📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 জাতিসংঘের ব্যর্থতা

📄 জাতিসংঘের ব্যর্থতা


বর্তমান যুগে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিবাদমান জাতিসমূহের মধ্যে মৈত্রী স্থাপনের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ (United Nations) গঠিত হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববাসী দেখছে যে, এই সংস্থাটি তার মূল লক্ষ্য অর্জনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ হলো, জাতিসংঘ গঠিত হয়েছে জাতীয়তাবাদের ভিত্তির উপর। এটি 'জাতিপুঞ্জ' বা জাতিসমূহের একটি সংঘ মাত্র, বিশ্বরাষ্ট্র নয়। এখানে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘের ব্যর্থতার মূল কারণগুলো হলোঃ
১. জাতীয়তাবাদের বিষবৃক্ষঃ জাতীয়তাবাদ মানুষকে স্বার্থপর ও সংকীর্ণমনা করে তোলে। জাতিসংঘ এই জাতীয়তাবাদকে উচ্ছেদ না করে বরং লালন করেছে।
২. ভেটো ক্ষমতাঃ নিরাপত্তা পরিষদে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভেটো ক্ষমতা বা 'না' বলার অধিকার ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো তাদের অন্যায় ও জুলুম চালিয়ে যেতে পারে।
৩. নৈতিক ভিত্তির অভাবঃ জাতিসংঘের কোন বলিষ্ঠ নৈতিক ভিত্তি নেই। এটি নিছক একটি রাজনৈতিক আপোষ-মীমাংসার মঞ্চ মাত্র।

ফলে আমরা দেখছি, জাতিসংঘের উপস্থিতিতেই বিশ্বে যুদ্ধ-বিগ্রহ, শোষণ এবং সবল কর্তৃক দুর্বলের উপর অত্যাচার অব্যাহত রয়েছে। প্রকৃত বিশ্বরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বশান্তি অসম্ভব।

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 বিশ্বরাষ্ট্র গঠনে নতুন প্রস্তাব

📄 বিশ্বরাষ্ট্র গঠনে নতুন প্রস্তাব


আধুনিক বিশ্বের চিন্তাবিদ ও মনীষীগণ বর্তমান অরাজক অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের জন্য একটি বিশ্বরাষ্ট্র (World Government) গঠনের প্রস্তাব পেশ করেছেন। বার্ট্রান্ড রাসেল, এইচ. জি. ওয়েলস, আইনস্টাইন প্রমুখ মনীষী এ বিষয়ে জোরালো মত ব্যক্ত করেছেন। তারা মনে করেন, পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে হলে জাতীয় রাষ্ট্রসমূহের সার্বভৌমত্ব খর্ব করে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ব সরকার গঠন করা অপরিহার্য।

কিন্তু তাদের এই প্রস্তাব কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়েই রয়ে গেছে। এর বাস্তব রূপায়নের কোন কার্যকর ফর্মুলা তারা দিতে পারেননি। কারণ, যে মন-মানসিকতা ও নৈতিক চরিত্র থাকলে মানুষ নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে বিশ্বজনীন স্বার্থের কথা ভাবতে পারে, তা সৃষ্টি করার কোন ব্যবস্থা আধুনিক বস্তুবাদী সভ্যতায় নেই। ইসলাম এখানেই এক নতুন ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেশ করে। ইসলাম বলে, মানুষের সার্বভৌমত্ব বা জনগণের সার্বভৌমত্ব নয়, বরং আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতেই কেবল বিশ্বরাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। যখন মানুষ এক আল্লাহকে একমাত্র আইনদাতা ও বিধানদাতা হিসেবে মেনে নেবে, তখনই তারা কৃত্রিম ভেদাভেদ ভুলে এক উম্মতে পরিণত হতে পারবে।

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 বিশ্বরাষ্ট্রের জন্য বিশ্ব মানবিক আদর্শ

📄 বিশ্বরাষ্ট্রের জন্য বিশ্ব মানবিক আদর্শ


একটি বিশ্বরাষ্ট্র টিকে থাকার জন্য এমন একটি আদর্শের প্রয়োজন, যা সর্বজনীন এবং যা মানুষের বিবেকের কাছে গ্রহণযোগ্য। যে আদর্শ মানুষকে বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও অঞ্চলের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় এবং সকলের জন্য সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।

পুঁজিবাদ বা কমিউনিজম এই আদর্শ হতে পারেনি। পুঁজিবাদ মানুষকে অর্থের দাস বানিয়েছে এবং মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। আর কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র শ্রেণী সংগ্রামের কথা বলে মানুষকে হিংস্র করে তুলেছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের যুপকাষ্ঠে ব্যক্তির স্বাধীনতাকে বলি দিয়েছে।

একমাত্র ইসলামই সেই বিশ্ব মানবিক আদর্শ পেশ করেছে, যা মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসে পরিণত করে। ইসলামের দৃষ্টিতেঃ
১. সমস্ত মানুষ এক পিতা-মাতার সন্তান। তাই জন্মগতভাবে সকল মানুষ সমান।
২. আরবের ওপর অনারবের এবং অনারবের ওপর আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর এবং কালোর ওপর সাদার কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
৩. শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ও সৎকর্ম।

এই আদর্শই পারে বিশ্ববাসীকে এক পতাকাতলে সমবেত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বিশ্বরাষ্ট্র উপহার দিতে।

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা

📄 বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা


ইতিহাস সাক্ষী, ইসলামই একমাত্র শক্তি যা বাস্তবে একটি বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়েছিল। রাসূলে করীম (স) এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি বিশ্বরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র সংস্করণ বা মডেল। সেখানে বিভিন্ন বর্ণ, ভাষা ও অঞ্চলের মানুষ—বিলাল (হাবশী), সুহায়েব (রোমান), সালমান (ফারসী)—একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইসলাম বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নিম্নোক্ত ভূমিকা পালন করেঃ
১. এটি ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদের মূলে কুঠারাঘাত করে।
২. এটি বর্ণবৈষম্য ও জাতিভেদ প্রথা সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করে।
৩. এটি এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর আইনের শাসন প্রবর্তন করে, যার সামনে রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র সবাই সমান।
৪. এটি মানুষের মনে পরকালীন জবাবদিহির অনুভূতি জাগ্রত করে, যা তাকে জুলুম ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে।

ইসলামের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা ও সম্ভাবনাই আজকের বিভক্ত ও সংঘাতময় বিশ্বে একমাত্র আশার আলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00