📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের অংশ নির্ধারিত

📄 সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের অংশ নির্ধারিত


لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَ الْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدُنِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا.
পুরুষদের জন্যে পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পদে অংশ রয়েছে এবং নারীদের জন্যেও পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পদে অংশ রয়েছে কম বা বেশি হোক, এসব অংশ নির্ধারিত। (সূরা আন নিসা: আয়াত-৭)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে সুস্পষ্টভাবে পাঁচটি আইনগত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন- ১. মীরাস কেবল পুরুষদের নয়, মেয়েদেরও অধিকার। ২. যত কমই হোক না কেন মীরাস অবশ্যই বণ্টিত হতে হবে। এমন কি মৃত ব্যক্তি যদি এক গজ কাপড় রেখে গিয়ে থাকে এবং তার দশজন ওয়ারিস থাকে, তাহলেও তা ওয়ারিসদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে। একজন ওয়ারিস অন্যজনের থেকে যদি তার অংশ কিনে নেয় তাহলে তা আলাদা কথা। ৩. এ আয়াত থেকে একথাও সুস্পষ্ট হয়েছে যে, মীরাসের বিধান স্থাবর-অস্থাবর, কৃষি- শিল্প বা অন্য যে কোনো ধরনের সম্পত্তি হোক না কেন সব ক্ষেত্রে জারী হবে। ৪. এ থেকে জানা যায় যে, মীরাসের অধিকার তখনই সৃষ্টি হয় যখন মৃত ব্যক্তি কোনো সম্পদ রেখে মারা যায়। ৫. এ থেকে এ বিধানও নির্দিষ্ট হয় যে, নিকটতম আত্মীয়ের উপস্থিতিতে দূরতম আত্মীয় মীরাস লাভ করবে না।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 সম্পত্তি বণ্টনে কন্যার অংশই মূল ভিত্তি

