📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 মোহরানা ধার্য ব্যতীত বিবাহ হলে এবং স্ত্রীকে স্পর্শ না করলেও তাকে তালাক দিলে কিছু সম্পদ দিতে হবে

📄 মোহরানা ধার্য ব্যতীত বিবাহ হলে এবং স্ত্রীকে স্পর্শ না করলেও তাকে তালাক দিলে কিছু সম্পদ দিতে হবে


لَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ فَرِيضَةً وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرُهُ ، مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ.
অর্থ: নিজেদের স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার বা মোহরানা নির্ধারণ করার আগেই যদি তোমরা তালাক দিয়ে দাও তাহলে এতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই। এ অবস্থায় তাদেরকে অবশ্যই কিছু না কিছু দিতে হবে। সচ্ছল ব্যক্তি তার সাধ্যমত এবং দরিদ্র তার সংস্থান অনুযায়ী প্রচলিত পদ্ধতিতে দেবে। সৎলোকদের ওপর এটি একটি অধিকার। (সূরা আল-বাকারা: আয়াত-২৩৬)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে বিয়ে ও তালাক সম্পর্কিত একটি বিধান বর্ণিত হয়েছে। তা হচ্ছে বিয়ের আকদ হয়েছে ঠিক কিন্তু আকদ হওয়ার সময় মোহর নির্ধারণ করা হয়নি। এমতাবস্থায় যদি স্ত্রীর সাথে নির্জনবাস ও সহবাস হওয়ার পূর্বে তালাক হয়ে যায় তবে ঐ স্ত্রীকে মোহর দেয়া ওয়াজিব নয়। কিন্তু তবুও সামর্থানুযায়ী ঐ স্ত্রীকে অবশ্যই কিছু সম্পদ দিতে হবে। নেককার লোকদের উপর সামর্থ অনুসারে কিছু সম্পদ তাকে দিয়ে দেয়া ওয়াজিব। কতটুকু সম্পদ দিতে হবে কুরআন মজীদ তা নির্ধারণ করে দেয়নি; বরং তা লোকদের শিষ্টাচার ও ঈমানী মর্যাদার উপর ছেড়ে দিয়ে এতটুকু সীমা বলে দিয়েছে যে, ধনী ব্যক্তি তার আর্থিক সংগতি অনুযায়ী আর দরিদ্র ব্যক্তি তার সামর্থ অনুযায়ী কিছু দিয়ে দেবে।
ইসলামী শরীয়ত নারীদের ইজ্জত সম্ভ্রমের যে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং যা ইসলামী সমাজ ছাড় আর কোথায়ও নেই তারই একটা নূন্যতম নিদর্শন হচ্ছে উপরিউক্ত বিধান। নারীর সাথে কেবল বিয়ের শরীয়তসম্মত চুক্তি বা আকদ হওয়ার কারণেই তাকে কিছু সম্পদ দিতে হবে। তার সাথে বিয়ে উত্তর দৈহিক সম্পর্ক না হলেও এবং বিয়ের সময় মোহর ধার্য না হয়ে থাকলেও ইসলামী শরীয়তের এ নির্দেশ। কারণ, সম্পর্ক স্থাপনের পর তা ছিন্ন করলে স্ত্রীগণ কিছু না কিছু ক্ষতিগ্রস্ত অবশ্যই হয়ে থাকে। তাই সামর্থানুসারে সে ক্ষতিপূরণের জন্য আল্লাহর এ নির্দেশ।
আর যদি আকদ হওয়ার সময় মোহর নির্ধারণ করা হয়ে থাকে এবং নির্জনবাসের পূর্বেই তালাক সংঘটিত হয়। তবে নির্ধারিত মোহরের অর্ধেক দেয়া ওয়াজিব। অবশ্য স্ত্রী যদি ক্ষমা করে দেয় অথবা স্বামী যদি মোহর দিয়ে দেয়, তবে তা তাদের বদান্যতা। অবশ্যই ক্ষমা করার বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল অবস্থায় পরিণত হয়ছে। স্ত্রীর ক্ষমা করে দেয়াটা কোনো চাপে পড়ে অথবা আবেগে আতিসহ্যে কিনা তার প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। স্ত্রী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ক্ষমা করলে তবেই তা ক্ষমা হিসেবে গণ্য হতে পারে, অন্যথায় নয়।
আমাদের সমাজে 'মোহর' মাফ করে দেয়ার বিষয়টি স্ত্রীর সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে করা হয়। উপরিউক্ত অবস্থায় স্বামীর পক্ষ থেকেও ক্ষমা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরুষের পূর্ণ মোহর দিয়ে দেয়াকেও মাফ করে দেয়া বলা হয়েছে হয়তো এজন্যে যে, আরব দেশে সাধারণ প্রথানুযায়ী বিয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মোহর দিয়ে দেয়া হতো। সুতরাং সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে প্রদত্ত মোহরের অর্ধেক স্বামীর প্রাপ্য হয়ে যেত। কাজেই সে যদি এই অর্ধেক না নেয়, তবে তাও ক্ষমার পর্যায়ে পড়ে। ক্ষমা বা মাফ করা উত্তম তাকওয়ার অনুকুল। কেননা তালাক যে ভদ্রোচিত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ ক্ষমা তারই নিদর্শন যা শরীয়াতের দৃষ্টিতে উত্তম ও সওয়াবের কাজ। সুতরাং ক্ষমা স্ত্রীর পক্ষ থেকেও হতে পারে আর তা হতে পারে স্বামীর পক্ষ থেকেও। (মাআরেফুল কুআন)

