📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 মীরাসের সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ নারীর দ্বিগুণ

📄 মীরাসের সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ নারীর দ্বিগুণ


يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلَلَةِ إِنِ امْرُوا هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَه أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِنْ لَّمْ يَكُنْ لَّهَا وَلَدٌ فَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثْنِ مِمَّا تَرَكَ وَ إِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَ نِسَاءٌ فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ.
লোকেরা তোমার নিকট 'কালাল' সম্পর্কে জানতে চায়। বল, 'পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন কোনো পুরুষ মারা গেলে সে যদি নিঃসন্তান হয় এবং তার এক বোন থাকে তবে তার জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের
অর্ধেক। আর বোন যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে, আর দুই বোন থাকলে তাদের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ, আর যদি ভাই-বোন উভয়ে থাকে তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান।' তোমরা পথভ্রষ্ট হবে- এ আশঙ্কায় আল্লাহ তোমাদেরকে পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত। (সূরা: আন নিসা: আয়াত-১৭৬)
এ সূরাটি নাযিল হওয়ার অনেক পরে এ আয়াতটি নাযিল হয়। কোনো কোনো হাদীসের বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি কুরআনের সর্বশেষ আয়াত। এ বর্ণনাটি সঠিক না হলেও কমপক্ষে এতটুকু প্রমাণিত যে, এ আয়াতটি নবম হিজরীতে নাযিল হয়। এর অনেক পূর্বে সূরা নিসা নাযিল হয় এবং তাকে একটি স্বতন্ত্র সূরা হিসেবে তখন পাঠ করা হচ্ছিল। এ জন্যই মীরাসের বিধান বর্ণনার উদ্দেশ্যে সূরার শুরুতে যে আয়াতগুলো বর্ণা করা হয় তার সাথে এ আয়াতটি বর্ণিত হয়নি; বরং পরিশিষ্ট হিসেবে সূরার শেষে একে রাখা হয়েছে।
এই আয়াতে 'কালালা' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। 'কালালা' শব্দের অর্থের ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে। কারো কারো মতে কালালা হচ্ছে এমন এক ব্যক্তি যার সন্তান নেই এবং যার বাপ-দাদাও বেঁচে নেই। আবার অন্যদের মতে যে ব্যক্তি নিছক নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায় তাকে কালালা বলা হয়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু শেষ সময় পর্যন্ত এ ব্যাপারে দ্বিধান্বিত ছিলেন। কিন্তু আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতে প্রথমোক্ত লোকটিকেই কালালা বলা হয়। সাধারণ ফকীহগণ তাঁর এই মত সমর্থন করেছেন। কুরআন থেকেও এই মতেরই সমর্থন পাওয়া যায়। কারণ কুরআন কালালার বোনকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেকের মালিক বানানো হয়েছে। অথচ কালালার বাপ বেঁচে থাকলে বোন সম্পত্তির কিছুই পায় না।
এখানে এমন সব ভাইবোনের মীরাসের কথা বলা হচ্ছে যারা মৃতের সাথে মা ও বাপ উভয় দিক দিয়ে অথবা শুধুমাত্র বাপের দিক দিয়ে শীরক। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার তাঁর এক ভাষণে এই অর্থের ব্যাখ্যা করেছিলেন। কোনো সাহাবা তাঁর এই ব্যাখ্যার সাথে মতবিরোধ করেননি। ফলে এটি একটি সর্বসম্মত মতে পরিণত হয়েছে। ভাই তার সমস্ত সম্পদের ওয়ারিশ হবে, যদি কোনো নির্দিষ্ট অংশের অন্য কোনো অধিকারী না থেকে থাকে। আর যদি নির্দিষ্ট অংশের অন্য কোনো অধিকারী থাকে- যেমন স্বামী তাহলে প্রথমে তার অংশ আদায় করার পর অবশিষ্ট পরিত্যক্ত সম্পত্তি ভাই পাবে। দু'য়ের বেশি বোন হলে তাদের সম্পর্কেও এই একই বিধান কার্যকর হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00