📄 সম্পত্তি বণ্টনে কন্যার অংশই মূল ভিত্তি


يُوصِيكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُنَا مَا تَرَكَ، وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ وَلا بَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِنْ لَمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَةَ آبَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِنْ كَانَ لَةَ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُؤْصِى بِهَا أَوْ دَيْنٍ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا.
অর্থ: আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে এ বিধান জারি করেছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। তবে যদি শুধু কন্যা হয় এবং দু'জনের বেশি হয়
তাহলে তারা পরিত্যাক্ত সম্পদের তিনভাগের দু'ভাগ পাবে। আর যদি কন্যা এক হয় তবে সে অর্ধেক পাবে। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে তার পিতা-মাতা প্রত্যেকে তার রেখে যাওয়া সম্পদের ছয়ভাগের একভাগ পাবে। আর যদি সে নিঃসন্তান এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয় তাহলে মা পাবে তিনভাগের একভাগ, কিন্তু যদি তার একাধিক ভাই-বোন থাকে তবে মা ছয়ভাগের একভাগ পাবে। এসব মৃত ব্যক্তির ওসীয়ত অথবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও তোমাদের সন্তানদের মধ্যে উপকারের দিক থেকে কারা নিকটবর্তী তোমরা তা জান না। এ বণ্টন আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা আন নিসা: আয়াত-১১)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা : মীরাসের ব্যাপারে এটি প্রথম ও প্রধান মৌলিক বিধান যে, পুরুষদের অংশ হবে মেয়েদের দ্বিগুণ। যেহেতু পারিবারিক জীবন ক্ষেত্রে শরীয়াত পুরুষদের ওপর অর্থনৈতিক দায়িত্বের বোঝা বেশি করে চাপিয়ে এবং অনেকগুলো অর্থনৈতিক দায়িত্ব থেকে মেয়েদেরকে মুক্তি দিয়েছে, তাই মীরাসের ব্যাপারে মেয়েদের অংশ পুরুষদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম রাখা হবে, এটিই ছিল ইনসাফের দাবী।
দু'টি মেয়ের ব্যাপারেও এই একই বিধান কার্যকর। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির যদি কোনো পুত্রসন্তান না থাকে এবং সবগুলোই থাকে কন্যা সন্তান, কন্যাদের সংখ্যা দুই বা দু’য়ের বেশি হোক না কেন, তারা সমগ্র পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দু'ভাগ পাবে। অবশিষ্ট তিনভাগের একভাগ অন্যান্য ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। কিন্তু যদি মৃত ব্যক্তির শুধুমাত্র একটি পুত্র থাকে, তাহলে এ ব্যাপারে ইজমা অনুষ্ঠিত হয়েছে অর্থাৎ ফিক্‌হবিদগণ সবাই এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, অন্যান্য ওয়ারিসদের অনুপস্থিতিতে সে-ই সমস্ত সম্পত্তির ওয়ারিস হবে। আর যদি অন্যান্য ওয়ারিসরাও থাকে, তাহলে তাদের অংশ দিয়ে দেবার পর বাকি সমস্ত সম্পত্তিই সে পাবে।
মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার বাপ-মা প্রত্যেকে ছয়ভাগের একভাগ পাবে। আর সন্তান যদি সবগুলোই হয় কন্যা বা সবগুলোই পুত্র অথবা পুত্র কন্যা উভয়ই হয় বা একটি পুত্র অথবা একটি কন্যা হয়, তাহলে বাকি তিনভাগের দু'ভাগে এ ওয়ারিসরা শরীক হবে।
বাপ-মা ছাড়া যদি আর কেউ ওয়ারিস না থাকে তাহলে বাকি তিনভাগের দু'ভাগ বাপ পাবে। অন্যথায় তিনভাগের দু'ভাগে বাপ ও অন্যান্য ওয়ারিসরা শরীক হবে।
