📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 যে কন্যা পুত্রের চেয়ে উত্তম বলে ঘোষিত হয়েছিল

📄 যে কন্যা পুত্রের চেয়ে উত্তম বলে ঘোষিত হয়েছিল


فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثى وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ، وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثَى وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيْنُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ.
অর্থ: তারপর যখন সেই শিশু কন্যাটি তার ওখানে জন্ম নিল, সে বললো, "হে আমার প্রভু! আমার এখানে তো মেয়ে জন্ম নিয়েছে। অথচ সে যা প্রসব করেছিল তা আল্লাহর জানাই ছিল। আর পুত্র সন্তান কন্যা সন্তানের মতো হয় না। যা হোক আমি তার নাম রেখে দিলাম মারয়াম। আর আমি তাকে ও তার ভবিষ্যৎ বংশধরদেরকে অভিশপ্ত শয়তানের ফিতনা থেকে রক্ষার জন্য তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করছি।” (সূরা আল ইমরান: আয়াত-৩৬)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে মারইয়াম-এর জন্ম বৃত্তান্তের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁর মাতা ইমরানের স্ত্রী ছিলেন নিঃসন্তان। একদা তিনি একজন পথিককে দেখলেন, সে তার বাচ্চাকে দুধ পান করাচ্ছে। এতে তাঁর অন্তরে সন্তান লাভের তীব্র আকাঙ্খা ও আকুতি জাগ্রত হয়। তিনি কায়মনো বাক্যে আল্লাহর কাছে সন্তান প্রাপ্তির আবেদন জানালেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং তিনি গর্ভধারণ করেন।
তখনকার শরীয়তে প্রচলিত ইবাদাত পদ্ধতির মধ্যে আল্লাহর নামে সন্তান উৎসর্গ করার রেওয়াজও ছিল। কোনো সন্তানকে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট করে দেয়া হতো এবং তাকে কোনো পার্থিব কাজে লাগানো হতো না। এ পদ্ধতি মোতাবেক মারইয়ামের মাতা নিজের গর্ভস্থ সন্তানকে বিশেষভাবে বায়তুল মোকাদ্দাসের খেদমতে নিয়োজিত করার
মান্নত করলেন। গর্ভস্থ সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা তাঁর জানা ছিল না। সন্তান প্রসব করার পর যখন দেখলেন যে, তিনি তো একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। তখন আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে বললেন, আয় আল্লাহ! আমি তো আমার গর্ভস্থ সন্তানকে তোমার ঘরের খেদমতের জন্যে মান্নত করেছিলাম। কিন্তু এ কি ব্যাপার! এ যে একটা কন্যা সন্তান!
মেয়েরা এমন অনেক প্রাকৃতিক দুর্বলতা ও তামাদ্দুনিক বিধি-নিষেধের আওতাধীন থাকে, যেগুলো থেকে ছেলেরা থাকে মুক্ত। কাজেই ছেলে জন্ম নিলে আমি যে উদ্দেশ্যে নিজের সন্তান তোমার পথে উৎসর্গ করতে চেয়েছিলাম, তা ভালোভাবে পূর্ণ হতো।
মারইয়ামের মাতা কন্যাকে আল্লাহর ঘরের খেদমত করার অযোগ্য মনে করে ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন তার মান্নত মতে নিজের কন্যাকে দিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাসের খেদমতের কাজ করানো কি সম্ভব? ছেলে হলেই সে তার মান্নত পূরণ করা যেতো। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল বিপরীত। সেই কন্যাকে দিয়েই আল্লাহর তার মাতার মান্নত পূরণ করার মত যোগ্যতা ও গুণ বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে দিলেন। আল্লাহ তায়ালা মাতার আন্তরিকতার প্রতি তাকিয়ে কন্যাকেই কবুল করে নিলেন।
"আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম।" কথাটি-মারইয়ামের মাতার। এ প্রসঙ্গে মুফতী মুহাম্মদ শফী (র) বলেন, এ থেকে বুঝা যায় যে, সন্তানের নাম রাখার অধিকার মাতারও রয়েছে। সন্তানের লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারে মাতার ভূমিকা যথার্থ ও কাম্য। এ বিষয়ে তার অধিকার স্বীকৃত।
ইমরানের স্ত্রী নিজের কন্যা মারইয়ামকে শয়তানের আক্রমণ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। আল্লামা ইবনে কাসীর, আবু হুরায়রা থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাতে বলা হয়েছে, যখনই কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তখনই শয়তান তাকে স্পর্শ করে এবং শয়তানের স্পর্শের কারণে সন্তান চিৎকার করে। তবে মারইয়াম এবং তার সন্তান এর ব্যতিক্রম। তাদেরকে শয়তান স্পর্শ করতে পারেনি। এটা তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ করুণা।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 বৃদ্ধ স্বামী ও বন্ধা নারীর সন্তান লাভ

