📄 কুরআনের অলৌকিকত্ব
প্রশ্ন: ১। আসমানী কিতাবের মধ্যে কোন্ কিতাব অদ্যাবধি সব দিক থেকে সংরক্ষিত আছে এবং তার মধ্যে কোন ধরনের তাহরীফ বা বিকৃতি হতে পারেনি?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ২। কুরআন পৃথিবীর বুকে মানুষের কি মর্যাদা নির্ণয় করেছে?
উত্তর: কুরআনের ভাষ্য হচ্ছে: মানুষ দুনিয়াতে আল্লাহর প্রতিনিধি। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রথম মানুষ সৃষ্টির সময় ফিরিশতাদের মাঝে ঘোষণা দিয়েছিলেন: إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً (بقرة : (۳)
প্রশ্ন: ৩। কুরআন সে-সব মানুষকে কি বলে সম্বোধন করেছে- যাঁদের বনী আদমের হেদায়াতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে?
উত্তর: নবী ও রাসূল।
প্রশ্ন: ৪। কুরআনে খাতামুন্নাবিয়্যীন কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সাঃ)-কে।
প্রশ্ন: ৫। কুরআন 'দ্বীন'-এর পরিপূর্ণতার সুসংবাদ দিয়েছে কোন্ আয়াত দ্বারা?
উত্তর: اليوم أكملت لكم دينكم و اتممت علیکم نعمتی و رضيت لكم الاسلام دينا .
প্রশ্ন: ৬। আজো কুরআন যেভাবে তিলাওয়াত করা হয়- এটা কে শিখিয়েছেন?
উত্তর: স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) এভাবেই তিলাওয়াত করতেন এবং অদ্যাবধি এভাবেই সংরক্ষিত বা অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রশ্ন: ৭। বিশ্বে সবচাইতে পঠিত গ্রন্থ কোন্টি?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ৮। পৃথিবীতে সব সময় পঠিত হয়- এমন গ্রন্থ কোন্টি?
উত্তর: কুরআন শরীফ। বিভিন্ন দেশে দিন-রাতের সময় ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও না কোথাও কুরআন তিলাওয়াত হতে থাকে। নামাযে কুরআন তিলাওয়াত হয় এবং কুরআনের হুকুম-আহকামের তাবলীগও হয়।
প্রশ্ন: ৯। বিশ্বের কোন্ গ্রন্থ প্রতি বছর নির্দিষ্ট মাসে সম্পূর্ণ পড়া হয়?
উত্তর: কুরআন। রমযান মাসে তারাবীহ নামাযে অন্তত একবার খতম করা হয়।
প্রশ্ন: ১০। বিশ্বের কোন্ গ্রন্থের পঠনরীতি, শব্দ, বাক্য বিন্যাস ইত্যাদি হুবহু আজো বিদ্যমান?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ১১। বিশ্বের কোন্ গ্রন্থটি অবতীর্ণ থেকে অদ্যাবধি তার সমতুল্য কোন একটি সূরা বা আয়াত উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ করা হলেও এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস কারো হয়নি?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ১২। পৃথিবীতে উপমাহীন হওয়ার চ্যালেঞ্জসম্বলিত গ্রন্থের নাম কি?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ১৩। সে গ্রন্থের নাম কি যা সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ১৪। কুরআনের বিষয়বস্তু কি?
উত্তর: মানুষ।
প্রশ্ন: ১৫। কুরআনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: মানুষের হেদায়াত ও পথপ্রদর্শন। তবেই, মানুষ দুনিয়াতে ও আখিরাতে মুক্তি পাবে।
প্রশ্ন: ১৬। কুরআনের জন্য খোদ এ গ্রন্থে কি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: কুরআন, ফুরকান, আল-কিতাব, যিকর, নূর, উম্মুল কিতাব, হুদা, মুবীন, মুসাদ্দিক, বুশরা, বুরহান, মীযান ও ইমাম ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ১৭। কুরআন মানুষকে কি ধরনের মানুষরূপে তৈরী করতে চায়?
উত্তর: মু'মিন।
প্রশ্ন: ১৮। কুরআন কি ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়?
উত্তর: কুরআনের আলোকে একটি উপমাযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
প্রশ্ন: ১৯। কুরআনে মানুষের সম্মান ও মর্যাদার নিরিখ বলা হয়েছে কাকে?
উত্তর: তাকওয়া বা খোদাভীতিকে।
প্রশ্ন: ২০। কুরআনে উম্মুল খাবায়েস বা সব অপকর্মের মূল বলা হয়েছে কাকে?
উত্তর: মদকে।
প্রশ্ন: ২১। কুরআন মানুষের যোগ্যতাকে কিভাবে দেখেছে?
উত্তর: মানুষকে বার বার চিন্তা-ভাবনা করার দাওয়াত দিয়ে।
প্রশ্ন: ২২। কুরআনের আয়াতের দুটো শ্রেণী কি কি?
উত্তর: মুহকামাত বা স্পষ্ট আয়াত ও মুতাশাবিহাত বা অস্পষ্ট আয়াত।
প্রশ্ন: ২৩। কুরআনের মূল ভিত্তি কি ধরনের আয়াতে?
উত্তর: মুহকামাত বা সহজবোধ্য আয়াতে।
প্রশ্ন: ২৪। কুরআনের মুতাশাবিহাত আয়াতসমূহের পিছু নেয় কোন্ ধরনের লোক?
উত্তর: এ ধরনের লোক সম্পর্কে স্বয়ং কুরআনেই ঘোষিত হয়েছে: "যাদের মনে কূটিলতা আছে তারা আল্লাহ্র সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সব সময়ই মুতাশাবিহাত-এর পেছনে লেগে থাকে এবং এর অর্থ বের করার চেষ্টা করে। অথচ এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না। পক্ষান্তরে যারা জ্ঞান ও বিদ্যায় পাকাপোক্ত লোক তারা বলে: আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি; এটা সব সময়ই আমাদের খোদার পক্ষ হতে এসেছে।" (সূরা আলু ইমরান: আয়াত ৭)।
প্রশ্ন: ২৫। কুরআনে হুযুর (সাঃ)-এর জিম্মাদারদের সম্পর্কে কি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: ১. কুরআন তিলাওয়াত করা, ২. তাযকিয়ায়ে নক্স করা, ৩. জ্ঞান (কিতাব) বিজ্ঞানের তালীম দেয়া। (সূরা আলু ইমরান: আয়াত ১৬৪)
প্রশ্ন: ২৬। কুরআন হুযূর (সাঃ)-এর কথাকে কার কথা বলেছে?
উত্তর: আল্লাহর কথা বলে ঘোষণা দিয়েছে। যেমন- সূরা নাস-এর ৩ ও ৪ নং আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায়: "(এ নবী) নিজের (নফসের) মনগড়া কথা বলেন না, তার কথাই তাওহীদ।"
প্রশ্ন: ২৭। কুরআন সম্পর্কে মহাকবি ইকবালের প্রসিদ্ধ বক্তব্য কি?
উত্তর: পৃথিবীতে সবচাইতে অত্যাচারিত গ্রন্থ হচ্ছে কুরআন। কেননা, মুসলমানরা এটিকে না বুঝে-শুনেই অধ্যয়ন করে।
প্রশ্ন: ২৮। কুরআনে এমন কোন্ কোন্ বস্তুর নাম উপমা হিসেবে বিবৃত হয়েছে- যেগুলোকে মানুষ নিকৃষ্ট মনে করে?
উত্তর: মশা, মাছি, মধু মক্ষিকা, কুকুর ও মাকড়শার ঘর ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ২৯। কুরআন নিজেকে অদ্বিতীয় গ্রন্থ হবার দাবী কোন্ আয়াত দ্বারা করেছে?
উত্তর: সূরা বাকারার ২৩ ও ২৪ নং আয়াত দ্বারা- "আমার এ বান্দার ওপর যে গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি, তা আমার প্রেরিত কি-না সে বিষয়ে তোমাদের মনে যদি কোন প্রকার সন্দেহ জেগে থাকে তা হলে এর অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে আনো। এ জন্য তোমরা সব সমর্থক ও একমতের লোকদের একত্র কর, এক আল্লাহ ভিন্ন আর যার যার সাহায্য চাও তা প্রমাণ কর, তোমরা সত্যবাদী হলে এটা অবশ্যই করে দেখাবে। কিন্তু তোমরা যদি তা না কর নিশ্চয়ই তা কখনো করতে পারবে না, তবে সে আগুনকে তোমরা ভয় কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর যা সত্যদ্রোহী লোকদের জন্য নির্দিষ্ট ও প্রস্তুত করা হয়েছে।" উল্লেখ্য, এ চ্যালেঞ্জ কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
প্রশ্ন: ৩০। কুরআনে আসমানের সংখ্যা কতটি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: সাতটি।
প্রশ্ন: ৩১। কুরআনে যমীনের সংখ্যা কত ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: কুরআনে শুধুমাত্র যমীন শব্দটি এক বচনে ব্যবহৃত হয়েছে। এর কোন বহুবচন কুরআনে নেই।
প্রশ্ন: ৩২। কুরআনে শয়তানের জন্য কোন্ কোন্ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: ইবলীস ও আশশাইতান।
প্রশ্ন: ৩৩। কুরআন ইবলীসকে কোন্ ধরনের সৃষ্টি বলে ঘোষণা দিয়েছে?
