📘 আল কুরআনের দুআ > 📄 দু'আর আদব ও নিয়ম

📄 দু'আর আদব ও নিয়ম


১. দু'আ একটি ইবাদত, বরং ইবাদতের মগজ। সুতরাং দু'আ প্রার্থনা কেবল আল্লাহ্র কাছেই করতে হবে। দু'আতে অন্য কাউকেও শরীক করা যাবে না; অর্থাৎ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কাছে দু'আ প্রার্থনা করা যাবে না।
২. দু'আ প্রধানত দুই প্রকার: ক. গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা ও তওবা করা এবং খ. পরকালীন ও জাগতিক যাবতীয় কল্যাণ চাওয়া।
৩. ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করার নিয়ম হলো: গুনাহ বা অপরাধ স্বীকার করতে হবে। অনুতপ্ত হতে হবে (অর্থাৎ অনুশোচনা ও লজ্জাবোধ মনকে দুঃখ ভারাক্রান্ত করে তুলবে)। বিনয় ও কাতর অনুভূতির সাথে (সম্ভব হলে অশ্রুপাত ও কান্নাকাটি করে) ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আন্তরিকতার সাথে ঐ অপরাধ আর না করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ সিদ্ধান্তের উপর অটল অবিচল থাকতে পারার জন্যে আল্লাহ্র কাছে সাহায্যের আবেদন করতে হবে। এটাই হচ্ছে তওবা ও ইস্তেগফার।
৪. দু'আ করতে হবে পূর্ণ ইখলাস ও আন্তরিকতার সাথে।
৫. জাগতিক ও পরকালীন প্রার্থনা করার ক্ষেত্রে, যা হালাল ও বৈধ তাই চাইতে হবে, হারাম ও অবৈধ কিছু চাওয়া যাবেনা।
৬. দু'আ করতে হবে পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থার সাথে। মনে করতে হবে আল্লাহ্ সর্ব শক্তিমান। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। তাঁর রহমত থেকে কেউ বঞ্চিত হয়না। তিনি যাকে চান উঠাতে পারেন, যাকে চান নামাতে পারেন। জীবন মৃত্যু, জান্নাত জাহান্নাম, কল্যাণ অকল্যাণ, লাভ ক্ষতি, ভালো মন্দ, উন্নতি অবনতি এবং শান্তি ও পুরস্কার যাবতীয় কিছু কেবল তাঁরই মুষ্টিবদ্ধ এবং নিষ্ঠা ও নেক নিয়তের সাথে যে তাঁর কাছে চায় তিনি তাকে দান করেন।
৭. দু'আ করতে হবে পূর্ণ মনোযোগের সাথে এবং মনের মণিকোঠা থেকে। যা চাওয়ার, তা চাইতে হবে বুঝে শুনে পূর্ণ অনুভূতি ও চেতনা বোধের সাথে, চাইতে হবে পূর্ণ আবেগ ও আশা নিয়ে। না বুঝা ও অমনোযোগী দু'আ কবুল হবার সম্ভাবনা নেই। (সূত্র: সহীহ মুসলিম ও তিরমিযী)
৮. দু'আ করতে হবে নিশ্চয়তার সাথে। বলতে হবে, আমি এই এই জিনিস তোমার কাছে চাই। আমাকে এটা এটা দাও। এমনটি বলা ঠিক নয় যে, 'তোমার ইচ্ছা হলে দাও'। তবে এটা বলা যেতে পারে যে, আমার জন্যে যা কিছু কল্যাণকর তা সবই আমাকে দাও। (সূত্র: সহীহ বুখারী।)
৯. আল্লাহ্র ভাণ্ডারকে বিশাল ও অপূরণীয় মনে করে বড় করে, বেশি করে এবং সর্বোত্তমটা চাইতে হবে। আল্লাহ্র কাছে বেশি বেশি চাওয়ার ক্ষেত্রে কৃপণতা করা খারাপ।
১০. দু'আ দাঁড়িয়েও করা যায়, বসেও করা যায়, শুয়েও করা যায়। হাত তুলেও করা যায়, হাত না তুলেও করা যায়। শব্দ করেও চাওয়া যায়, নিঃশব্দেও চাওয়া যায়। কারণ দু'আ তো হলো চাওয়া। আর চাইতে হয় মন থেকে। মহান আল্লাহ্ মনের খবরও রাখেন, মুখের কথাও শুনেন। তাই উপরোক্ত যে কোনো প্রকারেই মহান আল্লাহর কাছে চাওয়া যায়।
১১. দু'আ যেমন নিজের জন্যে করা যায়, তেমনি অন্যদের জন্যেও করা যায়। তবে শুরু করতে হবে নিজেকে দিয়ে। তারপর পিতা মাতা, স্ত্রী/স্বামী, সন্তান সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন এবং সকল মুমিনের জন্যে।
১২. অমুসলমানদের জন্যে হিদায়াত চেয়ে দু'আ করা যাবে।
১৩. কারো জন্যে বদ দু'আ করা উচিত নয়। দু'আতে কারো ক্ষতি ও অকল্যাণ চাওয়া ঠিক নয়।
১৪. আল্লাহ্ প্রশংসা করে এবং নবী করিম সা. এর প্রতি দরূদ পাঠ করে দু'আ আরম্ভ ও শেষ করা উচিত।
১৫. দু'আর ফল লাভের জন্যে তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। ফল না দেখে নিরাশ হয়ে দু'আ ত্যাগ করা মোটেও সমীচীন নয়। দু'আর সুফল আল্লাহ্ দুনিয়াতেও দিয়ে থাকেন, আখিরাতেও দিয়ে থাকেন। প্রার্থনাকারী সব সময় ফল টের নাও পেতে পারে। আর একটা ইবাদত হিসেবে দু'আর সওয়াব তো অবশ্যি পাওয়া যাবে। (সূত্র: সহীহ মুসলিম)
১৬. দু'আ সুখের সময়, দুঃখের সময় এবং সব সময়ই করা উচিত।
১৭. কেবলামুখী হয়ে দু'আ করা উত্তম।
১৮. কষ্টসাধ্য না হলে দু'আর পূর্বে অযু করে নেয়া উত্তম।
১৯. অপরের জন্য দু'আ করার সময় প্রথমে নিজের জন্যে দু'আ করে শুরু করা কর্তব্য।
২০. আল্লাহ্র কাছে চাওয়ার সময় তাঁর সুন্দর নাম সমূহের উসীলা করে চাওয়া উত্তম। যেমন, ক্ষমা চাওয়ার সময় ইয়া গাফফার, ইয়া গাফুরুর রাহীম, (হে মহা ক্ষমাশীল, হে ক্ষমাশীল দয়াময়) বলে চাওয়া। এভাবে তাঁর গুণবাচক নাম সমূহের অর্থ অনুযায়ী উপযুক্ত ও যথার্থ প্রয়োগ করে দু'আ করুন।
২১. নিজের কৃত কোনো নেক আমলের উসীলা করেও আল্লাহ্র কাছে কিছু প্রার্থনা করা বা সাহায্য চাওয়া যায়।
২২. কারো জন্যে বদ দু'আ করা উচিত নয়। নবী করীম সা. বলেছেন: তোমরা নিজের জন্যে নিজের সন্তানের জন্যে এবং নিজের সম্পদের, জন্যে বদ দু'আ করোনা। (সূত্র: সহীহ মুসলিম)