📄 বৃদ্ধ স্বামী ও বন্ধা নারীর সন্তান লাভ


قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَقَدْ بَلَغَنِيَ الْكِبَرُ وَامْرَأَتِي عَاقِرٌ قَالَ كَذَلِكَ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ.
অর্থ: যাকারিয়া বললো, "হে আমার রব! আমার সন্তান হবে কেমন করে? আমি তো বুড়ো হয়ে গেছি এবং আমার স্ত্রী তো বন্ধা।" জবাব এলো, এমনটিই হবে। আল্লাহ যা চান তাই করেন। (সূরা : আল ইমরান : আয়াত-৪০)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা : একদিন যাকারিয়া মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন। ফেরেশতারা তখন তাঁকে ডেকে বললো, আল্লাহ আপনাকে একটা পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছেন। সে সন্তান অনেকগুলো গুণেরও অধিকারী হবেন। আল্লাহর পাঠানো এ সুসংবাদের জবাবে উপরিউক্ত আয়াতে বর্ণিত কথাগুলো বলেছিলেন। যাকারিয়া সন্দেহের কারণে এসব প্রশ্ন করেননি; বরং তাঁর তো আল্লাহর শক্তি- সামর্থ্যের উপর যথেষ্ট বিশ্বাস এবং আল্লাহর কুদরতের উপর প্রগাঢ় ঈমান ছিলই। তবুও তিনি জানতে চাইলেন যে, তাদের স্বামী-স্ত্রীর বার্ধক্য ও বন্ধাত্ব বহাল রেখেই সন্তান দেয়া হবে, না এতে কোনোরূপ পরিবর্তন করা হবে? আল্লাহ বললেন, অবস্থা যা আছে তাই থাকবে। এ অবস্থায়ও আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তান হবে।
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহর কুদরতের ঐতিহাসিক সত্যতা বর্ণনা করা হয়েছে। যাকারিয়া ছিলেন বৃদ্ধ আর তাঁর স্ত্রী ছিলেন বন্ধা। সন্তান লাভের জাগতিক অবস্থা তখন তাদের ছিল না। সেই অসম্ভব অবস্থায়ও যাকারিয়া মারইয়ামের কাছে অসম্ভব পরিবেশে অলৌকিকভাবে অসময়ের ফল দেখে আল্লাহর কুদরতের উপর প্রগাঢ় ঈমান থাকায় তিনি সন্তান প্রার্থনা করলেন। আজকের সমাজে একদিকে নিঃসন্তানের সন্তান পাওয়া জন্যে ধর্ণা দেয় পীর, বুজর্গদের মাজারে, পথ ধরে শিরকের, সর্বশক্তিমান আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাওহীদ পরিপন্থী বিশ্বাস ও কর্মের দিকে তারা এগিয়ে যায়। অন্যদিকে জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সন্তান উৎপাদনক্ষম যুগলেরা জন্মনিয়ন্ত্রণের পথ ধরে।
সন্তান দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহর যে পূর্ণ কুদরত বিরাজিত তা যেমন মরিয়ম-এর বিশ্বাস তেমনি যাকারিয়া এ বিষয়ে পূর্ণ ঈমান রাখতেন, কিন্তু আমাদের সমাজের লোকেরা এ ধরনের কাজে শিরকের পথে ধাবিত হয় অহরহ। অথচ যাকারিয়ায়-এর বাহ্যিক অবস্থান সন্তান প্রাপ্তির বয়স না থাকলেও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কুদরতের উপর প্রগাঢ় বিশ্বাস থাকায় তিনি একমাত্র তাঁরই নিকট সন্তান প্রার্থনা করেছিলেন। যাকারিয়া যখন দেখলেন যে, আল্লাহ তায়ালা মারইয়ামকে শীতকালে গ্রীষ্মকালের ফলমূল এবং গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফলমূল দিয়ে জীবিকা দান সার্বিক অবস্থা ছিল সন্তান লাভের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি নিজে বার্ধক্য জনিত দুর্বলতার সম্মুখীন ছিলেন, চুলগুলো সাদা হয়ে গিয়েছিল আর তাঁর স্ত্রীও ছিল বন্ধা। এতদসত্ত্বেও সন্তান লাভের আকুতি তাঁর অন্তরের গভীরে দানা বেঁধে উঠলে তিনি নিবৃত্তে আকুল কণ্ঠে নিবেদন করতে থাকেন।
رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ.
"হে রব! আপনি দয়া করে আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একটা নেক সন্তান দিন। নিশ্চয়ই আপনি দোয়া শ্রবণকারী।" উত্তরে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা মারফত সুসংবাদ পাঠালেন। : إِنَّ اللهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْى "আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়া নামও আল্লাহই নির্ধারিত করে দিলেন। আল্লাহ তায়ালা সর্ব যুগে সর্বাবস্থায়ই তাঁর কুদরতের রহস্য দেখাতে পারেন। প্রয়োজন কেবল প্রগাঢ় ঈমানের।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 নারীর মর্যাদার মাপকাঠী পবিত্রতা