উত্তর: ইবলীস হচ্ছে জ্বিন।
প্রশ্ন: ৩৪। কুরআন কাকে মানুষের শত্রু বলে আখ্যা দিয়েছে?
উত্তর: শয়তানকে। যেমন- সূরা বাকারার ৩৬ নং আয়াতে ঘোষিত হয়েছে: "তোমরা একে অপরের শত্রু"।
প্রশ্ন: ৩৫। কুরআনে বনী ইসরাঈলের নামে সম্বোধিত গোত্র কার বংশধর?
উত্তর: হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর বংশধর। তাঁকে আল্লাহ ইসরাঈল লকবে ভূষিত করেছেন। ইসরাঈল মানে হচ্ছে আবদুল্লাহ বা আল্লাহর বান্দা।
প্রশ্ন: ৩৬। কুরআন পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতদের জন্য ইবাদাতের মধ্য থেকে কোন্ কোন্টি ফরজ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে?
উত্তর: নামায ও যাকাত। (সূরা বাকারা: আয়াত ৪২)
প্রশ্ন: ৩৭। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: আল্লাহ পাক এক গোত্রকে পানাহারের জন্য এমন খাদ্য দিয়েছেন যা অন্য কোন জাতির ভাগ্যে জোটেনি- সে গোত্র এবং সে খাদ্যের নাম কি?
উত্তর: গোত্রের নাম 'বনী ইসরাঈল' খাদ্যের নাম 'মান্না ও সাল্ভয়া'।
প্রশ্ন: ৩৮। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, একটি বংশের কিছু লোককে আল্লাহর হুকুম অমান্য করার জন্য বাঁদরে রূপান্তরিত করা হয়েছিলো, সে কওমের নাম কি?
উত্তর: এ কওমের নাম ছিলো বনী ইসরাঈল। আল্লাহ তা'আলা তাদের সপ্তায় এক দিন মাছ শিকার করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তারা প্রকাশ্যভাবেই হুকুম অমান্য করে। এ জন্য আজাব স্বরূপ আল্লাহ পাক তাদের বাঁদরে রূপান্তরিত করেন।
প্রশ্ন: ৩৯। কুরআনে এমন দু' ফিরিশতার নাম ঘোষিত হয়েছে- যারা মানুষকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিতেন যদ্বারা জ্ঞানার্জনকারী কাফির বনে যেতো। তাদের নাম এবং সে ইলমের নাম কি?
উত্তর: ফিরিশতা দু'জনের নাম হলো ১. হারূত ও ২. মারূত। এরা বাবেল শহরে যাদু শিক্ষা দিতেন। শেখানোর পূর্বে মানুষকে সতর্ক করে বলতেন: “দেখো! আমরা একটি পরীক্ষা মাত্র। তোমরা কুফরে জড়িয়ে পড়ো না।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৫২)।
প্রশ্ন: ৪০। কুরআনে এমন দু'টি কওমের ঘোষণা রয়েছে- যার মধ্যে একটি নিমজ্জিত হচ্ছিলো এবং দ্বিতীয়টি প্রতিপক্ষকে দেখছিলো- এ দুটো দল বা সম্প্রদায়ের নাম কি?
উত্তর: নিমজ্জিতপ্রায় দল হলো ফেরাউনের বাহিনী, আর তাদের দেখছিলো বনী ইসরাঈলরা।
প্রশ্ন: ৪১। কুরআন নির্দিষ্ট একটি দিনকে ভয় করার জন্য বার বার তাকিদ দিয়েছে- কোন্ দিনটি?
উত্তর: কিয়ামতের দিন। যেমন- ঘোষিত হয়েছে: "তোমরা ভয় কর সেদিনটি যখন কেউ কারো এক বিন্দু উপকারে আসবে না, কারো কাছ থেকে কোন 'বিনিময়' গ্রহণ করা হবে না, কোন সুপারিশ কাউকে এক বিন্দু উপকার দান করবে না, আর পাপীরা কোন দিক দিয়েও বিন্দুমাত্র সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১২৩)
প্রশ্ন: ৪২। কুরআনে হুজুর (সাঃ)-কে সম্বোধন করার জন্য মুমিনদের راعنا (রাইনা) না বলে অন্য একটি শব্দ বসিয়ে দেয়া হয়েছে- শব্দটি কি?
উত্তর: انظرنا (উনজুরনা) অর্থাৎ, আমাদের দিকে তাকান। এটি সূরা বাকারার ১০৪ নং আয়াতে সন্নিবেশিত আছে।
প্রশ্ন: ৪৩। সে গ্রন্থের নাম কি? যে গ্রন্থ মানব জাতির চিন্তা-চেতনা, চরিত্র-মাধুর্য, কৃষ্টি-কালচার এবং জীবন পরিচালনার উপায়-উপাদান ও উপকরণের ওপর প্রভৃত প্রভাব ফেলেছে?
উত্তর: কুরআনে মাজীদ।
প্রশ্ন: ৪৪। সে গ্রন্থের নাম কি? যে গ্রন্থে বিশ্বচরাচরের প্রারম্ভ এবং শেষ ও এর মধ্যকার সমুদয় জিনিসের হাকীকত বর্ণনা রয়েছে。
উত্তর: কুরআনে মজীদ।
প্রশ্ন: ৪৫। সে গ্রন্থের নাম কি? যে গ্রন্থ পেশকারী সে গ্রন্থের ওপর স্বয়ং আমল করেছেন আর তিনিই জীবন্ত ব্যাখ্যা।
উত্তর: এ গ্রন্থের নাম হচ্ছে কুরআন। এ গ্রন্থ পেশকারী হুজুর (সাঃ) স্বয়ং এ গ্রন্থের জীবন্ত ব্যাখ্যা ছিলেন।
প্রশ্ন: ৪৬। কুরআনে কারীমে আল্লাহর সন্তুষ্টির এ ঘোষণা কাদের জন্য: "আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট, আর তারাও আল্লাহর প্রতি, এটাই হচ্ছে বড় সফলতা"।
উত্তর: সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-এর জন্য।
প্রশ্ন: ৪৭। কুরআনে সফলতা লাভের কি পন্থা ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: "সফলতা অর্জন করেছে সে-সব লোক যারা পবিত্রতা অর্জন করেছে আর স্বীয় প্রতিপালকের নাম আত্মস্থ করেছে, অতঃপর নামায পড়েছে, কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও- অবশ্য পারলৌকিক জীবনই উত্তম এবং স্থায়ী।" (সূরা আল-আ'লা: আয়াত ১৪-১৭)
প্রশ্ন: ৪৮। কুরআনে আত্মার প্রশান্তি এবং দৃঢ়তা অর্জনের কি পন্থা বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর : الا بذكر الله تطمئن القلوب "সাবধান! আত্মার প্রশান্তি আল্লাহর স্মরণের মধ্যে"। অর্থাৎ, আল্লাহকে স্মরণ করো, তবেই আত্মার প্রশান্তি অর্জিত হবে।
প্রশ্ন: ৪৯। চিন্তা এবং ভয় থেকে মুক্তির জন্য কুরআনে কোন্ চিকিৎসার কথা ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর : ان الذين قالوا ربنا الله ثم استقاموا فلا خوف عليهم و لاهم يحزنون : "যে-সব লোক বলেছে যে, আল্লাহ্ আমাদের প্রভু আর একথার ওপরই সুদৃঢ় থাকলে তাদের না কোন ভয় আছে, আর না আছে চিন্তা।"
প্রশ্ন: ৫০। কুরআন সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে কোন্ হাকীকতের ঘোষণা দিয়েছে?
উত্তর: "তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের ছেলে-মেয়ে একটি পরীক্ষা, আর সবচেয়ে বড় পুরস্কার আল্লাহর কাছে।" (আত্তাগাবুন: ১৫)
প্রশ্ন: ৫১। যে-সব লোক পৃথিবীতে আল্লাহর আয়াতের ওপর চিন্তা-ভাবনা করে না, তাদের সম্পর্কে কুরআন কি বলেছে?
