📘 আল কুরআন জিজ্ঞাসা ও জবাব > 📄 কুরআন এবং আল্লাহর দরবারে বনী আদমের উপস্থিতি

📄 কুরআন এবং আল্লাহর দরবারে বনী আদমের উপস্থিতি


প্রশ্ন: ১। কিয়ামতের দিন মানুষের অবস্থা কি হবে?
উত্তর: “সে দিন মানুষ নিজের ভাই, নিজের মাতা, নিজের পিতা এবং স্ত্রী ও সন্তানাদি হতে পালাবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর সেদিন এমন সময় এসে পড়বে যে, নিজের ব্যতীত অন্য কারো প্রতি লক্ষ্য রাখার মত অবস্থা থাকবে না!" (আবাসা: ৩৪-৩৭)

প্রশ্ন: ২। হাশরের দিন পাপীরা কিভাবে পরস্পরে ঝগড়া করবে?
উত্তর: "আর এ লোকরা যখন একত্রিত হয়ে আল্লাহ্র সামনে উন্মোচিত হবে, তখন এদের মধ্যে যারা পৃথিবীতে দুর্বল ছিলো তারা যারা বড় লোক বনে ছিলে। তাদেরকে বলবে, দুনিয়ায় আমরা তোমাদের অধীনে ছিলাম, এখন তোমরা আল্লাহর আযাব হতে আমাদেরকে বাঁচাবার জন্যও কিছু করতে পারো? তারা জবাবে বলবে, আল্লাহ্ যদি আমাদেরকে মুক্তির কোন পথ দেখাতেন তা হলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরও দেখাতাম। এখন আহাজারি করি কি ধৈর্য অবলম্বন করি উভয়ই আমাদের জন্য সমান আমাদের রক্ষা ও মুক্তি লাভের কোন উপায় নেই। আর যখন চূড়ান্ত ফয়সালা করে দেয়া হবে, তখন শয়তান বলবে, এতে কোনই সন্দেহ নেই যে, তোমাদের প্রতি আল্লাহ্ যে-সব ওয়াদা করেছিলেন তা সবই সত্য ছিলো। আর আমি যত ওয়াদাই করেছিলাম তন্মধ্যে কোন একটিও পুরো করিনি। তোমাদের ওপর আমার তো কোন জোর ছিলো না। আমি এছাড়া আর তো কিছু করিনি- শুধু এ-ই করেছি যে, তোমাদেরকে আমার পথে চলবার জন্য আহবান করেছি। আর তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছো। এখন আমাকে দোষ দিওনা-তিরস্কার করো না, নিজেকেই নিজে তিরস্কৃত কর। এখানে না আমি তোমাদের ফরিয়াদ শুনতে পারি, না তোমরা আমার ফরিয়াদ শুনতে পার। ইতোপূর্বে তোমরা যে আমাকে খোদায়ীর ব্যাপারে শরীক বানিয়েছিলে, আমি তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। এরূপ জালেমদের জন্য তো কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি নিশ্চিত।" (ইব্রাহীম: ২১-২২)

প্রশ্ন: ৩। কিয়ামতের দিন মানুষ তার বন্ধুদের ওপর কিভাবে অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে?
উত্তর: "আর সেদিন জালিম মানুষ স্বীয় হাত চিবুতে থাকবে এবং বলতে থাকবে আহা যদি আমি রাসূলের পথে চলতাম। হায় রে আমার দুর্ভাগ্য, যদি আমি অমুক ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম, তার প্রলোভনে আমি আমার কাছে যে নসীহত এসেছে, তা গ্রহণ করিনি। শয়তান মানুষের জন্য অত্যন্ত গাদ্দাররূপে বেরিয়েছে"।

প্রশ্ন: ৪। কিয়ামতের দিন কাফির স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ালে প্রভু তাকে কি জিজ্ঞেস করবেন?
উত্তর: "হায়, তোমরা যদি সেই দৃশ্য দেখতে পার, যখন এদেরকে তাদের খোদার সম্মুখে দাঁড় করানো হবে তখন রব তাদের জিজ্ঞেস করবেন: এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, হে আমাদের প্রভু! এটা প্রকৃত সত্য। তখন প্রভু বলবেন, তা হলে এখন তোমরা প্রকৃত সত্যকে অস্বীকার ও অমান্য করার ফলস্বরূপ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর।" (আল-আন'আম: ৩০)

প্রশ্ন: ৫। কিয়ামতের দিন বেহেশতী এবং দোযখীদের প্রস্থানের দৃশ্য কিরূপ হবে?
উত্তর: "সে দিন অবশ্যই আসবে যখন মুত্তাকী লোকদেরকে আমরা মেহমানদের মত রহমানের দরবারে উপস্থিত করবো। আর পাপী অপরাধী লোকদেরকে পিপাসু জানোয়ারের মতো জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবো।" (মারইয়াম: ৮৪-৮৫)

প্রশ্ন: ৬। কিয়ামতের দিন সফল ব্যক্তি কে হবে?
উত্তর: "অবশেষে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই মরতে হবে এবং তোমরা সকলে নিজ নিজ প্রতিফল পুরোপুরিভাবে কিয়ামতের দিন পাবে। সফল হবে মূলত সেই ব্যক্তি যে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে এবং যাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে।" (আলু ইমরান: ১৮৫)

