📄 হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দু'আ
হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম। কুরআন মজীদে তাঁকে 'যাননুন' এবং 'সাহিবুল হুত' অর্থাৎ 'মাছওয়ালা' বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নিজ জাতিকে দীনের পথে আনার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। দীনের দাওয়াত গ্রহণ করা তো দূরের কথা বরং তারা এতো বেশি পরিমাণে আল্লাহ্র নাফরমানি করতে শুরু করলো যে, তাদের উপর আল্লাহ্র আযাব নাযিল হওয়া অবধারিত হয়ে পড়লো। কিন্তু আল্লাহ্র আযাব আসার পূর্বেই হযরত ইউনুস জনপদ ত্যাগ করে অন্যত্র রওয়ানা করলেন। আল্লাহ্র নবী ইউনুস আযাব আসার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত জনগণকে দীনের পথে আনার চেষ্টা না করে আল্লাহ্র অনুমতি ছাড়াই জনপদ ত্যাগ করেছেন। আল্লাহ্ পছন্দ হয়নি এ কাজ। তাই আল্লাহ্র ইচ্ছায় নদী অতিক্রমকালে তাঁকে মাছের পেটে যেতে হলো। একেতো সাগর তলের অন্ধকার। তার উপর মাছের অন্ধকার জঠর। কি করুণ ও দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হলো নবী ইউনুসকে। নিজের ত্রুটি অত্যন্ত অনুশোচনার সাথে স্বীকার করে মালিকের দরবারে ফরিয়াদ করলেন আল্লাহ্ নবী ইউনুস আলাইহিস সালাম :
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَنَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّلِمِينَ
অর্থ : তুমি ছাড়া নেই কোনো ইলাহ! পবিত্র মহান তোমার সত্তা। আমি অবশ্যই অপরাধী। (সূরা ২১ আল আম্বিয়া : ৮৭)
আল্লাহ্র মনোনীত পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী হযরত ইউনুসের এ করুণ অনুশোচনা আল্লাহ্ কবুল করেন :
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ: وَنَجِّيْنَهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ تُنْجِي الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ : অতপর আমি তার দু'আ কবুল করলাম এবং তাকে অন্ধকার থেকে উদ্ধার করলাম। এভাবেই আমি মুমিনদের রক্ষা করি। (সূরা ২১ আল আম্বিয়া : ৮৮)
📄 হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দু'আ
আল্লাহ্ তায়ালা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে বিরাট রাজশক্তির নেয়ামত, পক্ষীকূলের কথা বুঝা ও জ্বীনদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কুরআনের ভাষায়: 'আমরা দাউদ ও সুলাইমানকে ইলম দান করেছি। তারা বলেছে:
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَى كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: শোকর সেই আল্লাহ্! যিনি তাঁর বহুসংখ্যক মুমিন বান্দার উপর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। (সূরা ২৭ আন্নামল: ১৫)
আর দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছে সুলাইমান। সে বললো: হে জনগণ! আমাকে পাখির ভাষা শিখানো হয়েছে এবং সর্ব প্রকারের সম্পদই দান করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা আল্লাহ্ সুস্পষ্ট অনুগ্রহ। সুলাইমানের জন্যে জ্বীন ও মানুষ আর পক্ষীকূলের সেনাবাহিনী একত্রিত করা হয়েছিল। এগুলোকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো।
একবার সকলকে নিয়ে সুলাইমান যাত্রা করলো। যখন পিপীলিকার প্রান্তরে পৌঁছালো, তখন এক পিপীলিকা চেঁচিয়ে উঠলো : হে পিপীলিকার দল। তোমরা নিজ নিজ গর্তে ঢুকে পড়ো। এমন যেন না হয় যে, সুলাইমান এবং তাঁর সৈন্য সামন্তরা তোমাদের পিষে মেরে ফেলে অথচ তারা তা টেরও না পায়। ১০
আল্লাহ্ নবী সুলাইমান পিপীলিকার এ ভাষণ শুনলেন। তাঁর অন্তরে ভয় ঢুকলো- না জানি তাঁর দ্বারা আল্লাহ্ কোনো সৃষ্টির প্রতি যুলুম হয়ে যায়! তাই তো দেখি এ মহান শাসক নবী আল্লাহ্ প্রদত্ত ক্ষমতা ও রাজশক্তির মতো মহান নেয়ামতের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের তৌফিক কামনা করে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনিবের দরবারে নিবেদন করলেন:
