📘 আল কুরআনের দুআ > 📄 ভুলে যাওয়া কথা স্মরণ হবার দু'আ

📄 ভুলে যাওয়া কথা স্মরণ হবার দু'আ


আল্লাহ্ তায়ালা কুরআন মজীদে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর অনুসারী ঈমানদারগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
যখন তুমি ভুলে যাও তখন তোমার রবকে স্মরণ করো এবং বলো:
عَسَى أَن يَهْدِيَنِ رَبِّي لِأَقْرَبَ مِنْ هَذَا رَشَدًا -
অর্থ: আশা রাখি, আমার রব এ ব্যাপারে সঠিক কথা ও কর্মনীতির দিকে আমাকে পরিচালিত করবেন। (সূরা ১৮ আল কাহাফ: ২৪)
• ইন্‌শাল্লাহ বলবে
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর নবীকে নির্দেশ দিচ্ছেন:
وَلَا تَقُوْلَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَلِكَ غَدًا إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ .
অর্থ: মনে রেখো, কোনো জিনিস সম্পর্কে কখনো এমন কথা বলোনা যে: 'আমি কাল এ কাজ করবো।' (তুমি আসলে কিছুই করতে পারোনা) যদি আল্লাহ্ তা না চান। (সূরা ১৮ আল কাহাফ: ২৩-২৪)
এখানে আল্লাহ্ তায়ালা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ঈমানদার লোকদেরকে এই হেদায়াত দান করেছেন যে, "কালই আমি অমুক কাজ করবো” এরূপ দাবি করে তোমরা কখনো কথা বলোনা। কেননা কাল তোমরা সে কাজ করতে পারবে কিনা তা তোমাদের কিছুই জানা নেই। তোমরা তো গায়েব জানোনা। আর নিজেদের কাজ-কর্মে তোমরা এতোটা স্বাধীন ও সেচ্ছানুসারীও নও যে, যাই করতে চাইবে, তাই করতে সক্ষম হবে। এ কারণে অসতর্কতাবশত এ ধরনের কথা কখনো মুখ থেকে বেরিয়ে পড়লে সংগে সংগেই তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অর্থাৎ এ ভুলের জন্যে আল্লাহকে স্মরণ করবে। আর যখনই ভবিষ্যতের করণীয় কোনো কিছু সম্পর্কে কথা বলবে, তখন অবশ্যই সেই সাথে إِن شَاءَ اللَّه 'ইনশাল্লাহ' (যদি আল্লাহ্ চান) বলবে।

📘 আল কুরআনের দুআ > 📄 আসমাউল হুসনা

📄 আসমাউল হুসনা


আল্লাহ্ তায়ালা বলেন:
اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى -
অর্থ : আল্লাহ্! তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর রয়েছে সর্বোত্তম নাম সমূহ। (সূরা ২০ তোয়াহ: ৮)
বস্তুত, আল্লাহ্ তায়ালাই সমস্ত সুন্দর গুণ ও বৈশিষ্ট্যের মালিক। তিনি নিজেই কুরআন মজীদে তাঁর গুণ ও সিফাত সমূহের বর্ণনা করেছেন। কুরআনে তাঁর অনেক গুণবাচক নামের উল্লেখ রয়েছে। এসব নাম তাঁর বিশাল বিস্তৃত কুদরতের প্রকাশবহ। কোনো নাম তাঁর দোর্দণ্ড ক্ষমতা ও শক্তির কথা প্রকাশ করে, কোনো নাম তাঁর পরম দয়াবান ও ক্ষমাশীল হবার কথা প্রকাশ করে, কোনো নাম তাঁর প্রতিপালক, জীবিকা দানকারী ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহকারী হবার কথা বুঝায়। আবার কোনো নাম তাঁর সমস্ত কিছুর স্রষ্টা ও মালিক হবার কথা বুঝায়। এমনি করে তাঁর প্রতিটি নামই তাঁর বিশেষ বিশেষ ক্ষমতা ও কুদরতের কথা প্রকাশ করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
আল্লাহ্র এক কম একশ' অর্থাৎ- নিরানব্বই নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এগুলোকে হেফাজত করলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করলো। (বুখারি)
মূলত, আল্লাহ্ নাম সমূহের হেফাযত করার অর্থ হচ্ছে এগুলোকে জানা, বুঝা, আয়ত্ব করা, এগুলোর দাবি অনুযায়ী আমল করা, নিজ যিন্দেগীতে আল্লাহ্র সেসব অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা এবং এসব নামে আল্লাহকে ডাকার মাধ্যমে তাঁর এসব গুণ ও সিফাতের স্বীকৃতি দেয়া। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন:
وَاللَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا -
অর্থ: সুন্দরতম নাম সমূহের মালিক আল্লাহ্। সুতরাং সেসব নাম ধরে তোমরা তাঁকে ডাকো। (সূরা ৭ আল আরাফ: ১৮০)
তাই, কুরআন মজীদে আম্বিয়ায়ে কেরামের দু'আ ও অন্যান্য দু'আয় দেখা যায়, আল্লাহ্ 'রব' 'মওলা' 'অলী' প্রভৃতি গুণবাচক নামের ব্যবহার অধিক অধিক হয়েছে।
তবে আল্লাহ্র সবগুলো নামই সুন্দর। এ নামগুলোর যেটি ধরেই তাঁকে ডাকা হোক, তাতেই তিনি খুশি হন। তিনি বলেন:
قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ ، أَيَّامًا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى .
অর্থ: হে নবী! ওদের বলো: তোমরা আল্লাহ্ বলে ডাকো কিংবা রহমান বলে, যে নামেই তাঁকে ডাকো, মূলত সুন্দরতম নাম সমূহ তাঁর। (সূরা ১৭ বনি ইসরাঈল: আয়াত ১১০)
আমাদেরকে আল্লাহ্র সবগুলো নাম ও এগুলোর তাৎপর্য জানা উচিত। এগুলোর তাৎপর্য অনুযায়ী এসব নামে তাঁকে স্মরণ করা ও ডাকা উচিত, তাঁর নিকট দু'আ ও আবেদন-নিবেদন করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ্র এসব নাম থেকে কোনো মুমিন ব্যক্তির গাফেল থাকা উচিত নয়। মূলত, গুনবাচক নাম সমূহের মাধ্যমেই আল্লাহ্র সঠিক পরিচয় জানা সম্ভব। এসব নামের সঠিক তাৎপর্য জানা না থাকলে এসব বিষয়ে শিরক অনুপ্রবেশের আশংকা থাকে।
কুরআন ও হাদিসে আল্লাহ্ বহু গুণবাচক নামের উল্লেখ হয়েছে। হাদিসে এর সংখ্যা নিরানব্বই বলা হয়েছে। আসলে এ নিরানব্বই সংখ্যাটি আধিক্য বুঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করা হয়। কুরআনের 'আসমাউল হুসনা' শব্দগুলো থেকেও তাই বুঝা যায়। তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং মুসতাদরকে হাকিমে নিরানব্বইটি নাম সম্বলিত হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিরমিযীতে যে নিরানব্বইটি নাম উল্লেখ হয়েছে, তাতে এমন ২৬টি নাম আছে, যা ইবনে মাজাহ এবং মুসতাদরকে নেই। ইবনে মাজাহ বর্ণিত নিরানব্বইটি নামের মধ্যে এমন ২৬টি নাম আছে, যেগুলো তিরমিযী এবং মুসতাদরকে নেই। আবার মুসতাদরকে বর্ণিত নিরানব্বই নামের মাঝে এমন ২০টি নাম আছে যেগুলো অপর দুটি গ্রন্থে নেই। এভাবে নামের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তবে একই মূল শব্দ থেকে দুইটি/তিনটি নাম গঠিত হয়েছে এমন বেশ কিছু নাম আছে। এখানে আমরা সূত্রসহ উপরোক্ত তিনটি বর্ণনা উল্লেখ করছি। এর ফলে আল্লাহ্র নাম সমূহ জানা বুঝা সহজ হবে বলে আশা করি।
* সম্ভবত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নামের সংখ্যা ৯৯টি উল্লেখ করেছেন আল্লাহর নামের আধিক্য বুঝাবার জন্যে। তাই সাহাবাগণকে বলার সময় ৯৯টির অনেক বেশি বলেছেন। কিন্তু সাহাবীগণ হয়তো নির্দিষ্ট ৯৯টি বুঝেছেন এবং বর্ণনা করার সময়ও ৯৯টিই বর্ণনা করেছেন।
১ তিরমিযী > ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব > সফওয়ান ইবনে সালেহ > অলীদ ইবনে মুসলিম > শুয়াইব ইবনে আবী হামযা > আবু যিনাদ > আ'রাজ > আবু হুরাইরা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ্র নিরানব্বইটি নাম আছে। যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ব করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নামগুলো হলো:
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمُ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ
السلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ
الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ الْغَفَّارُ الْقَهَّارُ الْوَهَّابُ
الرزاق الْفَتَاحُ الْعَلِيمُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الْغَافِضُ
الرافع الْمَعِزُ الْمُذِلُّ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ الْحَكَمُ
الْعَدْلُ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ الْعَلِيمُ الْعَظِيمُ الْغَفُورُ
الشَّكُورُ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ الْحَفِيظُ الْمُقِيتُ الْحَسِيبُ
