📄 কুরআনুল কারীম এবং কিয়ামতের দিন দু’ধরনের চেহারা
প্রশ্ন: ১। কিয়ামতের দিন মানুষের অবয়বের অবস্থা কিরূপ হবে?
উত্তর:
১. "অপরাধী লোকেরা সেখানে নিজ নিজ চেহারা দ্বারাই পরিচিত হয়ে যাবে এবং তাদেরকে কপালের চুল ও পা ধরে হেঁচড়িয়ে টেনে নেয়া হবে।" (আব্রাহমান: ৪১)
২. "সেদিন কিছু কিছু চেহারা ঝকমক করতে থাকবে, হাসি-খুশি ভরা ও সন্তুষ্ট স্বচ্ছন্দ হবে। আবার কতিপয় মুখমন্ডল ধূলিমলিন হবে, অন্ধকার সমাচ্ছন্ন হবে। আর এরাই হলো কাফের ও পাপী লোক।" (সূরা আবাসা: ৩৬-৪২)
৩. "সে দিন কিছুসংখ্যক মুখাবয়ব উজ্জ্বল সুস্মিত হবে, নিজেদের প্রভুর দিকে দৃষ্টিমান হবে। আর কিছুসংখ্যক মুখাবয়ব উদাস-ম্লান হবে। মনে করতে থাকবে যে, তাদের কোমর চূর্ণকারী আচরণ করা হবে।" (কিয়ামা: ২২-২৫)
৪. "যারা ভালো কাজের নীতি গ্রহণ করেছে, তারা ভালো ফল পাবে, অধিক অনুগ্রহও। কলংক, কালিমা এবং লাঞ্ছনা তাদের মুখমন্ডলকে মলিন করবে না। তারাই জান্নাত লাভের অধিকারী। সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে। আর যারা মন্দ কাজ করেছে, তারা তাদের পাপ অনুপাতেই প্রতিফল পাবে। লাঞ্ছনা তাদের ললাট-লিখন হয়ে থাকবে। আল্লাহ্ এ আযাব থেকে তাদের রক্ষক কেউ নেই। তাদের মুখমন্ডল এমন অন্ধকার সমাচ্ছন্ন হয়ে থাকবে যেমন রাতের কালো পর্দা তাদের ওপর পড়ে আছে। তারাই দোযখে যাওয়ার যোগ্য, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।" (সূরা ইউনুস: ২৬-২৭)
📄 বাংলা ভাষায় কুরআন চর্চা
প্রশ্ন: ১। বাংলা ভাষায় কুরআনের অনুবাদ ও তাফসীরগুলো কি?
উত্তর: বাংলা ভাষায় কুরআনের অনুবাদক ও তাফসীরকারদের নাম নিম্নে দেয়া হলো:
মৌলভী আমীর উদ্দীন বসুনিয়া: তিনি রংপুর জেলার মটকপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮০৮ সালে কুরআন-এর আমপারার কাব্যানুবাদ প্রকাশ করেন। জানা গেছে যে, এটাই কুরআন-এর প্রথম বঙ্গানুবাদ। জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বলেন, এ অনুবাদ গ্রন্থখানি কাঠের অক্ষরে ছাপা হয়েছিল। মুদ্রণ নীতির প্রাচীনতার কারণে কুরআন-এর এই অনুবাদ গ্রন্থখানি সর্বপ্রাচীন বলেই মনে হয়। ইসলামিক একাডেমী (বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা) পত্রিকার প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যার বর্ণনানুযায়ী ভাই গিরীশ চন্দ্র সেনের অনেক পূর্বে রংপুরের মাওলানা আমীর উদ্দিন বসুনিয়ার অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কোলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিষদ গ্রন্থাগারে এ অনুবাদের এক খন্ড সংরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে।
গিরীশ চন্দ্র সেন: ১৮৩৫ সালে নারায়ণগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম দেন মাধব রায় সেন। প্রথম জীবনেই তিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেন। ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। ময়মনসিংহ জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে তিনি দ্বীন-ইসলামের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে এর অনুশীলন করতে থাকেন। ১৮৮১-৮৬ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের সাধনা ও পরিশ্রমের পর পাদটীকাসহ তিন খন্ডে কুরআন করিম -এর পূর্ণাঙ্গ গদ্যানুবাদ প্রকাশ করেন। তিনি ১৯১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
মুহাম্মদ নঈমুদ্দীন: ১৮৩৮ সালে টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। আরবী, ফার্সী ও উর্দুতে তিনি ছিলেন অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী। তিনি ছিলেন মাসিক আখবারে ইসলামিয়ার (اخبار اسلامية) সম্পাদক ও প্রকাশক। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশ খানা। বাংলাদেশী আলেমদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় কুরআন -এর বিস্তারিত তাফসীর تفسیر লেখার কাজ শুরু করেন। তাঁর জীদ্দশাতেই তাঁর তাফসীর تفسیر প্রকাশিত হয়। ১৯০৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ফিলিপ বিশ্বাস: ১৮৯১ সালে খৃস্টান ফিলিপ বিশ্বাস খ্রীষ্ট ধর্মের বাস্তবতা প্রমাণের জন্য কুরআন করিম-এর কতিপয় আয়াত সংকলন করে বাংলায় অনুবাদ করেন। গ্রন্থটি ১১ খন্ডে বিভক্ত। তন্মধ্যে কোন কোন মন্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিরক্তিকর।
মাওলানা আব্বাস আলী: চব্বিশ পরগনার অধিবাসী, বহু গ্রন্থ প্রণেতা, অনুবাদক ও প্রকাশক মাওলানা আব্বাস আলী ১৮৫৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম বাঙ্গালী মুসলমান যিনি কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর অনুবাদে আরবী আয়াতের নিচে উর্দু তারপর বাংলা অনুবাদ এবং পৃষ্ঠার দু'পাশে বাংলা ভাষায় টীকা দেয়া হয়েছে। ১৯৩৩ সালে তিনি মারা যান।
