📄 কুরআনুল করীম এবং হুযূর (সাঃ)
প্রশ্ন: ১। কুরআনে কতবার হুযূর (সাঃ)-কে বলে সম্বোধন করা হয়েছে?
উত্তর: এগারো বার।
প্রশ্ন: ২। হুযুর (সাঃ)-এর পবিত্র নাম কুরআনে কতবার এসেছে?
উত্তর: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াস সাল্লাম চারবার এসেছে। আহমাদ (সাঃ) এসেছে একবার।
প্রশ্ন: ৩। হুযুর (সাঃ)-কে আল্লাহ্ তা'আলা ভালোবেসে কোন্ উপনামে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: ১. ইয়াসীন, ২. ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাচ্ছির ও ৩. ইয়া আইয়্যুহাল মুয্যাম্মিল।
প্রশ্ন: ৪। হুযুর (সাঃ)-এর জন্য হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এবং ইসমাঈল কাবা শরীফের নির্মাণের সময় কি দোয়া করেছিলেন?
উত্তর: "ওগো প্রভু! আমাদের উভয়কেই তোমার অনুগত বানিয়ে দাও। আমাদের বংশ থেকে এমন একটি জাতি উত্থিত কর যারা তোমার অনুগত হবে। আমাদেরকে তুমি তোমার ইবাদাতের পন্থা বলে দাও এবং আমাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা কর। তুমি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী,। হে খোদা! এদের প্রতি এদের জাতির মধ্য থেকেই এমন একজন রাসূল প্রেরণ কর যিনি তাদেরকে তোমার আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনাবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের বাস্তব জীবনকে পরিশুদ্ধ ও সুষ্ঠুরূপে গড়বেন। তুমি নিশ্চয়ই বড় শক্তিমান ও বিজ্ঞ।” (বাকারা: ১২৭-২৯)
প্রশ্ন: ৫। আল্লাহ্ তা'আলা হুযূর (সাঃ)-কে প্রেরণের কি সংজ্ঞা দিয়েছেন?
উত্তর: "আমি তোমাদের প্রতি স্বয়ং তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি, যে তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শোনায়, তোমাদের জীবন পরিশুদ্ধ ও উৎকর্ষিত করে তোমাদেরকে কিতাব ও হেকমতের শিক্ষা দেয় এবং যে-সব কথা তোমাদের অজ্ঞাত, তা তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়।" (সূরা বাকারা: ১৫১)
প্রশ্ন: ৬। হুযূর (সাঃ)-এর 'আহমদ' নামটি কুরআনের কোন্ পারায় এবং কোন্ সূরায় এসেছে?
উত্তর : ২৮-তম পারায় ৬ নং আয়াত। সূরা সাফফে এসেছে।
প্রশ্ন : ৭। কুরআনে হুযূর (সাঃ)-এর কথা যে-সব আয়াতে এসেছে তার অনুবাদ ও সূত্র কি?
উত্তর : কুরআনের ১৭ জায়গায় হুযুর (সাঃ)-এর কথা ঘোষিত হয়েছে। যেমন-
১. "তিনি সেই আল্লাহ যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন, যেন তাকে সমগ্র দ্বীনের উপর বিজয়ী করে দিতে পারেন। আর এ মহাসত্য সম্পর্কে আল্লাহ্ সাক্ষ্যই যথেষ্ট। মুহাম্মদ আল্লাহ্র রাসূল।" (সূরা ফাত্হ: আয়াত ২৮)
২. "মূলত আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদের উপর ইহসান করেছেন, তাদের মধ্য থেকেই এমন একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন যিনি মানুষকে আল্লাহ্র আয়াতসমূহ পড়ে শোনান এবং লোকদেরকে (ধারণা এবং রীতি-রেওয়াজ) পরিচ্ছন্ন করেন আর তাদেরকে কিতাব এবং বোঝার ন্যায় কথা বলতে থাকেন।” (আলু ইমরান)
৩. "তিনি নিজের মনের ইচ্ছায় বলেন না। এটা তো একটা ওহী যা তার ওপর নাযিল করা হয়।" (আন নাজম: ৩-৪)
৪. (হে লোকসকল!) তোমাদের কাছে এমন রাসূল এসেছেন, যিনি তোমাদের (পুরুষদের) মধ্য থেকেই। যিনি তোমাদের দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত হন এবং যিনি তোমাদের হিত ও কল্যাণকামী। (এ অবস্থা তো সবার জন্যই) অতঃপর (বিশেষজ্ঞ) ঈমানদারদের জন্য অত্যন্ত সুহৃদ এবং দয়াবান।" (আহযাব)
৫. "নিশ্চয়ই নবী তো ঈমানদার লোকদের পক্ষে তাদের নিজেদের চাইতেও অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। (অর্থাৎ, মুসলমানদের ওপর স্বীয় জীবন অপেক্ষাও তাঁর হক বেশি এবং তাঁর অনুগত হওয়া এবং শ্রদ্ধা করা ওয়াজিব)।" (আহযাব : ৬)
