📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 রাসূল করীম (স)-এর নীতি

📄 রাসূল করীম (স)-এর নীতি


রাসূল করীম (স) পরামর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রে কী নীতি অবলম্বন করতেন, তা উহুদ যুদ্ধের ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। উহুদ যুদ্ধের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনার অভ্যন্তরে থেকে প্রতিরক্ষা ব্যূহ রচনা করার পক্ষে ছিলেন। প্রবীণ সাহাবীদের মতও তাই ছিল। কিন্তু তরুণ সাহাবীগণ, যারা বদর যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি, তাঁরা আবেগের আতিশয্যে মদীনার বাইরে গিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার জন্য জোরালো দাবি জানালেন।

যদিও রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিজস্ব মত ছিল ভিন্ন, তথাপি তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সাহাবীদের আবেগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং বর্ম পরিধান করে বেরিয়ে এলেন। পরবর্তীতে সাহাবীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে রাসূল (স)-কে তাঁর নিজস্ব মত অনুযায়ী কাজ করার অনুরোধ জানালে তিনি বললেনঃ ‘কোন নবীর পক্ষে বর্ম পরিধান করার পর যুদ্ধ না করে তা খোলা শোভন নয়।’

এ ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, পরামর্শ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের গুরুত্ব অপরিসীম এবং নেতাকে অনেক সময় নিজের মতের বিরুদ্ধে হলেও সমষ্টির রায় মেনে নিতে হয়। এটিই উম্মতের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার উপায়।

রাসূল করীম (স) পরামর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রে কী নীতি অবলম্বন করতেন, তা উহুদ যুদ্ধের ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। উহুদ যুদ্ধের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনার অভ্যন্তরে থেকে প্রতিরক্ষা ব্যূহ রচনা করার পক্ষে ছিলেন। প্রবীণ সাহাবীদের মতও তাই ছিল। কিন্তু তরুণ সাহাবীগণ, যারা বদর যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি, তাঁরা আবেগের আতিশয্যে মদীনার বাইরে গিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার জন্য জোরালো দাবি জানালেন।

যদিও রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিজস্ব মত ছিল ভিন্ন, তথাপি তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সাহাবীদের আবেগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং বর্ম পরিধান করে বেরিয়ে এলেন। পরবর্তীতে সাহাবীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে রাসূল (স)-কে তাঁর নিজস্ব মত অনুযায়ী কাজ করার অনুরোধ জানালে তিনি বললেনঃ ‘কোন নবীর পক্ষে বর্ম পরিধান করার পর যুদ্ধ না করে তা খোলা শোভন নয়।’

এ ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, পরামর্শ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের গুরুত্ব অপরিসীম এবং নেতাকে অনেক সময় নিজের মতের বিরুদ্ধে হলেও সমষ্টির রায় মেনে নিতে হয়। এটিই উম্মতের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার উপায়।