খান বাহাদুর মৌলভী তসলিমুদ্দীন: তিনি রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মূল আরবি ব্যতীত ৩ খন্ডে অনুবাদ গ্রন্থ সমাপ্ত করেন। তিনি ১৯২৭ সালে ইন্তেকাল করেন।
গোপাল সিংহ: ১৯০৮ সালে তাঁর লিখিত পদ্যানুবাদের আমপারা প্রকাশিত হয়। অন্যান্য খন্ড প্রকাশিত হয়েছে কি-না জানা যায়নি।
মাওলানা রূহুল আমীন: বর্তমান ভারতের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমপারার বাংলা অনুবাদ ও বিস্তারিত তাফসীর লেখেন। প্রথম থেকে তৃতীয় পারা (তিন খন্ডে) প্রকাশিত হয়।
মৌলভী খন্দকার আবুল ফজল আবদুল করীম: তিনি ১৯২৭ সালে কোরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন। এর বাম পাশে আয়াত, ডান পাশে অনুবাদ এবং নীচে সংক্ষিপ্ত পাদটীকা রয়েছে।
মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ: মুসলিম বাংলার সাংবাদিকতার জনক, বাংলাদেশের আধুনিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও মুফাসসির। তিনি চব্বিশ পরগনার বশিরহাট মহকুমার হাকিমপুর গ্রামের বিখ্যাত ও সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০১ সালে কোলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা হতে এফ, এম ডিগ্রী লাভ করেন এবং সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। রাজনীতির সাথেও নিজকে জড়িয়ে ফেলেন। ১৯২২ সালে রাজনৈতিক কারণে আলীগড় সেন্ট্রাল জেলে বন্দী থাকেন। এ সময় তিনি আমপারার অনুবাদ ও বিস্তারিত তাফসীর রচনা করেন। তারপর ধীরে ধীরে ৫ খন্ডে পূর্ণাঙ্গ কুরআনের তাফসীর রচনা করেন। তাঁর তাফসীর ১৯৫৮ সালে তাফসীরুল কুরআন تفسير القرآن নামে প্রকাশিত হয়। ভাষা সাবলীল ও জোরালো। তবে, কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করার কারণে আলিমগণ তাঁর তাফসীরের সমালোচনাও করেছেন।
মৌলভী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম ও মুহাম্মদ আলী হাসান: এ দু'জন লেখক একত্রে আল-কুরআনের বাংলা অনুবাদ করেন। ১৯৩৮ সালে কুরআনের এ পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশিত হয়। পাশে আরবী আয়াত এবং অন্য পাশে বঙ্গানুবাদের নীচে তাফসীর, শানে নুযূল ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর রয়েছে। এ তাফসীর বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাফসীরের ভাষা সাবলীল।
মৌলভী ওসমান গনি: তিনি বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালের ১৭ই অক্টোবর "পবিত্র কোরআন" নামে قرآن-এর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন। এ অনুবাদ গ্রন্থখানি ১৩০০ পৃষ্ঠা সম্বলিত।
মোহাম্মদ নকীবুদ্দীন : তিনি সংক্ষিপ্ত তাফসীরসহ আল কুরআন-এর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন।
খান বাহাদুর ওসমান খাঁ : তিন খন্ডে তাঁর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও তাফসীর গ্রন্থটি ১৯৫২ সালে ঢাকার প্রিন্সিপ্যাল লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ।
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ : বহু ভাষাবিদ ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৪০ সালে কুরআন-এর অনুবাদ শুরু করেন। ১৯৪৯ সালে বগুড়া জামে মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় সমাপ্ত করেন। পরে তিনি বিস্তারিত তাফসীরও শেষ করেন, কিন্তু এটা প্রকাশিত হয়নি।
অধ্যক্ষ আলী হায়দার চৌধুরী : তিনি কুরআন-এর অনুবাদ করেন। ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী : ঢাকার লালবাগ জামেয়া কোরআনিয়ার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুল হক (রঃ) ১৯৫০ সালে সূরা ইয়াসীন)-এর বাংলা অনুবাদ ও তরজমা বিস্তারিত তাফসীরসহ প্রকাশ করেন। ১৯৬১ সালে আমপারার তাফসীর প্রকাশ করেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন, কিন্তু সমাপ্ত করতে পারেননি।
মাওলানা আলাউদ্দীন আল-আজহারী : তাঁর রচিত তাফসীরে আজহারী ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়। এটি তাফসীরের ভূমিকা ও সূরা ফাতিহার বিস্তারিত তাফসীর।
কাজী নজরুল ইসলাম : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কাব্যে আমপারার অনুবাদ করে কাব্য জগতে কুরআনের মাহাত্ম্য তুলে ধরেন।