📘 আল কুরআনের দুআ > 📄 যে সব সময় অবস্থা স্থান ও ব্যক্তির দু'আ কবুল হয়

📄 যে সব সময় অবস্থা স্থান ও ব্যক্তির দু'আ কবুল হয়


মূলত সব সময়, সব অবস্থা এবং সব স্থানেই দু'আ কবুল হয়। তবু কুরআন হাদিসে কিছু কিছু সময়, অবস্থা ও স্থানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো:
১. কদর রাত।
২. শেষ রাত।
৩. ফরয নামাযের পর।
৪. সিজদারত অবস্থায়।
৫. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়।
৬. আযানের সময়।
৭. রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায়।
৮. আল্লাহর পথে জিহাদে যাত্রা করার সময়।
৯. জুমার দিন।
১০. এক সিজদা শেষ করে অপর সিজদায় যাওয়ার পূর্বে বা অবস্থায়।
১১. বৃষ্টি নামার সময়।
১২. যমযমের পানি পানকালে।
১৩. রাতে নিদ্রা ভংগ হলে।
১৪. কারো মৃত্যুর খবর শুনে।
১৫. নামাযের শেষ বৈঠকে আততাহিয়্যাতু এবং দরূদ পড়ার পর।
১৬. কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্যে দু'আ করা হলে।
১৭. আরাফার দিন আরাফাতে।
১৮. রমযান মাসে।
১৯. ইফতারের পূর্বে।
২০. মুসলিমদের দীনি আলোচনার মজলিসে।
২১. বিপদের সময়।
২২. রোযা থাকা অবস্থায়।
২৩. যালিমের বিরুদ্ধে মযলুমের দু'আ।
২৪. সন্তানের জন্যে পিতা মাতার দু'আ।
২৫. সন্তানের উপর পিতা মাতার বদ দু'আ।
২৬. মুসাফিরের দু'আ।
২৭. অক্ষম ও মজবুর ব্যক্তির দু'আ।
২৮. ন্যায় পরায়ণ সুবিচারক নেতার দু'আ।
২৯. পিতা মাতার জন্যে সৎ সন্তানের দু'আ।
৩০. অযুর পর পর।
৩১. কা'বা ঘরে।
৩২. সাফা ও মারওয়ায়।
৩৩. মাশয়ারিল হারামে।
৩৪. আল্লাহ্র প্রতি একাগ্রতা এবং ভীতি ও ভালোবাসার আবেগ সৃষ্টি হলে।
৩৫. রোগীর দু'আ।
একথা মনে রাখা দরকার যে, আল্লাহ্ তা'আলা সব সময়ই তাঁকে ডাকতে এবং তাঁর কাছে চাইতে বলেছেন। উপরে যেসব স্থান কাল পাত্রকে খাস করা হয়েছে, এগুলো আমাদের প্রতি আল্লাহ্ পাকের অতিরিক্ত দয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00