📘 আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার > 📄 মানবিক ও উন্নতমানের চরিত্র

📄 মানবিক ও উন্নতমানের চরিত্র


এসব ব্যক্তিগত গুণ ছাড়াও ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানকে অবশ্যই উন্নত মানের মানবিক ও ইসলামী চারিত্রিক গুণে ভূষিত হতে হবে। কুরআন মজীদে এই গুণসমূহের সমন্বিত গুণ-তাকওয়ার কথা বলা হয়েছেঃ
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمُ (الحجرات: ۱۳)
আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্য থেকে সর্বাধিক সম্মানিত (সম্মানার্হ) ব্যক্তি সে, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক তাকওয়া সম্পন্ন।

এছাড়া হাদীসের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তিকেই উচ্চতর পদের জন্য প্রার্থী হওয়া ও ক্ষমতা লাভের জন্য লোভ করা, লালায়িত হওয়া ও নিজস্বভাবে চেষ্টা চালানোও স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। কেননা তাতে ব্যক্তির কোন সদিচ্ছার পরিচয় পাওয়া যায় না, মনে হয়, সে উচ্চ পদ বা ক্ষমতা লাভ করে নিশ্চয়ই নিজস্ব কোন বৈষয়িক স্বার্থ উদ্ধার করতে বা কোন অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চায়। বিশেষ করে পূর্বেই যেমন বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছি-এই উচ্চতর পদ ও ক্ষমতা মূলত একটি আমানত। এ আমানত যেমন আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি, তেমনি সর্বসাধারণ থেকে বিশেষ ব্যক্তির প্রতি। তাই যে-লোক নিজ থেকে তা পাওয়ার জন্য উদ্যোগী ও সচেষ্ট হবে, সে নিজেকে ক্ষমতালোভী হিসেবে চিহ্নিত করবে। আর ইসলামী সমাজে ক্ষমতা লোভীর কোন স্থান- কোন মর্যাদা থাকতে পারে না। বরং তা করে সে স্বীয় অযোগ্যতারই প্রমাণ উপস্থিত করে। তাই রাসূলে করীম (স) ইরশাদ করেছেনঃ

أَنَا وَاللَّهِ لَا نُوَلِى هَذَا الْعَمَلَ أَحَدًا سَأَلَهُ أَوَاحَدًا حَرَضَ عَلَيْهِ .
আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমি এই দায়িত্বপূর্ণ কাজে এমন কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করব না, যে তা পাওয়ার জন্য প্রার্থী হবে, অথবা এমন কাউকেও নয়, যে তা পাওয়ার জন্য লালায়িত হবে।

হাদীসটি হযরত আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবেই দেখতে পেয়েছিলেনঃ তাঁরই চাচার বংশের দুই ব্যক্তি রাসূলে করীম (স)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে তাদের একজন বললঃ

يَا رَسُولَ اللَّهِ مِرْنَا عَلَى بَعْضٍ مَا وَ لَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ .
হে রাসূল! আল্লাহ্ আপনাকে যে বিরাট কাজের দায়িত্বশীল বানিয়েছেন তার মধ্যের কোন কোন কাজে আমাদেরকে নিযুক্ত করুন।

অপরজনও অনুরূপ দাবি-ই পেশ করল। তখন নবী করীম (স) উভয়কে লক্ষ্য করেই উপরোক্ত সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেছিলেন।

আবদুর রহমান ইবনে সামুরাতা বর্ণনা করেছেন, রাসূলে করীম (স) বলেছেনঃ
يَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ لَا تَسْأَلِ الْإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِنْ أُعْطِيتَهَا مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ اعِنْتَ عَلَيْهَا وَإِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وَكِلْتَ إِلَيْهَا .
হে আবদুর রহমান ইবনে সামুরাতা! তুমি নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব পেতে চেও না। কেননা তা পেতে চাওয়া ছাড়াই যদি তোমাকে তা দেয়া হয়, তাহলে সে দায়িত্ব পালনে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর চাওয়ার পর যদি দেয়া হয়, তাহলে তোমাকে সেই কাজে অসহায় করে ছেড়ে দেয়া হবে।

হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (স) বলেছেনঃ
إِنَّكُمْ سَتَحْرِمُونَ عَلَى الْإِمَارَةِ وَسَتَكُونَ نَدَامَةٌ يَوْمَ الْقِيمَةِ .
তোমরা হয়ত দায়িত্ব-কর্তৃত্বশীল পদ পাওয়ার জন্য লালায়িত হবে। আর তা-ই কিয়ামতের দিন তোমাদের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দেখা দেবে।

যে-লোক বাস্তবিকই এই কঠিন দায়িত্ব পালনে অক্ষম, দুর্বল, তাকে তা গ্রহণ করতে নিষেধ করাই শ্রেয়। হযরত আবু যর গিফারী (রা)-কে লক্ষ্য করে যখন তিনি বলেছিলেনঃ আমাকে কোন পদে নিযুক্ত করবেন না? রাসূলে করীম (স) এই কারণেই বলেছিলেন;

إِنَّكَ ضَعِيفٌ وَإِنَّهَا إِمَامَةً وَإِنَّهَا يَوْمَ الْقِيمَةِ خِزْيٌ وَنَدَامَةً إِلَّا مَنْ أَخَذَهَا بِحَقِّهَا وَادَّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيهَا .
হে আবু যর, তুমি দুর্বল ব্যক্তি, আর একাজ এক গুরুত্বপূর্ণ আমানত বিশেষ। এ কারণে তা তোমার জন্য কিয়ামতের দিন লজ্জা ও অপমান-লাঞ্ছনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবশ্য যে তা গ্রহণ করে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে, তার জন্য তা হবে না।

একটি হাদীসে রাসূলে করীম (স)-এর উক্তিঃ
الامام الضعيف عن الحق ملعون (ابو يعلى) .
যে রাষ্ট্রনেতা দুর্বল, দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে অক্ষম, সে যদি এতদসত্ত্বেও রাষ্ট্রনেতা হয়েই থাকে তবে সে অভিশপ্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00