য মনোনীত করতে তাদের কোনোই দ্বিধা হয় না। অথচ আল্লাহর আদৌ কোনো সন্তান থাকতে পারে এরূপ ধারণা করা একটি মহামূর্খতা ও চরম বেয়াদবী ছাড়া আর কিছুই নয়। আরব মুশরিকদের এ কর্মনীতিকে এখানে একটি বিশেষ দিক দিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য আল্লাহ সম্পর্কে তাদের নিম্নমুখী চিন্তা-ভাবনার সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা এবং তাদেরকে একথা বলে দেয়া যে, মুশরিকী আকীদা-বিশ্বাস আল্লাহর ব্যাপারে তাদেরকে দুঃসাহসী ও ঔদ্ধত্যশালী বানিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তারা এতই বিকারগ্রস্ত ও অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছে যে, এ ধরনের কথা বলা তারা একটুও দোষণীয় মনে করে না।
জাহেলী যুগের জাহেলী ধ্যান-ধারণা আধুনিক যুগেও বিরাজমান রয়েছে। হয়তো ধরন কিছুটা পাল্টিয়েছে। তখনকার যুগ কেবল কন্যার জন্ম হওয়াকে গ্লানী ও অপমানকর মনে করা হতো কিন্তু আজকের বিশ্বের উন্নয়নমুখী দেশে তো সন্তানের আগমনকেই অসহনীয় ভাবা হচ্ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, অধিক সন্তানের পরিবারকে সর্বাদিক থেকে নাজেহাল হতে দেখা যায়। পাশাপাশি একটি সন্তান পাওয়ার জন্যেও তো অনেক দম্পতিকে পাগলপারা হয়ে ঘুরতে দেখা যায়। আসল কথা, মানুষতো ব্যান্টিক (Micro) দৃষ্টি কোণ থেকে চিন্তা করে থাকে, আর আল্লাহর তো রয়েছে মহা সামষ্টিক (Super Macor) দৃষ্টি কোণ। বিশ্বসমাজে দেখা যায় প্রাচুর্যের দেশ (Afluent Country) বলে কথিতরা উন্নয়নমুখী জাতি (Developing Nations) সমূহকে জন্মনিরোধের সবক দিয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের দেশে ব্যাপক হারে নাগরিকত্ব প্রদান করা হচ্ছে অন্য দেশের জনসমষ্টিকে! আবার সমাজে নারী মুক্তি আন্দোলন চলছে নারী অধিকার-মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। অধিকার-মর্যাদা তো সেই সত্তাই নির্ধারণ করতে পারেন যিনি সৃষ্টি করে লালনপালন করেছেন। অন্য কারো পক্ষে তা আদৌ সম্ভব হতে পারে না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে ইসলামী জীবন বিধান বিশ্বের বুকে নারী মুক্তির ব্যবস্থা করেছে, সেই জীবন বিধানকে তো কেউ কেউ নারী মুক্তির অন্তরায় ভাবছে। এই হচ্ছে এদের ইসলাম সম্পর্কে চরম মূর্খতা অথবা জেনেবুঝে ইসলামদ্রোহীতার আত্মঘাতী ভূমিকা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00