প্রশ্ন: ৭। জাহান্নামে প্রবেশকারীরা পরস্পর কিভাবে ঝগড়া করবে?
উত্তর: "আল্লাহ্ বলবেন, যাও তোমরাও সে জাহান্নামে চলে যাও যেখানে তোমাদের পূর্ববর্তী জ্বিন ও মানুষের দল গেছে। প্রত্যেক লোক যখন জাহান্নামে দাখিল হবে তখন নিজেদের পূর্বগামী লোকদের ওপর লা'নৎ করতে করতে প্রবেশ করবে। এভাবে সব লোকই যখন সেখানে একত্রিত হবে, তখন প্রত্যেক পরবর্তী দল তার পূর্ববর্তী দল সম্পর্কে বলবে: ওগো প্রভু! এ লোকরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। কাজেই এদেরকে দ্বিগুণ আযাব দিন। উত্তরে বলা হবে: প্রত্যেকেরই জন্য দ্বিগুণ আযাব রয়েছে; কিন্তু তোমরা জান না আর প্রথম দল অপর দলকে লক্ষ্য করে বলবে যে, আমরা যদি দোষী হয়ে থাকি তবে তোমরা আমাদের অপেক্ষা কোন্ দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলে? এখন নিজেদেরই উপার্জনের বিনিময়ে আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর।" (আল-আ'রাফ: ৩৮-৩৯)

প্রশ্ন: ৮। হাশরের দিন পুণ্যবানদেরকে কোন জিনিসের সুসংবাদ দেয়া হবে?
উত্তর: "সে দিন যখন তোমরা মু'মিন পুরুষ ও স্ত্রী লোকদেরকে দেখবে যে, তাদের সামনে সামনে এবং তাদের ডানদিকে দৌড়াতে থাকবে। (তাদেরকে বলা হবে যে,) আজ সুসংবাদ রয়েছে তোমাদের জন্য। জান্নাতসমূহ হবে, যে-সবের নিম্নদেশে ঝরণাধারাসমূহ প্রবহমান হয়ে থাকবে যাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই হলো বড় সাফল্য।" (আল হাদীদ: ১২)

প্রশ্ন: ৯। হাশরের দিন মানুষ কত দলে বিভক্ত হয়ে আল্লাহ্ সমীপে উপস্থিত হবে এবং তারা কোন্ কোন্ দল?
উত্তর: "তোমার তখন তিনভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। ডান বাহুর লোক; ডান বাহুর লোকদের সৌভাগ্যের কথা আর কি বলা যায়। এবং বাম বাহুর লোক; বাম বাহুর লোকদের (দুর্ভাগ্য-দুর্দশার) আর সীমা-পরিসীমা কি? আর অগ্রবর্তী লোকেরা তো অগ্রবর্তীই? তারাই তো সান্নিধ্যশালী লোক; নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে অবস্থান ও বসবাস করবে। আগেরকালের লোকদের মধ্যে বেশিসংখ্যক হবে, আর পেছনের লোকদের মধ্যে কমসংখ্যক। মুক্তা খচিত আসনসমূহের ওপর হেলান দিয়ে মুখোমুখি হয়ে আসীন হবে। তাদের মজলিসসমূহে চিরন্তন ছেলেরা প্রবহমান ঝর্ণা শুরায় ভরা পানিপাত্র ও হাতলধারী শুরাভাও অচফেরা নিয়ে দৌড়া-দৌড়ি করতে থাকবে। এটা পান করায় তাদের মাথা ঘুরবে না, তাদের বিবেক-বুদ্ধিও লোপ পাবে না, আর এরা তাদের সম্মুখে রকম-বেরকমের সুস্বাদু ফল পেশ করবে, যেন যেটা পছন্দ সেটাই তুলে নিতে পারে। এছাড়া পাখির গোশতও সামনে রাখবে, যেটির গোশত ইচ্ছে হবে নিতে পারবে। আর তাদের জন্য সুন্দর চক্ষুধারী হুরগণও থাকবে। তারা সুশ্রী-সুন্দরী হবে, লুকিয়ে রাখা মুক্তার মতো। এসব কিছুই সে-সব আমলের শুভ প্রতিফলস্বরূপ তারা পাবে, যা তারা দুনিয়ার জীবনে করেছিলো। সেখানে তারা কোন বাজে কথা ও পাপের বুলি শুনতে পাবে না। যে কথা-বার্তাই হবে, তা ঠিক ঠিক ও যথাযথ হবে। আর ডান বাহুর লোকেরা; ডান বাহুর লোকদের (সৌভাগ্যের) কথা আর কি বলা যায়? তারা কাঁটাহীন ফুল বৃক্ষরাজি, থরে থরে সাজানো কথা, বিস্তীর্ণ অঞ্চলব্যাপী ছাড়াও সর্বদা প্রবহমান পানি, শেষহীন অবারিত ও বিপুল পরিমাণে পাওয়া যাবে এমন ফল এবং উচ্চ আসনসমূহে অবস্থিত হবে। তাদের স্ত্রীগণকে আমরা বিশেষভাবে সম্পূর্ণ নতুন করে সৃষ্টি করবো, এবং তাদেরকে কুমারী বানিয়ে দেবো। নিজেদের স্বামীদের প্রতি আসক্ত এবং বয়সে সমকক্ষ, এসবকিছুই ডানবাহুর লোকদের জন্য। তারা আগের কালের লোকদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হবে আর পেছনের কালের লোকদের মধ্যে হতেও বহু।
আর বাম হাতের লোকেরা! বাম হাতের লোকদের চরম (দুর্ভাগ্যের) কথা আর কি জিজ্ঞেস করবে। তারা 'লু' হাওয়ার প্রবাহ ও টগবগ করা ফুটন্ত পানি এবং কালো কালো ধোঁয়ার ছায়ার অধীন থাকবে। তা না ঠাণ্ডা শীতল হবে, না শান্তিপ্রদ। এরা এমন লোক যে, এ পরিণতি পর্যন্ত পৌছার পূর্বে তারা খুবই স্বচ্ছল ও স্বচ্ছন্দ ছিল। আর বড় বড় গুনাহ্ বারবার পৌনপুনিকভাবে করতে থাকতো। তারা বলতো : আমরা যখন মরে মাটি হয়ে যাবো এবং অস্থি পিঞ্জরটা শুধু পড়ে থাকবে তখন কি আমাদেরকে তুলে দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে? আর আমাদের সেই বাপ-দাদাদের কি উঠানো হবে, যারা পূর্বেই চলে গেছে। হে নবী! এ লোকদেরকে বলুন : নিঃসন্দেহে আগের ও পরের সকলকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করা হবে, তার সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা হলে হে ভ্রষ্ট-বিভ্রান্ত ও অমান্য-অবিশ্বাসকারী লোকেরা, তোমরা যক্কুম বৃক্ষের খাদ্য অবশ্যই খাবে। তার দ্বারাই তোমরা পেট ভর্তি করবে। আর উপর থেকে টগবগ করা ফুটন্ত পানি পিপাসাকাতর উষ্ট্রের ন্যায় পান করবে। "প্রতিফল দানের দিনে।" এটাই হবে সেই বাম বাহুর লোকদের আতিথ্যের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রী। (ওয়াকিয়া : ৭-৫৫)