৬. "তোমাদের জন্য আল্লার রাসূলের জীবনে সর্বোত্তম নমুনা বিদ্যমান ছিলো তা সব সময় থাকবে।" (আহযাব : ২১)
৭. "রাসূল তোমাদেরকে যা কিছু দান করেন, তা তোমরা গ্রহণ কর। আর যে জিনিস থেকে তিনি তোমাদেরকে বিরত রাখেন তা হতে তোমরা বিরত হয়ে যাও।" (সূরা হাশর: ৭)
৮. “যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো, সে আল্লাহ্ আনুগত্য করলো"। (সূরা আন্ নিসা: ৮)
৯. "যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে বড় সাফল্য লাভ করলো।" (আহযাব: ৭১)
১০. আপনি বলুন (হে রাসূল!) তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তো তোমরা আমার অনুসরণ করো, তবেই আল্লাহ্ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের সমুদয় পাপকে স্খলন করে দেবেন। আল্লাহ্ তা'আলা মহান ক্ষমাশীল এবং মহাদানশীল।" (আলু ইমরান: ৪১)
১১. "হে নবী! আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীস্বরূপ, (মুমিনদের)-কে সুসংবাদদাতা এবং (পাপীদেরকে) ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তার দিকে আহবানকারী ও উজ্জ্বল আলোরূপে।” (আহযাব: ৪৫)
১২. "আর আমরা আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।" (আম্বিয়া: ১০৭)
১৩. "নিঃসন্দেহে আপনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী।" (নূনঃ ৪)
১৪. "আর শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে এত দেবেন যে, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।" (আদদোহা: ৫)
১৫. "আর আপনার জন্যই আপনার উল্লেখ ধ্বনি সু-উচ্চ করে দিয়েছি।" (আলাম নাশরাহ: ৪)
১৬. "আল্লাহ্ আপনার প্রতি কিতাব ও বুদ্ধি নাযিল করেছেন এবং আপনাকে এমন জ্ঞান জানিয়ে দিয়েছেন যা আপনার জানা ছিল না। বস্তুত আপনার প্রতি আল্লাহ্ অনুগ্রহ বিরাট।" (নিসা: ১১৩)
১৭. "আল্লাহ্ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠান। হে ঈমানদার সকল! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠাও।" (আহযাব: ৫৬)
📄 আল-কুরআন-কাতেবীনে ওহী, কুরআনে হাফেজ তাফসীরকার এবং তরজমা ও তাফসীর
প্রশ্ন: ১। কাতেবানে ওহী বা ওহী লিখকদের নামগুলো কি?
উত্তর: নিম্নোক্ত সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন কাতেবানে ওহী:
১. হযরত আবূ বকর সিদ্দীক,
২. হযরত ওসমান ইবনে আফফান,
৩. হযরত আলী,
৪. হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত,
৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ,
৬. হযরত যোবায়ের ইবনুল আওয়াম,
৭. হযরত খালেদ ইবনে সাঈদ,
৮. হযরত হানজালা ইবনে রবী,
৯. হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ
১০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা
১১. হযরত মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম,
১২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবী সালুল,
১৩. হযরত মুগীরা ইবনে শো'বা,
১৪. হযরত আমর ইবনুল আস,
১৫. হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ান,
১৬. হযরত জুহম ইবনে আবীস্ সলত,
১৭. হযরত মুয়াইকাব ইবনে ফাতিমা,
১৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম আযযাহবী,
১৯. হযরত সাবিত ইবনে কয়েস,
২০. হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান,
২১. হযরত আমের ইবনে ফুহাইরা,
২২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবী সারাহ,
২৩. হযরত সাঈদ ইবনে যোবায়ের ও
২৪. হযরত রবান ইবনে সাঈদ (রাঃ)।
প্রশ্ন: ২। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে সে-সব হাফেজ ও কারীর নাম কি- যাঁদের সনদ সমগ্র বিশ্বে বরিত?