এর অপর একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে এবং তা হচ্ছে, জনগণের কাজ হচ্ছে, রাসূল (স) পরামর্শ চাইলে সাধ্যমত সর্বোত্তম ও নির্ভুল মত জানিয়ে দেয়া, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নবীর নিজের। ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানেরও সেই দায়িত্ব ও ক্ষমতা রয়েছে।
নবী করীম (স) সাধারণভাবে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের মত মেনে নিয়েছেন-তার দৃষ্টান্ত খুব পাওয়া যায় না। বরং লোকদের মত জেনে নেয়ার পর তিনি প্রায় নিজস্ব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। উদ্ধৃত আয়াতের শেষাংশ থেকে প্রতিভাত হয় যে, লোকদের পরামর্শ জেনে নেয়ার পর তিনি যে মতটিকে অধিক সঠিক, অধিক কল্যাণকর মনে করেছেন, সেটাই গ্রহণ করেছেন, সেই মতটি বেশীর ভাগ লোকের, কি কম সংখ্যক লোকের-সে দিকে তেমন ভ্রুক্ষেপ করেননি। তাই ইসলামী রাষ্ট্রের ও সমাজে পরামর্শের বিধান তো রয়েছে, কিন্তু পাশ্চাত্যের ধর্মহীন গণতন্ত্রের নীতি Majority must be granted সংখ্যাধিক্যের মত অবশ্যই গৃহীত হতে হবে-ইসলামে নিঃশর্তভাব তা গৃহীত হয়নি।
নবী করীম (স) বদর যুদ্ধ কালে সাহাবায়ে কিরামের মজলিস করেছেন। বিশদ আলোচনা হয়েছে। হযরত আবু বকর ও উমর (রা) নিজ মত প্রকাশ করেছেন। শেষে হযরত মিকদাদ ইবনে আমর (রা) দাড়িয়ে বললেনঃ
'হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্রসর হোন। আমরা আপনার সঙ্গেই রয়েছি। বনী ইসরাইলীরা তাদের নবীকে যেমন বলেছিলঃ আপনি ও আপনার রব যান ও যুদ্ধ করুন, আমরা তো এখানেই আসন গেড়ে বসলাম-আমরা তেমন কথা নিশ্চয়ই বলব না। বরং বলবঃ 'আপনি ও আপনার রব অগ্রসর হোন, আমরা আপনাদের সঙ্গে থেকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছি।'
রাসূলে করীম (স) এই মতটিকে খুবই পছন্দ করেছেন, তিনি তাঁর জন্য দোয়া করেছেন।
ওহোদ যুদ্ধকালে কুরাইশরা মদীনার উপকণ্ঠে পৌছে গেছে জানতে পেরে তিনি সাহাবায়ে কিরামকে নিয়ে পরামর্শে বসলেন। প্রশ্ন রাখলেনঃ মদীনার মধ্যে থেকেই যুদ্ধ করা হবে, না বাইরে গিয়ে মুকাবিলা করা হবে? সাহাবীগণ উভয় দিকেই মত দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলে করীম (স) তাঁদের মতকেই পছন্দ করলেন ও সিদ্ধান্ত করলেন, যাঁদের মত ছিল মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার পক্ষে।
আহযাব যুদ্ধকালেও পরামর্শ করতে গিয়ে রাসূলে করীম (স) বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী মতের সম্মুখীন হলেন। শেষে হযরত সালমান ফারসী (রা)-র মত গ্রহণ করে মদীনা নগরের বাইরে পরিখা খনন করলেন। হযরত সালমান (রা) একাই তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং রাসূলে করীম (স) তাঁর দেয়া পরামর্শ গ্রহণ করতে কিছুমাত্র দ্বিধাবোধ করলেন না, যদিও পরিখা খনন করে শত্রু বাহিনীর অগ্রগতি রোধ করার পদ্ধতি আরবদের মূলতই জানা ছিল না।
সেই পরিখা যুদ্ধকালীন আর-ও একটি ঘটনা। ইসলামী বাহিনী খাদ্যাভাবে ভীষণ কষ্ঠের মধ্যে পড়ে গেছে। রাসূলে করীম (স) গাতফান কবীলার সরদার উয়াইনা বিন হাচন ও হারিস ইবনে আউফের নিকট লোক পাঠিয়ে মদীনার এক-তৃতীয়াংশ ফল ও ফসল দেয়ার শর্তে যুদ্ধের ময়দান থেকে তাদের চলে যাওয়ার জন্য সন্ধি করলেন এবং এ ব্যাপারে একটি দস্তাবেজ লিপিবদ্ধ করলেন যদিও কোন লোককে সাক্ষী রাখা হয়নি। এটা ঠিক 'সন্ধি' ধরনেরও কিছু ছিল না। রাসূলে করীম (স) যখন এ বিষয়টি চূড়ান্ত করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি হযরত সায়াদ ইবনে মুয়ায ও সায়াদ ইবনে উবাদা (রা)-কে বিষয়টি জানালেন এবং তাঁদের পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা শুনে বললেনঃ হে রাসূল! এ ব্যাপারে কি আমরা যা পছন্দ করব, তাই করতে পারব, না আল্লাহ্ আপনাকে এই কাজ করার জন্য আদেশ করেছেন? তিনি বললেন-না, আল্লাহ্ কোন আদেশ নাযিল করেন নি, আমিই চিন্তা করেছি এই কাজ করার। তখন তাঁরা বললেন 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা ও ওরা মুশরিক জাতি ছিলাম। আল্লাহকে জানতামও না, তাঁর ইবাদতও আমরা করতাম না। এক্ষণে আপনার দৌলতে আল্লাহ্ আমাদেরকে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এই সময় ওদের সাথে এইরূপ চুক্তি করা কিছুতেই শোভণ হবে না। নবী করীম (স) তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করলেন এবং চুক্তির ইচ্ছা পরিত্যাগ করলেন।