📘 আল কুরআন জিজ্ঞাসা ও জবাব > 📄 কুরআনুল কারীম এবং কিয়ামতের দিন দু’ধরনের চেহারা

📄 কুরআনুল কারীম এবং কিয়ামতের দিন দু’ধরনের চেহারা


প্রশ্ন: ১। কিয়ামতের দিন মানুষের অবয়বের অবস্থা কিরূপ হবে?
উত্তর:
১. "অপরাধী লোকেরা সেখানে নিজ নিজ চেহারা দ্বারাই পরিচিত হয়ে যাবে এবং তাদেরকে কপালের চুল ও পা ধরে হেঁচড়িয়ে টেনে নেয়া হবে।" (আব্রাহমান: ৪১)

২. "সেদিন কিছু কিছু চেহারা ঝকমক করতে থাকবে, হাসি-খুশি ভরা ও সন্তুষ্ট স্বচ্ছন্দ হবে। আবার কতিপয় মুখমন্ডল ধূলিমলিন হবে, অন্ধকার সমাচ্ছন্ন হবে। আর এরাই হলো কাফের ও পাপী লোক।" (সূরা আবাসা: ৩৬-৪২)

৩. "সে দিন কিছুসংখ্যক মুখাবয়ব উজ্জ্বল সুস্মিত হবে, নিজেদের প্রভুর দিকে দৃষ্টিমান হবে। আর কিছুসংখ্যক মুখাবয়ব উদাস-ম্লান হবে। মনে করতে থাকবে যে, তাদের কোমর চূর্ণকারী আচরণ করা হবে।" (কিয়ামা: ২২-২৫)

৪. "যারা ভালো কাজের নীতি গ্রহণ করেছে, তারা ভালো ফল পাবে, অধিক অনুগ্রহও। কলংক, কালিমা এবং লাঞ্ছনা তাদের মুখমন্ডলকে মলিন করবে না। তারাই জান্নাত লাভের অধিকারী। সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে। আর যারা মন্দ কাজ করেছে, তারা তাদের পাপ অনুপাতেই প্রতিফল পাবে। লাঞ্ছনা তাদের ললাট-লিখন হয়ে থাকবে। আল্লাহ্ এ আযাব থেকে তাদের রক্ষক কেউ নেই। তাদের মুখমন্ডল এমন অন্ধকার সমাচ্ছন্ন হয়ে থাকবে যেমন রাতের কালো পর্দা তাদের ওপর পড়ে আছে। তারাই দোযখে যাওয়ার যোগ্য, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।" (সূরা ইউনুস: ২৬-২৭)

