📄 সুবিচারের উপর ইসলামের গুরুত্বারোপ
ইসলাম ন্যায়বিচার বা 'আদল'-এর উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। কুরআন মজীদে বহু আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছেঃ
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও ইহসানের নির্দেশ দিচ্ছেন। (সূরা নহলঃ ৯০)
অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক এবং ন্যায়পরায়ণতার সাথে সাক্ষ্য দাও। কোন সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার কর, এটি তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। (সূরা মায়িদাঃ ৮)
এমনকি নিজের বা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে গেলেও ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছেঃ
كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ
তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহর সাক্ষী হিসেবে, যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। (সূরা নিসাঃ ১৩৫)
📄 সুবিচার প্রতিষ্ঠার রূপরেখা
সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে। এর মূল দিকগুলো হলোঃ
১. আইনের শাসন (Rule of Law): সকল কাজকর্ম ও সিদ্ধান্ত কুরআন ও সুন্নাহর আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। কারো খেয়াল-খুশি মত নয়।
২. স্বাধীন বিচার বিভাগঃ বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন হতে হবে। বিচারক নিয়োগ, বদলি ও বরখাস্তের ক্ষেত্রে শাসকের খেয়াল-খুশি চলবে না।
৩. যোগ্য বিচারক নিয়োগঃ বিচারক হতে হবে জ্ঞানবান, চরিত্রবান ও মুত্তাকী। অজ্ঞ বা দুর্নীতিপরায়ণ লোক বিচারক হতে পারে না।
৪. সহজ বিচার প্রাপ্তিঃ বিচার প্রার্থীর জন্য আদালতের দরজা সর্বদা খোলা থাকতে হবে। বিচার পাওয়ার জন্য কোন অর্থ ব্যয় বা দীর্ঘসূত্রিতার প্রয়োজন হবে না।
৫. সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে রায়ঃ বিচারক আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং অকাট্য সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেবেন।
৬. সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণঃ অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। ইসলামে নীতি হলো- 'সন্দেহের কারণে দণ্ড মওকুফ করা হয়'।
এই রূপরেখা অনুসরণ করলেই কেবল সমাজে প্রকৃত সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।