الْجَلِيلُ الْكَرِيمُ الرَّقِيبُ الْمُجِيبُ الْوَاسِعُ الْحَكِيمُ
الودود الْمَجِيدُ الْبَاعِثُ الشَّمِيلُ الْحَقِّ الْوَكِيلُ
القوى الْمَتِينُ الْوَلِي الْحَمِيدُ الْمُحْصِي الْمُبْدِي
الْمُعِيدُ الْمُحْيِ الْمُمِيتُ الْحَيُّ الْقَيُّومُ الْوَاجِدُ
الْمَاجِدُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ الْقَادِرُ الْمُقْتَدِرُ الْمُقَدِّمُ
المُؤَخِّرُ الْأَوَّلُ الْآخِرُ الظَّاهِرُ الْبَاطِنُ الْوَالِي
الْمُتَعَالِي الْبَرِّ التَّوَّابُ الْمُنْتَقِمُ الْعَفْوَ الرَّءُوفُ
مَالِكُ الْمُلْكِ ذُو الْجَلَالِ وَالإِكْرَامِ الْمُقْسِطُ الْجَامِعُ
الْغَنِيُّ الْمُغْنِى الْمَانِعُ الضَّارُ النَّافِعُ النُّورُ
الْهَادِي الْبَدِيعُ الْبَاقِي الْوَارِثُ الرَّشِيدُ الصَّبُورُ
২ ইবনে মাজাহ > হিশাম ইবনে আম্মার > আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ সুনআনী > আবুল মুনযের যুহায়ের ইবনে মুহাম্মদ তামিমী > মূসা ইবনে উকবা > আবদুর রহমান আ'রাজ > আবু হুরাইরা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ্ র নিরানব্বইটি নাম আছে অর্থাৎ এক কম একশ'টি। তিনি বিজোড় এবং বিজোড়কে ভালোবাসেন। যে তাঁর এই নামগুলো হিফাযত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নামগুলো হলো:
الله الْوَاحِدُ الْأَوَّلُ الصَّমَدُ الْآخِرُ الظَّাহِرُ الْبَاطِنُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصور الْمُلْكُ الْحَقُّ السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيمُ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ الْعَلِيمُ الْعَظِيمُ الْبَارُّ الْمُتَعَالُ الْجَلِيلُ الْجَمِيلُ الْحَيُّ الْقَيُّومُ الْقَادِرُ الْقَاهِرُ الْعَلِيُّ الْحَكِيمُ الْقَرِيبُ الْمُجِيبُ الْغَنِيُّ الْوَهَّابُ الْوَدُودُ الشَّكُورُ الْمَاجِدُ الْوَاجِدُ الْوَلِيُّ الرَّاشِدُ الْعَفُوُّ الْغَفُورُ الْعَلِيمُ الْكَرِيمُ التَّوَّابُ الرَّبُّ الْمَجِيدُ الْوَلِيُّ الشَّهِيدُ الْمُبِينُ الْبُرْهَانُ الرَّؤُفُ الْمُبْدِيُّ الْمُعِيدُ الْبَاعِثُ الْوَارِثُ الْقَوِيُّ الشَّدِيدُ الضَّارُّ النَّافِعُ الْبَاقِي الْوَافِيُّ الْخَافِضُ الرَّافِعُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الْمُعِزُّ الْمُذِلُّ الْمُقْسِطُ الرَّزَّاقُ ذُوالْقُوَّةِ الْمَتِينُ الْقَائِمُ الدَّائِمُ الْحَافِظُ الْوَكِيلُ الْفَاطِرُ السَّامِعُ الْمُعْطِي الْمُحْیِي الْمُمِيتُ الْمَانِعُ الْجَامِعُ الْهَادِي الْكَافِي الْأَبَدُ الْعَالِمُ الصَّادِقُ النُّورُ الْمُنِيرُ التَّامُّ الْقَدِيرُ الْوِتْرُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدُ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ -
৩ হাকিম > আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান > আমীর আবু হাইছাম > খালিদ ইবনে আহমদ > আবু আসাদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বলখী > খালিদ ইবনে মুখাল্লাদ > মুহাম্মদ ইবনে সালেহ ও আবু বকর ইবনে আবদুল্লাহ > হাসান ইবনে সুফিয়ান > আহমদ ইবনে সুফিয়ান আন নাসায়ী > খালিদ ইবনে মুখাল্লাদ > আবদুল আযীয ইবনে হুসাইন > আইয়ুব সিখতিয়ানী ও হিশام ইবনে হাসান > মুহাম্মদ ইবনে সীরীন > আবু হুরাইরা রা. নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আল্লাহ্‌র নিরানব্বইটি নাম আছে। যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ব করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেগুলো হলো:
الله الرحمنِ الرَّحِيمُ الإِلهُ الرب الملك الْقَدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ العبار الْمُتَكَبِّرُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ الْعَلِيمُ الْعَلِيمُ السميع البصير الحي القيوم الواسع اللطيف الخَبِيرُ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ البديع الودود الغَفُور الشَّكُورُ الْمَعِيدُ الْمُبْدِئُ الْمُعِيدُ النور الأول الْآخِرُ الظَّاهِرُ الْبَاطِنُ الْغَفَّارُ الْوَهَّابُ الْقَادِرُ الأحل الصمد الْكَافِي الْبَاقِي الْوَكِيلُ المغيث الدَّابِرُ الْمُتَعَالُ ذُو الْجَلَالِ وَالإِكْرَمِ الْمَوْلَى النَّصِيرُ الْحَقِّ الْمُبِينُ الْمَنِيبُ الْبَاعِثُ الْمَعِيبُ الْمُعْى الْمُمِيسُ الْجَمِيلُ الصَّادِقُ الْحَفِيةُ المحيط الْكَبِيرُ الْقَرِيبُ الرَّقِيبُ الْفَتَّاحُ التواب الْقَدِيم الوثر الْفَاطِرُ الرَّزَّاقُ العلام العلي العظيم الْغَنِي المليك الْمُقْتَدِرُ الأَكْرَمُ الرؤف المدير المالك الْقَاهِرُ الْقَدِيرُ الْهَادِي الشَّاكِرُ الرفيع الشَّمِيدُ الْوَاحِدُ ذُو الطُّولُ ذُو الْمَعَارِجِ ذُو الْفَضْلِ الْخَلاقُ الْكَفِيلُ الْجَلِيلُ الْكَرِيمُ
আমরা এখানে আল্লাহ্ নাম সমূহের অর্থ ও তাৎপর্য আলোচনা করছি:
১. আল্লাহ : এ হচ্ছে বিশ্ব-স্রষ্টার অস্তিত্বের নাম। সমস্ত গুণরাজি, যাবতীয় কল্যাণ ও পুত-পবিত্রতার শিরমণি এ নাম। তিনি ছাড়া এ নাম আর কখনো কারো জন্যে ব্যবহৃত হয়নি- এবং হতে পারবেনা। সৃষ্টি, ক্ষমতা, জ্ঞান, প্রশংসা ও করুণার উৎস এ নাম। এ নাম সৃষ্টির আগে থেকে ছিলো। সৃষ্টি ধ্বংসের পরেও থাকবে। এ নামের অস্তিত্ব অবিনশ্বর, চিরস্থায়ী, চিরন্তন-শাশ্বত:
اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى -
অর্থ: আল্লাহ্! তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁরই জন্যে সমস্ত সুন্দরতম নাম। (সূরা ২০ তোয়াহা : ৯)
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ -
অর্থ: আল্লাহ্! তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, শাশ্বত। (সূরা ২ আল বাকারা: ২৫৫)
গোলামী-দাসত্ব, আনুগত্য আত্মসমর্পণ, ত্যাগ-তৎপরতা, এসব কিছু তাঁরই জন্যে নির্দিষ্ট করতে হবে। সমস্ত কামনা-বাসনা-ইচ্ছা তাঁকেই জানাতে হবে। সাহায্য তাঁর নিকটই চাইতে হবে। তাঁকেই ভয় করতে হবে। সমস্ত প্রেম ও ভালোবাসা তাঁরই জন্যে কেন্দ্রীভূত করতে হবে।
২. اَلْإِلَهُ : 'ইলাহ্' শব্দটি মূলত আল্লাহ্ তায়ালার সিফাত বা গুণবাচক নাম সমূহের কেন্দ্রবিন্দু। ইলাহ এমন একটি পরিভাষা- যার অর্থ মানবীয় কোনো ভাষায়ই এক শব্দ বা এক বাক্যে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, ইলাহ দ্বারা বুঝায় নিরঙ্কুশ মালিকানা, ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের অধিকার।
وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهُ وَفِي الْأَرْضِ إِلَهُ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ -
অর্থ: আসমান ও যমীনে তিনি একজনই ইলাহ। অর্থাৎ আসমান ও যমীনের ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী তিনি একজনই এবং ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রয়োগের জন্যে যে জ্ঞান ও কৌশলের প্রয়োজন তা সবই তাঁর আছে। (সূরা ৪৩ আয যুখরুফ: ৮৪)
وَهُوَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَى وَالْآخِرَةِ ، وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ . قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيمَةِ مَنْ اللَّهُ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيْكُمْ بِضِيَاءٌ ، أَفَلَا تَسْمَعُونَ ، قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيمَةِ مَنْ إِلَّهُ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيْكُمْ بِلَيْلٍ تسكنُونَ فِيهِ ، أَفَلَا تُبْصِرُونَ .
