📄 স্বাস্থ্য ও বিবাহ
বিবাহের সাথে স্বাস্থ্যের নিকট সম্পর্ক। এ পর্যায়ে বহু তত্ত্ব ও তথ্যও উদ্ঘাটিত হয়েছে। আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানে সুস্বাস্থ্য রক্ষার দিক দিয়ে বিবাহের অসাধারণ গুরুত্ব সর্বজনমতের ভিত্তিতে স্বীকৃত হয়েছে, যদিও ইসলাম চৌদ্দশ বছর পূর্বেই এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। কুরআন মজীদ এ পর্যায়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা উপস্থাপিত করেছে, আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান তা জানতে পেরেছে অতি সম্প্রতি।
পুরুষ ও নারীর সুস্বাস্থ্যের জন্য বিবাহ-শুধু যৌন মিলনন নয়-অপরিহার্য। কিন্তু সেই বিবাহ হতে হবে এমন নারী পুরুষে, যাদের মধ্যে রক্ত সম্পর্ক খুব নিকটে নয়। আর এই কারণেই কুরআন কতিপয় নারী-পুরুষের পারস্পরিক বিবাহ হারাম করে দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছেঃ
حرمت عليكم امهتكم وبنتكم واخواتكم وعمتكم وخلتكم وبنت الاخ وبنت الْأُخْتِ وَأَمَّهُتُكُمُ الَّتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهْتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ الَّتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ الَّتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ - فَإِنْ لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ - وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ - وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا (النساء: ٢٣)
তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাই'র কন্যা, বোনের কন্যা, তোমাদের দুগ্ধদানকারী মা, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীর মা, তোমাদের স্ত্রীদের কোলে নিয়ে আসা তোমাদের পালিতা কন্যা, যেমন স্ত্রীর সাথে তোমরা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছ তাদের, যৌন সম্পর্ক স্থাপিত না করে থাকলে কোন গুনাহ হবে না, তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের বিবাহিতা, এ-ও হারাম যে, তোমরা দুই সহোদরাকে একসাথে স্ত্রীত্বে গ্রহণ করবে- পূর্বে যা তা তো হয়েই গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বড়ই ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।
এ আয়াতে সাত পর্যায়ের মেয়েলোককে বিবাহ করা পুরুষের জন্য হারাম করা হয়েছে। তারা পুরুষটির সাথে বংশগতভাবে সম্পর্কিত।
এতে দুধ সম্পর্কের কারণেও স্ত্রীলোককে হারাম করা হয়েছে। এটা মানব ইতিহাসের ধর্মসমূহের মধ্যে কেবলমাত্র ইসলামেরই উপস্থাপন। তার কারণ হচ্ছে, যে নারী সন্তানকে দুগ্ধ দেয়, সে আসলে তার দেহের অংশ গড়ে, যা সেই দুগ্ধপায়ী সন্তানের দেহ গঠনে বিরাট ভূমিকা পালন করে। এক কথায়, সে দুগ্ধ তার দেহের অংশে পরিণত হয়। এই দুধই তার রক্ত, তা থেকেই দেহের গোস্ত। আর অস্থি-মজ্জাও তাতেই গড়ে উঠে। ফলে সে মহিলার তার আপন মা'র স্থানীয় হয়ে যায়। আর মা তো চিরকালের জন্যই হারাম।
টিকাঃ
১. হাদীসে এই পর্যায়ে বহু বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে, ফিকাহর কিতাবেও বিস্তৃত আলোচনা আছে。
📄 স্বাস্থ্য রক্ষা পর্যায়ে ইসলামী হুকুমাতের দায়িত্ব
ব্যক্তিগণের ও গোটা সমাজ-সমষ্টির সাধারণ স্বাস্থ রক্ষার জন্য দুইটি বিষয়ের ব্যাপক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরীঃ
ক. সার্বক্ষণিকভাবে স্বাস্থ রক্ষার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকা।
খ. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক বিনিয়োগ ও জরুরী ঔষধসমূহের সুপ্রাপ্য করা-যা সাধারণত হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থকেন্দ্রে সম্ভব হয়। কোন এলাকায় মহামারী আকারে রোগ দেখা দিলে তার ব্যাপক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ দুটি কাজ-ই অত্যন্ত কঠিন ও ব্যাপক শক্তি-সামর্থ্যের উপর নির্ভরশীল, তা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখেনা। এজন্য ব্যাপক ও নির্ভুল পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। প্রয়োজন অমোঘ আইন-বিধানের ও বিপুল অর্থ-সম্পদের। বাস্তবতার দৃষ্টিতে এ কাজ কেবলমাত্র কোন রাষ্ট্র সরকারের পক্ষেই সম্ভব। তাই এতে কোনই সন্দেহ নাই যে, ইসলামী রাষ্ট্রের সকল প্রকারের দায়-দায়িত্বের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে জনগণের সুস্বাস্থ রক্ষার ব্যাপক ব্যবস্থার দায়িত্ব অবশ্যই প্রাথমিক ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে গণ্য হতে হবে। কেননা ইসলামী শাসন কায়েম হবে ও চলবে তো জনগণের উপর। কিন্তু সেই জনগণ-ই যদি সুস্বাস্থের অধিকারী না হয়, তাদের রোগ নিরাময়তার ব্যাপক ও কার্যকর ব্যবস্থা করা না হয়, তাহলে সে হুকুমত কোথায় দাড়াবে?
তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর ব্যবস্থা অবশ্যই ইসলামী সরকারকে করতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্রের জনগণের জান-মালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা নিঃসন্দেহে রাষ্টিয় দায়িত্ব। এখানে রাসূলে করীম (স)-এর এ কথাটি স্বরণ না করে পারা যায় না।
الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلِّ خَيْرٍ.
শক্তিমান সুস্বাস্থের অধিকারী মু'মিন ব্যক্তি অতীব কল্যাণময় এবং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় দুর্বল স্বাস্থ্যহীন মু'মিন ব্যক্তির তুলনায় সকল কল্যাণময় ব্যাপারেই।
ইসলামী রাষ্ট্র প্রথম দিন থেকেই এই ব্যাপারে স্বীয় দায়িত্ব মেনে নিয়েছে এবং সব সময়ই এই কর্তব্যের বাধ্যবাধকতাকে কার্যকর করতে চেষ্টিত রয়েছে।
টিকাঃ
১. সহিহ মুসলিম শরীফ।