মাওলানা মুহাম্মাদ অবদুর রহীম : মাওলানা আবদুর রহীম ছিলেন উপমহাদেশের খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিক। তিনি আল-কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ের উপর চল্লিশটিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেন। বাংলা ভাষায় তাঁর রচিত সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর ষাটের দশকেই প্রকাশিত হয়েছে।
মাওলানা আমীনুল ইসলাম : মাওলানা আমীনুল ইসলাম তাফসীর নূ রুল কুরআন (তাফসীরে নূরুল কুরআন) নামে তাফসীর লিখেছেন- 'তাফসীরুল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন।
মাওলানা আবদুল আজিজ: তিনি উচ্চ শিক্ষিত আলেম ও চট্টগ্রাম সরকারী কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর রচিত তাফসীরের নাম- তাফসীলুল البيان في تفسير القرآن تفصيل 6 টি খন্ডে সমাপ্ত।
**বাংলা ভাষায় কুরআনের অনুবাদ**
মা'আরিফুল কুরআন: মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রঃ) রচিত উর্দু ভাষায় তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআনের বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান।
বয়ানুল কোরআন : بيان القرآن এর রচয়িতা মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রঃ)। ১৯৬০ সালে ৬ খন্ডে এমদাদিয়া লাইব্রেরী থেকে এর অনুবাদ 'তাফসীরে আশরাফী' নামে বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে।
তাফহীমুল কুরআন : تفهيم القرآن এর মূল লেখক (উর্দুতে) মাওলানা মওদুদী (রঃ)। প্রথমে মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম অনুবাদ করেন। প্রফেসর গোলাম আজম ও আবদুল মান্নান তালিবও বাংলায় এর অনুবাদ করেন। ১৯ খন্ডে আধুনিক প্রকাশনী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হতে প্রকাশিত হয়েছে।
(ফি জিলালিল কুরআন) في ظلال القرآن: এর মূল লেখক সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ। এ তাফসীরে শুধুমাত্র কুরআনের বাংলা তরজমা করেন হাফেজ মুনীর উদ্দীন আহমদ এবং তাফসীরের অনুবাদ করেন মাওলানা এ. কে. এম. ছিফাতুল্লাহ ও গোলাম সোবহান সিদ্দিকী।
তাফসীরে তাবারী ও তাফসীরে ইবনে কাসীরের মতো বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরে মাজেদী এবং তাফসীরে মাজহারীর মতো দীর্ঘ তাফসীর গ্রন্থ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশ হচ্ছে। বাংলা ভাষা-ভাষীদের জন্য এটা সুখবর।
উল্লেখ্য, তাফসীরে ইবনে কাসীরের অনুবাদ করেন ডঃ মুজীবুর রহমান এবং অধ্যাপক আখতার ফারূক।
ফাওয়ায়েদে ওসমানীর বঙ্গানুবাদ করেন গোলাম সোবহান সিদ্দিকী, প্রকাশ করে আল-কোরআন একাডেমী।
প্রশ্ন: ২। বাংলা ভাষায় কুরআনের সম্পূর্ণ তাফসীর কে লিখেছেন?
উত্তর: মাওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ।
প্রশ্ন: ৩। বাংলা ভাষায় কুরআনের পূর্ণ অনুবাদ সর্বপ্রথম কে করেছেন?
উত্তর: মাওলানা আব্বাস আলী।
📄 বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় কুরআন চর্চা
প্রশ্ন : ১। তুর্কী ভাষায় কুরআনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অনুবাদ কে করেছেন?
উত্তর : মুহাম্মদ আকেফ বেক।
প্রশ্ন : ২। মারাঠী ভাষায় কে প্রথম কুরআনের অনুবাদ করেছেন?
উত্তর : হাকীম সূফী মীর মুহাম্মদ ইয়াকুব খাঁ।
প্রশ্ন : ৩। বর্মী ভাষায় কে সর্বপ্রথম কুরআনের অনুবাদ করেছেন?
উত্তর : ইডবা উধ কে. আই. এইচ (আহমদুল্লাহ)। মৌলভী রহমতুল্লাহও একটি অনুবাদ করেছেন।
প্রশ্ন : ৪। জাপানী ভাষায় কে সর্বপ্রথম কুরআনের অনুবাদ করেছেন?
উত্তর : শেখ আবদুর রশীদ ইব্রাহীম।
প্রশ্ন : ৫। গুজরাটী ভাষায় কে সর্বাগ্রে কুরআনের অনুবাদ করেছেন?
উত্তর : হাজী গোলাম আলী ও হাজী ইসমাঈল রহমানী।
প্রশ্ন : ৬। ফার্সী ভাষায় কে প্রথম কুরআনের অনুবাদ করেন?
উত্তর : শেখ সাদী শিরাযী।
প্রশ্ন : ৭। ল্যাটিন ভাষায় কে সর্বপ্রথম কুরআনের তরজমা করেন?
উত্তর : ফ্রান্সের জাযক ফেতরাস নিরাবলুস লেটিন ভাষায় প্রথম তরজমা করেন।
প্রশ্ন : ৮। উপমহাদেশে সর্বপ্রথম কোন্ ভাষায় কুরআন অনূদিত হয়?
উত্তর : ফার্সী ভাষায়।
প্রশ্ন : ৯। উপমহাদেশে সর্বপ্রথম অফসেটে ছাপা কুরআন কখন এবং কোথায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর : ১৯৩৬ সালে লাহোরস্থ আঞ্জুমানে হেমায়েতে ইসলাম প্রকাশ করে।
প্রশ্ন : ১০। উপমহাদেশের সেই হিন্দু পাবলিশারের নাম কি, যিনি কুরআন শরীফ প্রকাশ করতেন, কিন্তু তাঁর নির্দেশ ছিলো লিপিকার, প্রেস ম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কুরআন ছাপার সময় অজু অবস্থায় থাকবে। আর নির্গত পানি একত্রিত করে নিজেই গঙ্গায় ফেলে দিতেন।
উত্তর: মুনশী নূলকিশোর লক্ষ্ণৌভী।
প্রশ্ন: ১১। কুরআনের কোন্ ইংরেজী অনুবাদ নির্ভরযোগ্য?
