📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা

📄 বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা


ইতিহাস সাক্ষী, ইসলামই একমাত্র শক্তি যা বাস্তবে একটি বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়েছিল। রাসূলে করীম (স) এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি বিশ্বরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র সংস্করণ বা মডেল। সেখানে বিভিন্ন বর্ণ, ভাষা ও অঞ্চলের মানুষ—বিলাল (হাবশী), সুহায়েব (রোমান), সালমান (ফারসী)—একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইসলাম বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নিম্নোক্ত ভূমিকা পালন করেঃ
১. এটি ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদের মূলে কুঠারাঘাত করে।
২. এটি বর্ণবৈষম্য ও জাতিভেদ প্রথা সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করে।
৩. এটি এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর আইনের শাসন প্রবর্তন করে, যার সামনে রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র সবাই সমান।
৪. এটি মানুষের মনে পরকালীন জবাবদিহির অনুভূতি জাগ্রত করে, যা তাকে জুলুম ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে।

ইসলামের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা ও সম্ভাবনাই আজকের বিভক্ত ও সংঘাতময় বিশ্বে একমাত্র আশার আলো।

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 ঈমানই হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ মানব সৃষ্টির নির্ভুল ভিত্তি

📄 ঈমানই হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ মানব সৃষ্টির নির্ভুল ভিত্তি


মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য রক্ত, বর্ণ, ভাষা বা ভৌগোলিক ঐক্যের ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল ও ঠুনকো। স্বার্থের সামান্য আঘাতেই এই ঐক্য ভেঙে খানখান হয়ে যায়। কিন্তু ঈমানের ভিত্তিতে যে ঐক্য গড়ে ওঠে, তা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্থায়ী।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا
তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না।

এই 'আল্লাহর রজ্জু' হলো আল-কুরআন বা ইসলাম। যখন বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মানুষ এক আল্লাহ, এক রাসূল এবং এক কিতাবের প্রতি ঈমান আনে, তখন তাদের অন্তরের মিল হয়ে যায়। তাদের চিন্তা-চেতনা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং জীবন-পদ্ধতি এক হয়ে যায়। একে অপরের প্রতি মায়া-মমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়।

আল্লাহ আরো বলেনঃ
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই।

অতএব, ঈমানই হচ্ছে সেই জাদুকরী শক্তি, যা শতধা বিভক্ত মানবজাতিকে এক ও অভিন্ন জাতিতে পরিণত করতে পারে। বিশ্বরাষ্ট্রের ভিত্তি হতে হবে এই ঈমান।

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 উম্মত বা ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্তা গঠনের ইসলামী ভিত্তি

📄 উম্মত বা ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্তা গঠনের ইসলামী ভিত্তি


ইসলাম পাশ্চাত্যের 'নেশন' (Nation) বা 'জাতি' ধারণার পরিবর্তে 'উম্মত' (Ummah) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছে। উম্মত শব্দটির অর্থ ব্যাপক। এটি এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা এক নির্দিষ্ট লক্ষ্য, আদর্শ ও নেতৃত্বের অধীনে ঐক্যবদ্ধ।

ইসলামী উম্মাহর ভিত্তি হলো তাওহীদ (একত্ববাদ) ও রিসালাত। যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'-এই কালিমায় বিশ্বাসী, তারা বিশ্বের যে প্রান্তেই বসবাস করুক না কেন, তারা এক উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। এখানে দেশ, কাল বা পাত্রের কোন ব্যবধান নেই।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ
নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত এক অখণ্ড উম্মত এবং আমি তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত কর। (সূরা আম্বিয়াঃ ৯২)

ইসলামী রাষ্ট্র এই 'উম্মত' বা আন্তর্জাতিক জাতিসত্তারই রাজনৈতিক রূপ। এটি এমন এক রাষ্ট্র, যার নাগরিকত্ব ঈমানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, জন্মস্থানের ভিত্তিতে নয়। যে কেউ ইসলাম গ্রহণ করবে, সে-ই এই রাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিক অধিকার লাভ করবে। এটিই হলো উম্মত বা ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্তা গঠনের ইসলামী ভিত্তি, যা বিশ্বরাষ্ট্রের পথ প্রশস্ত করে।

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 আইনের দৃষ্টিতে সাম্য

📄 আইনের দৃষ্টিতে সাম্য


ইসলামী রাষ্ট্রে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, বংশ বা পেশার কারণে আইনের প্রয়োগে কারো প্রতি কোনরূপ বৈষম্য করা হয় না। রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ প্রজা পর্যন্ত সবাই একই আইনের অধীন। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

ইসলামে সাম্যের ধারণা নিছক তাত্ত্বিক বুলি নয়, বরং এটি একটি রূঢ় বাস্তবতা। রাসূলে করীম (স) বলেছেনঃ
النَّاسُ سَوَاسِيَةٌ كَأَسْنَانِ الْمُشْطِ
মানুষ চিরুনীর দাঁতের মতই সমান। ১

চুরির অপরাধে মখযুম গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত মহিলা ফাতেমার হাত কাটার হুকুম হলে সাহাবীদের কেউ কেউ তার সাজা মওকুফ বা হ্রাসের সুপারিশ করতে চেয়েছিলেন। এতে মহানবী (স) অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে বলেছিলেনঃ
'তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ এজন্যই ধ্বংস হয়ে গেছে যে, তাদের সাধারণ ও দুর্বল লোকেরা চুরি করলে তাদের হাত কাটা হতো, আর সম্ভ্রান্ত ও শক্তিশালীরা চুরি করলে তাদের ছেড়ে দেয়া হতো। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতেমাও চুরি করত, তবে আমি তারও হাত কেটে দিতাম।'

ইসলামের ইতিহাসে এর ভুরি ভুরি নজির রয়েছে। খলীফা হযরত উমর (রা) এবং হযরত আলী (রা)-কে সাধারণ নাগরিকদের সাথে একই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে। আইনের এই সাম্যই ইসলামী সমাজের ভিত্তি।

টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00