উত্তর: "যারা পৃথিবীতে অন্ধ হয়ে আছে, পরকালেও তারা অন্ধই থাকবে, বরং সঠিক পথ পেতে তারা অন্ধের চেয়েও বেশি ব্যর্থ।” (অর্থাৎ, পরকালে তারা সফলকাম হবে না)। (সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ৭২) "বস্তুত আঁখিযুগল অন্ধ নয়, বরং তাদের অন্তর অন্ধ হয়ে যায় যা বক্ষে রয়েছে।" (সূরা আল হাজ্জ: আয়াত ৪২)
প্রশ্ন: ৫২। কুরআনে মানুষের এমন দলের নাম ঘোষিত হয়েছে, যাদের ওপর আল্লাহ শয়তানকে বিজয়ী করে দেন, কিন্তু তারা নিজকে বিজয়ী জানে- এমন লোক কারা?
উত্তর: “যে-সব লোক মেহেরবান আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল থাকে আমি তাদের ওপর শয়তানকে বিজয়ী করে দেই, আর তারা তার বন্ধু বনে যায়। এসব শয়তান এমন লোককে সঠিক পথে আসা থেকে বিরত রাখে, আর তারা তাদের সম্পর্কে মনে করে যে, আমরা ঠিক ঠিকই যাচ্ছি।" (সূরা আযযুখরুফ: আয়াত: ৩৬-৩৭)
প্রশ্ন: ৫৩। কুরআনে পোশাক সম্পর্কে কি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: "হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করছি যেন তোমাদের দেহের লজ্জাস্থানসমূহকে ঢাকতে পার। এটা তোমাদের জন্য দেহের আচ্ছাদন ও শোভা বর্ধনের উপায়ও। আর সর্বোত্তম পোশাক হচ্ছে তাকওয়ার পোশাক। এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি উজ্জ্বল নিদর্শন, সম্ভবত লোকেরা এটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।" (আ'রাফ: ২৬-২৭)
প্রশ্ন: ৫৪। কুরআন ধৈর্যের প্রশিক্ষণ দিয়েছে কিভাবে, আর ধৈর্যের ফলাফল কি বলা হয়েছে?
উত্তর: "আমরা নিশ্চয়ই ভয়, বিপদ, অনশন, জান-মালের ক্ষতি এবং আমদানী হ্রাসের দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো। এসব অবস্থায় যারা ধৈর্য্য অবলম্বন করে এবং বিপদ উপস্থিত হলে যারা বলে আমরা আল্লাহরই জন্য, আল্লাহর কাছেই আমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের প্রতি তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে বিপুল অনুগ্রহ বর্ষিত হবে; আল্লাহর রহমত তারা লাভ করতে পারবে। আর প্রকৃতপক্ষে এসব লোকই সঠিক পথগামী।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৫৫-৫৭)
প্রশ্ন: ৫৫। কুফরীর রাস্তা অবলম্বনকারীদের সম্পর্কে কুরআনে কি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: "যারা কুফরীর আবরণ অবলম্বন করেছে এবং কুফরীর অবস্থায়ই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে তাদের উপর আল্লাহর ফেরেশতা ও সমগ্র মানুষের অভিশাপ পড়বে; এ অভিশপ্ত অবস্থায়ই তারা সব সময় লিপ্ত হয়ে থাকবে, না তাদের শাস্তি হ্রাস পাবে, আর না তাদেরকে এ থেকে মুক্তি লাভের কোন অবসর দেয়া হবে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৬১-১৬২)
প্রশ্ন: ৫৬। বিভ্রান্তদের আল্লাহর নিদর্শনাবলী শোনানো হলে (কুরআনের শব্দাবলী দ্বারা) তারা কি উত্তর দেয়?
উত্তর: "তাদেরকে যখনই আল্লাহর দেয়া বিধানের অনুসরণ করতে বলা হয় তখনই তারা উত্তরে বলে: আমরা তো সে পন্থারই অনুসরণ করবো আমাদের বাপ-দাদাদের যে পন্থার অনুসারী পেয়েছি। তাদের বাপ-দাদাগণ যদি বুদ্ধিমানের ন্যায় কাজ নাও করে থাকে এবং সঠিক পথে নাও চলে থাকে তবুও কি এরা তাদের (বাপ-দাদাদের)-ই অনুসরণ করতে থাকবে?" (সূরা বাকারা : আয়াত ১৭০)
প্রশ্ন: ৫৭। কুরআনে মদীনা মুনাওয়ারার কি নাম বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: ইয়াসরিব।
প্রশ্ন: ৫৮। সাজদার প্রথম আয়াত এবং দ্বিতীয় আয়াত কোন্ কোন্ পারায় এবং শেষটি কোন্ পারায়?
উত্তর: প্রথম আয়াতে সাজদাহ ৯ম পারায়, দ্বিতীয় আয়াতে সাজদাহ ১৩তম পারায় আর শেষ আয়াতে সাজদাহ হচ্ছে ৩০তম পারায়।
প্রশ্ন: ৫৯। কুরআনে এরাব (যের, যবর, পেশ ইত্যাদি) কোন্ সাল থেকে সংযোজন করা হয়েছে?
উত্তর: হিজরী ৪৩ সন থেকে।
প্রশ্ন: ৬০। কুরআনে হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকা ঝড়ের পর কোন স্থানে অবস্থানের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: জুদী পাহাড় (যাকে আরায়াটও বলা হয়)। এটি ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী জায়গায় অবস্থিত।
প্রশ্ন: ৬১। কুরআনে মক্কা মোকাররমার জন্য কি কি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: বাক্কা, ওয়াদীয়ে গায়রু জি যারইন, বালাদিন আমীন।
প্রশ্ন: ৬২। কুরআনে বনী ইসরাঈলদের কাছে একটি পবিত্র সিন্দুকের কথা বর্ণিত হয়েছে। সিন্দুকটিতে কি জিনিস ছিলো?
উত্তর: সিন্দুকের ভেতর আলু মূসা (আঃ) ও আলু হারুন (আঃ)-এর পরিত্যক্ত পবিত্র সম্পদরাজি ছিলো। (সূরা বাকারা: আয়াত ২২৮)
প্রশ্ন: ৬৩। অমুসলিমদের কোন্ গ্রন্থে বারবার কোরআনের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শিখদের গ্রন্থ 'সাহেবে'।
প্রশ্ন: ৬৪। কোন্ গ্রন্থের কারণে পূর্ববর্তী সমুদয় শরীয়ত মনসুখ বা রহিত হয়ে গেছে?
উত্তর: কুরআনে মাজীদ।
প্রশ্ন: ৬৫। কারা কুরআনে নুকতাসমূহ, এরাব এবং যতিচিহ্ন-এর সাথে সাথে পারাসমূহে চতুর্থাংশ, অর্ধাংশ এবং তৃতীয়াংশের চিহ্ন নির্ণিত করেছেন এবং হরফ বা অক্ষরসমূহ গণনা করেছেন?
উত্তর: উমাইয়া খলীফা আবদুল মালেক ইবনে মারোয়ানের নির্দেশে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সাকাফী একটি কমিটির সাহায্যে এ কাজ সম্পাদন করেছেন। তন্মধ্যে নিম্নোক্ত ব্যক্তিত্বের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য: ইমাম হাসান বসরী (রঃ), মালেক ইবনে দীনার, আবীল আলিয়া আমরীঈ (রঃ), রাশেদ আল ইমাদী, আবী নসর মুহাম্মাদ ইবনে আসেম আল-লাইসী, আসেম ইবনে মাইমুন আল-জা'দারী ও ইয়াহইয়া ইবনে ইয়া'মার (রঃ)।
প্রশ্ন: ৬৬। কুরআনের আয়াত সর্বাগ্রে কে গণনা করেছেন?
উত্তর: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)। তিনি সমগ্র কুরআনের আয়াতের সংখ্যা গণনা করেছেন ৬৬৬৬।
প্রশ্ন: ৬৭। কুরআনকে কুরাইশদের ভাষায় কে একত্রিত করেছেন?
উত্তর: আমিরুল মু'মিনীন হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)।
প্রশ্ন: ৬৮। কুরআনে কোন সাহাবীর নাম এসেছে কি?
উত্তর: শুধুমাত্র যায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ)-এর নাম এসেছে (সূরা আহযাবে)।
প্রশ্ন: ৬৯। কুরআনে হুযূর (সাঃ)-এর কোন নিকটাত্মীয়ের নাম এসেছে?
উত্তর: আবু লাহাবের নাম ঘোষিত হয়েছে। তিনি হুযূর (সাঃ)-এর আপন চাচা এবং জানি দুশমন ছিলেন।
প্রশ্ন: ৭০। কুরআনে কিছু কিছু পুণ্যাত্মা এবং পাপাত্মার নাম বা তাদের কুনিয়াত আলোচিত হয়েছে, তাদের নাম কি?