অর্থ: তিনিই আল্লাহ্। তিনি ছাড়া আর কোনো 'ইলাহ' নেই। দুনিয়া ও আখেরাতে সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁরই জন্যে। একমাত্র তিনিই ক্ষমতা, নির্দেশ দান ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তাঁরই নিকট তোমাদের ফিরে যেতে হবে। বলো, তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো আল্লাহ্ যদি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তোমাদের উপর রাতকে স্থায়ী করে দেন, তবে তোমাদেরকে প্রভাত এনে দিতে পারে- এমন কোনো 'ইলাহ' আছে কি? তোমাদের কি শ্রবণ শক্তি নেই। বলো, তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছো আল্লাহ্ যদি কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ীভাবে তোমাদের উপর দিন চাপিয়ে দেন, তবে বিশ্রাম লাভের জন্য তোমাদেরকে রাত এনে দিতে পারে- এমন কোনো 'ইলাহ' আছে কি? তোমাদের কি দৃষ্টি শক্তি নেই? (সূরা ২৮ আল কাসাস : আয়াত ৭০-৭২)
কুরআন মজীদে 'ইলাহ' শব্দের ব্যাপক প্রয়োগ হয়েছে। এসব প্রয়োগের সারকথা হচ্ছে এই যে, আল্লাহর ইলাহ বিশেষণটি দ্বারা সকল ক্ষমতা, কর্তৃত্ব রাজত্ব স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নির্দেশ দানের ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ্র জন্যে নির্দিষ্ট হয়ে যায়।
আল্লাহ্র এ নামের দাবি হচ্ছে এই যে, মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব নির্দেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও রাজত্বকে মেনে নেবে এবং শুধুমাত্র তাঁকেই অভাব পূরণকারী, সমস্যা ও জটিলতা থেকে মুক্তি দানকারী, আশ্রয় দানকারী, সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানকারী, তত্ত্বাবধান ও সংরক্ষণকারী এবং আহ্বানে সাড়া দানকারী মেনে নেবে, তাকে উপাস্য ও আনুগত্য লাভের একমাত্র অধিকারী মেনে নেবে।
'ইলাহ'র অধিকার বা দাবিকে যারা নফস, সমাজ, রাষ্ট্র ক্ষমতা ও শক্তিশালী ব্যক্তি, বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি বা অন্য যে কারো বা কিছুর প্রতি আরোপ করে তারা শিরক করে।
৩. الرِّب : এর মৌলিক ও প্রাথমিক অর্থ হচ্ছে 'প্রতিপালক'। কিন্তু এই মূল অর্থের ভিত্তিতে কুরআনে ও আরবদের ভাষায় এ শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এসব অর্থকে মৌলিকভাবে চার ভাগে ভাগ করা যায় :
ক. প্রতিপালক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহকারী, প্রশিক্ষণদানকারী ও ক্রমবিকাশদাতা। যেমন :
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
অর্থ : হে রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো। (সূরা ২০ তোয়াহা : ১১৪)
مَعَاذَ اللَّهِ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَاى -
অর্থ: ইউসুফ বললো: আল্লাহ্ আশ্রয়! আমার রব তো আমাকে উত্তম মর্যাদায় রেখেছেন। (সূরা ১২ ইউসুফ: ২৩)
খ. দায়িত্বশীল, তত্ত্বাবধায়ক, পর্যবেক্ষক এবং অবস্থার সংশোধন ও পরিবর্তনের দায়িত্বশীল।
فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ وَلِى إِلَّا رَبِّ الْعَلَمِينَ * الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ . وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ * وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ .
অর্থ: বিশ্ব-নিখিলের 'রব' যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমাকে পথ প্রদর্শন করেন, পানাহার করান, আমি পীড়িত হলে আরোগ্য দান করেন। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্যসব (রব) তো আমার দুশমন। (সূরা ২৬ আশ শোয়ারা: ৭৭-৮০)
ربُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلاً -
অর্থ: তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের রব। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তাই, তাঁকেই সকল ব্যাপারে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে গ্রহণ করো। (সূরা ৭৩ আল মুজ্জাম্মিল: ৯)
গ. কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী, দানকারী, আনুগত্য লাভের অধিকারী, এমন ক্ষমতাশালী যার নির্দেশ ও কর্তৃত্ব সকলকে মেনে চলতে হয়।
وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ -
অর্থ: (এই শর্তে একমত হও যে) আমাদের (উভয় পক্ষের) কেউ যেনো আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকেও রব না বানায়। (সূরা ৩ আলে ইমরান : আয়াত ৬৪)
ঘ. মালিক ও মনিব।
رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشْرِقِ -
অর্থ : তিনি আসমান ও যমীন এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর মালিক। যেসব বস্তুর উপর সূর্যোদয় হয়, তিনি সেগুলোরও মালিক। (সূরা ৩৭ আস্ সাফ্ফাত : ৫)
فَلْيَعْبُدُوا رَبِّ هَذَا الْبَيْتِ الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَامَنهُم مِّنْ خَوْفِ .
অর্থ : সুতরাং তাদের উচিত এই (কাবা) ঘরের মালিকের ইবাদত করা, যিনি তাদের রিযিক সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন এবং ভয়-ভীতি থেকে তাদের নিরাপদ রেখেছেন। (সূরা ১০৬ আল কোরাইশ : ৩-৪)
এভাবে 'রব' শব্দটি কুরআনে কোথাও পৃথক পৃথক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার কোথাও সবগুলো অর্থের সমন্বয়ে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
অর্থ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্যে, যিনি সারে-জাহানের 'রব'। (সূরা ১ ফাতিহা : আয়াত ১)
মোটকথা, আল্লাহকে 'রব' মেনে নেয়ার অর্থ হলো, আমি একমাত্র আল্লাহকেই নিজের মালিক, মনিব, মুরুব্বি, প্রতিপালক, পর্যবেক্ষক, সংরক্ষণকারী, শাসক, আইনদাতা, নির্দেশ দানকারী, আনুগত্যের অধিকারী, তত্ত্বাবধায়ক ও ব্যবস্থাপক মেনে নিয়েছি।
৮. الْحَاكِمُ : যখন আল্লাহ তায়ালার বিশেষণ হিসেবে 'আল-হাকিম' শব্দটি ব্যবহৃত হয় তখন তার অর্থ হয়: আল্লাহই একমাত্র সার্বভৌম সত্তা, শাসন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব শুধু তাঁরই। আইন-বিধান ও হুকুম দানের ক্ষমতা শুধু তাঁরই আছে।
وَعِنْدَ هُمُ التَّوْرَةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ -
অর্থ : তাদের নিকট তাওরাত আছে। তাতে আল্লাহ্ আইন ও বিধান লিখিত আছে। (সূরা ৫ আল মায়েদা : ৪৩)
إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ -
অর্থ : নির্দেশ দান, শাসন ও সার্বভৌম ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা তাঁর ছাড়া আর কারো গোলামী করোনা- আইন বিধান মেনে নিয়োনা। (সূরা ১২ ইউসুফ: ৪০)
৫. الْحَكَرُ : 'হাকাম' এবং পূর্বের 'হাকিম'-এ শব্দদ্বয় মূলগত অর্থের দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হাকিম মানে হুকুম কর্তা, আইন ও বিধান দাতা আর 'হাকাম' মানে- আইন ও বিধান অনুযায়ী বিচারকর্তা ফায়সালাকারী। আল্লাহ্ বিশেষণ 'আল-হাকাম' মানে- তিনিই একমাত্র বিচারকর্তা, নিরঙ্কুশ ফায়সালাকারী। তাঁর ফায়সালাই সকলকে মেনে নিতে হবে।
أَفَغَيْرَ اللَّهِ ابْتَغِي حَكَمًا .