উত্তর: মার্মাডিউক পিকথল- আল্লামা আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী ও মাওলানা আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদীর তরজমা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করা হয়।
প্রশ্ন: ১২। কাব্যে কে প্রথম কুরআনের অনুবাদ করেন?
উত্তর: আগা খায়ের কযলিবাল দেহলভী।
প্রশ্ন: ১৩। বিশ্বের কতগুলো ভাষায় কুরআনের অনুবাদ হয়েছে?
উত্তর: প্রায় ১০৩টি ভাষায়।
প্রশ্ন: ১৪। উপমহাদেশে কে প্রথম ফার্সীতে কুরআনের অনুবাদ করেন?
উত্তর: শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রঃ) ১৭৫২।
প্রশ্ন: ১৫। উপমহাদেশে কে সর্বপ্রথম কুরআনের উর্দু অনুবাদ করেন?
উত্তর: হযরত মাওলানা শাহ রফীউদ্দীন মুহাদ্দিসে দেহলভী (১৭৭৬)।
প্রশ্ন: ১৬। জার্মান ভাষায় কে প্রথম কুরআনের অনুবাদ করেন?
উত্তর: মার্টিন লুথার।
প্রশ্ন: ১৭। পাকিস্তানের কোন না'তিয়া প্রসিদ্ধ কবি সম্প্রতি কুরআনের কাব্যানুবাদ করেছেন?
উত্তর: আবদুল আযীয খালেদ।
প্রশ্ন: ১৮। সিন্ধী ভাষায় প্রথম কে কুরআনের একটি কাব্যানুবাদ করেন?
উত্তর: মৌলভী আহমদ মাল্লাহ।
প্রশ্ন: ১৯। উপমহাদেশের কোন্ বাদশাহ কুরআনের হস্তলিপি করেছেন?
উত্তর: ১. সুলতান মাহমুদ গযনবীর প্রপৌত্র সুলতান ইব্রাহীম গযনবী, মৃত ৪৯২ হিঃ, ২. বাদশাহ জহীরউদ্দীন বাবর, ৩. সুলতান নাসিরউদ্দীন মাহমুদ ইবনে সুলতান ইলতামাশ, মৃত ৬৬৪ হিঃ ও ৪. সুলতান মুহিউদ্দীন আওরঙ্গযেব আলমগীর, মৃত ১১১৮ হিঃ।
প্রশ্ন: ২০। উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা হস্তলিপিকার কে?
উত্তর: পাকিস্তানের ফাতেমাতুল কোবরা বিনতে মুনশী মুহাম্মাদ উদ্দীন, মৃত ১৩৬৭ হি: করাচীতে।
প্রশ্ন: ২১। পাকিস্তানে কুরআনের নতুন-পুরনো কপি, অনুবাদ ও তাফসীরের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র কোন্টি?
উত্তর: বায়তুল কুরআন, লাহোর, এটি পাঞ্জাব পাবলিক লাইব্রেরীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
প্রশ্ন: ২২। কে সর্বপ্রথম কুরআন মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত করেন?
উত্তর: বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ 'হিংক্যাল ম্যান' ১৬৯৪ খ্রীষ্টাব্দে সর্বপ্রথম কুরআন মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত করেন।
প্রশ্ন: ২৩। কোন্ শহরে সর্বপ্রথম কুরআন মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত হয়?
উত্তর: 'হ্যামবুর্গ' শহরে। মতান্তরে, তারও পূর্বে 'আল আন্দাকিয়া' নামক স্থানে সর্বপ্রথম কুরআন মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত হয়।
প্রশ্ন: ২৪। এরপর কত সালে, কে কুরআন মুদ্রণ করেন?
উত্তর: প্রাচ্যবিদ মারাকী ১৬৯৮ সালে 'পাড়ু' নামক শহরে কুরআন মুদ্রণ করেন।
প্রশ্ন: ২৫। কার তত্ত্বাবধানে মুদ্রণ কাজ সমাপ্ত হয়?
উত্তর: খ্রীস্টানদের তত্ত্বাবধানে।
প্রশ্ন: ২৬। মুসলিম বিশ্বে এসব কপি সমাদৃত হয়নি কেন?
উত্তর: খ্রীস্টানদের চরম ইসলাম বিদ্বেষের কারণে।
প্রশ্ন: ২৭। মুসলমানদের মধ্যে কে, কত সালে কুরআন মুদ্রণ করেন?
উত্তর: মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম মাওলায়ে ওসমান (রাঃ) কুরআন মুদ্রণের গৌরব অর্জন করেন ১৭৮৭ খ্রীস্টাব্দে।
প্রশ্ন: ২৮। কোথায় এ মুদ্রণ কাজ সমাপ্ত হয়?
উত্তর: রাশিয়ার 'সেন্ট পিটার্স শহরে' ইসলামী ছাপাখানায় কুরআন মুদ্রিত হয়।
প্রশ্ন: ২৯। পাকিস্তানের সোনালী কুরআন মাজীদের ইতিবৃত্ত কি?