তায়েফ যুদ্ধকালেও পরামর্শ গ্রহণের ব্যাপার ঘটেছিল। তায়েফ যাত্রাপথে একটি দুর্গ দেখা গেল। নবী করীম (স) সঙ্গীদের নিয়ে তথায় অবতরণ করলেন। ইতিমধ্যে হুবাব ইবনুল মুনযির (রা) উপস্থিত হয়ে বললেনঃ আমরা দুর্গের নিকটে পৌঁছে গেছি। এখন আল্লাহ্র নির্দেশ কিছু থাকলে আমরা তা-ই করব। অন্যথায় এই দুর্গ আক্রমণে বিলম্ব করাই শ্রেয়ঃ মনে করি।
রাসূলে করীম (স) তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করলেন।
উপরোদ্ধৃত শেষের দুইটি পরামর্শের ব্যাপারে বিবেচনা করলে স্পষ্ট বোঝা যাবে-এই উভয় ক্ষেত্রেই নবী করীম (স) কর্মক্ষেত্রে বিবেচিত সর্বোত্তম, সর্বাধিক সত্য ও অধিক কল্যাণকর পন্থা গ্রহণের নীতি অবলম্বন করেছেন। এসব ক্ষেত্রে নবী করীম (স) কোন মত গ্রহণ ও কোন মত বর্জনে সংখ্যাগুরু (Majority) সংখ্যালঘুর (Minority)-র উপর ভিত্তি করে করেননি। বরং তিনি সকলেরই বক্তব্য শুনতেন, তবে তাঁর নিকট যে মতটি অধিক যথার্থ ও সঠিক বিবেচিত হয়েছে, সেটাই তিনি গ্রহণ করেছেন, সেটি বেশী সংখ্যক লোকের, না কম সংখ্যক লোকের-সেটা হিসেব করেননি।
কিন্তু হুদায়বিয়ার সন্ধির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্নতর অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। সঙ্গের সমস্ত সাহাবী মক্কার কাফিরদের সাথে কোনরূপ সন্ধি করার মতের সম্পূর্ণ বিরোধী। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সন্ধি করলেন ও তাকে কার্যকর করলেন।
এক্ষেত্রে অধিক প্রকট ঘটনা হচ্ছে-হযরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা)-কে নিজ হাতে পতাকা দিয়ে বললেনঃ سِرًّا لَى مُوْضَعَ قَتْلِ إِبَيْكَ فَأَوْطِنْهُمُ الْخَيْلَ فَقَدْ وَلَيْتُكَ هَذَا الْجَيْش .
তুমি রওয়ানা হয়ে যাবে সেইখানে, যেখানে তোমার পিতা শহীদ হয়েছে এবং সেই স্থানের লোকদেরকে অশ্ব-ক্ষুরে নিষ্পেষিত করবে। আমি তোমাকে এই বাহিনীর সেনাধ্যক্ষ নিযুক্ত করলাম।
অথচ বড় বড় সাহাবী এই পদক্ষেপ মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারেননি। তারা হযরত উসামা (রা)-কে সেনাপতি বানানোর বিরুদ্ধে মত জানিয়েছিলেন। কিন্তু নবী করীম (স) কারোর কথাই শুনেন নি, কারোর বিরুদ্ধতারও পরোয়া করেননি। সাহাবায়ে কিরামের বিপরীত মতও তাঁকে তাঁর সংকল্প থেকে একবিন্দু টলাতে পারে নি। তিনি সাহাবায়ে কিরামের বিরূপ মত ও ক্ষোভের টের পেয়ে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেনঃ "হে জনগণ! উসামাকে সেনাধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যাপারে তোমাদের অ-মতের কথা আমার নিকট পৌঁছেছে! তোমরা পূর্বেও তার পিতা জায়েদকে সেনাধ্যক্ষ নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলে। আমি আল্লাহ্ নামে শপথ করে বলছি, সে সেনাধ্যক্ষ হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য ছিল, তার পুত্রও যোগ্য"।
এই সব ঘটনা থেকে পরামর্শ গ্রহণের ব্যাপারে নবী করীম (স)-এর এই নীতিরই সন্ধান মেলে যে, নেতা পরামর্শ চাইবে, সংশ্লিষ্ট লোকেরা পরামর্শ দেবেও। কিন্তু গ্রহণ করবে তা, যা তার নিকট অধিক সঠিক ও কল্যাণকর বিবেচিত হবে। অধিকাংশ লোকের মত গ্রহণ করতে সে বাধ্য নয়। তবে কোন সময় অধিকাংশের মতও গ্রহণ করা যেতে পারে, যেমন করে নবী করীম (স) ওহোদের যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাই করেছিলেন।
তবে মজলিসে শু'রায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে পরামর্শ দানের ব্যাপারটি নিশ্চয়ই রাষ্ট্রপ্রধান বা অন্যান্য পর্যায়ের নেতা নির্বাচনের ব্যাপারের মত নয়। এই শেষোক্ত ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতই গৃহীত হবে। অন্যথায় বিরোধ ও মতপার্থক্য গোটা সমাজকেই অচল করে দেবে। তাই অধিকাংশ লোকের সমর্থনে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারাদিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বেলায় সেই নেতা অধিকাংশ লোকের মত গ্রহণে সব সময়ই বাধ্য হতে পারে না। নেতা যদি মনে করে-অধিকাংশ লোকের মত বাস্তবতার কিংবা কুরআন ও সুন্নাহর সামগ্রিক ভাবধারার সাথে সঙ্গতিসম্পন্ন নয়, তাহলে তখন যা অধিক সত্য বলে বিবেচিত হবে সেই মত-তা বেশী সংখ্যকের হোক, কি কম সংখ্যকের-গ্রহণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত করবে ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এই নীতিই কুরআনের বিধান ও রাসূলের সুন্নাতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যশীল বলেই মনে হয়।