অর্থ: আমি কি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোনো ফায়সালাকারী খুঁজবো? (সূরা ৬ আল আনয়াম : ১১৪)
أَفَحُكْمُ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ط وَمَنْ أَحْسَنَ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ .
অর্থ: তারা কি জাহেলিয়াতের বিচার কামনা করে। অথচ দৃঢ় বিশ্বাসীদের জন্যে আল্লাহ্ চেয়ে উত্তম ফায়সালাকারী কে আছে? (সূরা ৫ আল মায়েদা : ৫০)
وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ -
অর্থ: তোমরা যখন লোকদের মাঝে বিচার ফায়সালা করবে, তখন যেনো ইনসাফের সাথে বিচার ফায়সালা করো। (সূরা ৪ আন্ নিসা: ৫৮)
وَأَنِ احْكُمُ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ .
অর্থ: তাদের মাঝে আল্লাহ্ অবতীর্ণ আইন-বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করো। (সূরা ৫ আল মায়েদা : ৪৯)
وَمَنْ لَمْ يَحْكُمُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَفِرُونَ -
অর্থ: যারা আল্লাহ্র নাযিল করা আইন-বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করেনা তারা কাফির। (সূরা ৫ আল মায়েদা : ৪৪)
وَان وَعْدَكَ الْحَقِّ وَأَنْتَ أَحْكَمُ الْحَكِمِينَ -
অর্থ: (নূহ বলল: হে আল্লাহ্!) নিশ্চয়ই তোমার ওয়াদা সত্য এবং তুমিই সব বিচারকের সেরা বিচারক। (সূরা ১১ হুদ : ৪৫)
৬. الْحَكِيْرُ : মূল শব্দ 'হিকমাত'। এর অর্থ জ্ঞান-বিজ্ঞান, কৌশল-প্রকৌশল এবং প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞতা। আর আল্লাহ্ তায়ালার 'হাকীম' হওয়ার অর্থ এই যে, তিনিই সমস্ত জ্ঞান, বিজ্ঞান, কৌশল-প্রকৌশল ও বিজ্ঞতার উৎস ও আধার। সৃষ্টির কাঠামো ও বান্দাহদের যাবতীয় মোয়ামেলার তিনি সুকৌশলে ও বিজ্ঞতার সাথে ফায়সালা করেন:
إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا -
অর্থ: আল্লাহ্ অতিশয় জ্ঞানী এবং জ্ঞান-বিজ্ঞতা ও কৌশলের আধার। (সূরা ৭৬ আদ দাহার: আয়াত ৩০)
৭. الْخَالِقَ : অর্থাৎ আল্লাহ্ সৃষ্টির পরিকল্পনাকারী। অবস্থা ও পরিবেশের প্রেক্ষিতে তিনিই সর্বোত্তমভাবে সৃষ্টির 'নকশা' প্রস্তুতকারী।
৮. الْبَارِی : অস্তিত্ব দানকারী। অর্থাৎ তিনিই সৃষ্টিকে সম্পূর্ণ শূন্যতার বা অনস্তিত্বের অন্ধকার থেকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন।
৯. الْمُصَوّم : আকৃতি দানকারী।
আল্লাহ্ তায়ালাই গোটা সৃষ্টির পরিকল্পনা তৈরি করেন, অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন এবং প্রত্যেক সৃষ্টিকে উপযুক্ত ও পছন্দসই আকৃতি দান করেন :
هُوَ اللَّهُ الْخَلِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّر -
অর্থ : তিনি আল্লাহ্! তিনিই সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রস্তুতকারী, সৃষ্টির অস্তিত্ব এবং আকৃতি দানকারী। (সূরা ৫৯ আল হাশর: ২৪)
১০. الخلاق : যে কোনো সময় যে কোনো প্রকার সৃষ্টি করতে তিনি সক্ষম:
أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِقَدِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ ، بَلَى قِ وَهُوَ الْخَلْقُ الْعَلِيمُ .
অর্থ: যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি এরি মতো সৃষ্টির শক্তি রাখেননা? হাঁ অবশ্যই তিনি যে কোনো প্রকার সৃষ্টির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রাখেন এবং এ ব্যাপারে তিনি অতিশয় বিজ্ঞ। (সূরা ৩৬ ইয়াসীন: ৮১)
১১. الْقَادِرُ : মহা শক্তিধর। অর্থাৎ যে কোনো সময় যে কোনো শক্ত, কঠিন ও বিরাট কাজ করার তিনি শক্তি ও ক্ষমতা রাখেন।
أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ إِلَى نَجْمَعَ عِظَامَهُ بَلَى قَدِرِينَ عَلَى أَنْ نُسَوِّى بَنَانَهُ
অর্থ: মানুষ কি ধারণা করছে যে, তার বিগলিত হাড় সমূহ আমরা একত্রিত করবোনা? হাঁ অবশ্যই তা করবো। তাকে পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি করতে আমি সম্পূর্ণ সক্ষম। (সূরা ৭৫ আল কিয়ামাহ : ৩-৪)
দশ নম্বরের আয়াতটিতেও 'কাদের' শব্দটির ব্যবহার দেখুন।
১২. الْقَدِيرُ : শক্তি ও ক্ষমতার আধার। তিনি সকল কিছুর উপর পরিপূর্ণ শক্তি, ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ রাখেন:
إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ -
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সকল কিছুর উপর পূর্ণ শক্তি ও ক্ষমতা রাখেন। (সূরা ২ আল বাকারা : ২০)
১৩. الْمُقْتَدِرُ : মহাশক্তিমান, স্বাধীন, প্রবল পরাক্রমশালী, কোনো কিছুতেই বাধ্য নন:
وَلَقَدْ جَاءَ آلَ فِرْعَوْنَ النُّذُرُ كَذَّبُوا بَآيَتِنَا كُلَّهَا فَأَخَذْتُهُمْ أَخَذَ عَزِيزٍ مُّقْتَدِرٍ .
অর্থ: আর ফেরাউনের লোকদের নিকট সাবধানবাণী ও হুঁশিয়ারি এসেছিলো। কিন্তু তারা আমার সমস্ত নিদর্শন মিথ্যা বলে অমান্য করলো। অবশেষে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম প্রবল পরাক্রমশীলের পাকড়াও। (সূরা ৫৪ আল কামার: ৪১-৪২)
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّتٍ وَنَهَرٍ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍ .
অর্থ: খোদার নাফরমানী থেকে বিরত থাকা লোকেরা নিশ্চিতই জান্নাত ও ঝর্ণা সমূহের মধ্যে হবে। প্রকৃত সম্মান-মর্যাদার স্থান মহাশক্তিমান স্বাধীন সম্রাটের নিকট। (সূরা ৫৪ আল কামার: ৫৪-৫৫)
১৪. الْوَلَى: পৃষ্ঠপোষক, সাহায্যকারী, অভিভাবক, বন্ধু।
اللَّهُ وَلِي الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ -
অর্থ : আল্লাহ্ মুমিনদের সাহায্যকারী পৃষ্ঠপোষক। তিনি অন্ধকার থেকে আলোকের দিকে বের করে আনেন। (সূরা ২ আল বাকারা: ২৫৭)
فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنْتَ وَلِي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ -
অর্থ: (ইউসুফ দু'আ করলো) আসমান ও যমীনের স্রষ্টা! ইহকাল ও পরকালে তুমিই আমার অলী। (সূরা ১২ ইউসুফ: ১০১)
১৫. المولٰی : আশ্রয়দাতা, সাহায্যকারী, অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক, সমর্থক, বন্ধু।
وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ .
অর্থ : আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক -মওলা। তিনিই উত্তম বন্ধু ও সাহায্যকারী। (সূরা ২২ আল হজ্জ: ৭৮)
فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَوْلَكُمْ نِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ -
অর্থ: জেনে রেখো, আল্লাহ্ই তোমাদের পৃষ্ঠপোষক আশ্রয়দানকারী। তিনি সর্বোত্তম বন্ধু ও সাহায্যকারী। (সূরা ৮ আল আনফال: ৪০)
ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ مَوْلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَأَنَّ الْكَفِرِينَ لَا مَوْلَى لَهُمْ -
অর্থ: (কাফেরদের এই অশুভ পরিণতির কারণ এই যে) তাদের কোনো মওলা নেই, অথচ আল্লাহ্ মুমিনদের মওলা। (সূরা ৪৭ মুহম্মদ: ১১)
انت مَوْلَنَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَفِرِينَ .
অর্থ: (হে আল্লাহ্!) তুমিই আমাদের মওলা। কাফেরদের প্রতিকূলে তুমি আমাদের সাহায্য করো। (সূরা ২ আল বাকারা: শেষ আয়াত)
১৬. الْكِ: অর্থাৎ আল্লাহ্ সেই সত্তা- যিনি সবকিছুর প্রকৃত মালিক। তাঁর সম্মুখে সকলেই নি:স্ব অসহায় :
اللهم ملك الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ .
অর্থ: বলো: হে আল্লাহ্! সমগ্র রাজ্য ও সাম্রাজ্যের মালিক। তুমি যাকে ইচ্ছে করো রাজ্য দান করো। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ২৬)
১৭. الْمَلِكُ : সম্রাট-শাসক, কর্তা। অর্থাৎ- আল্লাহই নিখিল জগতের একমাত্র ও প্রকৃত সম্রাট।
فَتَعَلَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ -
অর্থ: আল্লাহ্ অতিশয় উচ্চ ও মর্যাদাবান। তিনিই প্রকৃত সম্রাট। (সূরা ২৩ আল মুমিনূন: আয়াত ১১৬)
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ * مَلِكِ النَّاسِ .
অর্থ: বলো: আমি আশ্রয় চাই সমগ্র মানুষের রবের নিকট, সকল মানুষের সম্রাটের নিকট। (সূরা ১১৪ আন্ নাস: ১-২)
১৮. الرحمن : অত্যাধিক দয়াপরবশ, দয়ার সাগর, অতিশয় অনুরাগী। অর্থাৎ- আল্লাহ্ সেই মেহেরবান সত্তা যিনি মানবজাতির প্রতি সীমাহীন দয়ার আধার। অনুরাগী করুণাময়-দয়াপরবশ। তিনি অনুগ্রহ করে মানুষকে সৃষ্টি করে তাঁর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত সমূহ দ্বারা তাদের ভূষিত করেছেন:
الرَّحْمَنُ عَلْمَ الْقُرْآنِ . خَلَقَ الإِنْسَ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ .
অর্থ: দয়া ও অনুরাগের সাগর তিনি। তিনিই তো কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে কথা বলা শিখিয়েছেন। (সূরা ৫৫ আর রাহমান: আয়াত ১-৪)
১৯. الرَّحِيمُ : অর্থাৎ তিনি সেই সত্তা- যার করুণা ও অনুগ্রহ চির প্রবহমান। তাঁর স্থায়ী রহমতের ধারা কখনো ছিন্ন হয়না। মুমিনদের প্রতি তাঁর রহমতের ধারা দুনিয়ায় এবং আখেরাতেও অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ষিত হতে থাকবে:
وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا.
অর্থ: মুমিনদের প্রতি তাঁর করুণার ধারা অবিরাম প্রবহমান। (সূরা ৩৩ আল আহযাব: আয়াত ৪৩)
২০. الْعَزِيزُ : মহাপরাক্রমশালী। তিনি সমস্ত ক্ষমতা ও মর্যাদার অধিকারী। তাঁর ক্ষমতা সর্বব্যাপী কার্যকর। তাঁর ক্ষমতার বাইরে কেউ নেই, কিছুই নেই:
فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا.
সমস্ত ক্ষমতা-ইয্যতের মালিক একমাত্র আল্লাহ্। (সূরা ৪ আন নিসা: ১৩৯)
إِنَّ عَزِيزٌ حَكِيمٌ -
অর্থ: আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশালী বিজ্ঞানময়। (সূরা ৩১ লুকমান: ২৭)
২১. الْجَبَّارُ : অর্থাৎ তিনি অতিশয় কঠোর, অত্যন্ত জবরদস্ত, অদম্য শক্তির অধিকারী। সৃষ্টির যে কোনো শক্তি তাঁর সম্মুখে সম্পূর্ণ দুর্বল ও অসহায়। সৃষ্টিজগতকে ধ্বংস করে পুন:সৃষ্টির তিনি দুর্বার ক্ষমতা রাখেন।
الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ -
২২. الْقَهَّارُ : দোর্দণ্ড প্রতাপশালী, অতিশয় ক্ষমতাধর, কঠিন শাস্তিদাতা।
لمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ -
অর্থ: আজকে শাসন ও ফরমান কার হাতে? এক, একক আল্লাহর হাতে। যিনি দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ক্ষমতাধর ও কঠিন শাস্তিদাতা। (সূরা ৪০ আল মু'মিন: ১৬)
২৩. الْقَامِرُ : অর্থাৎ তিনি বান্দাদের উপর শক্তি, ক্ষমতা ও ইখতিয়ার রাখেন :
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ -
অর্থ: তিনি বান্দাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। (সূরা ৬ আল আনয়াম-৬১)
২৪. الْقَوِی : অতিশয় শক্তিশালী। তাঁর শক্তির নিকট কারো শক্তিই খাটেনা।
২৫. الشَّرِينَ : অত্যন্ত শক্ত ও কঠোরভাবে পাকড়াওকারী, তাঁর পাকড়াও থেকে কেউ রেহাই পাবেনা:
كداب آلِ فِرْعَوْنَ لا وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ ، كَفَرُوا بِأَيْتِ اللَّهِ فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بذُنُوبِهِمْ ، إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ شَدِيدُ الْعِقَابِ .
অর্থ: এদের আচরণ হচ্ছে ফেরাউন এবং তার পূর্বেকার লোকদের আচরণের মতো। তারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহ অস্বীকার করেছিল, অতএব তাদের অপরাধের কারণে আল্লাহ্ তাদের পাকড়াও করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ জবরদস্ত শক্তিশালী, কঠিন শাস্তিদাতা। (সূরা ৮ আল আনফাল : ৫২)
২৬. الْمُتَكَبِّرُ : গর্ব, অহংকার এবং শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র অধিকারী। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের অংশীদার কেউ নেই। (সূরা ৫৯ আল হাশর: ২৩)
২৭. الْكَبِيرُ : অতিশয় বড় ও শ্রেষ্ঠ।
২৮. الْعَلِيُّ : চরম উন্নত ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী।
وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ -
অর্থ: এবং নিশ্চিতই আল্লাহ্ অতিশয় মহান ও শ্রেষ্ঠ। (সূরা ৩১ লোকমান: ৩০)
২৯. الْمُتَعَالَ : সর্বাবস্থায় অতি উচ্চ, উন্নত, শ্রেষ্ঠ ও মহান।
عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَدَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ .
গোপন ও প্রকাশ্য সবই তিনি জ্ঞাত। তিনি শ্রেষ্ঠ মহান এবং সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। (সূরা ১৩ আর্ রা'দ : ৯)
৩০. اَلأَعْلَى : সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ।
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى.