উত্তর: হযরত ওসমান, হযরত আলী, হযরত উবাই ইবনে কা'ব, হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ, হযরত আবুদ দারদা ও হযরত আবূ মূসা আল আশ'য়ারী (রাঃ)।
প্রশ্ন: ৩। মহিলা সাহাবীর মধ্যে কার কার পুরো কুরআন মুখস্থ ছিলো?
উত্তর: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ), উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রাঃ), উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মু সালমা (রাঃ)।
প্রশ্ন: ৪। কুরআনের প্রথমদিকের তাফসীরকার কারা ছিলেন?
উত্তর: হুযূর (সাঃ), হযরত আবু বকর (রা), হযরত ওমর ফারুক (রা), হযরত আলী (রা), হযরত ওসমান (রা), হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা), হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা), হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা), হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা), হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের (রা), হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রা) ও উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)।
প্রশ্ন: ৫। হুযূর (সাঃ)-এর ইহধাম ত্যাগের সময় কতজন সাহাবা হাফেজ ছিলেন?
উত্তর: ২২ জন।
প্রশ্ন: ৬। ইলমে তাফসীরের জন্য কি কি জ্ঞান অত্যাবশ্যক?
উত্তর: মুতাশাবিহাত আয়াতসমূহের জ্ঞান, অবতীর্ণ হওয়ার কারণ, কুরআনের নামসমূহ ও সূরার নামগুলো, জমীরসমূহ, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, নাসিখ-মানসূখ, কুরআনের উপমা-উদাহরণসমূহ, ইলমুল কুরআন ও আরজুল কুরআন ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭। কোন্ গ্রন্থের অনুবাদ বিশ্বের সব ভাষায় পাওয়া যায়?
উত্তর: কুরআনুল কারীম।
প্রশ্ন: ৮। কুরআনকে একত্রিত করে গ্রন্থাবদ্ধ করার ধারণা সর্বাগ্রে কার এসেছিল?
উত্তর: হযরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর।
প্রশ্ন: ৯। হযরত ওমর ফারুক (রা)-এর কুরআন একত্রিত করার ধারণা কেন এবং কবে হয়েছিল?
উত্তর: হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মুসাইলামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধে সাতশ' হাফেজে কুরআন অংশগ্রহণ করেছিলেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাফেজই শাহাদাতবরণ করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)-এর মনে প্রশ্ন জাগ্রত হয় যে, এমনিভাবে হাফেজে কুরমান শহীদ হতে থাকলে কুরআন মুখস্থ অবস্থায় রাখা দুস্কর হবে। তাই, কুরআনকে গ্রন্থাবদ্ধ করে পরবর্তী জেনারেশন পর্যন্ত পৌঁছানো অত্যাবশ্যক।
প্রশ্ন: ১০। হযরত আবূ বকর (রাঃ) কার পরামর্শে কুরআন একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
উত্তর: হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)-এর পরামর্শে।
প্রশ্ন: ১১। হযরত আবূ বকর (রাঃ) কুরআন সংকলনে কোন্ পন্থা অবলম্বন করেছিলেন?
উত্তর: প্রথমদিকে তিনি এ কাজে রাজীই হচ্ছিলেন না। কেননা, স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) তাঁর সময় এমনটি করেননি। তবে, হযরত ওমর ফারূক (রাঃ)-এর বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং পরামর্শের পর তিনি এ কাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করেন। পরে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিতের ওপর এ দায়িত্ব অপর্ণ করা হয় যে, তিনি বিভিন্ন লোকের থেকে হাড্ডি, ছাল, কাপড়, চামড়া, পাথর, কাঠ ইত্যাকার বস্তুতে লেখা কুরআনের আয়াতগুলো একত্রিত করবেন। বিভিন্ন সাহাবী শেখার জন্য কুরআনের আয়াত লিখে রেখেছিলেন। হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) এসব আয়াত একত্রিত করেন। হাফেজে কুরআনদেরকে ডেকে তাঁদের সাথে মিলিয়ে নেন এবং এর মধ্যকার সাযুজ্য দেখে অতঃপর নির্ভরযোগ্য সাহাবায়ে কিরাম থেকে এ ব্যাপারে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করেন। এরপর আয়াতগুলোকে সেরূপে গ্রন্থাবদ্ধ করেন ঠিক যেভাবে স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) বলেছিলেন। যেভাবে স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) রমযানে কুরআন শোনাতেন। এভাবে গ্রন্থাবদ্ধ হয়ে গেলে বাদবাকি সব লেখ্য বস্তুকে ধ্বংস করে ফেলা হয়। তৈরিকৃত সংকলন হযরত আবূ বকর (রাঃ) উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কাছে জমা রাখেন।
প্রশ্ন: ১২। কুরআন সর্বপ্রথম কার নির্দেশে লিখিত আকারে একত্রিত করা হয়?