উত্তর: সবুজ রঙ্গের লায়লনের ওপর সোনার তার দিয়ে কুরআন লেখার প্রস্তাব প্রকল্পাকারে লাহোরের মালিক আতা মুহাম্মদ পেশ করেন। পাকিস্তানের তদানীন্তন মন্ত্রী আলহাজ্জ জহীর উদ্দীন লাল মিয়া (বাঙ্গালী) মরহুম প্রেসিডেন্ট আইউব খানের থেকে সরকারী মঞ্জুরী ও পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মাদ মূসা ৮ জানুয়ারী ১৯৬৮ সালে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক অবস্থায়ই মালিক আতা মুহাম্মাদ ও লালমিয়া উভয়েই ইন্তেকাল করেন। এ জন্যে প্রকল্পের কাজ থেমে যায়। অবশ্য, পরে আবার দ্রুত চালু হয়। হাফেজ মুহাম্মাদ আসলাম হস্তলিপির কাজ করতেন। প্রুফ রীডিং করতেন হাফেজ ক্বারী শাব্বীর আহমদ। এটি মোট ১২১৪ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত। এর ওজন হলো সাড়ে চার মণ। এটি ভিন্ন ভিন্ন পারা পারায়ও বিন্যস্ত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও অর্পিত হয়েছে লাহোরস্থ তাজ কোম্পানীর ওপর। কোম্পানীর প্রতিনিধি মুফতী খলীলুর রহমান।
প্রশ্ন: ৩০। উপমহাদেশে উর্দু ভাষায় প্রসিদ্ধ তাফসীর ও কুরআনের অনুবাদগুলো কি?
উত্তর: তাফসীর ও অনুবাদগুলো নিম্নরূপ:
১. মাও: আবদুল হক হাক্কানী দেহলভী - তাফসীরে হাক্কানী (ফতহুল মান্নান) - ১৯২৫
২. মাও: আশরাফ আলী থানভী (র:) - বায়ানুল কুরআন - ১৯৩১
৩. মাও: আবুল কালাম আযাদ - তরজমানুল কুরআন - ১৯৬২
৪. মাও: আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী - তাফসীরে মাজেদী
৫. মাও: হামীদ উদ্দীন ফারাহী - মজমুয়া তাফসীরে ফারাহী - ১৯৫১
৬. মাও: সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী - তাফহীমুল কুরআন
৭. মাও: আহমদ রেজা খান ব্রেলভী - কানজুল ঈমান ফী - ১৩০ হি:
৮. মাও: আহমদ সাঈদ - তরজমাতুল কুরআন মুসাম্মা বিহি কাশফুর রহমান - ১৯৫৪
৯. মাও: সানাউল্লাহ অমৃতসরী - তাফসীরে সানায়ী - ১৩১৩ হিঃ
১০. মাও: মাহমুদ আলী লাহোরী - তরজমা ও মহসায়ী কুরআনে মাজীদ - ১৯৩৭
১১. স্যার সৈয়দ আহমদ খাঁ - তাফসীরুল কুরআন - ১২৯৭-১৩০৯ হি:
১২. মাও: শাব্বীর আহমদ ওসমানী - ফাওয়ায়েদে মাওজানুল কুরআন - ১৩৫৭ হি:
১৩. মাও: আবদুল বারী ফেরংগী মহল্লী - আলগফরু রহমান - ১২৪৩ হিঃ
১৪. ফতহে মুহাম্মদ জালন্ধরী - ফতহুল হামীদ - ১৯০০
১৫. মৌলভী ফীরুজদ্দীন (ফীকুজ সন্স) - তাসহীলুল কুরআন - ১৩৬২ হি:
১৬. শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী - তরজমায়ে কুরআন মজীদ ফাওয়ায়েদে মোজেহুল কুরআন - ১৩৪৪ হি:
১৭. ডিপুটি নজীর আহমদ - তরজমা কুরআনে মাজীদ মায়া গারায়েবুল কুরআন - ১৩২২ হি:
১৮. মাওলা ইহতিশামুল হক থানভী - তরজমা ওয়া তাফসীর-
প্রশ্ন : ৩১। আফ্রিকান ভাষায় কুরআনের অনুবাদ কে করেছেন?
উত্তর : শেখ আবদুল্লাহ সালেহ ফারসী।
প্রশ্ন: ৩২। মাওলানা মওদূদীর তাফহীমুল কুরআনের সিন্ধি অনুবাদক কে?
উত্তর: মাওলানা জান মোহাম্মদ ভাটু।
প্রশ্ন: ৩৩। সিন্ধি ভাষায় কুরআনের তাফসীর "মেফতাহে রাশেদীয়া”-এর রচয়িতা কে?
উত্তর: মাওলানা রশীদ উদ্দীন শাহ পীরের বিশেষ মুরীদ কাজী ফাতহে মুহাম্মদ নিজামানী।
প্রশ্ন: ৩৪। সিন্ধি ভাষায় কুরআনের তাফসীরে কাওসারের রচয়িতা কে?
উত্তর: পীর মুরদান আলী শাহ, পীর পাগারো। এ তাফসীর ৫ খন্ডবিশিষ্ট।
প্রশ্ন: ৩৫। সিন্ধি ভাষায় কুরআনের সম্পূর্ণ অনুবাদ কে করেছেন?
উত্তর: মূল তরজমা করেছেন মাওলানা তাজ মাহমূদ আমরুহী এবং সিন্ধি অনুবাদ করেছেন আখৃন্দ আযীযুল্লাহ মৃতালভী।
প্রশ্ন: ৩৬। পশতু ভাষার তাফসীর কাশফুল কুরআনের রচয়িতা কে?
উত্তর: হাফেজ মুহাম্মদ ইদরীস।
প্রশ্ন: ৩৭। পশতু ভাষায় কুরআনের প্রথম তাফসীর কে লিখেছেন?
উত্তর: মাওলানা মুরাদ আলী ওরফে মাওলানা শেখ আবদুর রহমান আস্সাইলানী সাকিন কামাহ, জালালাবাদ।
📄 কুরআন মাজীদ এবং দোয়াসমূহ
প্রশ্ন: ১। কুরআনে নবী-রাসূলগণ, সাহাবায়ে কিরাম এবং মু'মিনদের দোয়া কোনগুলো? এসব দোয়ার মাধ্যমে বিণীত ও বিনম্র মস্তকে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা ইহ ও পারলৌকিক জীবনের সফলতার অন্যতম মাধ্যম কি?
