📄 অসৎ নারী সৎ পুরুষের স্ত্রী হলেও মুক্তি নেই
فَأَنْجَيْنَهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ. وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ.
অর্থ: শেষ পর্যন্ত আমি লুতের স্ত্রীকে ছাড়া- যে পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাকে ও তার পরিবারবর্গকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি এবং এ সম্প্রদায়ের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করি। তারপর সেই অপরাধীদের কী পরিণাম হয়েছিল দেখো। (সূরা আল আরাফ: আয়াত: ৮০-৮৪)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আল্লাহ তায়ালা উপরিউক্ত আযাব (পূর্বোক্ত আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণিত) দিয়ে লূত-এর পুরো অবাধ্য উচ্ছৃঙ্খল জাতিকে ধ্বংস করে দিলেন। লূত-এর জাতির লোকেরা যখন তাঁর অবাধ্য হয়ে কেবল সেই অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতায় ডুবেই রইলো না, অধিকন্তু তারা এহেন মারাত্মক নৈতিকতা বিধ্বংসী কাজের বাধা সৃষ্টিকারী লূত ও তাঁর কতিপয় সঙ্গী-সাথীকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করলো; তখন তাদের উপর আল্লাহর আযাব অবধারিত হয়ে গেল। তাদের আযাব থেকে লূত তাঁর অল্প কতক অনুসারীকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা লূত-কে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন শেষ রাতে তাঁর এক স্ত্রী ছাড়া সকল আহল ও সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে ঐ স্থান ত্যাগ করেন। আর তারা যেন পেছনের দিকে ফিরে না তাকান। কারণ লূত সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই মুহূর্ত বিলম্ব না করে আযাব এসে যাবে।
লূত-এর স্ত্রী নবী স্বামীর অবাধ্য ও আল্লাহর নাফরমানদের আদর্শে বিশ্বাসী- তথা আল্লাহদ্রোহীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল বিধায় নবীর স্ত্রী হয়েও আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পায়নি। আল্লাহর সামগ্রিক আযাব তাকেও গ্রাস করে নিয়েছিল। ইসলামের ইতিহাসে এমনি বহু নযীর রয়েছে। যেমন নূহ-এর ছেলে 'কেনআন' নবী পিতার অবাধ্য ছিল বিধায় সর্বগ্রাসী প্লাবন তকেও ধ্বংস করে দিয়েছিল। অবাধ্য হলেও তো আপন ছেলে। তাই নবী নূহ তার নাজাতের জন্য আল্লাহর কাছে আরয করে বলেছিলেন, "আমার ছেলে তো আমার আহল।" উত্তরে আল্লাহ বলেন, "সে তোমার আহল নয়।" এতে বুঝা যায় আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্য হয়ে নবী-রাসূলের একান্ত আপনজন হলেও নিস্তার নেই। পক্ষান্তরে ইবরাহীম অগ্নি পূজক আযরের ছেলে হয়েও মুসলিম মিল্লাতের পিতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। সুতরাং কোনো মানুষের সম্পর্ক নয়; বরং আল্লাহ ও রাসূলের সম্পর্ক তাদের হুকুম ও আদর্শ মেনে চলার মধ্যে নাজাত এবং অমান্য করার মধ্যে আযাব ও শান্তি অবধারিত পরিণতি।