টিকাঃ
১. مغازی الواقدی ج: ২، ص: ৯২৫-٩٢٦ - سيرة ابن هشام ২ ص: ২১৮-۲۱۶

এর অপর একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে এবং তা হচ্ছে, জনগণের কাজ হচ্ছে, রাসূল (স) পরামর্শ চাইলে সাধ্যমত সর্বোত্তম ও নির্ভুল মত জানিয়ে দেয়া, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নবীর নিজের। ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানেরও সেই দায়িত্ব ও ক্ষমতা রয়েছে।
নবী করীম (স) সাধারণভাবে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের মত মেনে নিয়েছেন-তার দৃষ্টান্ত খুব পাওয়া যায় না। বরং লোকদের মত জেনে নেয়ার পর তিনি প্রায় নিজস্ব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। উদ্ধৃত আয়াতের শেষাংশ থেকে প্রতিভাত হয় যে, লোকদের পরামর্শ জেনে নেয়ার পর তিনি যে মতটিকে অধিক সঠিক, অধিক কল্যাণকর মনে করেছেন, সেটাই গ্রহণ করেছেন, সেই মতটি বেশীর ভাগ লোকের, কি কম সংখ্যক লোকের-সে দিকে তেমন ভ্রুক্ষেপ করেননি। তাই ইসলামী রাষ্ট্রের ও সমাজে পরামর্শের বিধান তো রয়েছে, কিন্তু পাশ্চাত্যের ধর্মহীন গণতন্ত্রের নীতি Majority must be granted সংখ্যাধিক্যের মত অবশ্যই গৃহীত হতে হবে-ইসলামে নিঃশর্তভাব তা গৃহীত হয়নি।
নবী করীম (স) বদর যুদ্ধ কালে সাহাবায়ে কিরামের মজলিস করেছেন। বিশদ আলোচনা হয়েছে। হযরত আবু বকর ও উমর (রা) নিজ মত প্রকাশ করেছেন। শেষে হযরত মিকদাদ ইবনে আমর (রা) দাড়িয়ে বললেনঃ
'হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্রসর হোন। আমরা আপনার সঙ্গেই রয়েছি। বনী ইসরাইলীরা তাদের নবীকে যেমন বলেছিলঃ আপনি ও আপনার রব যান ও যুদ্ধ করুন, আমরা তো এখানেই আসন গেড়ে বসলাম-আমরা তেমন কথা নিশ্চয়ই বলব না। বরং বলবঃ 'আপনি ও আপনার রব অগ্রসর হোন, আমরা আপনাদের সঙ্গে থেকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছি।'
রাসূলে করীম (স) এই মতটিকে খুবই পছন্দ করেছেন, তিনি তাঁর জন্য দোয়া করেছেন।
ওহোদ যুদ্ধকালে কুরাইশরা মদীনার উপকণ্ঠে পৌছে গেছে জানতে পেরে তিনি সাহাবায়ে কিরামকে নিয়ে পরামর্শে বসলেন। প্রশ্ন রাখলেনঃ মদীনার মধ্যে থেকেই যুদ্ধ করা হবে, না বাইরে গিয়ে মুকাবিলা করা হবে? সাহাবীগণ উভয় দিকেই মত দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলে করীম (স) তাঁদের মতকেই পছন্দ করলেন ও সিদ্ধান্ত করলেন, যাঁদের মত ছিল মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার পক্ষে।
আহযাব যুদ্ধকালেও পরামর্শ করতে গিয়ে রাসূলে করীম (স) বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী মতের সম্মুখীন হলেন। শেষে হযরত সালমান ফারসী (রা)-র মত গ্রহণ করে মদীনা নগরের বাইরে পরিখা খনন করলেন। হযরত সালমান (রা) একাই তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং রাসূলে করীম (স) তাঁর দেয়া পরামর্শ গ্রহণ করতে কিছুমাত্র দ্বিধাবোধ করলেন না, যদিও পরিখা খনন করে শত্রু বাহিনীর অগ্রগতি রোধ করার পদ্ধতি আরবদের মূলতই জানা ছিল না।