📘 আল কুরআন জিজ্ঞাসা ও জবাব > 📄 বাংলা ভাষায় কুরআন চর্চা

📄 বাংলা ভাষায় কুরআন চর্চা


প্রশ্ন: ১। বাংলা ভাষায় কুরআনের অনুবাদ ও তাফসীরগুলো কি?
উত্তর: বাংলা ভাষায় কুরআনের অনুবাদক ও তাফসীরকারদের নাম নিম্নে দেয়া হলো:

মৌলভী আমীর উদ্দীন বসুনিয়া: তিনি রংপুর জেলার মটকপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮০৮ সালে কুরআন-এর আমপারার কাব্যানুবাদ প্রকাশ করেন। জানা গেছে যে, এটাই কুরআন-এর প্রথম বঙ্গানুবাদ। জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বলেন, এ অনুবাদ গ্রন্থখানি কাঠের অক্ষরে ছাপা হয়েছিল। মুদ্রণ নীতির প্রাচীনতার কারণে কুরআন-এর এই অনুবাদ গ্রন্থখানি সর্বপ্রাচীন বলেই মনে হয়। ইসলামিক একাডেমী (বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা) পত্রিকার প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যার বর্ণনানুযায়ী ভাই গিরীশ চন্দ্র সেনের অনেক পূর্বে রংপুরের মাওলানা আমীর উদ্দিন বসুনিয়ার অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কোলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিষদ গ্রন্থাগারে এ অনুবাদের এক খন্ড সংরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে।

গিরীশ চন্দ্র সেন: ১৮৩৫ সালে নারায়ণগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম দেন মাধব রায় সেন। প্রথম জীবনেই তিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেন। ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। ময়মনসিংহ জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে তিনি দ্বীন-ইসলামের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে এর অনুশীলন করতে থাকেন। ১৮৮১-৮৬ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের সাধনা ও পরিশ্রমের পর পাদটীকাসহ তিন খন্ডে কুরআন করিম -এর পূর্ণাঙ্গ গদ্যানুবাদ প্রকাশ করেন। তিনি ১৯১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মুহাম্মদ নঈমুদ্দীন: ১৮৩৮ সালে টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। আরবী, ফার্সী ও উর্দুতে তিনি ছিলেন অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী। তিনি ছিলেন মাসিক আখবারে ইসলামিয়ার (اخبار اسلامية) সম্পাদক ও প্রকাশক। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশ খানা। বাংলাদেশী আলেমদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় কুরআন -এর বিস্তারিত তাফসীর تفسیر লেখার কাজ শুরু করেন। তাঁর জীদ্দশাতেই তাঁর তাফসীর تفسیر প্রকাশিত হয়। ১৯০৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ফিলিপ বিশ্বাস: ১৮৯১ সালে খৃস্টান ফিলিপ বিশ্বাস খ্রীষ্ট ধর্মের বাস্তবতা প্রমাণের জন্য কুরআন করিম-এর কতিপয় আয়াত সংকলন করে বাংলায় অনুবাদ করেন। গ্রন্থটি ১১ খন্ডে বিভক্ত। তন্মধ্যে কোন কোন মন্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিরক্তিকর।

মাওলানা আব্বাস আলী: চব্বিশ পরগনার অধিবাসী, বহু গ্রন্থ প্রণেতা, অনুবাদক ও প্রকাশক মাওলানা আব্বাস আলী ১৮৫৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম বাঙ্গালী মুসলমান যিনি কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর অনুবাদে আরবী আয়াতের নিচে উর্দু তারপর বাংলা অনুবাদ এবং পৃষ্ঠার দু'পাশে বাংলা ভাষায় টীকা দেয়া হয়েছে। ১৯৩৩ সালে তিনি মারা যান।

খান বাহাদুর মৌলভী তসলিমুদ্দীন: তিনি রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মূল আরবি ব্যতীত ৩ খন্ডে অনুবাদ গ্রন্থ সমাপ্ত করেন। তিনি ১৯২৭ সালে ইন্তেকাল করেন।

গোপাল সিংহ: ১৯০৮ সালে তাঁর লিখিত পদ্যানুবাদের আমপারা প্রকাশিত হয়। অন্যান্য খন্ড প্রকাশিত হয়েছে কি-না জানা যায়নি।

মাওলানা রূহুল আমীন: বর্তমান ভারতের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমপারার বাংলা অনুবাদ ও বিস্তারিত তাফসীর লেখেন। প্রথম থেকে তৃতীয় পারা (তিন খন্ডে) প্রকাশিত হয়।

মৌলভী খন্দকার আবুল ফজল আবদুল করীম: তিনি ১৯২৭ সালে কোরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন। এর বাম পাশে আয়াত, ডান পাশে অনুবাদ এবং নীচে সংক্ষিপ্ত পাদটীকা রয়েছে।

মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ: মুসলিম বাংলার সাংবাদিকতার জনক, বাংলাদেশের আধুনিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও মুফাসসির। তিনি চব্বিশ পরগনার বশিরহাট মহকুমার হাকিমপুর গ্রামের বিখ্যাত ও সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০১ সালে কোলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা হতে এফ, এম ডিগ্রী লাভ করেন এবং সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। রাজনীতির সাথেও নিজকে জড়িয়ে ফেলেন। ১৯২২ সালে রাজনৈতিক কারণে আলীগড় সেন্ট্রাল জেলে বন্দী থাকেন। এ সময় তিনি আমপারার অনুবাদ ও বিস্তারিত তাফসীর রচনা করেন। তারপর ধীরে ধীরে ৫ খন্ডে পূর্ণাঙ্গ কুরআনের তাফসীর রচনা করেন। তাঁর তাফসীর ১৯৫৮ সালে তাফসীরুল কুরআন تفسير القرآن নামে প্রকাশিত হয়। ভাষা সাবলীল ও জোরালো। তবে, কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করার কারণে আলিমগণ তাঁর তাফসীরের সমালোচনাও করেছেন।

মৌলভী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম ও মুহাম্মদ আলী হাসান: এ দু'জন লেখক একত্রে আল-কুরআনের বাংলা অনুবাদ করেন। ১৯৩৮ সালে কুরআনের এ পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশিত হয়। পাশে আরবী আয়াত এবং অন্য পাশে বঙ্গানুবাদের নীচে তাফসীর, শানে নুযূল ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর রয়েছে। এ তাফসীর বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাফসীরের ভাষা সাবলীল।

মৌলভী ওসমান গনি: তিনি বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালের ১৭ই অক্টোবর "পবিত্র কোরআন" নামে قرآن-এর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন। এ অনুবাদ গ্রন্থখানি ১৩০০ পৃষ্ঠা সম্বলিত।

মোহাম্মদ নকীবুদ্দীন : তিনি সংক্ষিপ্ত তাফসীরসহ আল কুরআন-এর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ করেন।

খান বাহাদুর ওসমান খাঁ : তিন খন্ডে তাঁর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও তাফসীর গ্রন্থটি ১৯৫২ সালে ঢাকার প্রিন্সিপ্যাল লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ।

ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ : বহু ভাষাবিদ ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৪০ সালে কুরআন-এর অনুবাদ শুরু করেন। ১৯৪৯ সালে বগুড়া জামে মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় সমাপ্ত করেন। পরে তিনি বিস্তারিত তাফসীরও শেষ করেন, কিন্তু এটা প্রকাশিত হয়নি।

অধ্যক্ষ আলী হায়দার চৌধুরী : তিনি কুরআন-এর অনুবাদ করেন। ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।

মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী : ঢাকার লালবাগ জামেয়া কোরআনিয়ার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুল হক (রঃ) ১৯৫০ সালে সূরা ইয়াসীন)-এর বাংলা অনুবাদ ও তরজমা বিস্তারিত তাফসীরসহ প্রকাশ করেন। ১৯৬১ সালে আমপারার তাফসীর প্রকাশ করেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন, কিন্তু সমাপ্ত করতে পারেননি।

মাওলানা আলাউদ্দীন আল-আজহারী : তাঁর রচিত তাফসীরে আজহারী ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়। এটি তাফসীরের ভূমিকা ও সূরা ফাতিহার বিস্তারিত তাফসীর।

কাজী নজরুল ইসলাম : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কাব্যে আমপারার অনুবাদ করে কাব্য জগতে কুরআনের মাহাত্ম্য তুলে ধরেন।

মাওলানা মুহাম্মাদ অবদুর রহীম : মাওলানা আবদুর রহীম ছিলেন উপমহাদেশের খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিক। তিনি আল-কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ের উপর চল্লিশটিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেন। বাংলা ভাষায় তাঁর রচিত সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর ষাটের দশকেই প্রকাশিত হয়েছে।

মাওলানা আমীনুল ইসলাম : মাওলানা আমীনুল ইসলাম তাফসীর নূ রুল কুরআন (তাফসীরে নূরুল কুরআন) নামে তাফসীর লিখেছেন- 'তাফসীরুল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন।

মাওলানা আবদুল আজিজ: তিনি উচ্চ শিক্ষিত আলেম ও চট্টগ্রাম সরকারী কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর রচিত তাফসীরের নাম- তাফসীলুল البيان في تفسير القرآن تفصيل 6 টি খন্ডে সমাপ্ত।

**বাংলা ভাষায় কুরআনের অনুবাদ**
মা'আরিফুল কুরআন: মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রঃ) রচিত উর্দু ভাষায় তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআনের বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান।
বয়ানুল কোরআন : بيان القرآن এর রচয়িতা মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রঃ)। ১৯৬০ সালে ৬ খন্ডে এমদাদিয়া লাইব্রেরী থেকে এর অনুবাদ 'তাফসীরে আশরাফী' নামে বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে।
তাফহীমুল কুরআন : تفهيم القرآن এর মূল লেখক (উর্দুতে) মাওলানা মওদুদী (রঃ)। প্রথমে মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম অনুবাদ করেন। প্রফেসর গোলাম আজম ও আবদুল মান্নান তালিবও বাংলায় এর অনুবাদ করেন। ১৯ খন্ডে আধুনিক প্রকাশনী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হতে প্রকাশিত হয়েছে।
(ফি জিলালিল কুরআন) في ظلال القرآن: এর মূল লেখক সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ। এ তাফসীরে শুধুমাত্র কুরআনের বাংলা তরজমা করেন হাফেজ মুনীর উদ্দীন আহমদ এবং তাফসীরের অনুবাদ করেন মাওলানা এ. কে. এম. ছিফাতুল্লাহ ও গোলাম সোবহান সিদ্দিকী।
তাফসীরে তাবারী ও তাফসীরে ইবনে কাসীরের মতো বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরে মাজেদী এবং তাফসীরে মাজহারীর মতো দীর্ঘ তাফসীর গ্রন্থ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশ হচ্ছে। বাংলা ভাষা-ভাষীদের জন্য এটা সুখবর।
উল্লেখ্য, তাফসীরে ইবনে কাসীরের অনুবাদ করেন ডঃ মুজীবুর রহমান এবং অধ্যাপক আখতার ফারূক।
ফাওয়ায়েদে ওসমানীর বঙ্গানুবাদ করেন গোলাম সোবহান সিদ্দিকী, প্রকাশ করে আল-কোরআন একাডেমী।

