📄 ফেরাউনের স্ত্রীর দু'আ
মিসরের তৎকালীন প্রতাপশালী কাফির শাসক ফেরাউন। তার স্ত্রী (আছিয়া) বিশ্ব জাহানের মালিক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন। তিনি হয়েছেন আল্লাহ্র প্রতি আত্মসমর্পনকারী মুসলিম। আল্লাহ্র প্রতি ঈমান এনে মুসলিম হবার কারণে ফেরাউন তাঁর উপর চরম অত্যাচার নির্যাতনের স্টীম রোলার চালায়। কিন্তু চরম যুলুম-অত্যাচারের মুখেও তিনি ঈমানের পথ ত্যাগ করেননি।
তৎকালীন বিশ্বের সবচাইতে উন্নত এবং সবচাইতে শক্তিশালী রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিপতি তার স্বামী ফেরাউন। তৎকালীন বিশ্বের সবচাইতে সুন্দর মনোরম রাজপ্রাসাদের তিনি রাণী। গোটা দেশের তিনি ফার্স্ট লেডি। আরাম-আয়েশ, সুখ-সম্ভোগ, শান-সওকত, সাজ-সরঞ্জামের সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি।
কিন্তু দুনিয়ার সবচাইতে বিচক্ষণ ব্যক্তির মতোই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এ পথ তার নয়। দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও আরাম-আয়েশকে পদাঘাত করে তিনি দূরে নিক্ষেপ করলেন। দুনিয়ার রাজপ্রাসাদ তার কাছে অতি তুচ্ছ জিনিস। দুনিয়ার প্রাসাদ নয়, তিনি জান্নাতের প্রাসাদ চান। এজন্যে তিনি চরম অত্যাচার নির্যাতন ভোগ করেন। চরম যুলুমের চাকায় পিষ্ট হওয়া অবস্থায় আল্লাহ্র নিকট দু'আ করেন:
رَبِّ ابْنِ لِي عِنْدَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ -
অর্থ: পরওয়ারদিগার! তোমার নিকট জান্নাতে আমাকে একটি ঘর বানিয়ে দাও। (সূরা ৬৬ আত্তাহরীম: ১১)
ফেরাউনের হাত থেকে নাজাত পাওয়ার জন্যেও তিনি আল্লাহ্র নিকট দু'আ করেন:
وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّلِمِينَ .
অর্থ: (পরওয়ারদিগার!) আর আমাকে ফেরাউন ও তাঁর কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করো এবং এই যালেম লোকদের হাত থেকে আমাকে মুক্তি দাও। (সূরা ৬৬ আত্তাহরীম: ১১)