উত্তর: আদম (আঃ)-এর ছেলে, নূহ (আঃ)-এর অবাধ্য ছেলে, হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর ভাই, হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর পিতা আযর, আযীযে মেসের, কারুন, হামান, ফিরাউন, সামেরী, তালুত, জালুত, ইমরান।
প্রশ্ন: ৭১। কুরআনে এমন কোন্ নবীর নাম এসেছে, যাঁর তিন পুরুষ নবী ছিলেন?
উত্তর : হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর নাম। তাঁর ছেলে হৃযরত ইসহাক (আঃ) নবী ছিলেন, তাঁর নাতী হযরত ইয়াকুব (আঃ) নবী ছিলেন, তাঁর প্রপৌত্র হযরত ইউসুফ (আঃ) নবী ছিলেন। অর্থাৎ, ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম (আঃ)।
প্রশ্ন: ৭২। কুরআনে কতিপয় মহিলার কথা এসেছে। তাঁদের নাম বা কুনিয়াত কি?
উত্তর: আযীযে মেসেরের স্ত্রী, ফিরআউনের স্ত্রী, মূসা (আঃ)-এর মাতা, মূসা (আ:)-এর বোন, হারুন (আঃ)-এর বোন, হযরত শোয়াইব (আঃ)-এর মেয়েরা এবং আবু লাহাবের স্ত্রী।
প্রশ্ন: ৭৩। কুরআনে এমন কোন্ নবীর কথা এসেছে, যাঁকে তাঁর মায়ের নামে ডাকা হয়েছে?
উত্তর: হযরত ঈসা (আঃ)। যাঁকে বলা হয়েছে "ঈসা ইবনে মারইয়াম"।
প্রশ্ন: ৭৪। কুরআনে যে-সব কওমের ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে, সে-সব জাতির সংক্ষিপ্ত তালিকা কি?
উত্তর: আদ, সামুদ, সাবা, মাজুস, সাইবীন, আসহাবুল আইকাহ, আসহাবুল হাজার, আসহাবুর রাস, ইরিমা জাতি ইমাদ, আসহাবুল উখদুদ, আসহাবুল কারইয়াহ, আসহাবুল কাহফি ওয়ার রাকীম, বনী ইসরাঈল, আস-হাবুস্ সাবতি, আহলে কিতাব, ইয়াহুদ ওয়া নাসারা, ইয়াজুজ-মাজুজ, আসহাবুল ফীল ও কুরাইশ।
প্রশ্ন: ৭৫। কুরআনের বুনিয়াদি শিক্ষা কি?
উত্তর: ঈমান এবং তার প্রতি আহবান। যথা- তাওহীদ, রিসালাত এবং আখিরাতের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।
প্রশ্ন: ৭৬। কুরআনে যুদ্ধ ছাড়াই 'ফাতহে মুবীন' কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: হুদায়বিয়ার সন্ধিকে।
প্রশ্ন: ৭৭। কুরআনের কোন্ সূরাটি নবী করীম (সাঃ)-এর মুখে শুনে তাঁর শত্রু উতবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর সাথেই সাজদায় লুটিয়ে পড়েছিল?
উত্তর: সূরা হামীম আসসাজদার প্রথম পাঁচ আয়াত।
প্রশ্ন: ৭৮। হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) তাঁর বোন ফাতেমা (রাঃ)-এর ঘরে কুরআনের কোন সূরা পড়েছিলেন- যার প্রভাবে তাঁর মনের অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যায়। তিনি গ্রহণ করেন ঈমান?
উত্তর: সূরা ত্বাহা'র প্রথম ক'টি আয়াত।
প্রশ্ন: ৭৯। দূস গোত্রের কোন্ সরদার হুযূর (সাঃ)-এর মুখে কুরআনের কতিপয় আয়াত শ্রবণ করে ঈমান এনেছিলো?
উত্তর: তোফায়েল ইবনে আমর দূসী।
প্রশ্ন: ৮০। কুরআনের কোন্ সূরা মদীনায় নামাযের মধ্যে হুযূর (সাঃ)-কে তিলাওয়াত করতে শুনেই হযরত জুবাইর ইবনে মুতইম (রাঃ) ঈমান এনেছিলেন?
উত্তর: সূরা তুর।
প্রশ্ন: ৮১। কুরআন বিশ্বের সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রাচীন মসজিদ কোন্টিকে নির্ণিত করেছে?
উত্তর: কাবা শরীফকে।
প্রশ্ন: ৮২। কুরআনে মানব জাতিকে কোন্ দুই শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে?
উত্তর: নিম্নের দু'শ্রেণী:
মকবুল: আওলিয়া আল্লাহ, হিযবুল্লাহ, আসহাবুল জান্নাহ, আসহাবুল ইয়ামীন, আসহাবুল মাইমানাহ, মুমিন, ঈমানদার।
মরদূদ: আওলিয়াশ শাইতান, হিযবুশ শাইতান, আসহাবুন নার, আসহাবুশ শিমাল, আসহাবুল মাশআমাহ, কাফির, মুনাফিক।
প্রশ্ন: ৮৩। কুরআনে এমন এক ব্যক্তির বর্ণনা এসেছে, যার লাশের ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে যে, তাকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় করে রাখা হয়েছে। কোন্ ব্যক্তি?
উত্তর: ফিরআউন। (সূরা ইউনুস-আয়াত ৯২)। তার লাশ মিসরের যাদুঘরে মমি করে রাখা হয় (বর্তমানে বৃটিশ মিউজিয়ামে)।
প্রশ্ন: ৮৪। কুরআনে ফিরআউনের লাশ ছাড়াও একটি জিনিসের কথা বর্ণিত হয়েছে যাকে আল্লাহ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় করে সংরক্ষণ করেছেন- বস্তুটির নাম কি?
উত্তর: নূহ (আঃ)-এর নৌকা। এটি আজও জুদী পাহাড়ের উপর রয়েছে। (সূরা আনকাবুত : আয়াত ১৫)
প্রশ্ন: ৮৫। কুরআনের শব্দগুলো কার?
উত্তর: কুরআনের শব্দগুলো স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার।
প্রশ্ন: ৮৬। বিশ্বের সেই গ্রন্থ কোন্টি- যা সম্পূর্ণরূপে কণ্ঠস্থকারী লাখো ব্যক্তি রয়েছে?
উত্তর: কুরআনে মাজীদ।
প্রশ্ন: ৮৭। নবী করীম (সাঃ) কার মধুর কণ্ঠে কিরাত শুনে ইরশাদ করেছিলেন: "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ তা'আলার যিনি আমার উম্মতের মধ্যে তোমার ন্যায় ব্যক্তিকে সৃষ্টি করেছেন।"
উত্তর: হযরত সালেম (রাঃ)।
প্রশ্ন: ৮৮। আল্লাহ্ তা'আলা কোন্ ধরনের মানুষকে পসন্দ করেন না?
১. কাফির, ২. অত্যাচারী, ৩. ফাসিক, ৪. ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টিকারী, ৫. অমিতব্যয়ী, ৬. অহংকারী।
প্রশ্ন: ৮৯। সব নবী কি মানুষ ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ। আল্লাহ্ তা'আলার সব নবী-রাসূলই মানুষ ছিলেন। তাঁরা বিয়ে-শাদী করেছেন। তাঁদের সন্তান-সন্ততিও ছিলো।
প্রশ্ন: ৯০। নবীদের মধ্যে কোন মহিলা ছিলেন কি?
উত্তর: না। একমাত্র পুরুষদের মধ্যেই নবুওয়াত সীমাবদ্ধ। কোন নারীই নবী ছিলেন না।
প্রশ্ন: ৯১। নবী-রাসূলের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ। সম্মান ও স্থানে পার্থক্য রয়েছে।
প্রশ্ন: ৯২। প্রত্যেক মানুষকে কি তার কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ। কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষকে তার ভাল-মন্দ কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে।
প্রশ্ন: ৯৩। মানুষের কৃতকর্মের কোন রেকর্ড হচ্ছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রত্যেক মানুষের প্রতিটি কাজ রেকর্ড করার জন্য আল্লাহ্ পক্ষ থেকে ব্যবস্থা রয়েছে। কিয়ামতের দিন হিসাব-নিকাশ হবে।
প্রশ্ন: ৯৪। কুরআনে ক'ধরনের হুকুম এসেছে?