প্রশ্ন: ২। বাংলা ভাষায় কুরআনের সম্পূর্ণ তাফসীর কে লিখেছেন?
উত্তর: মাওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ।

প্রশ্ন: ৩। বাংলা ভাষায় কুরআনের পূর্ণ অনুবাদ সর্বপ্রথম কে করেছেন?
উত্তর: মাওলানা আব্বাস আলী।

📘 আল কুরআন জিজ্ঞাসা ও জবাব > 📄 বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় কুরআন চর্চা

📄 বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় কুরআন চর্চা


প্রশ্ন : ১। তুর্কী ভাষায় কুরআনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অনুবাদ কে করেছেন?
উত্তর : মুহাম্মদ আকেফ বেক।

প্রশ্ন : ২। মারাঠী ভাষায় কে প্রথম কুরআনের অনুবাদ করেছেন?
উত্তর : হাকীম সূফী মীর মুহাম্মদ ইয়াকুব খাঁ।

প্রশ্ন : ৩। বর্মী ভাষায় কে সর্বপ্রথম কুরআনের অনুবাদ করেছেন?
উত্তর : ইডবা উধ কে. আই. এইচ (আহমদুল্লাহ)। মৌলভী রহমতুল্লাহও একটি অনুবাদ করেছেন।

প্রশ্ন : ৪। জাপানী ভাষায় কে সর্বপ্রথম কুরআনের অনুবাদ করেছেন?
উত্তর : শেখ আবদুর রশীদ ইব্রাহীম।

প্রশ্ন : ৫। গুজরাটী ভাষায় কে সর্বাগ্রে কুরআনের অনুবাদ করেছেন?
উত্তর : হাজী গোলাম আলী ও হাজী ইসমাঈল রহমানী।

প্রশ্ন : ৬। ফার্সী ভাষায় কে প্রথম কুরআনের অনুবাদ করেন?
উত্তর : শেখ সাদী শিরাযী।

প্রশ্ন : ৭। ল্যাটিন ভাষায় কে সর্বপ্রথম কুরআনের তরজমা করেন?
উত্তর : ফ্রান্সের জাযক ফেতরাস নিরাবলুস লেটিন ভাষায় প্রথম তরজমা করেন।

প্রশ্ন : ৮। উপমহাদেশে সর্বপ্রথম কোন্ ভাষায় কুরআন অনূদিত হয়?
উত্তর : ফার্সী ভাষায়।

প্রশ্ন : ৯। উপমহাদেশে সর্বপ্রথম অফসেটে ছাপা কুরআন কখন এবং কোথায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর : ১৯৩৬ সালে লাহোরস্থ আঞ্জুমানে হেমায়েতে ইসলাম প্রকাশ করে।

প্রশ্ন : ১০। উপমহাদেশের সেই হিন্দু পাবলিশারের নাম কি, যিনি কুরআন শরীফ প্রকাশ করতেন, কিন্তু তাঁর নির্দেশ ছিলো লিপিকার, প্রেস ম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কুরআন ছাপার সময় অজু অবস্থায় থাকবে। আর নির্গত পানি একত্রিত করে নিজেই গঙ্গায় ফেলে দিতেন।
উত্তর: মুনশী নূলকিশোর লক্ষ্ণৌভী।

প্রশ্ন: ১১। কুরআনের কোন্ ইংরেজী অনুবাদ নির্ভরযোগ্য?
উত্তর: মার্মাডিউক পিকথল- আল্লামা আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী ও মাওলানা আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদীর তরজমা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করা হয়।

প্রশ্ন: ১২। কাব্যে কে প্রথম কুরআনের অনুবাদ করেন?
উত্তর: আগা খায়ের কযলিবাল দেহলভী।

প্রশ্ন: ১৩। বিশ্বের কতগুলো ভাষায় কুরআনের অনুবাদ হয়েছে?
উত্তর: প্রায় ১০৩টি ভাষায়।

প্রশ্ন: ১৪। উপমহাদেশে কে প্রথম ফার্সীতে কুরআনের অনুবাদ করেন?
উত্তর: শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রঃ) ১৭৫২।

