📄 আনফাল'—ফাই, গনীমত
ইসলামী রাষ্ট্র যেসব জমি-জায়দা যুদ্ধ ছাড়াই দখল করবে, রাষ্ট্রের পতিত জমি, পর্বতশৃঙ্গ, উপত্যকা-গর্ভ, বন-জঙ্গল এবং খনি, আর উত্তরাধিকারহীন ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ-সম্পত্তি, সরকারী অনুমোদন ব্যতীত যুদ্ধ করে শত্রু পক্ষের নিকট থেকে যোদ্ধারা যা পাবে, দেশের সমস্ত পানিরাশি, স্বতঃউদ্ভুত উদ্ভিদ-বৃক্ষলতা, মালিকবিহীন চারণভূমি, রাজা-বাদশা প্রদত্ত জমি ইত্যাদি।
এই সব কিছুর মালিকানা রাষ্ট্রের। কেননা আসলে এসব সর্বসাধারণ জনগণের হলেও সেই জনগণের প্রতিনিধিস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্র সরকারের ব্যবস্থাধীন থাকবে। সরকার এ সবের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যা আয় করবে, তা জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করবে। এ পর্যায়ে দলীল হচ্ছে কুরআনের আয়াতঃ
يَسْتَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ - قُلِ الْأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ ، فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنَكُمْ وَأَطِيعُوا الله و رَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (الانفال : ۱)
তোমাকে লোকেরা গনীমতের মাল (এর ব্যয় খাত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি তাদের জানিয়ে দাও-এই গনীমতের মাল তো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুষ্ঠু ও ঠিক রূপে গড়ে তোল। আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে মেনে চল-যদি তোমরা প্রকৃতই মু'মিন হয়ে থাক।
আর যেসব ধন-সম্পদ আল্লাহ্ ও রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট, তা মুসলিম জনগণের সার্বিক কল্যাণে ব্যয় হবে। কুরআন মজীদে এ পর্যায়ে বলা হয়েছেঃ
وَمَا أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمُ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْ قَدِيرٌ (الحشر : ٦)
আর যে ধন-মাল আল্লাহ্ অন্য লোকদের দখল থেকে বের করে এনে তাঁর রাসূলকে ফিরিয়ে দিলেন, তা এমন নয় যার জন্য তোমরা ঘোড়া ও উট দৌড়িয়েছ। বরং আল্লাহ্ তাঁর রাসূলগণকে যে জিনিসেরই উপর ইচ্ছা কর্তৃত্ব ও আধিপত্য দান করেন। আর আল্লাহ্ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাবান।
অন্য কথায়, মুজাহিদদের প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করা ছাড়াই যেসব ধন-মাল ইসলামী রাষ্ট্রের মালিকানায় আসবে, যা পাওয়া যাবে কোন জনগোষ্ঠীর সাথে সন্ধি করার ফলে অথবা পরাজয় বরণ করে অধীন হয়ে থাকতে বাধ্য হয়ে যে জিযিয়া ইসলামী রাষ্ট্রকে দেবে, এছাড়া ধ্বংসাবশেষ, পরিত্যাক্ত, অনাবাদী মালিকবিহীন জমি-জায়গা, ঘর-বাড়ি, কল-কারখানা ইত্যাদি ও উপত্যকা-গর্ভ সম্পদ-এ সবই রাসূলের-আর তাঁর অবর্তমানে ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের কর্তৃত্ব ও ব্যবস্থাপনাধীন থাকবে। সে তা সবই পরিকল্পিতভাবে জনসাধারণের জন্য ব্যয় করবে।
বলা বাহুল্য, এসব থেকে ইসলামী রাষ্ট্র বিরাট নগদ সম্পদ লাভ করতে পারবে-এককালীণ কিংবা মাসে বছরে, অথবা মৌসুম অনুযায়ী।
এ পর্যায়ে একটি মাত্র দৃষ্টান্তের উল্লেখ করা যেতে পারে। বর্তমান মুসলিম দুনিয়া সারা বিশ্বের তুলনায় শতকরা ৬৬ ভাগেরও বেশী কাঁচা তৈল উৎপাদন করে। যে কোন মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য এই খাতে আয় নেহায়েত কম নয়।
📄 খারাজ ও ফসলের ভাগ
মুসলমানরা যুদ্ধ করে যে জমি দখল করে, সেই জমি চাষ করে যারা ফসল ফলায়, তাদেরকে এই দুটি কর দিতে হয়। কেননা এই জমি সর্বসাধারণ মুসলিমের মালিকানা সম্পত্তি। অতএব সেই জমির আয় জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হতে হবে। অবশ্য চাষকারীরা তা থেকে নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে নেবে।
আর খারাজ হচ্ছে জমির উপর ধার্যকৃত নগদ দেয় কর। যেমন প্রতি একরে জমি ভোগ-দখলকারী ব্যক্তি দশ দীনার বা অনুরূপ পরিমাণের অর্থ সরকারে দিয়ে দেবে প্রতি বছর।
আর জমির ফসলের ভাগ মূলত জমির উৎপাদনে অংশীদারিত্ব। তা অমুসলিমদের হাতে থাকলে খারাজ দিতে হবে, আর মুসলমানদের মালিকানাধীন জমির ফসলের এক দশমাংশ বা তার অর্ধের বায়তুলমালে জমা করতে হবে。
📄 জিযিয়া
ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম যিম্মীদের নিকট থেকে এই কর আদায় করা হয় তাদের পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্ব ইসলামী সরকার গ্রহণ করে বলে।
📄 অন্যান্য
এ ছাড়া আরও বহু প্রকারের কর ধার্য হতে পারে। যার পরিমাণ শরীয়াতে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি, তার জন্য বিশেষ কোন সময়কালও নির্দিষ্ট নেই। ইসলামী রাষ্ট্র সরকারই তা প্রয়োজনানুপাতে ধার্য করবে।