উত্তর: কুরআনে দু'ধরনের হুকুম এসেছে। যেমন- ১. আদেশ-যেগুলো করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ২. নিষেধ- যে-সব কাজ করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
ক'টি আদেশ নিম্নরূপ- ১. নামায প্রতিষ্ঠা করা। ২. রোযা রাখা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হজ্জ করা। ৫. মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করা। ৬. হক ও ইনসাফের সাথে বিচার করা। ৭. দ্বীনের প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ করা। ৮. সত্য সাক্ষী দেয়া। ৯. সঠিকভাবে মাপজোক করা। ১০. অঙ্গীকার রক্ষা করা।
কুরআনের নিষেধ বাণীর ক'টি নিম্নরূপ: ১. শিরক করা। ২. মিথ্যা বলা। ৩. পরনিন্দা করা। ৪. মাপজোকে কম করা। ৫. নেশাজাতীয় জিনিস পান করা। ৬. জুয়া খেলা। ৭. সূদ খাওয়া। ৮. যিনা করা। ৯. অপ্রয়োজনীয় খরচ করা। ১০. এতীমদের সম্পদ আত্মসাৎ করা।
প্রশ্ন: ৯৫। কুরআনে সবচেয়ে বেশি তাকীদ দেয়া হয়েছে কোন্ হুকুমটি?
উত্তর: নামায প্রতিষ্ঠা করার হুকুম। শত শতবার ঘোষিত হয়েছে এ হুকুম।
প্রশ্ন: ৯৬। যাকাত আদায় করলে কি কি উপকার হয়?
উত্তর: যাকাত আদায়ের ক'টি উপকার নিম্নরূপ: ১. এর দ্বারা দুস্থ-গরীব, দীন-হীন এবং অভাবগ্রস্তদের চাহিদা পূর্ণ হয়। ২. এর দ্বারা সম্পদের ময়লা-আবর্জনা দূরীভূত হয়। ৩. এর দ্বারা ধন-সম্পদ পবিত্র হয়। ৪. এর দ্বারা আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করা যায়।
প্রশ্ন: ৯৭। যাকাত দেয়ার খাত ক'টি ও কি কি?
উত্তর: যাকাত খরচ করার খাতসমূহ: ১. ফকীরদের মধ্যে। ২. মিসকীনদের মধ্যে। ৩. যাকাত আদায়কারীদের মধ্যে। ৪. অমুসলিমদের মধ্যে-যাদের অন্তরে দ্বীনের ভালবাসা সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য হবে। ৫. কৃতদাসদের মুক্ত করার জন্য। ৬. ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধ করার জন্য। ৭. মুসাফিরদের মধ্যে। ৮. আল্লাহ্র রাস্তায়।
প্রশ্ন: ৯৮। পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর নামায, রোযা এবং যাকাত কি ফরজ ছিলো?
উত্তর: হ্যাঁ, ছিলো।
প্রশ্ন: ৯৯। কি ধরনের দোয়া কবুল হয়?
উত্তর: আল্লাহ্ আনুগত্যের মাধ্যমে ইসলামের স্বার্থে যে দোয়া করা হয় তা আল্লাহ্র দরবারে কবুল হয়।
প্রশ্ন: ১০০। কুরআন চারিত্রিক কি শিক্ষা দিয়েছে?
উত্তর: কুরআনের চারিত্রিক শিক্ষার মধ্যে রয়েছে- ১. সত্য কথা বলা এবং মিথ্যা থেকে বিরত থাকা। ২. কারো নিন্দা না করা। ৩. সত্য সাক্ষী দেয়া। ৪. একে অন্যের ওপর দোষারোপ না করা। ৫. সব ধরনের নির্লজ্জ কাজ থেকে আত্মরক্ষা করা। ৬. খারাপ ধারণা থেকে বেঁচে থাকা। ৭. সর্বাবস্থায় ন্যায় বিচার ও ইনসাফ করা। ৮. অন্যের কোন বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করা। ৯. ভালো ভালো কথা বলা। ১০. কাউকে খারাপ নামে সম্বোধন না করা। ১১. বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা। ১২. অত্যাচার না করা। ১৩. আমানতের খিয়ানত না করা। ১৪. নিয়ামতরাজির জন্য শোকর করা। ১৫. ঈর্ষা এবং অহংকার থেকে বিরত থাকা। ১৬. কারো সম্পদ অবৈধ উপায়ে বা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ না করা। ১৭. ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে অন্যকে দেখা এবং তার থেকে কাজ আদায় করা। ১৮. রাগ না করা। ১৯. অঙ্গীকার ভঙ্গ না করা। ২০ পুণ্যার্জনের জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং পাপ স্খলন করতে থাকা।
প্রশ্ন: ১০১। কুরআনে শিশুদের কতদিন পর্যন্ত দুধ পান করানোর কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: একটি শিশুকে দু'বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন: ১০২। ব্যভিচারের শাস্তি কি?
উত্তর: অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর ব্যভিচারী পুরুষ ও নারীকে ১০০ দোররা লাগাতে হবে।
প্রশ্ন: ১০৩। মিথ্যা অপবাদের শাস্তি কি?
উত্তর: মিথ্যা অপবাদকারীকে ৮০ দোররা লাগাতে হবে এবং তার সাক্ষ্য অগ্রাহ্য বলে ঘোষণা দিতে হবে।
📄 কুরআন ও বিভিন্ন অন্তর
প্রশ্ন: ১। কুরআনে কত ধরনের অন্তরের বর্ণনা এসেছে এবং এসব অন্তরের অবস্থা কিরূপ?
উত্তর:
১. কঠিন অন্তর: এটি এমন অন্তর যে, সবক গ্রহণ করার বড় বড় চিহ্ন দেখা সত্ত্বেও এটি কঠিনই থেকে যায়। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "কিন্তু নিদর্শনাবলী দেখার পরও শেষ পর্যন্ত তোমাদের মন কঠিন হয়ে গেছে- পাথরের ন্যায় কঠিন কিংবা তদপেক্ষাও কঠিনতর। কেননা, কোন কোন পাথর এমনও হয়ে থাকে যা হতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়। কোন কোনটি দীর্ণ হয়ে যায় এবং তার মধ্য থেকে জলধারা উৎসারিত হয়। আর কোন কোনটি আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হয়ে ভূপাতিত হয়। আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে মোটেই অনবহিত নন।” (বাকারা: ৭৪)
২. জংপড়া অন্তর: পাপ কাজের কারণে অন্তকরণে মরীচিকা পড়ে যায়। ফল এই দাঁড়ায় যে, এ ধরনের মানুষের কাছে সত্য কথাও গল্পই মনে হয়। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "বরং এই লোকদের অন্তরের ওপর তাদের পাপ কাজের মরিচা জমে গেছে।” (আল মুতাফফিফীন: ১৪)
৩. পাপক্লিষ্ট অন্তর: যে-সব লোক সাক্ষ্য গোপন করে এবং হক কথা বলা থেকে বিরত থাকে- তাদের অন্তরই থাকে পাপক্লিষ্ট। কুরআনে এসেছে: " এবং সাক্ষ্য কখনো গোপন করবে না, যে সাক্ষ্য গোপন করে তার মন পাপের কালিমাযুক্ত। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে মোটেই অজ্ঞাত নন।" (আল-বাকারা: ২৮৩)
৪. কূটিল বা বক্র অন্তর: যারা ফিতনা-ফাসাদের সৃষ্টি করে, তাদের অন্তর কূটিল বা বক্র হয়ে যায় বলেই কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "যাদের মনে কূটিলতা আছে, তারা ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সব সময়ই মুতাশাবিহাত-এর পেছনে লেগে থাকে এবং এর অর্থ বের করার চেষ্টা করে। অথচ এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না। (আলু ইমরান : আয়াত ৭)
৫. বুদ্ধিদীপ্ত অন্তর: যার অন্তরে বক্রতার ভয় আছে, সে-ই প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিমান। (বুদ্ধিমান মানুষ আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতে থাকে)। "পরোয়ারদিগার! তুমিই যখন আমাদেরকে সঠিক-সোজা পথে চালিয়েছ, তখন তুমি আমাদের মনে কোন প্রকার বক্রতা ও কূটিলতার সৃষ্টি করো না। আমাদেরকে তোমার মেহেরবানীর ভান্ডার থেকে অনুগ্রহ দান কর। কেননা, প্রকৃত দাতা তুমিই।" (আলু ইমরান : আয়াত ৮)