প্রশ্ন: ১৫। উপমহাদেশে কে সর্বপ্রথম কুরআনের উর্দু অনুবাদ করেন?
উত্তর: হযরত মাওলানা শাহ রফীউদ্দীন মুহাদ্দিসে দেহলভী (১৭৭৬)।

প্রশ্ন: ১৬। জার্মান ভাষায় কে প্রথম কুরআনের অনুবাদ করেন?
উত্তর: মার্টিন লুথার।

প্রশ্ন: ১৭। পাকিস্তানের কোন না'তিয়া প্রসিদ্ধ কবি সম্প্রতি কুরআনের কাব্যানুবাদ করেছেন?
উত্তর: আবদুল আযীয খালেদ।

প্রশ্ন: ১৮। সিন্ধী ভাষায় প্রথম কে কুরআনের একটি কাব্যানুবাদ করেন?
উত্তর: মৌলভী আহমদ মাল্লাহ।

প্রশ্ন: ১৯। উপমহাদেশের কোন্ বাদশাহ কুরআনের হস্তলিপি করেছেন?
উত্তর: ১. সুলতান মাহমুদ গযনবীর প্রপৌত্র সুলতান ইব্রাহীম গযনবী, মৃত ৪৯২ হিঃ, ২. বাদশাহ জহীরউদ্দীন বাবর, ৩. সুলতান নাসিরউদ্দীন মাহমুদ ইবনে সুলতান ইলতামাশ, মৃত ৬৬৪ হিঃ ও ৪. সুলতান মুহিউদ্দীন আওরঙ্গযেব আলমগীর, মৃত ১১১৮ হিঃ।

প্রশ্ন: ২০। উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা হস্তলিপিকার কে?
উত্তর: পাকিস্তানের ফাতেমাতুল কোবরা বিনতে মুনশী মুহাম্মাদ উদ্দীন, মৃত ১৩৬৭ হি: করাচীতে।

প্রশ্ন: ২১। পাকিস্তানে কুরআনের নতুন-পুরনো কপি, অনুবাদ ও তাফসীরের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র কোন্টি?
উত্তর: বায়তুল কুরআন, লাহোর, এটি পাঞ্জাব পাবলিক লাইব্রেরীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

প্রশ্ন: ২২। কে সর্বপ্রথম কুরআন মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত করেন?
উত্তর: বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ 'হিংক্যাল ম্যান' ১৬৯৪ খ্রীষ্টাব্দে সর্বপ্রথম কুরআন মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত করেন।

প্রশ্ন: ২৩। কোন্ শহরে সর্বপ্রথম কুরআন মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত হয়?
উত্তর: 'হ্যামবুর্গ' শহরে। মতান্তরে, তারও পূর্বে 'আল আন্দাকিয়া' নামক স্থানে সর্বপ্রথম কুরআন মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত হয়।

প্রশ্ন: ২৪। এরপর কত সালে, কে কুরআন মুদ্রণ করেন?
উত্তর: প্রাচ্যবিদ মারাকী ১৬৯৮ সালে 'পাড়ু' নামক শহরে কুরআন মুদ্রণ করেন।

প্রশ্ন: ২৫। কার তত্ত্বাবধানে মুদ্রণ কাজ সমাপ্ত হয়?
উত্তর: খ্রীস্টানদের তত্ত্বাবধানে।

প্রশ্ন: ২৬। মুসলিম বিশ্বে এসব কপি সমাদৃত হয়নি কেন?
উত্তর: খ্রীস্টানদের চরম ইসলাম বিদ্বেষের কারণে।

প্রশ্ন: ২৭। মুসলমানদের মধ্যে কে, কত সালে কুরআন মুদ্রণ করেন?
উত্তর: মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম মাওলায়ে ওসমান (রাঃ) কুরআন মুদ্রণের গৌরব অর্জন করেন ১৭৮৭ খ্রীস্টাব্দে।

প্রশ্ন: ২৮। কোথায় এ মুদ্রণ কাজ সমাপ্ত হয়?
উত্তর: রাশিয়ার 'সেন্ট পিটার্স শহরে' ইসলামী ছাপাখানায় কুরআন মুদ্রিত হয়।

প্রশ্ন: ২৯। পাকিস্তানের সোনালী কুরআন মাজীদের ইতিবৃত্ত কি?
উত্তর: সবুজ রঙ্গের লায়লনের ওপর সোনার তার দিয়ে কুরআন লেখার প্রস্তাব প্রকল্পাকারে লাহোরের মালিক আতা মুহাম্মদ পেশ করেন। পাকিস্তানের তদানীন্তন মন্ত্রী আলহাজ্জ জহীর উদ্দীন লাল মিয়া (বাঙ্গালী) মরহুম প্রেসিডেন্ট আইউব খানের থেকে সরকারী মঞ্জুরী ও পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মাদ মূসা ৮ জানুয়ারী ১৯৬৮ সালে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক অবস্থায়ই মালিক আতা মুহাম্মাদ ও লালমিয়া উভয়েই ইন্তেকাল করেন। এ জন্যে প্রকল্পের কাজ থেমে যায়। অবশ্য, পরে আবার দ্রুত চালু হয়। হাফেজ মুহাম্মাদ আসলাম হস্তলিপির কাজ করতেন। প্রুফ রীডিং করতেন হাফেজ ক্বারী শাব্বীর আহমদ। এটি মোট ১২১৪ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত। এর ওজন হলো সাড়ে চার মণ। এটি ভিন্ন ভিন্ন পারা পারায়ও বিন্যস্ত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও অর্পিত হয়েছে লাহোরস্থ তাজ কোম্পানীর ওপর। কোম্পানীর প্রতিনিধি মুফতী খলীলুর রহমান।