সেই পরিখা যুদ্ধকালীন আর-ও একটি ঘটনা। ইসলামী বাহিনী খাদ্যাভাবে ভীষণ কষ্ঠের মধ্যে পড়ে গেছে। রাসূলে করীম (স) গাতফান কবীলার সরদার উয়াইনা বিন হাচন ও হারিস ইবনে আউফের নিকট লোক পাঠিয়ে মদীনার এক-তৃতীয়াংশ ফল ও ফসল দেয়ার শর্তে যুদ্ধের ময়দান থেকে তাদের চলে যাওয়ার জন্য সন্ধি করলেন এবং এ ব্যাপারে একটি দস্তাবেজ লিপিবদ্ধ করলেন যদিও কোন লোককে সাক্ষী রাখা হয়নি। এটা ঠিক 'সন্ধি' ধরনেরও কিছু ছিল না। রাসূলে করীম (স) যখন এ বিষয়টি চূড়ান্ত করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি হযরত সায়াদ ইবনে মুয়ায ও সায়াদ ইবনে উবাদা (রা)-কে বিষয়টি জানালেন এবং তাঁদের পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা শুনে বললেনঃ হে রাসূল! এ ব্যাপারে কি আমরা যা পছন্দ করব, তাই করতে পারব, না আল্লাহ্ আপনাকে এই কাজ করার জন্য আদেশ করেছেন? তিনি বললেন-না, আল্লাহ্ কোন আদেশ নাযিল করেন নি, আমিই চিন্তা করেছি এই কাজ করার। তখন তাঁরা বললেন 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা ও ওরা মুশরিক জাতি ছিলাম। আল্লাহকে জানতামও না, তাঁর ইবাদতও আমরা করতাম না। এক্ষণে আপনার দৌলতে আল্লাহ্ আমাদেরকে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এই সময় ওদের সাথে এইরূপ চুক্তি করা কিছুতেই শোভণ হবে না। নবী করীম (স) তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করলেন এবং চুক্তির ইচ্ছা পরিত্যাগ করলেন।
তায়েফ যুদ্ধকালেও পরামর্শ গ্রহণের ব্যাপার ঘটেছিল। তায়েফ যাত্রাপথে একটি দুর্গ দেখা গেল। নবী করীম (স) সঙ্গীদের নিয়ে তথায় অবতরণ করলেন। ইতিমধ্যে হুবাব ইবনুল মুনযির (রা) উপস্থিত হয়ে বললেনঃ আমরা দুর্গের নিকটে পৌঁছে গেছি। এখন আল্লাহ্র নির্দেশ কিছু থাকলে আমরা তা-ই করব। অন্যথায় এই দুর্গ আক্রমণে বিলম্ব করাই শ্রেয়ঃ মনে করি।
রাসূলে করীম (স) তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করলেন।
উপরোদ্ধৃত শেষের দুইটি পরামর্শের ব্যাপারে বিবেচনা করলে স্পষ্ট বোঝা যাবে-এই উভয় ক্ষেত্রেই নবী করীম (স) কর্মক্ষেত্রে বিবেচিত সর্বোত্তম, সর্বাধিক সত্য ও অধিক কল্যাণকর পন্থা গ্রহণের নীতি অবলম্বন করেছেন। এসব ক্ষেত্রে নবী করীম (স) কোন মত গ্রহণ ও কোন মত বর্জনে সংখ্যাগুরু (Majority) সংখ্যালঘুর (Minority)-র উপর ভিত্তি করে করেননি। বরং তিনি সকলেরই বক্তব্য শুনতেন, তবে তাঁর নিকট যে মতটি অধিক যথার্থ ও সঠিক বিবেচিত হয়েছে, সেটাই তিনি গ্রহণ করেছেন, সেটি বেশী সংখ্যক লোকের, না কম সংখ্যক লোকের-সেটা হিসেব করেননি।
কিন্তু হুদায়বিয়ার সন্ধির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্নতর অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। সঙ্গের সমস্ত সাহাবী মক্কার কাফিরদের সাথে কোনরূপ সন্ধি করার মতের সম্পূর্ণ বিরোধী। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সন্ধি করলেন ও তাকে কার্যকর করলেন।