উত্তর: হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর নির্দেশে।
প্রশ্ন: ১৩। কুরআনকে কুরাইশদের কিরাআতে একত্রিত করেছেন কে? তাঁকে কে উৎসাহী করেছিলেন?
উত্তর: হযরত হুযাইফা (রাঃ) হযরত ওসমান (রাঃ)-কে তাঁর খেলাফতকালে বলেন যে, আরব-অনারবদের বিভিন্ন দেশে ইসলামী খেলাফতভুক্ত হওয়ায় মানুষ যার যার ভাষায় কুরআন তিলাওয়াত করছে। এর দরুন কোন কোন জায়গায় অর্থ বিকৃত হওয়ার সমূহ আশংকা দেখা দিয়েছে। এ জন্যে আপনি কুরআনকে এক কিরাআতে একত্রিত করুন।
প্রশ্ন: ১৪। হযরত ওসমান (রাঃ) কুরআনকে এক কিরাআতভুক্ত করার জন্য কি পন্থা অবলম্বন করেন?
উত্তর: তিনি সর্বপ্রথম উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কাছে রক্ষিত কুরআনের সংকলনের আরো ন'টি কপি নকল করান। এগুলোকে তিনি ইসলামী দেশগুলোর কেন্দ্রীয় শহরে প্রেরণ করেন। প্রতিটি সংকলন গ্রন্থের সাথে একজন করে কারীও থাকতেন। যিনি বিশুদ্ধ আরবী তথা কুরাইশ ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট শহরে গিয়ে মানুষকে কিরাআত শিক্ষা দিতেন। তারপর এ সিলসিলা অদ্যাবধি চলে আসছে লিখিত এবং মৌখিকভাবে।
প্রশ্ন: ১৫। হযরত ওসমান (রাঃ) কুরআনের যে সংকলন গ্রন্থ তৈরি করিয়ে ছিলেন, তন্মধ্যে এখন কতটি এবং কোথায় সংরক্ষিত আছে?
উত্তর: মাত্র দু'টি নোসখা সংরক্ষিত আছে। একটি তাসখন্দে, অপরটি ইস্তাম্বুলে।
প্রশ্ন: ১৬। হযরত ওসমান (রাঃ) কোন্ দিক থেকে জামেউল কুরআন?
উত্তর: তিনি অনারব ও আরবদের বিভিন্ন ভাষার পরিবর্তে কুরআন কুরাইশদের ভাষায় পড়ার এবং লেখার কাজটি অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করে সম্পন্ন করেন। অনুলিপি তৈরি করে সব দেশের কেন্দ্রীয় শহরগুলোতে প্রেরণ করেন। এটি হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে তৈরি হয়েছিল। পরে উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিলো। এছাড়া বাকি সব নোসখাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়, যাতে করে পরবর্তীতে মতানৈক্য না ঘটতে পারে। আজ কুরআনের যে সংকলন আমাদের কাছে রয়েছে, এটিও সেই ওসমানী সংস্করণ। অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বব্যাপী এ ভাষায় কুরআন পঠিত ও লিখিত হয়ে আসছে। হুযুর (সাঃ)-এর সময়ে এমনটিই ছিলো।
প্রশ্ন: ১৭। হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে কতজন সাহাবী কুরআনকে গ্রন্থাবদ্ধ অবস্থায় একত্রিত করে রেখেছিলেন?
