📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 জিযিয়া

📄 জিযিয়া


জিযিয়া হলো এক প্রকার কর, যা ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত সক্ষম অমুসলিম পুরুষ নাগরিকদের উপর আরোপ করা হয়। এর বিনিময়ে রাষ্ট্র তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করে এবং সামরিক দায়িত্ব পালন থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়। এটি কোন জরিমানা বা শাস্তিমূলক কর নয়, বরং এটি তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি স্বরূপ।

জিযিয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
১. এটি কেবল সক্ষম ও উপার্জনক্ষম পুরুষদের উপর ধার্য করা হয়। নারী, শিশু, বৃদ্ধ, পঙ্গু, অন্ধ, উন্মাদ এবং উপাসনালয়ে নিবেদিত ধর্মযাজকদের উপর জিযিয়া ধার্য করা হয় না।
২. মুসলিমরা যেমন যাকাত দেয় এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীতে যোগদান করতে বাধ্য থাকে, অমুসলিমরা তার পরিবর্তে জিযিয়া প্রদান করে। যদি কোন অমুসলিম স্বেচ্ছায় সামরিক বাহিনীতে যোগদান করে দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নেয়, তবে তার উপর থেকে জিযিয়া মওকুফ হয়ে যায়।
৩. রাষ্ট্র যদি অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হয়, তবে জিযিয়া ফেরত দিতে হয়। ইতিহাসের পাতায় এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। ইয়ারমুক যুদ্ধের সময় যখন রোমান বাহিনীর বিশাল সমাবেশের মোকাবিলায় মুসলিম বাহিনী হিমস শহরের অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছিল না, তখন সেনাপতি হযরত আবূ উবাইদাহ (রা) তাদের নিকট থেকে আদায়কৃত জিযিয়া ফেরত দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না, তাই তোমাদের অর্থ ভোগ করার অধিকার আমাদের নেই।' অমুসলিমরা তখন কেঁদে বলেছিল, 'আল্লাহ আপনাদের ফিরিয়ে আনুন। রোমানরা হলে আমাদের সর্বস্ব কেড়ে নিত, কিন্তু ফেরত দিত না।'

জিযিয়া হলো এক প্রকার কর, যা ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত সক্ষম অমুসলিম পুরুষ নাগরিকদের উপর আরোপ করা হয়। এর বিনিময়ে রাষ্ট্র তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করে এবং সামরিক দায়িত্ব পালন থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়। এটি কোন জরিমানা বা শাস্তিমূলক কর নয়, বরং এটি তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি স্বরূপ।

জিযিয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
১. এটি কেবল সক্ষম ও উপার্জনক্ষম পুরুষদের উপর ধার্য করা হয়। নারী, শিশু, বৃদ্ধ, পঙ্গু, অন্ধ, উন্মাদ এবং উপাসনালয়ে নিবেদিত ধর্মযাজকদের উপর জিযিয়া ধার্য করা হয় না।
২. মুসলিমরা যেমন যাকাত দেয় এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীতে যোগদান করতে বাধ্য থাকে, অমুসলিমরা তার পরিবর্তে জিযিয়া প্রদান করে। যদি কোন অমুসলিম স্বেচ্ছায় সামরিক বাহিনীতে যোগদান করে দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নেয়, তবে তার উপর থেকে জিযিয়া মওকুফ হয়ে যায়।
৩. রাষ্ট্র যদি অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হয়, তবে জিযিয়া ফেরত দিতে হয়। ইতিহাসের পাতায় এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। ইয়ারমুক যুদ্ধের সময় যখন রোমান বাহিনীর বিশাল সমাবেশের মোকাবিলায় মুসলিম বাহিনী হিমস শহরের অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছিল না, তখন সেনাপতি হযরত আবূ উবাইদাহ (রা) তাদের নিকট থেকে আদায়কৃত জিযিয়া ফেরত দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না, তাই তোমাদের অর্থ ভোগ করার অধিকার আমাদের নেই।' অমুসলিমরা তখন কেঁদে বলেছিল, 'আল্লাহ আপনাদের ফিরিয়ে আনুন। রোমানরা হলে আমাদের সর্বস্ব কেড়ে নিত, কিন্তু ফেরত দিত না।'

সকলেরই জানা কথা, ইসলাম আহলি কিতাব লোকদের উপর বিজয় লাভ করে তাদের উপর জিযিয়া ধার্য করে। কিন্তু জিযিয়া ধার্য হওয়া তাদের জন্য কোন অপমানের ব্যাপার নয়। এটা একটা বিশেষ 'কর', যা কেবল অমুসলিম নাগরিকদের নিকট থেকে আদায় করা হয়, ঠিক যেমন মুসলিম নাগরিকদের নিকট থেকে আদায় করা হয় যাকাত, এক-পঞ্চমাংশ ও অন্যান্য বহু প্রকারের সাদকা। আর এই কারণেই অক্ষম, পুঙ্গ, বৃদ্ধ, পাগল, বালক নারীদের থেকে তা নেয়া হয় না। কেননা জিযিয়া ব্যক্তির আয় অনুপাতে ধার্য হয়ে থাকে।
অবশ্য রাষ্ট্র-সরকার ইচ্ছা করলে জিযিয়া জমির পরিবর্তে মাথাপিছু কিংবা মাথাপিছুর পরিবর্তে জমির উপর-ও ধার্য করতে পারে। এই সময় পাশাপাশি বসবাসকারী মুসলমানদের নিকট থেকেও তো অনেক প্রকারের কর আদায় করা হয়। অমুসলিমদের নিকট থেকে জিযিয়া ভিন্ন অন্য কিছু আদায় করা হয় না। উপরন্তু তা ব্যক্তির সাধ্যের বেশী কখনই ধার্য করা হয় না। এজন্য ইসলামে কোন পরিমাণ স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট নেই।
আল্লামা সাইয়্যেদ রশীদ রেজা লিখেছেনঃ ইসলামের দৃষ্টিতে জিযিয়া সেই ধরনের কোন কর নয়, যা কোন দেশের বিজয়ী বাহিনী বিজিতদের উপর সাধারণভাবে ধার্য করে থাকে, ধার্য করে থাকে বড় পরিমাণের জরিমানা, যুদ্ধের ক্ষয়-ক্ষতির পরিপূরণার্থে। জিযিয়া মূলত খুবই সামান্য পরিমাণে ধার্য করা হয় এবং তদ্দ্বারা সেই প্রয়োজন পূরণ করা হয়, যা তাদের বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনে সরকারকে ব্যয় করতে হয়।
বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্র এর বিনিময়ে অমুসলিমদের রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে। আর এর-ই ফলে যে-কোন অমুসলিম নাগরিক পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা সহকারে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে পারে, বাঁচাতে পারে তাদের মান-সম্মান ও ধন-মাল।
যে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সাথে অমুসলিমরা আবহমান কাল থেকে বসবাস করে আসে, তথায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর-ও সে সব অমুসলিম সেই দেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করবে না-বরং অমুসলিম হয়েও ইসলামী রাষ্ট্রের অনুগত নাগরিক হয়ে বসবাস করতে প্রস্তুত হবে, তারা সরকারের নিকট থেকে সর্ব প্রকারের ব্যাপারে পূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করবে, সরকার তাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর এ জন্য তাদের নিকট থেকে একটা বিশেষ 'কর' আদায় করার অধিকারী হবে। তবে তার নাম 'জিযিয়া'ই হতে হবে, এমন কোন কথা নেই। -গ্রন্থকার

টিকাঃ
১. تفسير المدرج ۱۱، ص ۲۸۲ ۵۰

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00