এক্ষেত্রে অধিক প্রকট ঘটনা হচ্ছে-হযরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা)-কে নিজ হাতে পতাকা দিয়ে বললেনঃ سِرًّا لَى مُوْضَعَ قَتْلِ إِبَيْكَ فَأَوْطِنْهُمُ الْخَيْلَ فَقَدْ وَلَيْتُكَ هَذَا الْجَيْش .
তুমি রওয়ানা হয়ে যাবে সেইখানে, যেখানে তোমার পিতা শহীদ হয়েছে এবং সেই স্থানের লোকদেরকে অশ্ব-ক্ষুরে নিষ্পেষিত করবে। আমি তোমাকে এই বাহিনীর সেনাধ্যক্ষ নিযুক্ত করলাম।
অথচ বড় বড় সাহাবী এই পদক্ষেপ মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারেননি। তারা হযরত উসামা (রা)-কে সেনাপতি বানানোর বিরুদ্ধে মত জানিয়েছিলেন। কিন্তু নবী করীম (স) কারোর কথাই শুনেন নি, কারোর বিরুদ্ধতারও পরোয়া করেননি। সাহাবায়ে কিরামের বিপরীত মতও তাঁকে তাঁর সংকল্প থেকে একবিন্দু টলাতে পারে নি। তিনি সাহাবায়ে কিরামের বিরূপ মত ও ক্ষোভের টের পেয়ে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেনঃ "হে জনগণ! উসামাকে সেনাধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যাপারে তোমাদের অ-মতের কথা আমার নিকট পৌঁছেছে! তোমরা পূর্বেও তার পিতা জায়েদকে সেনাধ্যক্ষ নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলে। আমি আল্লাহ্ নামে শপথ করে বলছি, সে সেনাধ্যক্ষ হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য ছিল, তার পুত্রও যোগ্য"।
এই সব ঘটনা থেকে পরামর্শ গ্রহণের ব্যাপারে নবী করীম (স)-এর এই নীতিরই সন্ধান মেলে যে, নেতা পরামর্শ চাইবে, সংশ্লিষ্ট লোকেরা পরামর্শ দেবেও। কিন্তু গ্রহণ করবে তা, যা তার নিকট অধিক সঠিক ও কল্যাণকর বিবেচিত হবে। অধিকাংশ লোকের মত গ্রহণ করতে সে বাধ্য নয়। তবে কোন সময় অধিকাংশের মতও গ্রহণ করা যেতে পারে, যেমন করে নবী করীম (স) ওহোদের যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাই করেছিলেন।
তবে মজলিসে শু'রায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে পরামর্শ দানের ব্যাপারটি নিশ্চয়ই রাষ্ট্রপ্রধান বা অন্যান্য পর্যায়ের নেতা নির্বাচনের ব্যাপারের মত নয়। এই শেষোক্ত ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতই গৃহীত হবে। অন্যথায় বিরোধ ও মতপার্থক্য গোটা সমাজকেই অচল করে দেবে। তাই অধিকাংশ লোকের সমর্থনে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারাদিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বেলায় সেই নেতা অধিকাংশ লোকের মত গ্রহণে সব সময়ই বাধ্য হতে পারে না। নেতা যদি মনে করে-অধিকাংশ লোকের মত বাস্তবতার কিংবা কুরআন ও সুন্নাহর সামগ্রিক ভাবধারার সাথে সঙ্গতিসম্পন্ন নয়, তাহলে তখন যা অধিক সত্য বলে বিবেচিত হবে সেই মত-তা বেশী সংখ্যকের হোক, কি কম সংখ্যকের-গ্রহণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত করবে ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এই নীতিই কুরআনের বিধান ও রাসূলের সুন্নাতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যশীল বলেই মনে হয়।