৬. চিন্তা করে না- এমন অন্তর: যে-সব লোক অন্তর দিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তারা জাহান্নামী। কুরআনে এসেছে: "প্রকৃত সত্য এই যে, অনেক জিন ও মানুষ এমন রয়েছে যাদেরকে আমি জাহান্নামের জন্যই সৃষ্টি করেছি, তাদের অন্তর রয়েছে সত্য, কিন্তু তারা সে অন্তর দিয়ে চিন্তা করে না, তাদের আঁখিযুগল রয়েছে, কিন্তু তারা তা দিয়ে দেখে না, তাদের কান থাকা সত্ত্বেও তারা শ্রবণ করে না, তারা জন্তু-জানোয়ারের মতোই, বরং তার চাইতেও নিকৃষ্টতর। এরা সেই লোক যারা অলসতার মধ্যেই হারিয়ে গেছে।"
৭. কম্পমান অন্তর: আল্লাহর কথা শুনে যার অন্তর কম্পিত হয় সে-ই প্রকৃত মুমিন। কুরআনে এসেছে: "প্রকৃত ঈমানদার তো তারাই, যাদের অন্তর খোদার স্মরণের ফলে কেঁপে উঠে। আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।" (আল-আনফাল: আয়াত-২)
৮. মোহরাংকিত অন্তর: যে সীমালংঘন করবে, তার অন্তরে মোহর লেগে যাবে (অর্থাৎ, হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে না)। কুরআনে এসেছে: "সীমালংঘনকারী লোকদের অন্তরের উপর আমরা এমনিভাবেই মোহরাংকিত করে দেই।" (ইউনুস: আয়াত ৭৪)
৯. প্রশান্ত অন্তর: আল্লাহকে স্মরণকারী অন্তরই প্রশান্ত অন্তর বলে কুরআনে ঘোষিত হয়েছে এভাবে: "হুঁশিয়ার থেকো! আল্লাহ্ স্মরণ আসলেই সে জিনিসে যদ্বারা অন্তর পরম শান্তি ও স্বস্তি লাভ করে থাকে”। (আর্ রা'দ: আয়াত ২)
১০. পাপাত্মা: যে অন্তরে আল্লাহ্ জিকির, কলবের প্রশান্তি এবং রূহের খাদ্য বনে বেরোয়, তা-ই ঈমানদারের অন্তর। কিন্তু যে অন্তর এর সম্পূর্ণ উল্টো তা-ই পাপাত্মা। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "গুনাহগারদের অন্তকরণে আমি জিকিরকে এমনভাবে (জ্বলন্ত আভার ন্যায়) প্রবেশ করিয়ে দেই যে, তারা তার ওপর বিশ্বাসই করে না।" (সূরা যুমার)
১১. কম্পমান হৃদয়: আল্লাহর কথা শুনে যার অন্তর কেঁপে ওঠে সে-ই মুমিন। কুরআনে এসেছে: “হে নবী! সুসংবাদ দিন অকৃতকার্য পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনকারীদের- যাদের অবস্থা এই যে, আল্লাহ্ জিকির শুনলে তাদের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে, তাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয় তার জন্য তারা ধৈর্যধারণ করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, আর যে রিযিক তাদেরকে দেয়া হয়েছে, তার থেকেই তারা খরচ করে"। (সূরা আল-হিজর : আয়াত ৩৪-৩৫)
১২. অন্ধ আত্মা: "যে শিক্ষা গ্রহণ করে না, তার অন্তর হলো অন্ধ। কত অপরাধী জনপদই এমন যাদেরকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি, আর আজ তারা নিজেদের ছাদের ওপর উল্টো পড়ে রয়েছে। কত কূপই অকেজো এবং কত প্রাসাদই ধ্বংসাবশেষ হয়ে রয়েছে। এসব লোক কি সামনে চলাফেরা করেনি যে, তাদের দিল বুঝতে পারতো এবং তাদের কান শুনতে পেতো? আসল কথা এই যে, চক্ষু কখনো অন্ধ হয় না, কিন্তু সেই দিল অন্ধ হয় যা বুকের মধ্যে নিহিত রয়েছে।" (হজ্জ : ৪৫-৪৬)
১৩. প্রশান্ত অন্তর: হাশরের দিন কেবলমাত্র প্রশান্ত অন্তরই উপকারে আসবে বলে কুরআনে এসেছে: "যখন (যে দিন) না ধন-সম্পদ কোন কাজে আসবে, না সন্তান-সন্ততি, কেবল সেই ব্যক্তি উপকৃত হবে, যে প্রশান্ত অন্তর নিয়ে আল্লাহ্র দরবারে হাজির হবে।" (সূরা আশ্ শু'আরা: আয়াত ৮৮-৮৯)
১৪. অবিশ্বাসী আত্মা: এক এবং অদ্বিতীয় আল্লাহ্ কথা শুনে যে অন্তর বিরক্ত হয়, মনে করতে হবে সে-ই পরকালে অবিশ্বাসী এবং বেঈমান : "আর যখন আল্লাহ্ কথা বলা হয়, তখন পরকালের প্রতি বেঈমান লোকদের অন্তর ছটফট করতে থাকে। আর যখন তাকে ছাড়া অন্যদের উল্লেখ করা হয়, তখন সহসা তারা আনন্দে হেসে উঠে।" (আযযুমার: আয়াত ৪৫)
১৫. অহংকারী অন্তর: আল্লাহ্ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারী অন্তরে মোহর অংকিত করে দেন বলে কুরআনে ঘোষিত হয়েছে এভাবে: "এমনিভাবে আল্লাহ্ সে-সব লোককেই গোমরাহীর মধ্যে ঠেলে দেন যারা সীমালংঘন করে, যারা সন্দেহপ্রবণ লোক হয়ে থাকে এবং যারা আল্লাহ্ আয়াত নিয়ে ঝগড়া করে- তাদের নিকট কোন সনদ বা প্রমাণ না আসা সত্ত্বেও এই নীতি ও আচরণ আল্লাহ্ এবং ঈমানদার লোকদের কাছে অত্যন্ত ঘৃণ্য। এভাবে আল্লাহ্ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারীর অন্তরে মোহর মেরে দেন।" (সূরা আল-মুমিন: আয়াত ৩৪-৩৫)
১৬. ঈমানদার অন্তর: যে-সব অন্তর আল্লাহ্ স্মরণে বিগলিত হয় তা-ই ঈমানদার আত্মা বলে কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "ঈমানদার লোকদের জন্য এখনো কি সে সময় আসেনি যে, তাদের অন্তর আল্লাহ্ স্মরণে বিগলিত হবে এবং তার নাযিল করা মহাসত্যের সম্মুখে অবনত হবে তারা সে-সব লোকের মতো হয়ে যাবে না যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল, পরে একটা দীর্ঘকাল তাদের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়ে গেছে, তাতে তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেছে, আজ তাদের অনেকেই ফাসিক হয়ে গেছে।" (সূরা আল-হাদীদ: ১৬)
📄 কুরআনুল করীম এবং হুযূর (সাঃ)
প্রশ্ন: ১। কুরআনে কতবার হুযূর (সাঃ)-কে বলে সম্বোধন করা হয়েছে?
উত্তর: এগারো বার।
প্রশ্ন: ২। হুযুর (সাঃ)-এর পবিত্র নাম কুরআনে কতবার এসেছে?
উত্তর: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াস সাল্লাম চারবার এসেছে। আহমাদ (সাঃ) এসেছে একবার।
প্রশ্ন: ৩। হুযুর (সাঃ)-কে আল্লাহ্ তা'আলা ভালোবেসে কোন্ উপনামে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: ১. ইয়াসীন, ২. ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাচ্ছির ও ৩. ইয়া আইয়্যুহাল মুয্যাম্মিল।
প্রশ্ন: ৪। হুযুর (সাঃ)-এর জন্য হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এবং ইসমাঈল কাবা শরীফের নির্মাণের সময় কি দোয়া করেছিলেন?
উত্তর: "ওগো প্রভু! আমাদের উভয়কেই তোমার অনুগত বানিয়ে দাও। আমাদের বংশ থেকে এমন একটি জাতি উত্থিত কর যারা তোমার অনুগত হবে। আমাদেরকে তুমি তোমার ইবাদাতের পন্থা বলে দাও এবং আমাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা কর। তুমি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী,। হে খোদা! এদের প্রতি এদের জাতির মধ্য থেকেই এমন একজন রাসূল প্রেরণ কর যিনি তাদেরকে তোমার আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনাবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের বাস্তব জীবনকে পরিশুদ্ধ ও সুষ্ঠুরূপে গড়বেন। তুমি নিশ্চয়ই বড় শক্তিমান ও বিজ্ঞ।” (বাকারা: ১২৭-২৯)
প্রশ্ন: ৫। আল্লাহ্ তা'আলা হুযূর (সাঃ)-কে প্রেরণের কি সংজ্ঞা দিয়েছেন?