ভাই-বোন থাকলে মায়ের অংশ তিনভাগের এক ভাগের পরিবর্তে ছয় ভাগের একভাগ করে দেয়া হয়েছে। এভাবে মায়ের অংশ থেকে যে ছয় ভাগের এক ভাগ বের করে নেয়া হয়েছে তা বাপের অংশে দেয়া হবে। কেননা এ অবস্থায় বাপের দায়িত্ব বেড়ে যায়। মনে রাখতে হবে, মৃতের বাপ-মা জীবিত থাকলে তার ভাই-বোনরা কোনো অংশ পাবে না।
অসিয়তের বিষয়টি ঋণের আগে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে এই যে, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ঋণ রেখে মারা যাওয়া কোনো জরুরি বিষয় নয়। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করা তার জন্য একান্ত জরুরি। তবে বিধানের গুরুত্বের দিক দিয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ
ব্যাপারে একমত যে, ঋণের স্থান অসিয়তের চাইতে অগ্রবর্তী। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি ঋণ রেখে মারা যায়, তাহলে সর্বপ্রথম তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি থেকে তা আদায় করা হবে, তারপর অসিয়ত পূর্ণ করা হবে এবং সবশেষে মীরাস বণ্টন করা হবে। অসিয়ত সম্পর্কে সূরা বাকারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তার সমগ্র সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত অসিয়ত করতে পার। অসিয়তের এই নিয়ম প্রবর্তনের কারণ হচ্ছে এই যে, মীরাসী আইনের মাধ্যমে যেসব আত্মীয়-স্বজন পরিত্যক্ত সম্পত্তির কোনো অংশ পায় না, এখান থেকে তাদের যাকে যে পরিমাণ সাহায্য দেবার প্রয়োজন উপলদ্ধি করা হয়, তা নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন কোনো এতিম নাতি বা নাতনী রয়েছে। মৃত পুত্রের কোনো বিধবা স্ত্রী কষ্টে জীবন যাপন করছে। অথবা কোনো ভাই, বোন, ভাবী, ভাই-পো, ভাগনে বা কোনো আত্মীয় সাহায্য-সহায়তা লাভের মুখাপেক্ষী। এ ক্ষেত্রে অসিয়তের মাধ্যমে তাদের অন্য হকদারদের জন্য বা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পত্তির অংশ অসিয়ত করা যেত পারে। সারকথা হচ্ছে এই যে, সম্পদ-সম্পত্তির তিন ভাগের দু'ভাগ বা তার চাইতে কিছু বেশি অংশের ওপর ইসলামী শরীয়াত মীরাসের আইন বলবৎ করেছে। শরীয়াতের মনোনীত ওয়ারিসদের মধ্যে তা বণ্টন করা হবে।
আর তিন ভাগের এক ভাগ বা তার চেয়ে কিছু কম অংশের বণ্টনের দায়িত্বভার নিজের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। নিজের বিশেষ পারিবারিক অবস্থার প্রেক্ষিতে (যা বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়ে থাকে) সে যেভাবে সংগত মনে করবে বণ্টন করার জন্য অসিয়ত করে যাবে। তারপর কোনো ব্যক্তি যদি তার অসিয়তে জুলুম করে অথবা অন্য কথায় নিজের ইখতিয়ারকে এমন ত্রুটিপূর্ণভাবে ব্যবহার করে যার ফলে কারো বৈধ অধিকার প্রভাবিত হয়, তাহলে এর মীমাংসার দায়িত্ব পরিবারের লোকদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তারা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এ ত্রুটি সংশোধন করে নেবে অথবা ইসলামী আদালতের কাযীর কাছে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানাবে এবং তিনি অসিয়তের ত্রুটি দূর করে দেবেন।
মীরাসে আল্লাহ প্রদত্ত আইনের গভীর তত্ত্ব উপলব্ধি করতে যারা সক্ষম নয়, এ ব্যাপারে যাদের জ্ঞান অজ্ঞতার পর্যায়ভুক্ত এবং যারা নিজেদের অপরিপক্ক বুদ্ধির সাহায্যে (তাদের জ্ঞান অনুযায়ী) আল্লাহর এই আইনের ত্রুটি দূর করতে চায়, তাদেরকে এ জবাব দেয়া হয়েছে।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 নারীরা বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ওয়ারিশ হয়