উত্তর: ৭৫ জন সাহাবী।
প্রশ্ন: ১৮। খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কালে কবে এবং কোন্ যুদ্ধে সবচাইতে বেশি হাফেজে কুরআন শাহাদাতবরণ করেছিলেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে মুসাইলামাতুল কায্যাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধে সবচাইতে বেশি হাফেজে কুরআন শহীদ হন।
প্রশ্ন: ১৯। তাবেয়ীনদের যুগের প্রসিদ্ধ তাফসীরকার কারা?
উত্তর: প্রসিদ্ধ তাফসীরকার হচ্ছেন: ১. আলকামা, ২. আমর ইবনে শারজীল, ৩. মাসরূক, ৪. আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ, ৫. সাঈদ ইবনে জোবায়ের, ৬. ইব্রাহীম ইবনে নাখয়ী, ৭. শাবী, মুজাহিদ, ৮. ইকরামা, হাসান বসরী, ৯. কাতাদা, ১০. আ'মাশ, ১১. আবুল আ'লিয়া, ১২. মুহাম্মদ ইবনে কা'ব আল-কারজী, ১৩. আতা ইবনে আবী রাবাহ।
প্রশ্ন: ২০। জ্বিনরা কুরআনের ক'টি আয়াত শোনার পর অন্যদেরকে কি বলেছিলো?
উত্তর: "আমরা বিস্ময়কর ও অনন্যসাধারণ কালাম (কুরআন) শুনেছি, যা কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে। অতঃপর আমরা তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি।" (জ্বিন: ২)
প্রশ্ন: ২১। কুরআনের প্রখ্যাত ও বৃহৎ তাফসীরগুলোর নাম কি?
উত্তর: তাফসীরগুলো নিম্নরূপ: ১. তাফসীরে আল্লামা ইবনে জারীর আততাবারী (জামেউল বায়ান, ৩০ খন্ড), ২. তাফসীরে ইবনুল জাওযী-২৭ খন্ড, ৩. তাফসীরে আল ইসবাহানী-৩০ খন্ড, ৪. তাফসীরে ইবনুল আইকাব-৫০ খন্ডের ওপর, ৫. তাফসীরে আল্লামা ওয়াকিদা (মিসরের প্রসিদ্ধ আলেম) ১২০ খন্ড, ৬. তাফসীরে আল-কাযবীনী ৩১০ খন্ড, ৭. তাফসীরে হাদাইকু জাতিল বাহজাহ-৫০০ খন্ড ইত্যাদি।
📄 কুরআন এবং আল্লাহর দরবারে বনী আদমের উপস্থিতি
প্রশ্ন: ১। কিয়ামতের দিন মানুষের অবস্থা কি হবে?
উত্তর: “সে দিন মানুষ নিজের ভাই, নিজের মাতা, নিজের পিতা এবং স্ত্রী ও সন্তানাদি হতে পালাবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর সেদিন এমন সময় এসে পড়বে যে, নিজের ব্যতীত অন্য কারো প্রতি লক্ষ্য রাখার মত অবস্থা থাকবে না!" (আবাসা: ৩৪-৩৭)
প্রশ্ন: ২। হাশরের দিন পাপীরা কিভাবে পরস্পরে ঝগড়া করবে?
উত্তর: "আর এ লোকরা যখন একত্রিত হয়ে আল্লাহ্র সামনে উন্মোচিত হবে, তখন এদের মধ্যে যারা পৃথিবীতে দুর্বল ছিলো তারা যারা বড় লোক বনে ছিলে। তাদেরকে বলবে, দুনিয়ায় আমরা তোমাদের অধীনে ছিলাম, এখন তোমরা আল্লাহর আযাব হতে আমাদেরকে বাঁচাবার জন্যও কিছু করতে পারো? তারা জবাবে বলবে, আল্লাহ্ যদি আমাদেরকে মুক্তির কোন পথ দেখাতেন তা হলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরও দেখাতাম। এখন আহাজারি করি কি ধৈর্য অবলম্বন করি উভয়ই আমাদের জন্য সমান আমাদের রক্ষা ও মুক্তি লাভের কোন উপায় নেই। আর যখন চূড়ান্ত ফয়সালা করে দেয়া হবে, তখন শয়তান বলবে, এতে কোনই সন্দেহ নেই যে, তোমাদের প্রতি আল্লাহ্ যে-সব ওয়াদা করেছিলেন তা সবই সত্য ছিলো। আর আমি যত ওয়াদাই করেছিলাম তন্মধ্যে কোন একটিও পুরো করিনি। তোমাদের ওপর আমার তো কোন জোর ছিলো না। আমি এছাড়া আর তো কিছু করিনি- শুধু এ-ই করেছি যে, তোমাদেরকে আমার পথে চলবার জন্য আহবান করেছি। আর তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছো। এখন আমাকে দোষ দিওনা-তিরস্কার করো না, নিজেকেই নিজে তিরস্কৃত কর। এখানে না আমি তোমাদের ফরিয়াদ শুনতে পারি, না তোমরা আমার ফরিয়াদ শুনতে পার। ইতোপূর্বে তোমরা যে আমাকে খোদায়ীর ব্যাপারে শরীক বানিয়েছিলে, আমি তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। এরূপ জালেমদের জন্য তো কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি নিশ্চিত।" (ইব্রাহীম: ২১-২২)
প্রশ্ন: ৩। কিয়ামতের দিন মানুষ তার বন্ধুদের ওপর কিভাবে অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে?
