📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 এক-পঞ্চমাংশ

📄 এক-পঞ্চমাংশ


সাতটি জিনিসের এক-পঞ্চমাংশ ইসলামী রাষ্ট্রের হাতে আসবেঃ
১. যুদ্ধরত শত্রুপক্ষের নিকট থেকে শক্তি প্রয়োগের ফলে যাই হস্তগত হবে;
২. স্বর্ণ, সীসা, পিতল, তামা, লোহা, মূল্যবান পাথরসমূহ, সালফার, তৈল, আলকাত্রা, পীচ, লবণ, কাঁচ, সেঁকোবিষ (ইব্রণতধন্ত্র) সুরমা, দস্তা প্রভৃতি। জমির তলদেশ থেকে প্রাপ্ত খনিজ পদার্থ মৌলিকভাবে 'আনফাল' হিসেবে ইসলাম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ। কিন্তু সরকার তা পুঁজি করে আটকে রাখতে পারে না কিংবা কাউকে তা বিনামূল্যে দিয়ে দিতে পারে না। তা উত্তোলনের সময় যথাযথভাবে ওজন করে তার বিন্দু বিন্দুর হিসেব সংরক্ষণ করতে হবে! কেননা উদ্ধৃত আয়াত অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার দিক দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রই রাসূলের স্থলাভিষিক্ত। আর এই ঘরের যাবতীয় আমদানি জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে;
৩. মাটির তলায় জমা রাখা সম্পদ (کنز);
৪. সমুদ্র থেকে লব্ধ সম্পদ;
৫. যে সব হালাল সম্পদ হারাম সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে আছে এমন ভাবে যে, তা আলাদা করা সম্ভব হয় না;
৬. যিম্মীরা মুসলমানদের নিকট থেকে যে জমি ক্রয় করেছে, তা কৃষি জমি হোক, কি বসবাসের জমি; এবং
৭. ব্যবসায়, শিল্পোৎপাদন ও উপার্জনের মুনাফা এবং উপার্জনকারীর সাম্বাৎসরিক ব্যয় বহনের পর যা অতিরিক্ত ও উদ্ধৃত থাকবে। সকল প্রকারের পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থাই এর অন্তর্ভুক্ত। এর ভিত্তি হচ্ছে এ আয়াতঃ
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِّنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمْسَةَ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَشْى وَابْنِ السَّبِيلِ - إِن كُنتُمْ أَمَنْتُم بِاللهِ (الانفال: ٤١)
আর তোমরা জেনে রাখো, তোমরা যে গনীমতের মাল লাভ করেছ, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ্, তাঁর রাসূল, নিকটাত্মীয়গণ, ইয়াতীম, মিস্কিন ও নিঃস্ব পথিকদের জন্য নির্দিষ্ট-যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাক।
এই পর্যায়ের সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ খুব সামান্য পরিমাণের হবে না। বরং তার পরিমাণ হবে বিরাট।
'গনীমত' শব্দের আসল আভিধানিক অর্থ এমন জিনিস লাভ, যার মালিক কেউ নেই। পরে মুশরিকদের নিকট থেকে প্রাপ্ত জিনিসকে গনীমত বলা শুরু হয়। যে সব মাল-সম্পদ কোনরূপ শ্রম বা কষ্ট স্বীকার ছাড়াই লাভ হয় তাও গনীমত। আরবরা সেই সব মালকেই 'গনীমত' বলত, যা-ই মানুষ লাভ করে। যুদ্ধ ছাড়া লাভ করা হলেও তা গনীমত নামেই অভিহিত।
কুরআন মজীদেও এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু তার অর্থ ভিন্নতর। যেমনঃ
تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَوةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللَّهِ مَغَانِمَ كَثِيرَةً (النساء: ٩٤)
তোমরা চাও দুনিয়ার সম্পদ পেতে, অথচ আল্লাহর নিকট রয়েছে বিপুল গনীমতের সম্পদ।
আয়াতের مغائم শব্দটি عرض الحيوة الدنيا এর বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত। কাজেই মানুষ এ দুনিয়ায় যেসব সম্পদই লাভ করে, গনীমত বলতে কেবল তা-ই বোঝায়। যুদ্ধে লব্ধ ধন-মালই কেবল 'গনীমত' নয়, বরং মানুষ যা কিছুই উপার্জন করে-তা বস্তু হোক, কি অ-বস্তু-তা সবই এর মধ্যে গণ্য।