📘 আল কুরআনে নারীদের ২৫ সূরা > 📄 সাক্ষী হিসেবে নারী

📄 সাক্ষী হিসেবে নারী


وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ فَإِنْ لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى .
অর্থ: তারপর নিজেদের পুরুষদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে তার স্বাক্ষী রাখো। আর যদি দু'জন পুরুষ না পাওয়া যায়, তাহলে একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলা সাক্ষী হবে, যাতে একজন ভুলে গেলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। (সূরা আল-বাকারা: আয়াত-২৮২)
সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতাংশে লেনদেনে দলীল লেখা ও লেখানোর জরুরি মূলনীতি ব্যক্ত করা হয়েছে। ইসলামে লেনদেনে দলীল সম্পাদনার সাথে সাথে সাক্ষী রাখার জন্যে বিধান দেয়া হয়েছে। যেন কখনো কোনো পারস্পরিক কলহ দেখা দিলে আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য দ্বারা ফায়সালা করা যেতে পারে। কিন্তু কিফহ শাস্ত্রবিদগণের মতে কেবল লেখা শরীয়ত সম্মত প্রমাণ নয়, সাথে সাথে সাক্ষীও থাকতে হবে। সাক্ষী ছাড়া কেবল লেখার উপর ভিত্তি করে বিচার ফায়সালা করা শরীয়ত সম্মত নয়।
শরীয়ত সাক্ষীর সংখ্যাও নির্ধারণ করে দিয়েছে, সমাজে গ্রহণযোগ্য দু'জন মুসলমান পুরুষ সাক্ষী থাকতে হবে। যদি দু'জন পুরুষ না পাওয়া যায়, তবে অন্তত: একজন পুরুষ ও দু'জন নারীকে সাক্ষী বানাতে হবে। যাতে করে একজন নারী বিষয়টি ভুলে গেলে অপরজন তা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।
আলোচ্য আয়াতে সাক্ষ্য গ্রহণের কতিপয় জরুরি নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ১. সাক্ষীর সংখ্যা হবে দু'জন পুরুষ। ২. সাক্ষীদ্বয়কে মুসলিম হতে হবে। ৩. দু'জন পুরুষ না পেলে অন্তত: একজন পুরুষ ও দু'জন নারী সাক্ষী হবে। ৪. সাক্ষী করতে হবে এমন সব লোককে যারা নিজেদের নৈতিক চরিত্র বিশ্বস্ততার কারণে লোক সমাজে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত। ৫. একা একজন পুরুষ অথবা কেবল দু'জন স্ত্রীলোক সাক্ষীর জন্য যথেষ্ট নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00