উত্তর: "আমি তোমাদের প্রতি স্বয়ং তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি, যে তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শোনায়, তোমাদের জীবন পরিশুদ্ধ ও উৎকর্ষিত করে তোমাদেরকে কিতাব ও হেকমতের শিক্ষা দেয় এবং যে-সব কথা তোমাদের অজ্ঞাত, তা তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়।" (সূরা বাকারা: ১৫১)
প্রশ্ন: ৬। হুযূর (সাঃ)-এর 'আহমদ' নামটি কুরআনের কোন্ পারায় এবং কোন্ সূরায় এসেছে?
উত্তর : ২৮-তম পারায় ৬ নং আয়াত। সূরা সাফফে এসেছে।
প্রশ্ন : ৭। কুরআনে হুযূর (সাঃ)-এর কথা যে-সব আয়াতে এসেছে তার অনুবাদ ও সূত্র কি?
উত্তর : কুরআনের ১৭ জায়গায় হুযুর (সাঃ)-এর কথা ঘোষিত হয়েছে। যেমন-
১. "তিনি সেই আল্লাহ যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন, যেন তাকে সমগ্র দ্বীনের উপর বিজয়ী করে দিতে পারেন। আর এ মহাসত্য সম্পর্কে আল্লাহ্ সাক্ষ্যই যথেষ্ট। মুহাম্মদ আল্লাহ্র রাসূল।" (সূরা ফাত্হ: আয়াত ২৮)
২. "মূলত আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদের উপর ইহসান করেছেন, তাদের মধ্য থেকেই এমন একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন যিনি মানুষকে আল্লাহ্র আয়াতসমূহ পড়ে শোনান এবং লোকদেরকে (ধারণা এবং রীতি-রেওয়াজ) পরিচ্ছন্ন করেন আর তাদেরকে কিতাব এবং বোঝার ন্যায় কথা বলতে থাকেন।” (আলু ইমরান)
৩. "তিনি নিজের মনের ইচ্ছায় বলেন না। এটা তো একটা ওহী যা তার ওপর নাযিল করা হয়।" (আন নাজম: ৩-৪)
৪. (হে লোকসকল!) তোমাদের কাছে এমন রাসূল এসেছেন, যিনি তোমাদের (পুরুষদের) মধ্য থেকেই। যিনি তোমাদের দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত হন এবং যিনি তোমাদের হিত ও কল্যাণকামী। (এ অবস্থা তো সবার জন্যই) অতঃপর (বিশেষজ্ঞ) ঈমানদারদের জন্য অত্যন্ত সুহৃদ এবং দয়াবান।" (আহযাব)
৫. "নিশ্চয়ই নবী তো ঈমানদার লোকদের পক্ষে তাদের নিজেদের চাইতেও অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। (অর্থাৎ, মুসলমানদের ওপর স্বীয় জীবন অপেক্ষাও তাঁর হক বেশি এবং তাঁর অনুগত হওয়া এবং শ্রদ্ধা করা ওয়াজিব)।" (আহযাব : ৬)
৬. "তোমাদের জন্য আল্লার রাসূলের জীবনে সর্বোত্তম নমুনা বিদ্যমান ছিলো তা সব সময় থাকবে।" (আহযাব : ২১)
৭. "রাসূল তোমাদেরকে যা কিছু দান করেন, তা তোমরা গ্রহণ কর। আর যে জিনিস থেকে তিনি তোমাদেরকে বিরত রাখেন তা হতে তোমরা বিরত হয়ে যাও।" (সূরা হাশর: ৭)
৮. “যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো, সে আল্লাহ্ আনুগত্য করলো"। (সূরা আন্ নিসা: ৮)
৯. "যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে বড় সাফল্য লাভ করলো।" (আহযাব: ৭১)
১০. আপনি বলুন (হে রাসূল!) তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তো তোমরা আমার অনুসরণ করো, তবেই আল্লাহ্ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের সমুদয় পাপকে স্খলন করে দেবেন। আল্লাহ্ তা'আলা মহান ক্ষমাশীল এবং মহাদানশীল।" (আলু ইমরান: ৪১)
১১. "হে নবী! আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীস্বরূপ, (মুমিনদের)-কে সুসংবাদদাতা এবং (পাপীদেরকে) ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তার দিকে আহবানকারী ও উজ্জ্বল আলোরূপে।” (আহযাব: ৪৫)
১২. "আর আমরা আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।" (আম্বিয়া: ১০৭)
১৩. "নিঃসন্দেহে আপনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী।" (নূনঃ ৪)
১৪. "আর শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে এত দেবেন যে, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।" (আদদোহা: ৫)
১৫. "আর আপনার জন্যই আপনার উল্লেখ ধ্বনি সু-উচ্চ করে দিয়েছি।" (আলাম নাশরাহ: ৪)
১৬. "আল্লাহ্ আপনার প্রতি কিতাব ও বুদ্ধি নাযিল করেছেন এবং আপনাকে এমন জ্ঞান জানিয়ে দিয়েছেন যা আপনার জানা ছিল না। বস্তুত আপনার প্রতি আল্লাহ্ অনুগ্রহ বিরাট।" (নিসা: ১১৩)
১৭. "আল্লাহ্ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠান। হে ঈমানদার সকল! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠাও।" (আহযাব: ৫৬)
📄 আল-কুরআন-কাতেবীনে ওহী, কুরআনে হাফেজ তাফসীরকার এবং তরজমা ও তাফসীর
প্রশ্ন: ১। কাতেবানে ওহী বা ওহী লিখকদের নামগুলো কি?
উত্তর: নিম্নোক্ত সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন কাতেবানে ওহী:
১. হযরত আবূ বকর সিদ্দীক,
২. হযরত ওসমান ইবনে আফফান,
৩. হযরত আলী,
৪. হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত,
৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ,
৬. হযরত যোবায়ের ইবনুল আওয়াম,
৭. হযরত খালেদ ইবনে সাঈদ,
৮. হযরত হানজালা ইবনে রবী,
৯. হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ
১০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা
১১. হযরত মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম,
১২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবী সালুল,
১৩. হযরত মুগীরা ইবনে শো'বা,
১৪. হযরত আমর ইবনুল আস,
১৫. হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ান,
১৬. হযরত জুহম ইবনে আবীস্ সলত,
১৭. হযরত মুয়াইকাব ইবনে ফাতিমা,
১৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম আযযাহবী,
১৯. হযরত সাবিত ইবনে কয়েস,
২০. হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান,
২১. হযরত আমের ইবনে ফুহাইরা,
২২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবী সারাহ,
২৩. হযরত সাঈদ ইবনে যোবায়ের ও
২৪. হযরত রবান ইবনে সাঈদ (রাঃ)।
প্রশ্ন: ২। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে সে-সব হাফেজ ও কারীর নাম কি- যাঁদের সনদ সমগ্র বিশ্বে বরিত?
উত্তর: হযরত ওসমান, হযরত আলী, হযরত উবাই ইবনে কা'ব, হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ, হযরত আবুদ দারদা ও হযরত আবূ মূসা আল আশ'য়ারী (রাঃ)।
প্রশ্ন: ৩। মহিলা সাহাবীর মধ্যে কার কার পুরো কুরআন মুখস্থ ছিলো?
উত্তর: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ), উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রাঃ), উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মু সালমা (রাঃ)।
প্রশ্ন: ৪। কুরআনের প্রথমদিকের তাফসীরকার কারা ছিলেন?
উত্তর: হুযূর (সাঃ), হযরত আবু বকর (রা), হযরত ওমর ফারুক (রা), হযরত আলী (রা), হযরত ওসমান (রা), হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা), হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা), হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা), হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা), হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের (রা), হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রা) ও উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)।
প্রশ্ন: ৫। হুযূর (সাঃ)-এর ইহধাম ত্যাগের সময় কতজন সাহাবা হাফেজ ছিলেন?
উত্তর: ২২ জন।
প্রশ্ন: ৬। ইলমে তাফসীরের জন্য কি কি জ্ঞান অত্যাবশ্যক?
উত্তর: মুতাশাবিহাত আয়াতসমূহের জ্ঞান, অবতীর্ণ হওয়ার কারণ, কুরআনের নামসমূহ ও সূরার নামগুলো, জমীরসমূহ, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, নাসিখ-মানসূখ, কুরআনের উপমা-উদাহরণসমূহ, ইলমুল কুরআন ও আরজুল কুরআন ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭। কোন্ গ্রন্থের অনুবাদ বিশ্বের সব ভাষায় পাওয়া যায়?
উত্তর: কুরআনুল কারীম।
প্রশ্ন: ৮। কুরআনকে একত্রিত করে গ্রন্থাবদ্ধ করার ধারণা সর্বাগ্রে কার এসেছিল?