হাদীসে 'গনীমত' বলা হয়েছে মানুষ যে ফায়দাই লাভ করুক, তাকে। যাকাত সম্পর্কে রাসূলে করীম (স) বলেছেনঃ
اللَّهُمَّ اجْعَلُهَا مُغْنَمًا وَلَا تَجْعَلَهَا مَغْرَمًا.
হে আল্লাহ! তুমি এই যাকাত গনীমত বানাও, জরিমানা বানিও না।
غَنِيمَةٌ مَجَالِسُ الذِّكْرِ الْجَنَّةُ .
যিকর-এর মজলিসসমূহের লব্ধ সম্পদ হচ্ছে জান্নাত।
'রামযান' মাসের প্রশংসায় রাসূলে করীম (স) বলেছেনঃ هُوَ غَنَمَ لِلْمُؤْمِن .
তা মু'মিনের জন্য গনীমত।
রাসূলে করীম (স)-এর বিভিন্ন ভাষণেও এই গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ দেয়ার উল্লেখ রয়েছে।
১. আবদুল কাইস গোত্রের লোকেরা রাসূলে করীম (স)-এর নিকট ইসলাম কবুলের পর বলল, আমরা কেবল মাত্র হারাম মাসেই আপনার সাথে সাক্ষাৎ করবার সুযোগ পাব। কাজেই আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বলুন, যা আমরা অনুসরণ করব ও অন্যান্য লোককে পালনের আহ্বান জানাব। তখন নবী করীম (স) বললেনঃ
أمُرُكُمْ بِارْبَعَ وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعَ أَمُرُكُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللَّهِ هَلْ تَدْرُونَ مَا الْإِيْمَانُ؟ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَقَامُ الصَّلوةَ وَأَيْتَامُ الزَّكَوةِ وَتُعْطُوا الْخَمْسَ مِنَ الْمَغْنَمِ .
আমি তোমাদেরকে চারটি কাজের আদেশ করছি ও চারটি কাজের নিষেধ করছি। আদেশ করছি আল্লাহর প্রতি ঈমান গ্রহণের জন্য! তোমরা কি জান, ঈমান কি? তা হচ্ছে 'আল্লাহ্ ছাড়া কেউ মাবুদ নেই' বলে সাক্ষ্য দান, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া এবং এজন্য যে, তোমরা গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ দেবে।
এ কথা স্পষ্ট যে, এই হাদীসটিতে যে 'গনীমত' কথাটি রয়েছে, তা নিশ্চয়ই যুদ্ধে কাফিরদের নিকট থেকে পাওয়া মাল-সম্পদ নয়। কেননা আবদুল কাইস গোত্রের তখনকার অবস্থায় কারোর সাথে যুদ্ধ করার কোন প্রশ্নই উঠে না। তাই এখানে 'গনীমত' শব্দের আসল আভিধানিক অর্থ গ্রহণই শ্রেয়। আর তা হচ্ছেঃ هُوَ مَا يَفُوزُونَ بِهِ بِلَا مَشَقَّةٍ .
'গনীমত' হচ্ছে সেই মাল-সম্পদ যা কোনরূপ শ্রম বা কষ্ট স্বীকার ব্যতীত অর্জিত হয়।
২. হযরত আমর ইবনে হাজম (রা)-কে ইয়ামন প্রেরণকালে রাসূল (স) যে লিখিত দলীল দিয়েছিলেন, তাতেও এই গনীমত শব্দের উল্লেখ হয়েছেঃ مُرْهُ لِتَقْوَى اللهِ فِى أَمْرِهِ كُلّهِ وَأَنْ يَأْخُذَ مِنَ الْمَغَانِمِ خُمْسَ اللهِ .
তাদের আদেশ করবে সর্ব ব্যাপারে আল্লাহ্ তাকওয়া অবলম্বনের জন্য এবং গনীমত থেকে আল্লাহ্র এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করবে।

টিকাঃ
১. سنن ابن ماجة كتاب الزكاة.
২. এবং ২. ২২০ পৃঃ মুসনাদে আহমদ সঃ صحيح البخاري ج ٤، ص: ۲۰۵ ، صحيح مسلم ج ١ ص ٢٥ سنن لنساء ج ۳ ص ۵২۳۳ মুসনাদে আহমদ জ ৩ সঃ ৩১৮
৩. سوير لحوالك فى شرح مؤطا مالك ج ۱ ص ۲۷۰ ۵۰

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 ফিতরার যাকাত

📄 ফিতরার যাকাত


একে যাকাতুল-আবদাল বা 'দেহের যাকাত'-ও বলা হয়। ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাযের পূর্বেই প্রত্যেক পরিবারের মাথাপিছু ফিত্রার যাকাত দিতে হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00