📄 নারীরা বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ওয়ারিশ হয়


وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَّمْ يَكُنْ لَّكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُؤْصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَ إِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍ وَصِيَّةٌ مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ .
অর্থ: আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সম্পদের অর্ধেক পাবে যদি তাদের সন্তান না থাকে। আর যদি সন্তান থাকে তাহলে তোমরা তাদের রেখে যাওয়া সম্পদের চারভাগের একভাগ পাবে, ওসীয়ত পালন ও ঋণ পরিশোধের পর। আর তোমাদের স্ত্রীরা সম্পদের চারভাগের একভাগ পাবে যদি তোমাদের সন্তান না থাকে। আর যদি সন্তান থাকে তাহলে তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পদের আটভাগের একভাগ পাবে, ওসীয়ত পালন ও ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি পিতা-মাতা ও সন্তানহীন কোনো পুরুষ অথবা নারী মারা যায়। এ অবস্থায় যে, তার এক সৎভাই কিংবা সৎবোন থাকে, তবে তারা প্রত্যেকে ছয়ভাগের একভাগ পাবে। কিন্তু তারা যদি একাধিক হয়, তবে তারা প্রত্যেকে তিনভাগের একভাগ সমান হারে পাবে, ওসীয়ত পালন ও ঋণ পরিশোধের পর। ওসীয়ত যেন কারো জন্য ক্ষতিকর না হয় এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল। (সূরা আন নিসা: আয়াত-১২)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে কারিমায় স্বামী ও স্ত্রীদের মীরাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী নারীগণও পুরুষদের মত বংশগত ও জন্মগত সম্পর্কের কারণে মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ হয়ে থাকে। মীরাস পাওয়ার ব্যাপারে যে যে অবস্থায় পুরুষদের অধিকার রয়েছে সে সে অবস্থায় নারীদেরও অধিকার রয়েছে। একজন স্ত্রী হোক বা একাধিক তাদের যদি সন্তান থাকে তাহলে তারা আট ভাগের একভাগ এবং সন্তান না থাকলে চার ভাগের এক ভাগ পাবে। আর এ চার ভাগের এক ভাগ বা আট ভাগের একভাগ সকল স্ত্রীর মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে। অবশিষ্ট ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ বা তিন ভাগের দু'ভাগ থেকে অন্য কোনো ওয়ারিস থাকলে তারা অংশ পাবে। অন্যথায় অবশিষ্ট ঐ সমস্ত সম্পত্তি ঐ ব্যক্তি অসিয়ত করতে পারবে।
এ আয়াতের ব্যাপারে মুফাস্সিরগণের 'ইজমা' অনুষ্ঠিত হয়েছে যে, এখানে বৈমাত্রেয় ভাই-বোনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ মৃতের সাথে তার আত্মীয়তা কেবলমাত্র মায়ের দিক থেকে এবং তাদের বাপ আলাদা। আর সহোদর এবং বৈমাত্রের ভাই-বোনের
ব্যাপারে, মৃতের সাথে বাপের দিক থেকে যাদের আত্মীয়তা, তাদের সম্পর্কিত বিধান এ সূরার শেষের দিকে বিবৃত হয়েছে।
অসিয়ত যদি এমনভাবে করা হয় যে, তার মাধ্যমে হকদার আত্মীয়দের হক নষ্ট হয়, তাহলে এ ধরনের অসিয়ত হয় ক্ষতিকর। আর নিছক হকদারদেরকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি যখন অনর্থক নিজের ওপর এমন কোনো ঋণের স্বীকৃতি দেয়, যা সে প্রকৃতপক্ষে নেয়নি, অথবা হকদারকে মীরাস থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে এমনি কোনো কূটচাল চালে, সে ক্ষেত্রে এ ধরনের ঋণও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের ক্ষতিকারক বিষয়কে কবীরা গোনাহ গণ্য করা হয়েছে। তাই হাদীসে বলা হয়েছে, অসিয়তের ক্ষেত্রে অন্যকে ক্ষতি করার প্রবণতা বড় গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। অন্য একটি হাদীসে নবী বলেছেন, মানুষ তার সারা জীবন জান্নাতবাসীদের মতো কাজ করতে থাকে কিন্তু মরার সময় অসিয়তের ক্ষেত্রে অন্যের ক্ষতি করার ব্যবস্থা করে নিজের জীবনের আমলনামাকে এমন কাজের মাধ্যমে শেষ করে যায়, যা তাকে জাহান্নামের অধিকারী করে দেয়। এ ক্ষতি করার প্রবণতা ও অন্যের অধিকার হরণ যদিও সর্বাবস্থায় গোনাহ তবুও 'কালালাহ'-এর (যে নিঃসন্তান ব্যক্তির বাপ-মাও জীবিত নেই) ব্যাপারে মহান আল্লাহ বিশেষ করে এর উল্লেখ এ জন্য করেছেন যে, যে ব্যক্তির সন্তানাদি নেই আবার বাপ-মাও জীবিত নেই, তার মধ্যে সাধারণত নিজের সম্পদ-সম্পত্তি নষ্ট করার প্রবণতা কোনো না কোনোভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এবং সে দূরবর্তী আত্মীয়দেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা চালায়।
আল্লাহর জ্ঞানের কথা উচ্চারণ করার পেছনে এখানে দু'টি কারণ রয়েছে। এক, যদি এ আইন ও বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করা হয় তাহলে মানুষ আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারবে না। দুই, আল্লাহ যে অংশ যেভাবে নির্ধারণ করেছেন তা একেবারেই নির্ভুল। কারণ যে বিষয়ে মানুষের কল্যাণ ও সুবিধা তা মানুষের চেয়ে আল্লাহ ভালো জানেন। এই সঙ্গে আল্লাহর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা গুনের কথা বলার কারণ হচ্ছে এই যে, এ আইন প্রবর্তনের ব্যাপারে আল্লাহ কোনো কঠোরতা আরোপ করেননি; বরং তিনি এমন নীতি-নিয়ম প্রবর্তন করেছেন যা মেনে চলা মানুষের জন্য অত্যন্ত সহজ এবং এর ফলে মানুষ কোনো কষ্ট, অভাব ও সংকীর্ণতার মুখোমুখি হবে না।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 নারীকে অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন

📄 নারীকে অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন


وَ الَّتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ فَإِنْ شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا.
অর্থ: তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যাভিচারের কাজে লিপ্ত হয়, তাদের উপর তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করবে। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদেরকে ঘরে আবদ্ধ রাখবে, যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো পথনির্দেশ দেন। (সূরা আন নিসা: আয়াত-১৫)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে ব্যভিচারে লিপ্ত নারীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে হলে চারজন পুরুষ সাক্ষী গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখানে নারীকে অপরাধী সাব্যস্ত করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে শরীয়ত অত্যন্ত কঠোর বিধান দিয়েছে। প্রথমত এ জাতীয় ঘটনায় চারজন সাক্ষী তলবের নির্দেশ এবং তাদের সাক্ষ্য পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00