উত্তর: হযরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর।
প্রশ্ন: ৯। হযরত ওমর ফারুক (রা)-এর কুরআন একত্রিত করার ধারণা কেন এবং কবে হয়েছিল?
উত্তর: হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মুসাইলামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধে সাতশ' হাফেজে কুরআন অংশগ্রহণ করেছিলেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাফেজই শাহাদাতবরণ করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)-এর মনে প্রশ্ন জাগ্রত হয় যে, এমনিভাবে হাফেজে কুরমান শহীদ হতে থাকলে কুরআন মুখস্থ অবস্থায় রাখা দুস্কর হবে। তাই, কুরআনকে গ্রন্থাবদ্ধ করে পরবর্তী জেনারেশন পর্যন্ত পৌঁছানো অত্যাবশ্যক।
প্রশ্ন: ১০। হযরত আবূ বকর (রাঃ) কার পরামর্শে কুরআন একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
উত্তর: হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)-এর পরামর্শে।
প্রশ্ন: ১১। হযরত আবূ বকর (রাঃ) কুরআন সংকলনে কোন্ পন্থা অবলম্বন করেছিলেন?
উত্তর: প্রথমদিকে তিনি এ কাজে রাজীই হচ্ছিলেন না। কেননা, স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) তাঁর সময় এমনটি করেননি। তবে, হযরত ওমর ফারূক (রাঃ)-এর বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং পরামর্শের পর তিনি এ কাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করেন। পরে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিতের ওপর এ দায়িত্ব অপর্ণ করা হয় যে, তিনি বিভিন্ন লোকের থেকে হাড্ডি, ছাল, কাপড়, চামড়া, পাথর, কাঠ ইত্যাকার বস্তুতে লেখা কুরআনের আয়াতগুলো একত্রিত করবেন। বিভিন্ন সাহাবী শেখার জন্য কুরআনের আয়াত লিখে রেখেছিলেন। হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) এসব আয়াত একত্রিত করেন। হাফেজে কুরআনদেরকে ডেকে তাঁদের সাথে মিলিয়ে নেন এবং এর মধ্যকার সাযুজ্য দেখে অতঃপর নির্ভরযোগ্য সাহাবায়ে কিরাম থেকে এ ব্যাপারে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করেন। এরপর আয়াতগুলোকে সেরূপে গ্রন্থাবদ্ধ করেন ঠিক যেভাবে স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) বলেছিলেন। যেভাবে স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) রমযানে কুরআন শোনাতেন। এভাবে গ্রন্থাবদ্ধ হয়ে গেলে বাদবাকি সব লেখ্য বস্তুকে ধ্বংস করে ফেলা হয়। তৈরিকৃত সংকলন হযরত আবূ বকর (রাঃ) উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কাছে জমা রাখেন।
প্রশ্ন: ১২। কুরআন সর্বপ্রথম কার নির্দেশে লিখিত আকারে একত্রিত করা হয়?
উত্তর: হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর নির্দেশে।
প্রশ্ন: ১৩। কুরআনকে কুরাইশদের কিরাআতে একত্রিত করেছেন কে? তাঁকে কে উৎসাহী করেছিলেন?
উত্তর: হযরত হুযাইফা (রাঃ) হযরত ওসমান (রাঃ)-কে তাঁর খেলাফতকালে বলেন যে, আরব-অনারবদের বিভিন্ন দেশে ইসলামী খেলাফতভুক্ত হওয়ায় মানুষ যার যার ভাষায় কুরআন তিলাওয়াত করছে। এর দরুন কোন কোন জায়গায় অর্থ বিকৃত হওয়ার সমূহ আশংকা দেখা দিয়েছে। এ জন্যে আপনি কুরআনকে এক কিরাআতে একত্রিত করুন।
প্রশ্ন: ১৪। হযরত ওসমান (রাঃ) কুরআনকে এক কিরাআতভুক্ত করার জন্য কি পন্থা অবলম্বন করেন?
উত্তর: তিনি সর্বপ্রথম উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কাছে রক্ষিত কুরআনের সংকলনের আরো ন'টি কপি নকল করান। এগুলোকে তিনি ইসলামী দেশগুলোর কেন্দ্রীয় শহরে প্রেরণ করেন। প্রতিটি সংকলন গ্রন্থের সাথে একজন করে কারীও থাকতেন। যিনি বিশুদ্ধ আরবী তথা কুরাইশ ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট শহরে গিয়ে মানুষকে কিরাআত শিক্ষা দিতেন। তারপর এ সিলসিলা অদ্যাবধি চলে আসছে লিখিত এবং মৌখিকভাবে।
প্রশ্ন: ১৫। হযরত ওসমান (রাঃ) কুরআনের যে সংকলন গ্রন্থ তৈরি করিয়ে ছিলেন, তন্মধ্যে এখন কতটি এবং কোথায় সংরক্ষিত আছে?
উত্তর: মাত্র দু'টি নোসখা সংরক্ষিত আছে। একটি তাসখন্দে, অপরটি ইস্তাম্বুলে।
প্রশ্ন: ১৬। হযরত ওসমান (রাঃ) কোন্ দিক থেকে জামেউল কুরআন?
উত্তর: তিনি অনারব ও আরবদের বিভিন্ন ভাষার পরিবর্তে কুরআন কুরাইশদের ভাষায় পড়ার এবং লেখার কাজটি অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করে সম্পন্ন করেন। অনুলিপি তৈরি করে সব দেশের কেন্দ্রীয় শহরগুলোতে প্রেরণ করেন। এটি হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে তৈরি হয়েছিল। পরে উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিলো। এছাড়া বাকি সব নোসখাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়, যাতে করে পরবর্তীতে মতানৈক্য না ঘটতে পারে। আজ কুরআনের যে সংকলন আমাদের কাছে রয়েছে, এটিও সেই ওসমানী সংস্করণ। অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বব্যাপী এ ভাষায় কুরআন পঠিত ও লিখিত হয়ে আসছে। হুযুর (সাঃ)-এর সময়ে এমনটিই ছিলো।
প্রশ্ন: ১৭। হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে কতজন সাহাবী কুরআনকে গ্রন্থাবদ্ধ অবস্থায় একত্রিত করে রেখেছিলেন?
উত্তর: ৭৫ জন সাহাবী।
প্রশ্ন: ১৮। খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কালে কবে এবং কোন্ যুদ্ধে সবচাইতে বেশি হাফেজে কুরআন শাহাদাতবরণ করেছিলেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে মুসাইলামাতুল কায্যাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধে সবচাইতে বেশি হাফেজে কুরআন শহীদ হন।
প্রশ্ন: ১৯। তাবেয়ীনদের যুগের প্রসিদ্ধ তাফসীরকার কারা?
উত্তর: প্রসিদ্ধ তাফসীরকার হচ্ছেন: ১. আলকামা, ২. আমর ইবনে শারজীল, ৩. মাসরূক, ৪. আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ, ৫. সাঈদ ইবনে জোবায়ের, ৬. ইব্রাহীম ইবনে নাখয়ী, ৭. শাবী, মুজাহিদ, ৮. ইকরামা, হাসান বসরী, ৯. কাতাদা, ১০. আ'মাশ, ১১. আবুল আ'লিয়া, ১২. মুহাম্মদ ইবনে কা'ব আল-কারজী, ১৩. আতা ইবনে আবী রাবাহ।
প্রশ্ন: ২০। জ্বিনরা কুরআনের ক'টি আয়াত শোনার পর অন্যদেরকে কি বলেছিলো?
উত্তর: "আমরা বিস্ময়কর ও অনন্যসাধারণ কালাম (কুরআন) শুনেছি, যা কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে। অতঃপর আমরা তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি।" (জ্বিন: ২)
প্রশ্ন: ২১। কুরআনের প্রখ্যাত ও বৃহৎ তাফসীরগুলোর নাম কি?
উত্তর: তাফসীরগুলো নিম্নরূপ: ১. তাফসীরে আল্লামা ইবনে জারীর আততাবারী (জামেউল বায়ান, ৩০ খন্ড), ২. তাফসীরে ইবনুল জাওযী-২৭ খন্ড, ৩. তাফসীরে আল ইসবাহানী-৩০ খন্ড, ৪. তাফসীরে ইবনুল আইকাব-৫০ খন্ডের ওপর, ৫. তাফসীরে আল্লামা ওয়াকিদা (মিসরের প্রসিদ্ধ আলেম) ১২০ খন্ড, ৬. তাফসীরে আল-কাযবীনী ৩১০ খন্ড, ৭. তাফসীরে হাদাইকু জাতিল বাহজাহ-৫০০ খন্ড ইত্যাদি।