উত্তর: কুরআনের ক'টি দোয়া নিম্নরূপ:
بسم الله الرحمن الرحيم . পরম করুণাময় দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু করছি।
(۱) ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار .
১. ওগো প্রভু! আপনি আমাদেরকে দুনিয়া-আখিরাত উভয় জাহানের কল্যাণ বা বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে দোযখাগ্নি থেকে রক্ষা করুন।" (বাকারা: ২৫)
(۲) ربنا افرغ علينا صبراً و ثبت اقدامنا وانصرنا على القوم الكافرين .
২. "ওগো আমাদের প্রভু! আমাদের ধৈর্যদান করুন, আমাদের পদক্ষেপ সুদৃঢ় করুন এবং এ কাফের দলের ওপর আমাদেরকে বিজয় দান করুন। (বাকারা: ২৫০)
(۳) ربنا لا تؤاخذنا ان نسينا أو أخطأنا ربنا ولا تحمل علينا اصراً كما حملته على الذين من قبلنا . ربنا ولا تحملنا ما لا طاقة لنا به واعف عنا واغفر لنا وارحمنا انت مولانا فانصرنا على القوم الكافرين. (بقرة : ٢٨٦)
৩. "ওগো আমাদের প্রভু! ভুল-ভ্রান্তিবশত আমাদের যা কিছু ত্রুটি হয় তার জন্য আমাদেরকে শাস্তি দেবেন না। হে আল্লাহ! আমাদের ওপর সে ধরনের বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেরূপ পূর্বগামী লোকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। ওগো প্রভু! যে বোঝা বহন করার শক্তি-ক্ষমতা আমাদের নেই, তা আমাদের ওপর চাপাবেন না। আমাদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করুন, আমাদের অপরাধ ক্ষমা করুন, আমাদের পতি রহমত নাযিল করুন, আপনিই তো আমাদের মাওলা- আশ্রয়দাতা; কাফেরদের প্রতিকূলে আপনি আমাদেরকে সাহায্যদান করুন।" (বাকারা: ২৮৬)
(٤) ربنا لا تزغ قلوبنا بعد اذ هديتنا وهب لنا من لدنك رحمة انك انت الوهاب. ربنا انك جامع الناس ليوم لاريب فيه. ان الله لا يخلف الميعاد .
৪. ওগো পরোয়ারদিগার! আপনি যখন আমাদেরকে সঠিক-সোজা পথে চালিয়েছেন, তখন আপনি আমাদের মনে কোন প্রকার বক্রতা ও কূটিলতা সৃষ্টি করবেন না। আমাদেরকে আপনার মেহেরবানীর ভান্ডার থেকে অনুগ্রহ দান করুন, কেননা প্রকৃত দাতা আপনিই। ওগো প্রভু! আপনি নিশ্চয়ই একদিন সমস্ত লোককে একত্রিত করবেন, যেদিনের আগমনে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। আপনি কখনো, কোনক্রমেই নিজের ওয়াদা থেকে বিচ্যুত হন না। (আলু-ইমরান: ৮-৯)
(٥) ربنا اننا آمنا فاغفر لنا ذنوبنا وقنا عذاب النار .
৫. ওগো প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি; আমাদের গুনা-খাতা ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান। (আলু ইমরান: ১৬)
(٦) ربنا ما خلقت هذا باطلا. سبحانك فقنا عذاب النار . ربنا انك من تدخل النار و ما للظالمين من انصار. ربنا اننا سمعنا مناديا ينادى للايمان ان آمنوا بربكم فامنا . ربنا فاغفر لنا ذنوبنا و كفر عنا سياتنا وتوفنا مع الابرار ، ربنا و اتنا ما وعدتنا على رسلك ولا تخزنا يوم القيامة. انك لا تخلف الميعاد .
৬. "ওগো প্রভু! এসব কিছু আপনি অর্থহীন ও উদ্দেশ্যহীন সৃষ্টি করেননি। আপনি উদ্দেশ্যহীন কাজের বাতুলতা হতে পবিত্র। অতএব ওগো প্রভু! দোযখের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচান। আপনি যাকে দোযখে নিক্ষেপ করেছেন তাকে বাস্তবিকই বড় অপমান ও লজ্জায় নিক্ষেপ করেছেন। এছাড়া এসব জালিমদের সাহায্যকারীও কেউ হবে না। প্রভু! আমরা একজন আহবানকারীর আমন্ত্রণ শুনতে পেয়েছি যে ঈমানের জন্য আহবান জানাচ্ছে (এবং বলছিলো) যে, তোমরা তোমাদের আল্লাহকে মেনে নাও আমরা তার দাওয়াত কবুল করেছি, অতএব ওগো আমাদের প্রভু! যে অপরাধ আমরা করেছি তা ক্ষমা করুন, আমাদের মধ্যে যা কিছু অন্যায় ও দোষ-ত্রুটি রয়েছে তা দূর করে দিন এবং নেক লোকদের সঙ্গে আমাদের পরিণতি সম্পন্ন করুন। আল্লাহ্! আপনি আপনার রাসূলদের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন তা পূর্ণ করুন- এবং কিয়ামতের দিন আমাদের লজ্জার সম্মুখীন করবেন না। এটা নিঃসন্দেহ যে, আপনি কখনো ওয়াদা খেলাফকারী নন।" (আল ইমরান: ১৯১-১৯৪)
(۷) ربنا ظلمنا انفسنا و ان لم تغفر لنا وترحمنا لنكونن من الخسرين.