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَى وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّلِحِينَ
অর্থ: পরওয়ারদিগার! আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখো। তুমি আমার ও আমার পিতা মাতার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছো, আমি যেন তার শোকর আদায় করি এবং এমন নেক আমল করি যা হবে তোমার পছন্দনীয়। আর তোমার অসীম অনুগ্রহে আমাকে তোমার সালেহ বান্দাদের মধ্যে শামিল করো। (সূরা ২৭ আন্নামল: ১৯)
সাবা সম্রাজ্ঞী হযরত সুলাইমানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেন। হযরত সুলাইমান সিদ্ধান্ত নিলেন, সাবা সম্রাজ্ঞী এসে পৌঁছলে তাঁর (সম্রাজ্ঞীর) নিজ সিংহাসনেই তাঁকে বসতে দেবেন। কিন্তু সুলাইমানের রাজধানী দারুস সালাম থেকে সাবার দূরত্ব অন্তত দেড় হাজার মাইল। অন্যদিকে সম্রাজ্ঞী এসে পৌঁছার আগে তার সিংহাসনটা এনে পৌঁছতে হবে। একটা সাংঘাতিক সিদ্ধান্ত বটে। পরিষদবর্গের একজন বললেন: 'আপনি এখান থেকে উঠার আগেই আমি তা এনে হাজির করবো।' অপর এক ব্যক্তি, যার নিকট কিতাবের ইলম ছিলো- বললো: 'আমি আপনার চোখের পলকের মধ্যেই তা এনে হাজির করতে পারি।' সঙ্গে সঙ্গে হযরত সুলাইমান সাবা সম্রাজ্ঞীর সিংহাসনটি নিজের সম্মুখে দেখতে পেয়ে উচ্চস্বরে বলে উঠলেন:
هَذَا مِنْ فَضْلِ رَبِّي لِيَبْلُوَنِي أَأَشْكُرُ أَمْ أَكْفُرُ ، وَمَنْ شَكَرَ فَإِنَّهَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ ۖ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ
অর্থ: এ হচ্ছে আমার দয়াময় প্রভুর অনুগ্রহ। তিনি আমাকে এর দ্বারা পরীক্ষা করতে চান, আমি কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি নাকি অকৃতজ্ঞ হই। বস্তুত যে শোকর গুযার হয়, তা তার নিজের জন্যেই কল্যাণ বয়ে আনে আর কেউ যদি অকৃতজ্ঞ হয়, (তবে তার জানা উচিত) আমার প্রভু মুখাপেক্ষাহীন, অতিশয় মহান। (সূরা ২৭ আন্নামল: ৪০)
টিকাঃ
১০. সূরা ২৭ আন্নামল: ১৫-১৮।
📄 হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের দু'আ
হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম বনি ইসরাঈলের যে গোত্রের লোক ছিলেন সে গোত্রের দায়িত্ব ছিলো খোদার ঘর বায়তুল মুকাদ্দাসের রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির নেতৃত্ব দান করা। গোত্রীয় প্রধান হিসেবে হযরত যাকারিয়া এ দায়িত্ব পালন করতেন। বৃদ্ধ যাকারিয়া আলাইহিস সালাম আজীবন নিঃসন্তান। তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রী আজীবন বন্ধ্যা। একটা সন্তানের বড়ই আকাঙ্খা ছিলো তাঁদের। বিশেষ করে হযরত যাকারিয়ার মৃত্যুর পরে ধর্মীয় নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাওয়ার আশংকায় তিনি উত্তরাধিকারী হিসেবে একজন সন্তানের বড়ই আকাঙ্খী ছিলেন। তিনি রাব্বুল আলামীনের দরবারে দু'আ করেন:
رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا .
অর্থ: পরওয়ারদিগার! আমার অস্তিমজ্জা গলে গেছে। আমার বার্ধক্য চিহ্নে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। প্রভু! তোমার নিকট কিছু চেয়ে আমি কখনো ব্যর্থকাম হইনি। আমার পরে আমার ভাই বন্ধুদের দুষ্কৃতির ভয় রয়েছে আমার মনে। আর আমার স্ত্রী হচ্ছে বন্ধ্যা। তুমি তোমার বিশেষ অনুগ্রহে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করো। যে আমার ও ইয়াকুবের বংশের উত্তরাধিকার লাভ করবে। পরওয়ারদিগার! আর তাকে একজন পছন্দসই মানুষ বানিয়ো। (সূরা ১৯ মরিয়াম: ৪-৬)
একদিন হযরত যাকারিয়া বায়তুল মুকাদ্দাসের মেহরাবে মরিয়ামের নিকট প্রবেশ করলেন। মরিয়মের নিকট তিনি জান্নাতের খাদ্য সামগ্রী দেখতে পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন : মরিয়ম! এ রিযিক কোথা থেকে এসেছে? মরিয়ম জবাব দিলেন:
قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ ، إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ .
অর্থ: এ রিযিক আল্লাহ্র নিকট থেকে এসেছে। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে করেন, বেশুমার রিযিক দান করেন। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ৩৭)
মরিয়মের জবাব শুনে হযরত যাকারিয়া তাঁর মনিবের নিকট নিবেদন করলেন:
رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةٌ ، إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
অর্থ: মালিক আমার! মনিব আমার! তোমার বিশেষ কুদরতে আমাকে একটি উত্তম পবিত্র সন্তান দান করো। অবশ্যই তুমি দু'আ শ্রবণকারী। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ৩৮)
পুত্রহীন যাকারিয়া আলাইহিস সালাম একটি সন্তানের জন্যে সব সময় মনিবের দরবারে বিনয়াবনত কণ্ঠে দু'আ করতেন :
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
অর্থ: পরওয়ারদিগার! আমাকে নিঃসন্তান ছেড়োনা। সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী তো তুমিই। (সূরা ২১ আল আম্বিয়া: ৮৯)
فَنَادَتْهُ الْمَلَئِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّى فِي الْمِحْرَابِ لَا أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللهِ وَسَيِّداً و حَصُورًا وَ نَبِيًّا مِنَ الصَّلِحِينَ
অর্থ: অতপর ফেরেশতা তাঁকে ডেকে বললো, যখন সে মেহরাবে নামায পড়ছিলো: আল্লাহ্ আপনাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি ঈসার সমর্থনকারী হবেন, সরদার হবেন, উচ্চ স্তরের সুসভ্য, প্রবৃত্তি দমনকারী ও একজন সালেহ নবী হবেন। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ৩৯)
📄 হযরত ঈসা আ.-এর সাহাবীদের দু'আ
আল্লাহ্র নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম রসূল হিসেবে বনি ইসরাঈলের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন:
أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَّبِّكُمْ إِنِّي أَخْلُقُ لَكُم مِّنَ الدِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَانْفُخُ فِيْهِ فَيَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِ اللَّهِ ، وَأَبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَضَ وَأَحْيِ الْمَوْتَى بِإِذْنِ اللهِ ، وَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ لَا فِي بُيُوتِكُمْ ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةٌ لَكُمْ إِن كُنتُمْ مُؤْمِنِينَ وَمُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَى مِنَ التورية وَلَأُحِلَّ لَكُم بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ تَف فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ ، هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمُ فَلَمَّا أَحَسٌ عِيسَى مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنْصَارِي إِلَى اللَّهِ . قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ : أَمَنَّا بِاللَّهِ ، وَاشْمَلْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ .
অর্থ: তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে, আমি তোমাদের নিকট নিদর্শন নিয়ে এসেছি। (নিদর্শনগুলো হচ্ছে এই যে,) তোমাদের সামনেই আমি মাটি দিয়ে পাখির আকারে একটি মূর্তি বানাই এবং তাতে ফুঁ দিই, সাথে সাথেই আল্লাহর হুকুমে তা পাখি হয়ে যায়। আল্লাহর হুকুমে আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগিকে ভালো করে দিই এবং মৃতকে জীবিত করি। আমি তোমাদের বলে দিই নিজেদের ঘরে তোমরা কি খাও আর কি সঞ্চয় করে রাখো। এতে তোমাদের জন্যে যথেষ্ট নিদর্শন রয়েছে, অবশ্য তোমরা যদি ঈমান আনতে প্রস্তুত হয়ে থাকো। আর তাওরাতের যে শিক্ষা ও হেদায়াতের বাণী এখন আমার সামনে বর্তমান রয়েছে আমি তার সমর্থনকারী হিসেবে এসেছি। আমি এজন্যেও এসেছি যে, তোমাদের প্রতি হারাম করে দেয়া হয়েছে এমন কতিপয় জিনিসকে তোমাদের জন্যে হালাল ঘোষণা করে দেবো। জেনে রাখো, আমি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমাদের নিকট নিদর্শন নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। অতএব আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো। আল্লাহ্ আমারও রব এবং তোমাদেরও রব। অতএব তোমরা তাঁরই দাসত্ব করো। প্রকৃতপক্ষে এটাই সঠিক ও সোজা পথ। কিন্তু ঈসা যখন অনুভব করলো তারা কুফরি ও অস্বীকৃতির পথেই উদ্বুদ্ধ হয়েছে তখন সে বললো: 'আল্লাহ্ পথে আমার সাহায্যকারী কে হবে?' জবাবে হাওয়ারীরা বললো: আমরা আল্লাহ্ (পথে আপনার) সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। সাক্ষী থাকো, আমরা মুসলিম- আল্লাহ্র প্রতি আত্মসমর্থনকারী। (সূরা ৩ আলে ইমরান : ৪৯-৫২)
গোটা সমাজের বিরোধিতার মুখে মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি আল্লাহ্ পথে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে সাহায্য করার, তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো। চরম খোদাদ্রোহী যালেমদের নাকের ডগায় এ কতিপয় ব্যক্তি ঈমানের ঘোষণা দিয়ে তারা আল্লাহ্র নিকট দু'আ করলো:
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّهِدِينَ .
অর্থ: ওগো আমাদের রব! তুমি যেসব ফরমান নাযিল করেছো আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি, তা আমরা মেনে নিয়েছি এবং রসূলকে অনুসরণ করার পন্থা কবুল করেছি। সত্যের সাক্ষ্যদাতাদের নামের সাথে তুমি আমাদের নাম লিখে নিও। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ৫৩)