উত্তর: "আর সেদিন জালিম মানুষ স্বীয় হাত চিবুতে থাকবে এবং বলতে থাকবে আহা যদি আমি রাসূলের পথে চলতাম। হায় রে আমার দুর্ভাগ্য, যদি আমি অমুক ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম, তার প্রলোভনে আমি আমার কাছে যে নসীহত এসেছে, তা গ্রহণ করিনি। শয়তান মানুষের জন্য অত্যন্ত গাদ্দাররূপে বেরিয়েছে"।
প্রশ্ন: ৪। কিয়ামতের দিন কাফির স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ালে প্রভু তাকে কি জিজ্ঞেস করবেন?
উত্তর: "হায়, তোমরা যদি সেই দৃশ্য দেখতে পার, যখন এদেরকে তাদের খোদার সম্মুখে দাঁড় করানো হবে তখন রব তাদের জিজ্ঞেস করবেন: এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, হে আমাদের প্রভু! এটা প্রকৃত সত্য। তখন প্রভু বলবেন, তা হলে এখন তোমরা প্রকৃত সত্যকে অস্বীকার ও অমান্য করার ফলস্বরূপ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর।" (আল-আন'আম: ৩০)
প্রশ্ন: ৫। কিয়ামতের দিন বেহেশতী এবং দোযখীদের প্রস্থানের দৃশ্য কিরূপ হবে?
উত্তর: "সে দিন অবশ্যই আসবে যখন মুত্তাকী লোকদেরকে আমরা মেহমানদের মত রহমানের দরবারে উপস্থিত করবো। আর পাপী অপরাধী লোকদেরকে পিপাসু জানোয়ারের মতো জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবো।" (মারইয়াম: ৮৪-৮৫)
প্রশ্ন: ৬। কিয়ামতের দিন সফল ব্যক্তি কে হবে?
উত্তর: "অবশেষে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই মরতে হবে এবং তোমরা সকলে নিজ নিজ প্রতিফল পুরোপুরিভাবে কিয়ামতের দিন পাবে। সফল হবে মূলত সেই ব্যক্তি যে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে এবং যাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে।" (আলু ইমরান: ১৮৫)
প্রশ্ন: ৭। জাহান্নামে প্রবেশকারীরা পরস্পর কিভাবে ঝগড়া করবে?
উত্তর: "আল্লাহ্ বলবেন, যাও তোমরাও সে জাহান্নামে চলে যাও যেখানে তোমাদের পূর্ববর্তী জ্বিন ও মানুষের দল গেছে। প্রত্যেক লোক যখন জাহান্নামে দাখিল হবে তখন নিজেদের পূর্বগামী লোকদের ওপর লা'নৎ করতে করতে প্রবেশ করবে। এভাবে সব লোকই যখন সেখানে একত্রিত হবে, তখন প্রত্যেক পরবর্তী দল তার পূর্ববর্তী দল সম্পর্কে বলবে: ওগো প্রভু! এ লোকরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। কাজেই এদেরকে দ্বিগুণ আযাব দিন। উত্তরে বলা হবে: প্রত্যেকেরই জন্য দ্বিগুণ আযাব রয়েছে; কিন্তু তোমরা জান না আর প্রথম দল অপর দলকে লক্ষ্য করে বলবে যে, আমরা যদি দোষী হয়ে থাকি তবে তোমরা আমাদের অপেক্ষা কোন্ দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলে? এখন নিজেদেরই উপার্জনের বিনিময়ে আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর।" (আল-আ'রাফ: ৩৮-৩৯)
প্রশ্ন: ৮। হাশরের দিন পুণ্যবানদেরকে কোন জিনিসের সুসংবাদ দেয়া হবে?