৭. ওগো প্রভু! আমরা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেই। এখন আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন আর আমাদের প্রতি রহম না করেন, তা হলে আমরা নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাবো।" (আল আ'রাফ: ২৩)
(۸) ربنا افرغ علينا صبرا وتوفنا مسلمين .
৮. "ওগো প্রভু! আমাদের ধৈর্য-ধারণের গুণ দান করুন, আর আমাদেরকে দুনিয়া হতে এমন অবস্থায় উঠিয়ে নিন যখন আমরা আপনারই অনুগত।" (আল আ'রাফ: ১২৬)
(۹) ربنا لا تجعلنا فتنة للقوم الظالمين. ونجنا برحمتك من القوم الكافرين (يونس)
৯. "আয় আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে জুলুমের স্থল বানিয়ে অধিক পথভ্রষ্ট হতে দিও না, অত্যাচারীদেরকে এবং নিজ দয়া গুণে আমাদেরকে কাফেরদের হাত থেকে মুক্তি দান কর।"
(۱۰) فاطر السموات والارض. انت وليي في الدنيا و الآخرة. توفني مسلما و الحقني بالصالحين. (يوسف : ۱۱)
১০. "হে আকাশ ও যমীনের স্রষ্টা! তুমিই আমার একমাত্র সহায়, দুনিয়া ও আখেরাতে; আমাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিও এবং পুণ্যবানদের সংসর্গে রেখো। (ইউসুফ: ১১)
(۱۱) رب اجعلني مقيم الصلوة و من ذريتي ربنا وتقبل دعای ربنا اغفرلی و لوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب (ابراهيم : ٤)
১১. "আয় আল্লাহ! আমাকে খাঁটি মুসল্লী বানাও এবং আমার বংশধরদেরকে। আয় আল্লাহ! আমার দোয়া কবুল কর। আয় আল্লাহ! আমাকে এবং আমার পিতা-মাতা ও সমস্ত মুমিনকে কিয়ামতের হিসাবের দিন ক্ষমা করে দিও। (ইব্রাহীম : ৬)
(۱۲) رب ارحمهما كما ربياني صغيرا (بنی اسرائیل : (۳)
১২. "হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতার ওপর রহমত বর্ষণ কর, যেমনি তাঁরা আমাকে বাল্যাবস্থায় লালন-পালন করেছেন। (বনী ইসরাঈল: ৩)
(۱۳) رب ادخلني مدخل صدق و اخرجني مخرج صدق واجعل لي من لدنك سلطانا نصيرا (بنی اسرائیل : (۹)
১৩. "আয় আল্লাহ! আমাকে যেখানে নাও ভালভাবে নিও এবং যেখান থেকে বের করে নাও ভালভাবে নিও আর তোমার পক্ষ থেকে আমার জন্য এক শক্তিশালী সাহায্যকারী নিযুক্ত কর।" (বনী ইসরাঈল: ৯)
(١٤) ربنا اتنا من لدنك رحمة وهيئ لنا من امرنا رشدا . كهف : (۱)
১৪. "আয় আল্লাহ! তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান কর এবং আমাদের সব কাজের সুবন্দোবস্ত করে দাও।" (কাহাফ : ১ রুক্)
(١٥) رب زدنی علما . (طه : ٤ )
১৫. "আয় আল্লাহ! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও।" (তোহা : ৪ রুক্)
(١٦) اني مسني الضر و انت ارحم الرحمين . (انبياء : ۲)
১৬. "ওগো মাবুদ! আমি রোগাক্রান্ত আর তুমি সর্বাধিক দয়ালু।" (আম্বিয়া : ২)
(۱۷) رب لا تذرني فردا وانت خير الوارثين. (انبياء : (٢)
১৭. "আয় আল্লাহ! আমাকে একা ছেড়ো না; তুমিই সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।"
(۱۸) رب أعوذ بك من همزت الشياطين و اعوذ بك رب أن يحضرون (مؤمنون : ٤)
১৮. "আয় আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করি, শয়তান যেন আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে আর আমি তোমারই আশ্রয় গ্রহণ করি, তারা যেন আমার কাছেও আসতে না পারে।" (মু'মিনূন: ৬ রুক্)
(۱۹) ربنا امنا فاغفر لنا وارحمنا وانت خير الرحمين. (مؤمنون : (٤)
১৯. "আয় আল্লাহ! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দাও আর আমাদের ওপর মেহেরবানী কর, তুমিই সর্বোত্তম মেহেরবান।"
(۲۰) ربنا اصرف عنا عذاب جهنم ان عذابها كان غراما . (فرقان : (٦)
২০. "আয় আল্লাহ! আমাদের থেকে দোযখের আজাব সরিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে দোযখের আযাব সর্বনাশ সাধনকারী।"
(۲۱) ربنا هب لنا من أزواجنا وذريتنا قرة أعين واجعلنا للمتقين اماما . (فرقان : (٦)
২১. আয় আল্লাহ! আমাদেরকে এমন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা দান করুন, যেন তাদের কারণে আমাদের চক্ষু শীতল হয় এবং আমাদেরকে মুত্তাকীনদের নেতা বানান। (ফুরকান: ৬ রুক্)
(۲۲) رب اوز عنى ان اشكر نعمتك التي انعمت على وعلى والدى . ان اعمل صالحا ترضاه وادخلني برحمتك في عبادك الصالحين .