প্রশ্ন: ৩০। উপমহাদেশে উর্দু ভাষায় প্রসিদ্ধ তাফসীর ও কুরআনের অনুবাদগুলো কি?
উত্তর: তাফসীর ও অনুবাদগুলো নিম্নরূপ:
১. মাও: আবদুল হক হাক্কানী দেহলভী - তাফসীরে হাক্কানী (ফতহুল মান্নান) - ১৯২৫
২. মাও: আশরাফ আলী থানভী (র:) - বায়ানুল কুরআন - ১৯৩১
৩. মাও: আবুল কালাম আযাদ - তরজমানুল কুরআন - ১৯৬২
৪. মাও: আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী - তাফসীরে মাজেদী
৫. মাও: হামীদ উদ্দীন ফারাহী - মজমুয়া তাফসীরে ফারাহী - ১৯৫১
৬. মাও: সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী - তাফহীমুল কুরআন
৭. মাও: আহমদ রেজা খান ব্রেলভী - কানজুল ঈমান ফী - ১৩০ হি:
৮. মাও: আহমদ সাঈদ - তরজমাতুল কুরআন মুসাম্মা বিহি কাশফুর রহমান - ১৯৫৪
৯. মাও: সানাউল্লাহ অমৃতসরী - তাফসীরে সানায়ী - ১৩১৩ হিঃ
১০. মাও: মাহমুদ আলী লাহোরী - তরজমা ও মহসায়ী কুরআনে মাজীদ - ১৯৩৭
১১. স্যার সৈয়দ আহমদ খাঁ - তাফসীরুল কুরআন - ১২৯৭-১৩০৯ হি:
১২. মাও: শাব্বীর আহমদ ওসমানী - ফাওয়ায়েদে মাওজানুল কুরআন - ১৩৫৭ হি:
১৩. মাও: আবদুল বারী ফেরংগী মহল্লী - আলগফরু রহমান - ১২৪৩ হিঃ
১৪. ফতহে মুহাম্মদ জালন্ধরী - ফতহুল হামীদ - ১৯০০
১৫. মৌলভী ফীরুজদ্দীন (ফীকুজ সন্স) - তাসহীলুল কুরআন - ১৩৬২ হি:
১৬. শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী - তরজমায়ে কুরআন মজীদ ফাওয়ায়েদে মোজেহুল কুরআন - ১৩৪৪ হি:
১৭. ডিপুটি নজীর আহমদ - তরজমা কুরআনে মাজীদ মায়া গারায়েবুল কুরআন - ১৩২২ হি:
১৮. মাওলা ইহতিশামুল হক থানভী - তরজমা ওয়া তাফসীর-

প্রশ্ন : ৩১। আফ্রিকান ভাষায় কুরআনের অনুবাদ কে করেছেন?
উত্তর : শেখ আবদুল্লাহ সালেহ ফারসী।

প্রশ্ন: ৩২। মাওলানা মওদূদীর তাফহীমুল কুরআনের সিন্ধি অনুবাদক কে?
উত্তর: মাওলানা জান মোহাম্মদ ভাটু।

প্রশ্ন: ৩৩। সিন্ধি ভাষায় কুরআনের তাফসীর "মেফতাহে রাশেদীয়া”-এর রচয়িতা কে?
উত্তর: মাওলানা রশীদ উদ্দীন শাহ পীরের বিশেষ মুরীদ কাজী ফাতহে মুহাম্মদ নিজামানী।

প্রশ্ন: ৩৪। সিন্ধি ভাষায় কুরআনের তাফসীরে কাওসারের রচয়িতা কে?
উত্তর: পীর মুরদান আলী শাহ, পীর পাগারো। এ তাফসীর ৫ খন্ডবিশিষ্ট।

প্রশ্ন: ৩৫। সিন্ধি ভাষায় কুরআনের সম্পূর্ণ অনুবাদ কে করেছেন?
উত্তর: মূল তরজমা করেছেন মাওলানা তাজ মাহমূদ আমরুহী এবং সিন্ধি অনুবাদ করেছেন আখৃন্দ আযীযুল্লাহ মৃতালভী।

প্রশ্ন: ৩৬। পশতু ভাষার তাফসীর কাশফুল কুরআনের রচয়িতা কে?
উত্তর: হাফেজ মুহাম্মদ ইদরীস।

প্রশ্ন: ৩৭। পশতু ভাষায় কুরআনের প্রথম তাফসীর কে লিখেছেন?
উত্তর: মাওলানা মুরাদ আলী ওরফে মাওলানা শেখ আবদুর রহমান আস্সাইলানী সাকিন কামাহ, জালালাবাদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00