উত্তর: "সে দিন যখন তোমরা মু'মিন পুরুষ ও স্ত্রী লোকদেরকে দেখবে যে, তাদের সামনে সামনে এবং তাদের ডানদিকে দৌড়াতে থাকবে। (তাদেরকে বলা হবে যে,) আজ সুসংবাদ রয়েছে তোমাদের জন্য। জান্নাতসমূহ হবে, যে-সবের নিম্নদেশে ঝরণাধারাসমূহ প্রবহমান হয়ে থাকবে যাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই হলো বড় সাফল্য।" (আল হাদীদ: ১২)
প্রশ্ন: ৯। হাশরের দিন মানুষ কত দলে বিভক্ত হয়ে আল্লাহ্ সমীপে উপস্থিত হবে এবং তারা কোন্ কোন্ দল?
উত্তর: "তোমার তখন তিনভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। ডান বাহুর লোক; ডান বাহুর লোকদের সৌভাগ্যের কথা আর কি বলা যায়। এবং বাম বাহুর লোক; বাম বাহুর লোকদের (দুর্ভাগ্য-দুর্দশার) আর সীমা-পরিসীমা কি? আর অগ্রবর্তী লোকেরা তো অগ্রবর্তীই? তারাই তো সান্নিধ্যশালী লোক; নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে অবস্থান ও বসবাস করবে। আগেরকালের লোকদের মধ্যে বেশিসংখ্যক হবে, আর পেছনের লোকদের মধ্যে কমসংখ্যক। মুক্তা খচিত আসনসমূহের ওপর হেলান দিয়ে মুখোমুখি হয়ে আসীন হবে। তাদের মজলিসসমূহে চিরন্তন ছেলেরা প্রবহমান ঝর্ণা শুরায় ভরা পানিপাত্র ও হাতলধারী শুরাভাও অচফেরা নিয়ে দৌড়া-দৌড়ি করতে থাকবে। এটা পান করায় তাদের মাথা ঘুরবে না, তাদের বিবেক-বুদ্ধিও লোপ পাবে না, আর এরা তাদের সম্মুখে রকম-বেরকমের সুস্বাদু ফল পেশ করবে, যেন যেটা পছন্দ সেটাই তুলে নিতে পারে। এছাড়া পাখির গোশতও সামনে রাখবে, যেটির গোশত ইচ্ছে হবে নিতে পারবে। আর তাদের জন্য সুন্দর চক্ষুধারী হুরগণও থাকবে। তারা সুশ্রী-সুন্দরী হবে, লুকিয়ে রাখা মুক্তার মতো। এসব কিছুই সে-সব আমলের শুভ প্রতিফলস্বরূপ তারা পাবে, যা তারা দুনিয়ার জীবনে করেছিলো। সেখানে তারা কোন বাজে কথা ও পাপের বুলি শুনতে পাবে না। যে কথা-বার্তাই হবে, তা ঠিক ঠিক ও যথাযথ হবে। আর ডান বাহুর লোকেরা; ডান বাহুর লোকদের (সৌভাগ্যের) কথা আর কি বলা যায়? তারা কাঁটাহীন ফুল বৃক্ষরাজি, থরে থরে সাজানো কথা, বিস্তীর্ণ অঞ্চলব্যাপী ছাড়াও সর্বদা প্রবহমান পানি, শেষহীন অবারিত ও বিপুল পরিমাণে পাওয়া যাবে এমন ফল এবং উচ্চ আসনসমূহে অবস্থিত হবে। তাদের স্ত্রীগণকে আমরা বিশেষভাবে সম্পূর্ণ নতুন করে সৃষ্টি করবো, এবং তাদেরকে কুমারী বানিয়ে দেবো। নিজেদের স্বামীদের প্রতি আসক্ত এবং বয়সে সমকক্ষ, এসবকিছুই ডানবাহুর লোকদের জন্য। তারা আগের কালের লোকদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হবে আর পেছনের কালের লোকদের মধ্যে হতেও বহু।