অর্থ: তোমার সর্বশ্রেষ্ঠ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করো। (সূরা ৮৭ আল আলা : ১)
৩১. الْعَفُو : অত্যাধিক ক্ষমাশীল।
৩২. الْغَفُورُ : অতিশয় দয়াদ্র, করুণাময়, ক্ষমাশীল।
عَسَى اللَّهُ أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُمْ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوا غَفُورًا -
অর্থ : সে সময় বেশি দূরে নয় যখন আল্লাহ্ তাদেরকে মাফ করে দিবেন। আল্লাহ্ বড়ই ক্ষমাশীল - করুণাময়। (সূরা ৪ আন নিসা : ৯৯)
৩৩. الشكور : মর্যাদা দানকারী। সততা, আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতার মূল্য দানকারী :
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ -
অর্থ : আর তারা বলবে: শোকর সেই আল্লাহ্, যিনি আমাদের চিন্তা দূর করেছেন। নিশ্চয়ই আমাদের রব অতিশয় ক্ষমাশীল ও বিনীতের মর্যাদা দানকারী। (সূরা ৩৫ আল ফাতের: ৩৪)
৩৪. الْغَافِرُ : অপরাধ ক্ষমাকারী :
غَافِرِ الذَّنْبِ قَابِلِ التَّوْبِ -
অর্থ : আল্লাহ্ই তো অপরাধ ক্ষমাকারী ও তাওবা কবুলকারী। (সূরা ৪০ আল মুমিন : আয়াত ৩)
৩৫. الشَّائِرُ : মূল্য ও মর্যাদা দানকারী। (সূরা ২ আল বাকারা : ১৫৮)
৩৬. الْغَفَّرُ : অতিশয় ক্ষমাশীল ও দানশীল।
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا -
অর্থ : আমি বললাম : তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা চাও। তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। (সূরা ৭১ নূহ: ১০)
৩৭. الروف : সীমাহীন অনুগ্রহ ও সহানুভূতিশীল :
- وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ
অর্থ : আল্লাহ্ বান্দাদের প্রতি সীমাহীন কোমল ও সহানুভূতিশীল। (সূরা ২ আল বাকারা : আয়াত ২০৭)
৩৮. الشَّهِيلُ : তিনি সর্বত্র উপস্থিত, সব কিছুর সাক্ষ্য। প্রতিটি জিনিসের উপর তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ :
إنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْ شَهِيدٌ -
অর্থ : আর আল্লাহ্ সবকিছুর সাক্ষ্য। প্রতিটি জিনিসের উপর তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ। (সূরা ২২ আল হজ্জ : ১৭)
৩৯. السميع : বান্দার গোপন ও প্রকাশ্য সব কথা তিনি শুনেন।
৪০. الْبَصِيرُ : তাঁর নিখিল সাম্রাজ্যের প্রতিটি অনু-পরমাণুর উপর তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ। তাঁর বান্দাদের গোপন ও প্রকাশ্য যাবতীয় আমল ও আচরণের উপর তিনি দৃষ্টি রাখেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান করেন :
إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ -
অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সবকিছু শুনেন এবং তিনি সর্বদ্রষ্টা। (সূরা ৪০ আল মু'মিন : আয়াত ২০)
৪১. الْعَالِمُ : প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন সবকিছু তিনি জানেন। (সূরা ৫৯ আল হাশর : ২২)
৪২. الْخَبِيرُ : অতিশয় জ্ঞানী, জ্ঞানের আধার। বান্দার প্রতিটি কথা, কাজ, চিন্তা-কল্পনা ও উত্তেজনা সম্পর্কে তিনি সঠিকভাবে জ্ঞাত :
إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা। তিনি সবকিছুর খবর রাখেন। (সূরা ৩১ লোকমান : শেষ আয়াত)
৪৩. الْخَبِيرُ : তিনি সব বিষয়ে খবর রাখেন :
اللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ -
অর্থ : তোমাদের (ভালো-মন্দ) সকল কর্মতৎপরতা সম্পর্কে আল্লাহ্ খবর রাখেন। (সূরা ৫ আল মায়িদা : ৮)
৪৪. الْمُحِيطُ : পরিবেষ্টনকারী। অর্থাৎ কোনো কিছুই তাঁর শক্তি ও জ্ঞানের বাইরে নেই :
وَاللَّهُ مِنْ وَرَائِهِمْ مُحِيطٌ -
অর্থ : আল্লাহ্ তাদেরকে আড়াল থেকে পরিবেষ্টন করে আছেন। (সূরা ৮৫ আল বুরুজ)
৪৫. الْمُؤْمِنُ : আশ্রয়, নিরাপত্তা ও প্রশান্তি দানকারী। (সূরা ৫৯ আল হাশর : ২৩)
৪৬. الْمُهَيْمِنُ : রক্ষণাবেক্ষণকারী। (সূরা ৫৯ আল হাশর : ২৩)
অর্থাৎ আল্লাহই বান্দার প্রকৃত আশ্রয়দাতা, নিরাপত্তাদানকারী, অন্তরে প্রশান্তি দানকারী এবং প্রকৃত রক্ষণাবেক্ষণকারী। (সূরা ৫৯ আল হাশর)
৪৭. الْحَافِظُ : সংরক্ষণকারী, নিরাপত্তাদানকারী, হেফাজতকারী।
فَاللَّهُ خَيْرٌ حَفِظًا
অর্থ : আল্লাহ্ সর্বোত্তম রক্ষাকারী-সংরক্ষক। (সূরা ১২ ইউসুফ: ৬৪)
৪৮. الْحَفِيظُ : আসমান-যমীনের প্রতিটি জিনিসকে তিনি হেফাযত করেছেন। তিনি বান্দার হেফাযতকারী।
إِنَّ رَبِّي عَلَى كُلِّ شَيْ حَفِيظٌ
অর্থ: নিশ্চয়ই আমার রব সবকিছুর হেফাযতকারী। (সূরা ১১ হুদ: ৫৭)
৪৯. النصير : প্রকৃত মদদগার-সাহায্যকারী।
هُوَ مَوْلَكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ
তিনিই তোমাদের মওলা সর্বোত্তম মওলা আর তিনি প্রকৃষ্ট সাহায্যকারী। (সূরা ২২ আল হজ্জ: শেষ আয়াত)
৫০. الرقيب : তিনি বান্দাদের তৎপরতার উপর পূর্ণ দৃষ্টি ও লক্ষ্য রাখেন।
إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের উপর কড়া দৃষ্টি রাখেন। (সূরা ৪ আন নিসা : ১)
৫১. الْحَفِى : তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন ও খেয়াল রাখেন। বান্দাদের প্রতি মেহেরবান।
إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا
অর্থ: অবশ্যই তিনি আমার প্রতি খেয়াল রাখেন। (সূরা ১৯ মরিয়ম: ৪৭)
৫২. الْمُجِيب : দু'আ শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
أَجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
অর্থ: যখন কেউ আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দেই। (সূরা ২ আল বাকারা: আয়াত ১৮৬)
৫৩. الْقُدُّوسُ : অতিশয় পবিত্র ও ত্রুটিমুক্ত। অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালা সর্বপ্রকার ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে-অতিশয় পূত-পবিত্র।
৫৪. السّلامُ : সর্বপ্রকার কমতি ও দুর্বলতা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত-সহীহ্ সালেম।
لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلامُ
অর্থ: তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনিই প্রকৃত সম্রাট পুত-পবিত্র ও সহী সালেম। (সূরা ৫৯ আল হাশর: ২৩)
৫৫. الْمَتِين : তিনি সুদৃঢ় ও নিরঙ্কুশভাবে প্রতিষ্ঠিত।
إِنَّ اللهَ هُوَ الرِّزْاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ -
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অধিক রিযিকদাতা, ক্ষমতাধর ও সুপ্রতিষ্ঠিত। (সূরা ৫১ আয যারিয়াত: আয়াত ৫৮)
৫৬. الْحَلِيمُ : অতিশয় উচ্চ ও মহামর্যাদাবান। পরম ধৈর্যশীল ও সীমাহীন সহিষ্ণু। তিনি শান্তি প্রদানে তাড়াহুড়া করেননা। বান্দাদের শোধরানো ও অনুশোচনার অবকাশ দিয়ে থাকেন। তিনি কখনো উত্তেজিত ও ধৈর্যহারা হননা। তাঁর সকল কর্মকাণ্ডই সুপরিকল্পিত এবং সম্মান, সভ্রম ও মর্যাদাব্যঞ্জক।
إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا -
অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল দয়াবান-ক্ষমাকারী। (সূরা ৩৫ আল ফাতের: ৪১)
৫৭. الْعَظِيمُ : তিনি নিজ অস্তিত্ব ও গুণাবলীতে অতিশয় শ্রেষ্ঠ ও মহান।
فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ -
অর্থ: অতএব, তুমি তোমার শ্রেষ্ঠ মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করো। (সূরা ৫৬ আল ওয়াকেয়া : ৭৪)
৫৮. الْوَاسِعُ : তিনি অত্যন্ত মুক্ত ও প্রশস্ততার অধিকারী। বান্দাদের প্রতি তিনি বড়ই উদার ও সহানুভূতিশীল।
وَاللهُ وَسِعٌ عَلِيمٌ -
অর্থ : এবং আল্লাহ্ অত্যন্ত উদার-প্রশস্ততার অধিকারী জ্ঞানী। (সূরা ২ আল বাকারা: ১১৫, ২৪৭, ২৬১, ২৬৮)
৫৯. الْحَىُّ : চিরঞ্জীব। ঘুম, তন্দ্রা, অবচেতনা ইত্যাদি থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত।
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ -
অর্থ: ভরসা করো সেই সত্তার উপর যিনি মৃত্যুহীন চিরঞ্জীব। (সূরা ২৫ আল ফুরকান: আয়াত ৫৮)
৬০. الْقَيُّومُ : চিরন্তন, চির শাশ্বত। চিরকাল থেকে আছেন, চিরকাল থাকবেন। সৃষ্টির কাঠামোকে ধারণ করে আছেন।
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ -
অর্থ: আল্লাহ্! তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব- চিরস্থায়ী-চির শ্বাশত। তাঁকে কখনো না নিদ্রা স্পর্শ করে আর না তন্দ্রা। (সূরা ২ আল বাকারা: ২৫৫ আয়াতুল কুরসী)
৬১. الْحَقُّ : তিনি প্রকৃত সত্য, অতি বাস্তব। তাঁর অস্তিত্বকে কেউ অস্বীকার করলে তাঁর কিছুই যায় আসেনা।
ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقِّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الْبَاطِلُ -
অর্থ: এটি এই জন্যে যে, আল্লাহ্ অস্তিত্বই পরম সত্য আর তাঁকে ছাড়া তারা যাদের ডাকছে সবই বাতিল-মিথ্যা। (সূরা ৩১ লোকমান: ৩০)
৬২. الْمُبِينُ : প্রকাশমান, সত্য প্রকাশকারী।
وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ -
অর্থ : আল্লাহ্ অবশ্যই সত্য এবং তিনি সত্যকে সত্য হিসেবে প্রকাশকারী। (সূরা ২৪ আননূর: ২৫)
৬৩. الْغَنِی : মুখাপেক্ষাহীন। তাঁর কোনো অভাব নেই, কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই, তাঁর সবই আছে এবং সবকিছু কেবল তাঁরই। তাই সবাই এবং সবকিছুই তাঁর মুখাপেক্ষী।
وَمَنْ جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِي عَنِ الْعَلَمِينَ -
অর্থ: যে কেউই জিহাদ করে, সে নিজের কল্যাণের জন্যেই তা করে। নি:সন্দেহে আল্লাহ্ নিখিল জগতের কারোরই মুখাপেক্ষী নন। (সূরা ২৯ আল আনকাবুত : ৬)
৬৪. الْحَمِيد : সপ্রশংসিত। আপন অস্তিত্ব ও গুণাবলীর সৌন্দর্য ও পবিত্রতায় মহীয়ান। সমস্ত প্রশংসা ও পবিত্রতা শুধু তাঁরই জন্যে নির্ধারিত। তিনি কারো প্রশংসা লাভের মুখাপেক্ষী নন।
وَمَنْ يَشْكُرُ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ -
অর্থ: যে কেউ শোকর করবে, তার শোকর তার নিজের জন্যেই কল্যাণকর। আর যে অকৃতজ্ঞ হবে (তার জেনে রাখা দরকার যে) অবশ্যই আল্লাহ্ মুখাপেক্ষাহীন সপ্রশংসিত। (সূরা ৩১ লোকমান: ১২)
৬৫. اَلْمَجِيْنُ : তিনি অতিশয় মহীয়ান ও মর্যাদাবান।
- إِنَّهُ حَمِيدٌ مَجِيلٌ
অর্থ: তিনি সপ্রশংসিত, মহান ও শ্রেষ্ঠ। (সূরা ১১ হুদ: ৭৩)
৬৬. اَلْوَارِثُ : তিনিই সবকিছুর প্রকৃত ও চিরন্তন মালিক।
৬৭. اَلْمُحْيِ : জীবন দানকারী।
وَإِنَّا لَنَحْنُ نَحْيِ - وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَرِثُونَ
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি জীবন দানকারী ও মৃত্যু দানকারী এবং আমিই সবকিছুর প্রকৃত মালিক-ওয়ারিস। (সূরা ১৫ আল হিজর : ২৩)
৬৮. اَلْفَاطِرُ : সবকিছুর তিনিই একমাত্র স্রষ্টা।
فَاطِرِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنْتَ وَلِي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ -
অর্থ: আসমান ও যমীনের স্রষ্টা! তুমিই দুনিয়া ও আখেরাতে আমার সাহায্যকারী পৃষ্ঠপোষক। (সূরা ১২ ইউসুফ: ১০১)
৬৯. اَلْأَوَّلُ : তিনি জগত সৃষ্টির পূর্ব থেকে আছেন।
৭০. اَلْآخِرُ : তিনি সৃষ্টি জগতের ধ্বংসের পরেও থাকবেন।
৭১. الظَّاهِرُ : তিনি সর্বত্র প্রকাশমান।
৭২. اَلْبَاطِنُ : তিনি প্রচ্ছন্নও।
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ -
অর্থ: তিনি আদি, তিনি অন্ত। তিনি প্রকাশমান তিনি প্রচ্ছন্নও। প্রতিটি বিষয়ে তিনি অবহিত। (সূরা ৫৭ আল হাদীদ: ৩)
৭৩. اَلْبَدِيعُ : নব স্রষ্টা। অর্থাৎ কোনো প্রকার উদাহরণ ছাড়াই তিনি পয়দা করেন। অদ্বিতীয় স্রষ্টা ও আবিষ্কর্তা।
بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ -
অর্থ: তিনিই আসমান-যমীনের উদ্ভাবক, স্রষ্টা ও আবিষ্কর্তা। (সূরা ৬ আল আনআম: আয়াত ১০১)
৭৪. اَلرَّفِيعُ : অতিশয় উচ্চ ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী।
رَفِيعُ الدَّرَجَتِ ذُو الْعَرْشِ
তিনি অতিশয় উচ্চ মর্যাদার অধিকারী - আরশ - অধিপতি। (সূরা ৪০ আল মু'মিন : ১৫)
৭৫. النُّوْرُ : আলোকময় :
اللَّهُ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ -
অর্থ : আল্লাহই আসমান ও যমীনের নূর। (সূরা ২৪ আন নূর : ৩৫)
৭৬. الْأَكْرَمُ : পরম সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। বান্দার সাথে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদাব্যঞ্জক আচরণ করেন।
إِقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ -
অর্থ : পড়ো ! এবং তোমার রব বড়ই সম্মানিত ও মর্যাদাবান। (সূরা ৯৬ আল আলাক : ৩)
৭৭. الصَّمَدُ : মুখাপেক্ষাহীন। প্রয়োজনমুক্ত। সবাই এবং সবকিছুই তাঁর মুখাপেক্ষী।
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدُ اللَّهُ الصَّمَدُ .
অর্থ : বলো : তিনি আল্লাহ্ ! তিনি এক-একক। তিনি প্রয়োজনমুক্ত মুখাপেক্ষাহীন এবং সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। (সূরা ১১২ আল ইখলাস : ১-২)
৭৮. التَّوَّابُ : তিনি বান্দার অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখেন। বান্দার তওবা কবুল করেন। বান্দার প্রতি দৃষ্টি দেন।
ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ -
অর্থ : অতপর আল্লাহ্ তাদের প্রতি দৃষ্টি দিলেন যেনো তারা তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসে। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী করুণার আধার। (সূরা ৯ আত তাওবা : ১১৮)
৭৯. الْوَهَّابُ : অতিশয় দাতা ও দানশীল।
وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ -
অর্থ : (ওগো প্রভু!) এবং তোমার নিকট থেকে আমাদেরকে রহমত দান করো। নিশ্চয়ই তুমি অতিশয় দাতা ও দানশীল। (সূরা ৩ আলে ইমরান : ৮)
৮০. الرَّزَّاقُ : সৃষ্টিকূলকে অধিক রিযিক দানকারী। প্রয়োজন পূরণকারী।
إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ -
অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অধিক রিযিক দানকারী অতিশয় ক্ষমতাধর ও দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত। (সূরা ৫১ আয্যারিয়াত : ৫৮)
৮১. الْمُقِيتُ : জীবিকা দানকারী। প্রত্যেক সৃষ্টিকে সঠিক অংশ পুরোপুরিভাবে দান করেন।
وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْ مُقِيتًا -
অর্থ : প্রতিটি জিনিসকে সঠিক অংশ দিতে আল্লাহ্ সম্পূর্ণ সক্ষম। (সূরা ৪ আন নিসা: ৮৫)
৮২. الْكَرِيمُ : মুক্ত ও উদার দাতা। অধিক দাতা। অত্যন্ত সদাচারী।
يَأَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّكَ فَعَدَلَكَ فِي أَيِّ صُورَةٍ مَا شَاءَ رَكَّبَكَ .
অর্থ: হে মানুষ! কোন্ জিনিস তোমাকে তোমার 'করীম' প্রভুর ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলেছে? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করলেন, তোমাকে সুস্থ-সঠিক বানালেন, তোমাকে ভারসাম্যপূর্ণ করলেন এবং যে আকৃতিতে চেয়েছেন তোমাকে সুসংযোজিত করলেন? (সূরা ৮২ আল ইনফিতার: ৬-৮)
৮৩. الْقَرِيبُ : অতিশয় ও নিকটবর্তী।
إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُجِيبٌ -
অর্থ: নিশ্চয়ই আমার রব অতিশয় নিকটবর্তী, দু'আ কবুলকারী। (সূরা ১১ হুদ: আয়াত ৬১)
৮৪. الْوَكِيلُ : কর্মকর্তা। দায়িত্বশীল। যার উপর নির্ভর করা যায়।
وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ -
অর্থ: তারা বললো: আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মকর্তা। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ১৭৩)
৮৫. الْوَدُودُ : পরম বন্ধু। দয়া ও মহব্বতের উৎস।
وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ .
অর্থ: তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম বন্ধু, আরশ-অধিপতি। (সূরা ৮৫ আল বুরুজ : আয়াত ১৪-১৫)
৮৬. الْمُسْتَعَانُ : তিনিই সেই সত্তা যার নিকট সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।
فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ -
অর্থ : উত্তমভাবেই আমি ধৈর্য ধারণ করবো। তোমরা যা কিছু বলছো, সে বিষয়ে আল্লাহ্র নিকটই সাহায্য চাওয়া যেতে পারে। (সূরা ১২ ইউসুফ: ১৮)
৮৭. الْمَادِی : সঠিক পথ প্রদর্শনকারী। কিতাব ও রসূল প্রেরক।
وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَطٍ مُسْتَقِيمٍ -
অর্থ : আল্লাহ্ মুমিনদের সঠিক সোজা পথ প্রদর্শনকারী। (সূরা ২২ আল হজ্জ : ৫৪)
৮৮. الْبَر : সহানুভূতিশীল।
إِنَّهُ هُوَ الْبَرِّ الرَّحِيمُ
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সহানুভূতিশীল মেহেরবান। (সূরা ৫২ আত্ তূর: ২৮)
৮৯. الْفَتَّاحُ : সঠিক সিদ্ধান্ত ও ফায়সালা দানকারী। যাবতীয় সমস্যার সমাধানকারী।
قُلْ يَجْمَعُ بَيْنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ يَفْتَحُ بَيْنَنَا بِالْحَقِّ وَهُوَ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ -
অর্থ: বলো, আমাদের রব আমাদের একত্রিত করবেন। অতপর আমাদের মাঝে সঠিক ফায়সালা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সঠিক ফায়সালাকারী জ্ঞানী। (সূরা ৩৪ সাবা : ২৬)
৯০. اللطيف : তিনি অতিশয় সুক্ষ্ণ কৌশল অবলম্বনকারী। সূক্ষ্মদর্শী।
إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ -
অর্থ : 'নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বড়ই সূক্ষ্মদর্শী সর্বজ্ঞাতা। (সূরা ৩১ লোকমান: ১৬)
৯১. الْحَسِيبُ : হিসাব গ্রহণকারী।
إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا -
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ্ প্রত্যেকটি জিনিসের ব্যাপারে হিসাব নিবেন। (সূরা ৪ আন্ নিসা : ৮৬)
৯২. الْجَامِعُ : একত্রিতকারী। আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন।
رَبَّnَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمِ لأَرَيْبَ فِيهِ -
অর্থ: পরওয়ারদিগার! তুমি অবশ্যই সেদিন মানুষকে একত্রিত করবে যে দিনটি আসার ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ নেই। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ৯)
৯৩. الْكَافِي : বান্দার (যে কোনো প্রয়োজনের জন্য) তিনিই যথেষ্ট।
أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ -
অর্থ: আল্লাহ্ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? (সূরা ৩৯ আয যুমার: ৩৬)
৯৪. الْغَالِبُ : পূর্ণ ক্ষমতাশালী ও পরিপূর্ণ বিজয়ী।
وَاللَّهُ غَالِبٌ عَلَى أَمْرِهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ -
অর্থ: নিজ কর্ম সম্পাদনে আল্লাহ্ পূর্ণ বিজয়ী। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানেনা। (সূরা ১২ ইউসুফ: ২১)
৯৫. الْمُنْتَقِمُ : প্রতিশোধ গ্রহণকারী। তিনি তাঁর মু'মিন বান্দাদের দুশমনদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে থাকেন।
إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ
অর্থ: আমি অবশ্যি সব অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবো। (সূরা ৩২ আস্ সাজদা: ২২)
৯৬. الْقَائِمُ بِالْقِسْطِ : তিনি পরিপূর্ণ ন্যায় ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত।
৯৭. الْبَاسِطُ : প্রশস্ততা ও ব্যাপকতা দানকারী।
اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ .
অর্থ: যাকে ইচ্ছে করেন আল্লাহ্ রিযিকের ব্যাপকতা ও আধিক্য দান করেন। (সূরা ১৩ আর রা'দ : ২৬)
৯৮. الْمُنْفِرُ : নেয়ামত ও অনুগ্রহ দানকারী।
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّنَ و الصديقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّلِحِينَ -
অর্থ: যারা আল্লাহ্ ও রসূলের আনুগত্য করে চলে, তারা ঐ সমস্ত লোকদের সাথে থাকবে, যাদেরকে আল্লাহ্ নেয়ামত ও অনুগ্রহ দানে ভূষিত করেছেন...। (সূরা ৪ আন নিসা: ৬৯)
৯৯. المعز : সম্মান ও ইয্যত দানকারী।
১০০. الْمَزِلٌ : অপদস্থকারী।
وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ -
অর্থ: তুমি যাকে ইচ্ছে করো সম্মান ও ইয্যত দান করো আর যাকে ইচ্ছে, লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করো। সমস্ত কল্যাণের চাবিকাঠি তোমারই মুষ্ঠিবদ্ধ। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ২৬)
১০১. ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ : মহা সম্মানিত মহাত্ম্যপূর্ণ।
تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَلِ وَالْإِكْرَامِ -
অর্থ: তোমার রবের নাম বড়ই বরকতশালী, মহা সম্মানিত মহাত্ম্যপূর্ণ। (সূরা. ৫৫ আর রাহমান: ৭৮)
১০২. الْوَاحِدُ : তিনি এক, শুধুই এক।
قُلِ اللَّهُ خَلِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَمَرُ -
অর্থ: বলো, তিনি আল্লাহ্, সবকিছুর স্রষ্টা। তিনি এক এবং পরাক্রমশালী। (সূরা ১৩ আর রাদ: আয়াত ১৬)
১০৩. اَلاَحَدُ : তিনি একক! অর্থাৎ তাঁর জাত ও গুণাবলীতে তিনি সম্পূর্ণ এক ও একক। কেউই তাঁর শরীক নেই এবং কারো সাথে তাঁর কোনো আত্মীয়তা নেই। তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই। সবাই এবং সব কিছুই এই এক-এককের মুখাপেক্ষী।
قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ .
অর্থ: "বলো তিনি আল্লাহ্, একক তিনি। আল্লাহ্ মুখাপেক্ষাহীন। তিনি সন্তান গ্রহণ করেননা এবং তিনিও কারো সন্তান নন। তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই।"

📘 আল কুরআনের দুআ > 📄 আখেরী কথা

📄 আখেরী কথা


এক হে ঈমানদার লোকেরা! আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যক ব্যক্তিই যেনো ভেবে দেখে, সে আগামীকালের (আখিরাতের) জন্যে কি প্রস্তুতি নিয়েছে। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ্ তোমাদের সব কাজকর্ম সম্পর্কে খবর রাখেন। তোমরা সেসব লোকের মতো হয়োনা, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ্ তাদের নিজেদের ব্যাপারেও নিজেদেরকে ভুলিয়ে রেখেছেন। তারা ফাসিক হয়ে গেছে। যারা জাহান্নামে যাবে আর যারা জান্নাতে যাবে তারা উভয়ে সমান নয়। যারা জান্নাতে যাবে তারাই হবে সফলকাম। (সূরা ৫৯ আল হাশর: ১৮-২০)
দুই অতএব, তোমরা ঈমান আনো আল্লাহ্, তাঁর রসূল এবং সেই নূর (কুরআন)-এর প্রতি, যা আমি নাযিল করেছি। আর তোমরা যাকিছু করছো, আল্লাহ্ সে সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত। (বিষয়টি তোমরা সেদিনই টের পাবে) একত্র করার দিন যখন তিনি তোমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন। সেদিনটিই হবে তোমাদের পরস্পরের হার-জিতের দিন। যে আল্লাহ্র প্রতি ঈমান রাখে এবং শুদ্ধ-সংশোধনমূলক কাজ করে, আল্লাহ্ তার গুনাহগুলোকে ঢেকে দেবেন আর তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিচ দিয়ে ঝরণাধারা প্রবহমান থাকবে। তারা চিরদিন থাকবে সেখানে। এটিই হলো সবচেয়ে বড় সাফল্য। (সূরা ৬৪ আত তাগাবুন: ৮-৯)
সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00