টিকাঃ
১. مغازی الواقدی ج: ২، ص: ৯২৫-٩٢٦ - سيرة ابن هشام ২ ص: ২১৮-۲۱۶

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 জরুরী সংযোজন

📄 জরুরী সংযোজন


শু’রা বা পরামর্শ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের গুরুত্ব স্বীকার করার সাথে সাথে একটি জরুরী বিষয় মনে রাখা আবশ্যক। ইসলামে সংখ্যার আধিক্যই সত্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। কুরআনে বলা হয়েছেঃ

وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِিলِ اللَّهِ
‘আর আপনি যদি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে।’ (সূরা আনআমঃ ১১৬)

অতএব, আইন প্রণয়ন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানের বিরোধী হবে না। হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম করার ক্ষমতা পৃথিবীর কোন পার্লামেন্ট বা মজলিসে শুরার নেই, তা তারা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিলেও।

ইসলামী রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের (Democracy) স্থান আছে বটে, তবে তা ‘লিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা স্বেচ্ছাচারী গণতন্ত্র নয়। এটি হলো ‘থিও-ডেমোক্রেসি’ বা ‘ইলাহী গণতন্ত্র’, যেখানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও আইনের অধীনে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার ভোগ করে।

শু’রা বা পরামর্শ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের গুরুত্ব স্বীকার করার সাথে সাথে একটি জরুরী বিষয় মনে রাখা আবশ্যক। ইসলামে সংখ্যার আধিক্যই সত্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। কুরআনে বলা হয়েছেঃ

وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِিলِ اللَّهِ
‘আর আপনি যদি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে।’ (সূরা আনআমঃ ১১৬)

অতএব, আইন প্রণয়ন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানের বিরোধী হবে না। হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম করার ক্ষমতা পৃথিবীর কোন পার্লামেন্ট বা মজলিসে শুরার নেই, তা তারা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিলেও।

ইসলামী রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের (Democracy) স্থান আছে বটে, তবে তা ‘লিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা স্বেচ্ছাচারী গণতন্ত্র নয়। এটি হলো ‘থিও-ডেমোক্রেসি’ বা ‘ইলাহী গণতন্ত্র’, যেখানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও আইনের অধীনে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার ভোগ করে।

বর্তমান সময়ে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ও ইসলামী আদর্শবাদী ব্যক্তিবর্গের দ্বারা পরিচালিত সরকারকে সর্বসম্মতভাবে কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে রচিত সংবিধানের পুরাপুরি অনুসরণকারী করে রাখা এবং তাকে আদর্শ বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ ও অমোঘ ভাবে কার্যকর পন্থা গ্রহণ করা একান্তই জরুরী মনে করি। সে পন্থাটি এই হতে পারে যে, দেশের সর্বজন পরিচিত, কুরআন ও সুন্নাহর গভীর ও ব্যাপক ইল্ম-এর ধারক এবং তাকওয়া-পরহেযগারীর দিক দিয়ে পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন ব্যক্তিকে 'ইসলামী আদর্শের সংরক্ষক' মর্যাদায় নির্বাচিত করা হবে, যাকে সকল প্রকারের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব থেকে দূরে ও নিঃসম্পর্ক রাখা হবে। সংবিধানের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন বা কুরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধতা দেখলে সে কঠোর হাতে তা দমন করবে এবং শুধু এই ব্যাপারে তার কথাই হবে চূড়ান্ত। অবশ্য এ পর্যায়ে তার বক্তব্য হতে হবে অকাট্য দলীল প্রমাণভিত্তিক।
এ কথা স্বীকৃত ও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলো শুধু পদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাখ্যা এবং যোগ্যতার মান বা শর্তসমূহ জনগণের নিকট পেশ করে স্বতন্ত্রভাবে এই পদে একজন বিশেষ ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা যেতে পারে। -গ্রন্থকার

বর্তমান সময়ে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ও ইসলামী আদর্শবাদী ব্যক্তিবর্গের দ্বারা পরিচালিত সরকারকে সর্বসম্মতভাবে কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে রচিত সংবিধানের পুরাপুরি অনুসরণকারী করে রাখা এবং তাকে আদর্শ বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ ও অমোঘ ভাবে কার্যকর পন্থা গ্রহণ করা একান্তই জরুরী মনে করি। সে পন্থাটি এই হতে পারে যে, দেশের সর্বজন পরিচিত, কুরআন ও সুন্নাহর গভীর ও ব্যাপক ইল্ম-এর ধারক এবং তাকওয়া-পরহেযগারীর দিক দিয়ে পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন ব্যক্তিকে 'ইসলামী আদর্শের সংরক্ষক' মর্যাদায় নির্বাচিত করা হবে, যাকে সকল প্রকারের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব থেকে দূরে ও নিঃসম্পর্ক রাখা হবে। সংবিধানের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন বা কুরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধতা দেখলে সে কঠোর হাতে তা দমন করবে এবং শুধু এই ব্যাপারে তার কথাই হবে চূড়ান্ত। অবশ্য এ পর্যায়ে তার বক্তব্য হতে হবে অকাট্য দলীল প্রমাণভিত্তিক।
এ কথা স্বীকৃত ও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলো শুধু পদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাখ্যা এবং যোগ্যতার মান বা শর্তসমূহ জনগণের নিকট পেশ করে স্বতন্ত্রভাবে এই পদে একজন বিশেষ ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা যেতে পারে। -গ্রন্থকার

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00