আর বাম হাতের লোকেরা! বাম হাতের লোকদের চরম (দুর্ভাগ্যের) কথা আর কি জিজ্ঞেস করবে। তারা 'লু' হাওয়ার প্রবাহ ও টগবগ করা ফুটন্ত পানি এবং কালো কালো ধোঁয়ার ছায়ার অধীন থাকবে। তা না ঠাণ্ডা শীতল হবে, না শান্তিপ্রদ। এরা এমন লোক যে, এ পরিণতি পর্যন্ত পৌছার পূর্বে তারা খুবই স্বচ্ছল ও স্বচ্ছন্দ ছিল। আর বড় বড় গুনাহ্ বারবার পৌনপুনিকভাবে করতে থাকতো। তারা বলতো : আমরা যখন মরে মাটি হয়ে যাবো এবং অস্থি পিঞ্জরটা শুধু পড়ে থাকবে তখন কি আমাদেরকে তুলে দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে? আর আমাদের সেই বাপ-দাদাদের কি উঠানো হবে, যারা পূর্বেই চলে গেছে। হে নবী! এ লোকদেরকে বলুন : নিঃসন্দেহে আগের ও পরের সকলকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করা হবে, তার সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা হলে হে ভ্রষ্ট-বিভ্রান্ত ও অমান্য-অবিশ্বাসকারী লোকেরা, তোমরা যক্কুম বৃক্ষের খাদ্য অবশ্যই খাবে। তার দ্বারাই তোমরা পেট ভর্তি করবে। আর উপর থেকে টগবগ করা ফুটন্ত পানি পিপাসাকাতর উষ্ট্রের ন্যায় পান করবে। "প্রতিফল দানের দিনে।" এটাই হবে সেই বাম বাহুর লোকদের আতিথ্যের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রী। (ওয়াকিয়া : ৭-৫৫)
📄 কুরআনুল কারীম এবং কিয়ামতের দিন দু’ধরনের চেহারা
প্রশ্ন: ১। কিয়ামতের দিন মানুষের অবয়বের অবস্থা কিরূপ হবে?
উত্তর:
১. "অপরাধী লোকেরা সেখানে নিজ নিজ চেহারা দ্বারাই পরিচিত হয়ে যাবে এবং তাদেরকে কপালের চুল ও পা ধরে হেঁচড়িয়ে টেনে নেয়া হবে।" (আব্রাহমান: ৪১)
২. "সেদিন কিছু কিছু চেহারা ঝকমক করতে থাকবে, হাসি-খুশি ভরা ও সন্তুষ্ট স্বচ্ছন্দ হবে। আবার কতিপয় মুখমন্ডল ধূলিমলিন হবে, অন্ধকার সমাচ্ছন্ন হবে। আর এরাই হলো কাফের ও পাপী লোক।" (সূরা আবাসা: ৩৬-৪২)
৩. "সে দিন কিছুসংখ্যক মুখাবয়ব উজ্জ্বল সুস্মিত হবে, নিজেদের প্রভুর দিকে দৃষ্টিমান হবে। আর কিছুসংখ্যক মুখাবয়ব উদাস-ম্লান হবে। মনে করতে থাকবে যে, তাদের কোমর চূর্ণকারী আচরণ করা হবে।" (কিয়ামা: ২২-২৫)
৪. "যারা ভালো কাজের নীতি গ্রহণ করেছে, তারা ভালো ফল পাবে, অধিক অনুগ্রহও। কলংক, কালিমা এবং লাঞ্ছনা তাদের মুখমন্ডলকে মলিন করবে না। তারাই জান্নাত লাভের অধিকারী। সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে। আর যারা মন্দ কাজ করেছে, তারা তাদের পাপ অনুপাতেই প্রতিফল পাবে। লাঞ্ছনা তাদের ললাট-লিখন হয়ে থাকবে। আল্লাহ্ এ আযাব থেকে তাদের রক্ষক কেউ নেই। তাদের মুখমন্ডল এমন অন্ধকার সমাচ্ছন্ন হয়ে থাকবে যেমন রাতের কালো পর্দা তাদের ওপর পড়ে আছে। তারাই দোযখে যাওয়ার যোগ্য, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।" (সূরা ইউনুস: ২৬-২৭)