📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 বিচার বিভাগের লক্ষ্য অর্জনের পন্থা

📄 বিচার বিভাগের লক্ষ্য অর্জনের পন্থা


বিচার বিভাগের আসল কাজ হচ্ছে লোকদের পারস্পরিক বিবাদ-বিসম্বাদ মিটিয়ে দিয়ে তাদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপন করা। মজলুমের অধিকার আদায় করে দেয়া এবং জালিমকে তার জুলুমের শাস্তি দেয়া। আল্লাহ তা'আলা বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেনঃ

وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ

তোমরা যখন লোকদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করবে, তখন অবশ্যই ন্যায়বিচার করবে।

বিচার বিভাগ এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিম্নলিখিত পন্থাসমূহ অবলম্বন করবেঃ
১. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আইন অনুযায়ী বিচার কার্য পরিচালনা করা।
২. কোনরুপ পক্ষপাতিত্ব না করা এবং ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-অনাত্মীয়, শত্রু-मित्र নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমান আচরণ করা।
৩. প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেয়া এবং নিছক ধারণা বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে দণ্ড না দেয়া।
৪. অপরাধীকে তার অপরাধের অনুপাতে শাস্তি দেয়া, কমও নয়, বেশীও নয়।

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 বিচারকের যোগ্যতা-কর্মক্ষমতা ও বিচার কার্যের উপযুক্ততা

📄 বিচারকের যোগ্যতা-কর্মক্ষমতা ও বিচার কার্যের উপযুক্ততা


ইসলামী ফিকাহবিদগণ বিচারকের জন্য কতিপয় শর্ত আরোপ করেছেন। আল্লামা মাওয়ার্দী (রহ) এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিচারকের মধ্যে নিম্নোক্ত গুণাবলী থাকা আবশ্যকঃ

১. তাকে অবশ্যই পুরুষ হতে হবে। (অবশ্য ইমাম আবূ হানীফার মতে হুদুদ ও কিসাস ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে নারীও বিচারক হতে পারে)।
২. তাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী হতে হবে। অর্থাৎ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান থাকতে হবে।
৩. তাকে ন্যায়পরায়ণ ও বিশ্বস্ত হতে হবে। ফাসিক বা পাপাচারী ব্যক্তি বিচারক হতে পারে না।
৪. তার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বাকশক্তি সুস্থ ও সবল হতে হবে। অন্ধ, বধির বা বোবা ব্যক্তি বিচারক হতে পারে না।
৫. তাকে স্বাধীন ও মুক্ত হতে হবে। দাস বিচারক হতে পারে না।
৬. তাকে পূর্ণ বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে।

এই গুণাবলী যার মধ্যে বর্তমান থাকবে, তাকেই কেবল বিচারকের পদে নিয়োগ করা যাবে। ১

টিকাঃ
১. الأحكام السلطانية

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচারকের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা

📄 অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচারকের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা


বিচারকের বা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা ইসলামী বিচার ব্যবস্থার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। বিচারক যেন কোনরূপ ভয়-ভীতি বা প্রলোভনের বশবর্তী না হয়ে স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে বিচার কার্য পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য ইসলাম বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতাঃ বিচারকের অর্থনৈতিক প্রয়োজন পূরণ করা ও তাকে অভাবমুক্ত রাখার জন্য বাইতুল মাল থেকে তার জন্য পর্যাপ্ত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। হযরত উমর (রা) বিচারকদের জন্য মোটা অংকের বেতন নির্ধারণ করেছিলেন, যাতে তারা ঘুষ গ্রহণ বা দুর্নীতির আশ্রয় নিতে বাধ্য না হয় বা প্রলুব্ধ না হয়।

রাজনৈতিক স্বাধীনতাঃ বিচারক শাসন বিভাগের প্রভাবমুক্ত থাকবেন। রাষ্ট্রপ্রধান বা খলীফাও বিচারকের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। এমনকি খলীফার বিরুদ্ধেও যদি কোন অভিযোগ থাকে, তবে তাকেও সাধারণ নাগরিকের মতই বিচারকের সামনে হাজির হতে হবে এবং বিচারকের রায় মেনে নিতে হবে। ইসলামের ইতিহাসে এর বহু নজির রয়েছে। হযরত আলী (রা) ও জনৈক ইহুদীর বর্ম চুরির মামলা এবং হযরত আলী (রা)-এর নিজের বিরুদ্ধে বিচারকের রায় মেনে নেয়ার ঘটনা এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 সুবিচারের জন্য আবশ্যকীয নিয়ম-নীতির পূর্ণ সংরক্ষণ

📄 সুবিচারের জন্য আবশ্যকীয নিয়ম-নীতির পূর্ণ সংরক্ষণ


বিচারকের কর্তব্য হচ্ছে বিবাদমান দুই পক্ষকে সমান দৃষ্টিতে দেখা এবং তাদের প্রতি সমান আচরণ করা। হযরত উমর (রা) হযরত আবূ মূসা আশআরী (রা)-কে লিখিত এক পত্রে বিচারকের কর্তব্য সম্পর্কে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেনঃ

'তোমার মজলিসে, তোমার চেহারায় এবং তোমার বিচারে লোকদের মধ্যে সমতা রক্ষা করবে। যাতে সম্ভ্রান্ত ও শক্তিশালী লোক তোমার পক্ষপাতিত্বের আশা না করতে পারে এবং দুর্বল লোক তোমার ন্যায়বিচার থেকে নিরাশ না হয়।'

অর্থাৎ বিচারক আদালতে বসার সময়, বাদী-বিবাদীর দিকে তাকানোর সময় এবং তাদের সাথে কথা বলার সময়ও সমতা রক্ষা করবেন। কাউকে কাছে বসাবেন আর কাউকে দূরে, কারো দিকে হাসিমুখে তাকাবেন আর কারো দিকে ভ্রুকুটি করবেন—এমনটি করা বিচারকের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00