📄 সাক্ষী হিসেবে নারী
وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ فَإِنْ لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى .
অর্থ: তারপর নিজেদের পুরুষদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে তার স্বাক্ষী রাখো। আর যদি দু'জন পুরুষ না পাওয়া যায়, তাহলে একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলা সাক্ষী হবে, যাতে একজন ভুলে গেলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। (সূরা আল-বাকারা: আয়াত-২৮২)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতাংশে লেনদেনে দলীল লেখা ও লেখানোর জরুরি মূলনীতি ব্যক্ত করা হয়েছে। ইসলামে লেনদেনে দলীল সম্পাদনার সাথে সাথে সাক্ষী রাখার জন্যে বিধান দেয়া হয়েছে। যেন কখনো কোনো পারস্পরিক কলহ দেখা দিলে আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য দ্বারা ফায়সালা করা যেতে পারে। কিন্তু কিফহ শাস্ত্রবিদগণের মতে কেবল লেখা শরীয়ত সম্মত প্রমাণ নয়, সাথে সাথে সাক্ষীও থাকতে হবে। সাক্ষী ছাড়া কেবল লেখার উপর ভিত্তি করে বিচার ফায়সালা করা শরীয়ত সম্মত নয়।
শরীয়ত সাক্ষীর সংখ্যাও নির্ধারণ করে দিয়েছে, সমাজে গ্রহণযোগ্য দু'জন মুসলমান পুরুষ সাক্ষী থাকতে হবে। যদি দু'জন পুরুষ না পাওয়া যায়, তবে অন্তত: একজন পুরুষ ও দু'জন নারীকে সাক্ষী বানাতে হবে। যাতে করে একজন নারী বিষয়টি ভুলে গেলে অপরজন তা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।
আলোচ্য আয়াতে সাক্ষ্য গ্রহণের কতিপয় জরুরি নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ১. সাক্ষীর সংখ্যা হবে দু'জন পুরুষ। ২. সাক্ষীদ্বয়কে মুসলিম হতে হবে। ৩. দু'জন পুরুষ না পেলে অন্তত: একজন পুরুষ ও দু'জন নারী সাক্ষী হবে। ৪. সাক্ষী করতে হবে এমন সব লোককে যারা নিজেদের নৈতিক চরিত্র বিশ্বস্ততার কারণে লোক সমাজে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত। ৫. একা একজন পুরুষ অথবা কেবল দু'জন স্ত্রীলোক সাক্ষীর জন্য যথেষ্ট নয়।