📄 নারীর মর্যাদার মাপকাঠী পবিত্রতা


وَإِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللهَ اصْطَفْكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفْكِ عَلَى نِسَاءِ الْعَلَمِينَ.
অর্থ: তারপর এক সময় এলো, ফেরেশতারা মারয়ামের কাছে এসে বললো, হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, তোমাকে পবিত্রতা দান করেছেন এবং সারা বিশ্বের নারী সমাজের মধ্যে তোমাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের সেবার জন্য বাছাই করে নিয়েছেন। (সূরা: আল ইমরান: আয়াত-৪২)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: মারইয়ামের মাতার মান্নত অনুযায়ী তৎকালীন শরীয়তের রীতি অনুসারে তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসের খাদেমা ছিলেন। তিনি ছিলেন পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী। তিনি সারা রাত আল্লাহ ইবাদাতে রت থাকতেন। মুজাহিদ বলেন, মারইয়াম রাত্রিতে দীর্ঘ সময় ইবাদাতে মশগুল থাকার কারণে উভয় পাঁয়ে খুঁত এসে গিয়েছিল। আল্লাহ তাঁকে তৎকালীন বিশ্বের নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেছিলেন এবং আল্লাহ যে দুনিয়ার যাবতীয় শৃংখলা ও কার্যাবলি আনজাম দান করেন এবং কোনো কিছুই আপনা আপনি যেমন সংগঠিত হয় না; তেমনি প্রাকৃতিক নিয়মেই সবকিছুই হয় না; বরং প্রাকৃতিক নিয়ম-নীতিও আল্লাহই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তারই নিদর্শন স্বরূপ ঈসা মারইয়ামের গর্ভে স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে আল্লাহর অসীম কুদরতের পিতা ছাড়াই জন্ম নিলেন এবং জন্মের পরেই নিজের পরিচয় দিয়ে লোকদের সাথে কথা বলতে থাকেন।
আল্লাহ তায়ালা আদম-কে তৈরি করেছেন মাতা-পিতা ছাড়া। আর ঈসা-কে সৃষ্টি করলেন পিতা ছাড়া কেবল মাতা থেকে। আল্লাহর এ কুদরতের নিদর্শন দেখানোর জন্যে এমন এক নারী অর্থাৎ মারইয়ামকে নির্বাচন করলেন যিনি রাতভর আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকতেন এবং তিনি ছিলেন নির্মল নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারিণী।

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 মর্যাদাবান নারীরা সমাজ বিমুখ থাকে না

📄 মর্যাদাবান নারীরা সমাজ বিমুখ থাকে না


يَا مَرْيَمُ اقْنُتِي لِرَبِّكِ وَاسْجُدِي وَارْكَعِي مَعَ الرَّاكِعِينَ.
অর্থ: হে মারইয়াম! তোমার রবের ফরমানের অনুগত হয়ে থাকো। তাঁর সামনে সিজদানত হও এবং যেসব বান্দা তাঁর সামনে অবনত হয় তুমিও তাদের সাথে অবনত হও। (সূরা: আল ইমরান: আয়াত-৪৩)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: পূর্বের আয়াতে মারইয়াম-কে তৎকালীন নারী কুলের শ্রেষ্ঠতম মর্যাদা দানের ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে তাঁকে স্বীয় রবের অনুগত হওয়ার জন্য, রবের সিজদা করার জন্যে এবং রুকূ'কারীদের সাথে রুকূ' করার জন্যে স্বয়ং রাব্বুল আলামীন নির্দেশ দিয়েছেন। মানব সমাজের প্রত্যেক পর্যায়ে সকল কালের নর-নারীরা জীবনের সামগ্রিক কার্যাবলিতে হয়ত সত্য পথে চলেছে নয়ত চলেছে বাতিলের পথে। সকল নর-নারীকে নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী হকপন্থী ও বাতিল পন্থী-এ দু'ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে। মর্যাদাবান নারীরা বাস্তবে অন্যান্য মর্যাদার অধিকারীদেরই দলভুক্ত হয়ে চলবে এটাই স্বাভাবিক। রুকূ'কারীদের সাথে রুকূ' করার অর্থ সমাজের সৎপন্থীদের দলভুক্ত থাকা এবং ব্যক্তিগতভাবেও সৎকাজ করা।
সমাজের জনসংখ্যার অর্ধেক যেমন নারী তেমনি বিশ্ব সৌন্দর্য সংস্থাপনে নরের মত নারীর ভূমিকাও কম নয়। ইসলাম নারীদেরকেও নির্ধারিত পরিমণ্ডলে ও নির্দিষ্ট গণ্ডীতে থেকে সামাজিক শান্তি স্থাপনে ও সমাজের উন্নতি বিধানে সম্ভাব্য ভূমিকা রাখার অবকাশ দিয়েছে। এমন নয় যে, কেবল নরেরাই সমাজে সক্রিয় থাকবে আর নারীরা থাকবে নিষ্ক্রীয় হয়ে। বস্তুত নারীদের নিষ্ক্রীয় থাকা বা সমাজ বিমুখ থাকা বা সার্বিক কর্মকাণ্ডে কোনো ভূমিকা না রাখা, কখনো কোনো মর্যাদাশীল জাতি মাত্রেরই কাম্য হতে পারে না। ইসলামের গৌরবময় যুগেও নারীদের ভূমিকা ছিল সমাজের সার্বিক কল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। রাসূলের যুগে নারীরা জিহাদের জন্য যুদ্ধ ময়দানেও গিয়েছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00