২২. "আয় আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার সে-সব নেয়ামতের শোকর আদায় করার তাওফীক দান কর, তুমি আমাকে যে-সব নেয়ামত দান করেছো আর আমার পিতা-মাতাকে এবং আমাকে এরূপ নেক কাজ করার তাওফীক দান কর যা তুমি পসন্দ কর এবং দয়াগুণে আমাকে নেক বান্দাদের দলভুক্ত করে রাখ।"
(۲۳) رب اني لما انزلت الى من خير فقير. (قصص : ٣٤)
২৩. "আয় আল্লাহ! তুমি আমাকে যা-ই দান কর তা-ই ভালো এবং আমি তারই মোহ্তাজ।"
(٢٤) رب انصرني على القوم المفسدين. (عنكبوت : (۳)
২৪. হে রব! ফিতনা-ফাসাদকারী কওমের ওপর তুমি আমাকে সাহায্য কর। (আনকাবূত : ৩ রুকু)
(٢٥) ربنا وسعت كل شئ رحمة و علما فاغفر للذين تابوا و اتبعوا سبيلك وقهم عذاب الجحيم. ربنا و ادخلهم جنة عدن التي وعدتهم و من صلح من ابائهم و ازواجهم و ذريتهم انك انت العزيز الحكيم. وقهم السيئات و من تق السيئات يومئذ فقد رحمته و ذلك هو الفوز العظيم.
২৫. “হে আল্লাহ! সর্বব্যাপী তোমার রহমত এবং তুমি সর্বজ্ঞ; অতএব ক্ষমা কর তাদেরকে যারা তাওবা করে গ্রহণ করেছে তোমার দ্বীনের পথ এবং তাদেরকে দোযখের আযাব থেকে বাঁচাও। হে আল্লাহ! স্থান দান কর তাদেরকে তোমার ওয়াদাকৃত চিরস্থায়ী বেহেশতের মধ্যে এবং তাদেরকেও যারা নেককার হয়েছে তাদের বাপ, দাদা, স্ত্রী ও পুত্র-কন্যাদের মধ্যে; নিশ্চয়ই তুমি সর্বশক্তিমান হেকমতওয়ালা। তাদেরকে সব কষ্ট থেকে বাঁচিয়ে নাও, তুমি যাকে বাঁচিয়ে নেবে সব কষ্ট হতে কিয়ামতের দিন সে-ই প্রকৃত প্রস্তাবে তোমার রহমত পেলো, আর এটাই সার্থকতা।"
(٢٦) و اصلح لي في ذريتي اني تبت اليك و انى من المسلمين. (احقاف : ۲)
২৬. "আয় আল্লাহ! আমার আয়-আওলাদের মধ্যে ঈমানদারী-পরহেজগারী রেখো, আমি তাওবা করে তোমার দিকে রুজু হচ্ছি এবং তোমার ফরমাবরদারী গ্রহণ করে নিয়েছি।" (আহকাফ : ২ রুকু)
(۲۷) ربنا اغفر لنا ولاخواننا الذين سبقونا بالايمان ولا تجعل في قلوبنا غلا للذين امنوا ربنا انك رؤف الرحيم (حشر : (۱)
২৭. "আয় আল্লাহ! আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের যে-সব মুসলমান ভাই ঈমানের সঙ্গে চলে গেছেন তাদেরকে। আর আমাদের অন্তরে বিন্দুমাত্র ঘৃণাও থাকতে দিও না কোন ঈমানদারের প্রতি; হে আল্লাহ! তুমি অতি মেহেরবান অতি দয়ালু।"
(۲۸) ربنا عليك توكلنا و اليك انبنا و اليك المصير . ربنا لا تجعلنا فتنة للذين كفروا واغفر لنا ربنا . انك انت العزيز الحكيم. (ممتحنه : ۱)
২৮. “হে আল্লাহ! আমরা তোমারই ওপর ভরসা করছি এবং তোমারই দিকে রুজু হচ্ছি আর অবশেষে তোমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। হে আল্লাহ! আমাদেরকে কাফেরদের দ্বারা উৎপীড়িত হতে দিও না। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও; নিশ্চয়ই তুমি সর্বশক্তিমান সর্বক্ষমতাবান।"
(29) ربنا اتمم لنا نورنا واغفر لنا انك على كل شئ قدير. (تحريم : (۳)
২৯. “হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিও এবং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিও, নিশ্চয়ই তুমি সব কিছু করতে পার।"
(۳۰) رب اغفر لي ولوالدي و لمن دخل بيتي مؤمنا وللمؤمين و المؤمنات (نوح : (۲)
৩০. "হে আল্লাহ! সমস্ত গোনাহ-খাতা মাফ করে দাও আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং যে ঈমানের সাথে আমার ঘরে ঢুকেছে তাকে এবং অন্যান্য ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীকে।"
(۳۱) رب اغفر وارحم و انت خير الرحمين. (مؤمنون : ٦ )
৩১. “হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমা কর এবং দয়া কর আর তুমিই তো সর্বোত্তম দয়াবান।"
প্রশ্ন: ২। কুরআনে দোয়া সম্পর্কে সূরা বাকারায় কি সুসংবাদ ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: "ওগো নবী! আমার বান্দা যদি আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তবে তাদের বলে দিন যে, আমি তাদের অতি নিকটে। আমাকে যে ডাকে আমি তার ডাক শুনি এবং তার উত্তর দিয়ে থাকি। কাজেই আমার আহবানে সাড়া দেয়া এবং আমার প্রতি ঈমান আনা তাদের কর্তব্য; এসব কথা আপনি তাদের শুনিয়ে দিন; হয়ত তারা প্রকৃত সত্য পথের সন্ধান পাবে।" (বাকারা: ১৮৬)